বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:১৪ পি.এম
মেহেরপুরের গাংনীতে ফুটবল খেলার সময় বুকের তীব্র ব্যথা নিয়ে রাব্বি হোসেন(১৬) নামে এক কিশোর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার আযান ফুটবল মাঠে খেলার সময় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত রাব্বি হোসেন মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা গ্রামের মো: মিরাজ আলীর ছেলে।
নিহত রাব্বি হোসেনের বন্ধু অনিম আহমেদ বলেন, আমরা গাংনীতে ফ্রেন্ডশীপ ফুটবল খেলতে এসেছিলাম। খেলার মধ্যে হঠাৎ রাব্বি বসে পড়ে। তারপর সে মাটিতে শুয়ে পড়ে যায়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে গাংনী হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমাদের সামনে আমাদের বন্ধু মারা গেল। এই ব্যথা কিভাবে সইবো। আর এই দৃশ্য কি করে ভুলবো। যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন এই ঘটনার কথা আমি কখনোই ভুলতে পারবো না।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: মফিজুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে কয়েক জায়গায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম রাব্বি হোসেনের হার্টের সমস্যা ছিল। সে খেলা খেলার সময় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার নাহিদ হাসান বলেন, রাব্বি হোসেনকে আমরা হাসপাতালে মৃত অবস্থায় পেয়েছি।
গাংনী থানার ওসি তদন্ত আল মামুন জানান, ফুটবল খেলতে গিয়ে এক তরুণের মৃত্যু হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সার্বিক বিষয়ের খোঁজখবর নেওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ইটের সোলিং রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু করেছেন বুধহাটা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. শহিদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে শ্রমিক লাগিয়ে সংস্কার কাজ শুরু করেন।
বুধহাটা দক্ষিণপাড়া, পোদ্দার পাড়া ও নাথপাড়া রাস্তায় হুজাইফা ডেকোরেটরের বাড়ির সামনে থেকে কিনাবাড়ি পর্যন্ত সংস্কার কাজটি চলমান রয়েছে। দীর্ঘদিন সড়কটি ভাঙাচোরা ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে ছিলেন। এই অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচল ও পায়ে হেঁটে চলাও কষ্টকর হয়ে উঠছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় চলাচল করতে দুর্বিসহ পরিস্থিতির শিকার হয়ে যায়।
এড. শহিদুল ইসলাম বলেন, “জনগণের দুর্ভোগ লাঘবই আমার প্রধান লক্ষ্য। নির্বাচনের আগেই যতটুকু সম্ভব নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এলাকার জরুরি উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছি। মানুষের পাশে থেকে সেবামূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।" এ সময় জামায়াতের ওয়ার্ড সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি আজহারুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার দীর্ঘ সময় ধরে ত্রুটিপূর্ণ পানির পাইপলাইন সংস্কার না করার কারণে পৌরসভা এলাকার আড়পাড়া ও শিবনগর এলাকার বাসিন্দারা ব্যবহারযোগ্য পানির অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে পৌর কর্তৃপক্ষকে স্থানীয়রা বিষয়টি অবগত করেও পাচ্ছে না কোনো সুরহা। কালীগঞ্জ পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণীর এই পৌরসভায় জন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আমলে নিচ্ছে না পৌরসভার কর্তৃপক্ষ। পৌরসভার মেইন বাস টার্মিনাল সংলগ্ন স্থাপিত পাম্পের প্রধান পানি সরবরাহের পাইপ ফেটে পচা-কাদাযুক্ত দুর্গন্ধ পানি গ্রাহকদের লাইনে ঢুকে পড়ছে। পানির এই পাম্পটির প্রধান পাইপ মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ভবনের নিচ দিয়ে টানা হয়েছিল। ভবনের নিচের অংশের পাইপের একটি অংশ ফেটে যাওয়ার কারণে পাম্প চালু হলে পাইপ থেকে পানি বাইরে বের হয়ে যাচ্ছে।
পাম্পটির প্রধান পাইপের ছিদ্র দিয়ে যা বের হচ্ছে, তা শুধু অপচয় হচ্ছে না, বরং আশপাশের এলাকায় সেই পানি ছড়িয়ে পড়ে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। একই সাথে জমা হওয়া পানি এডিস মশার উপদ্রব বৃদ্ধি করার কারণে ডেঙ্গু সহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পাশের ব্যবসায়ীরা এবং মাছের আড়তদাররা সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। পৌরসভার এই পাম্পের সাপ্লাইয়ের পানি কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারছেন না গ্রাহকরা। দীর্ঘদিন ধরে এই পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারকারীরা নানা রকম পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জীবন বাঁচাতে আড়পাড়া ও শিবনগরের বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন বিকল্প উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। নিয়মিত পৌর কর ও পানির বিল পরিশোধ করা সত্ত্বেও সমস্যার সমাধান না হওয়ার কারণে এলাকাবাসী ক্ষোভে ফুঁসছেন। এই পানি প্রচণ্ড পচা গন্ধ এবং সবুজ রঙের, ফলে কোন গ্রাহক পানি পান করতে পারছেন না প্রায় ২ বছর যাবত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাম্প চালুর সাথে সাথেই ফাটা পাইপের পানি বাইরে গিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। দুর্গন্ধযুক্ত পানি বন্ধ, পাইপের ফাটা অংশ সংস্কার এবং পাম্পের আশপাশের পরিবেশ উন্নয়ন করতে কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা এই চরম দুর্ভোগের মূল سبب। শুধু তাই নয়, পৌর এলাকায় স্থাপিত ৬টি পানির পাম্পের মধ্যে আড়পাড়ার পাম্পটি দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। বাকি ৫টি পানির পাম্পের ভবনগুলোরও জরাজীর্ণ অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ না হওয়ার কারণে ভবন ও প্রাচীর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
আড়পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা হাফেজ জুনায়িদ হাছান বলেন, পৌরসভার পানি খাওয়ার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। গোসলের জন্য ব্যবহার করার পর জানতে পারলাম আমার চুল পড়ছে। এই অবস্থার কি কোনো সমাধান হবে না? বাস টার্মিনাল পৌর পানির পাম্পের পাম্প অপারেটর হারুনুর রশিদ জানান, প্রায় এক বছর ধরে পাম্পটির প্রধান পানির লাইনের পাইপ ফেটে গেছে। যে কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা এসে দেখেছেন। বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে অনেক অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় এখনও এটি মেরামত হচ্ছে না। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভায় মোট ৩৪ কিলোমিটার প্রধান পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্রাহককে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পৌর এলাকার প্রায় ১৩০০ গ্রাহক পানির এ সেবা পেয়ে থাকেন। প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও বিকেলে তিন দফায় পানি সরবরাহ করা হয়।
এই বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ জানান, ইতিপূর্বে ওই পাম্পে সংস্কার করা হয়েছিল। তবে এটি সম্পূর্ণরূপে সংস্কার করতে পূর্ণ বাজেটের প্রয়োজন। যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আশাশুনি থানা পুলিশ পৃথক অভিযানে ৪ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছে পাওয়া যায় ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ টাকা। গ্রেফতারকৃতদের বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ শামীম আহমদ খান জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আশাশুনি কাঁচা বাজার চান্নিতে মোখলেসুর রহমান মোড়লের ছেলে সাকিব মোড়লের অস্থায়ী জুতার দোকানে অভিযান চলছে। এসময় সাকিব মোড়ল এবং মৃত তফিল উদ্দিন সরদারের ছেলে সাইফুল সরদারকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছে পাওয়া যায় ১৮ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রয়ের নগদ ৭ হাজার টাকা।
এছাড়া রাত ১১টার দিকে উপজেলার বড়দল বাজার সংলগ্ন জাহিদুল ইসলামের বাড়ির সামনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রয়ের ২ হাজার ৫শ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় দক্ষিণ বাইনতলা গ্রামের মার্জন মোল্যার ছেলে মোস্তফা মোল্যা এবং বড়দল বাজারের জালাল গাজীর ছেলে জাহিদুল ইসলামকে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা করিম সুপার মার্কেটের ব্যাংক কর্মচারীর মোটর সাইকেল চুরির ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ, মোটর সাইকেল খুলে ভাঙাড়ীতে বিক্রয়কৃত যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেছে ও ৩ আসামীকে গ্রেফতার করেছে।
রূপালী ব্যাংক বুধহাটা শাখার কর্মচারী হওয়া আবুল হোসেন গাজীর ছেলে আমান উল্লাহ বাদী হয়ে দায়ের করা মামলার সূত্রে জানানো হয়েছে, ২৮ জুলাই রাত্র ৯.৩০ টার সময় ব্যাংকের নিচে রাখা বাদীর ব্যবহৃত ফ্রিডম রানার লাল রঙের ৭০ সিসি মোটর সাইকেল (মূল্য আনুমানিক ৪০,০০০ টাকা) চুরি হয়ে যায়। সিসি টিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয়রা একজন চোরকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সেকেন্দার আলী পাইক, অভিযান চালিয়ে বুধহাটা উত্তর পাড়ার বুলবুল ঢালীর ছেলে মুছা ঢালীকে গ্রেফতার করেন। তার দেয়া তথ্য অনুসারে, ভাঙড়ী ব্যবসায়ী বুধহাটা বাজারের কুরমান আলীর ছেলে ফারুক হোসেন এবং বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত জব্বার মোল্লার ছেলে মিজানুর রহমানকেও গ্রেফতার করা হয়। এরপর চুরি হওয়া মোটরসাইকেলের খুচরা যন্ত্রাংশ ভাঙাড়ির একটি দোকান থেকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বৃহস্পতিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধহাটাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। চোরচক্র একের পর এক যানবাহন চুরি করছে, মেশিন চুরি করছে এবং বাড়ির লোকজনকে চেতনানাশক স্প্রের সাহায্যে অচেতন করে মূল্যবান মালামাল ও নগদ টাকা চুরি করে চলেছে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রের অন্য সদস্য এবং অন্যান্য এলাকার চোরদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসী জোর দাবি জানাচ্ছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ