১২:৫৪ এম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে নাট্যজন আবুল হায়াতকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) আয়োজিত সাত দিনব্যাপী চতুর্থ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে তাকে দেওয়া হয়েছে এ সম্মাননা।
এর আগে নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীল।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইসমত আরা ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফ হায়দার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার এবং অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ মামুন রেজা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীল বলেন, আবুল হায়াত আমাদের দেশের অভিনয়ের একজন বড় শিল্পী। এত বড় শিল্পী হওয়া সহজ নয় এবং এজন্য আধ্যাত্মিকতা ও সাধনা প্রয়োজন। আবুল হায়াত ভাই সেটা অর্জন করেছেন। আপনারা যারা আবুল হায়াত ভাইকে টেলিভিশনে অভিনয়ের মাধ্যমে দেখেন, আমরা যারা নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষক আছি, তাদের গবেষণা আবুল হায়াতকে নিয়ে করতে হবে। অভিনয় করতে পারলেই হবে না, চরিত্র এবং পরিস্থিতি বুঝতে হবে। ফুটবল খেলার সাথে তুলনা করলে আবুল হায়াত সেই খেলায় মেসি কিংবা রোনালদো। আসাদুজ্জামান নূর ও আবুল হায়াতের মতো প্রখ্যাত অভিনেতাদের কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু রয়েছে।
এ সময় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আবুল হায়াত বলেন, আজকের এ সম্মাননার মানে হচ্ছে শুধু সম্মাননা নয়, সবার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। শিল্প মানে শিক্ষা, এবং আমি এখনো শিখি। আজ ত্রিশালের মাটিতে দাঁড়িয়ে বারবার আমি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথা মনে পড়ছি। তিনি ছিলেন বিদ্রোহী এবং সাহিত্যের স্মারক। আমি নাটককে ভালোবাসি। ১০ বছর বয়সে নাটক শুরু করেছিলাম এবং যা এখন আমার রক্তে মিশে গেছে। হয়ত পরিবার থেকেই এই ভালোবাসা এসেছে, কারণ আমার বাবা সংস্কৃতিমনা ছিলেন। ১৯৫৪ সালে আমি প্রথম মঞ্চে উঠি, আর এখন আমার অভিনয়ের বয়স ৭২ বছর ও আমার বয়স ৮১-এরও বেশি।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আবুল হায়াত বলেন, অভিনয় মানেই শুধু মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলা বা চেহারা দেখানো নয়। অভিনয় মানে শিল্প এবং বাস্তবতা তুলে ধরা। জীবনে সাফল্য আসবে, তবে সাফল্যের চেয়ে বড় হলো সততা ও নিষ্ঠা। নাটক মানুষকে মানুষ হতে শেখায়, অন্যের আনন্দ ও দুঃখ অনুভব করতে শেখায় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায়। মনে রাখবে, অভিনয় হলো মিথ্যা, কিন্তু অভিনেতা কিংবা নাট্যকলার শিক্ষার্থী হিসেবে সেই মিথ্যাটাকে বাস্তবিক করে তুলতে হবে। সত্য বানাতে হবে এবং বিশ্বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। এসব করতে পারলে একজন প্রকৃত অভিনেতা হওয়া সম্ভব।
বিশেষ উল্লেখ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের নির্দেশনা শাখার শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করার লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে। ১২ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ১৮ জুলাই পর্যন্ত চলবে এ নাট্যোৎসব এবং সাত দিনব্যাপী এ নাট্যোৎসবে প্রতিদিন একটি করে নাটক মঞ্চস্থ হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন