ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

শত্রুর হুমকি দেখলেই তাৎক্ষণিক হামলার নির্দেশ খামেনির


শত্রুর হুমকি দেখলেই তাৎক্ষণিক হামলার নির্দেশ খামেনির

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি শত্রুর যেকোনো হুমকির প্রতিক্রিয়ায় তাৎক্ষণিক, কার্যকর এবং ‘ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই’ পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের নতুন তেহরান সফরের প্রেক্ষাপটে শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের উদ্দেশে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

এছাড়া, ইরানের সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করার জন্যও আদেশ জারি করেছেন তিনি। এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ’ সম্পদকে হামলার আওতায় আনার নির্দেশ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন অর্থাৎ আগামী ৪ নভেম্বর থেকেই হামলা শুরু হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে ইহুদি-আরব জোট সরকারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক

খামেনি তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, শত্রুরা যদি নতুন করে সামরিক বা সন্ত্রাসী হামলা শুরু করে, তাহলে সংঘাত কখন শেষ হবে, তা ইরানই নির্ধারণ করবে। তেহরানের হাতে যুদ্ধের সময় ও শর্ত নির্ধারণের অধিকার থাকবে বলেও তিনি জানান।

তিনি সামরিক বাহিনীকে নজরদারি, সহায়তা এবং যুদ্ধ পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

গত জুনে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়েছিল। তবে সেটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে পারেনি। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনতেও ব্যর্থ হয় ওই সমঝোতা।

এরপর ইরান নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়, তাহলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে তেহরান।

আরও পড়ুন: ল্যাভরভের পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি, বাতিল জি-২০-এর ফ্যামিলি ফটো

এই পরিস্থিতিতে কাতার নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেশটির মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনার জন্য আবারও তেহরানে যান।

তবে আলোচনায় এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য বিদ্যমান। ওয়াশিংটন চায়, আলোচনার শুরুতেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হোক। অন্যদিকে, তেহরানের দাবি, আগে ইরানের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে।

এদিকে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে বলে তিনি মনে করেন।

কানসাস সিটির রেডিও স্টেশন কেসিএমওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। তবে আমাদের এমন নিশ্চয়তা প্রয়োজন, যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না হয়।’

আরও পড়ুন: ইরান: নতুন হামলার ক্ষেত্রে কোনো রেডলাইন মানবে না আব্বাস আরাঘচি

এর আগে নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না বলেও জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইফোন ডুওতে ফাটল, সুযোগ বুঝে খোঁচা মেরে বিজ্ঞাপন স্যামসাংয়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০৮ পি.এম


আইফোন ডুওতে ফাটল, সুযোগ বুঝে খোঁচা মেরে বিজ্ঞাপন স্যামসাংয়ের

আইফোন ডুওর শুরুতে ভালো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে স্যামসাং কোনো রাখঢাক রাখছে না। দক্ষিণ কোরীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন বিজ্ঞাপনে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনের ডিসপ্লে ফেটে যাওয়ার ঘটনাকে বিদ্রূপের মাধ্যমে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে, গ্রাহকদের গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ কেনার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন বাজারে আসার পর থেকেই একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ের বেশ কিছু ক্রেতা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের ফোনের ডিসপ্লে ফেটে গেছে। মূলত, ডিসপ্লে প্যানেলের মাঝের অংশ অকেজো হয়ে যাচ্ছে। যেসব ফোনে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একই ধরনের ত্রুটি দেখা যাওয়ায় আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, অ্যাপলের হিঞ্জ বা ভাঁজ করার প্রযুক্তির নকশায় কোনো ত্রুটি থাকতে পারে।

তবে, অ্যাপল সমস্যায় পড়া গ্রাহকদের ফোন পরিবর্তন করে দিচ্ছে। কিন্তু এই ঘটনা এটি স্পষ্ট করে তুলছে যে, হার্ডওয়্যার তৈরিতে এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রথম প্রচেষ্টা।

এদিকে, এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে স্যামসাং। তারা গ্রাহকদের মনে করিয়ে দিতে পিছপা হচ্ছে না। ইনস্টাগ্রামে গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এর একটি বিজ্ঞাপনে স্যামসাং উল্লেখ করেছে, ‘ফোন ভাঁজ করার প্রযুক্তি আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়’ এবং ‘এ বিষয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা আট প্রজন্মের।’

এরপর সরাসরি গ্রাহকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এ চলে আসুন।’ বিজ্ঞাপনের ছবিতে আইফোন ডুওর ডিসপ্লেতে দেখা দেওয়া ফাটলের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বিজ্ঞাপনটি স্যামসাং কানাডা প্রকাশ করেছে।

তবে স্যামসাং মালয়েশিয়া বিষয়টিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। তাদের বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘ফোনের স্থায়িত্ব নিয়ে এত আলোচনা দেখে কি আপনার একটু আফসোস হচ্ছে? ওহ, আমরা তো ব্যস্ত ছিলাম ফোন ভাঁজ করে নিজেদের দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যেতে।’

স্যামসাং অস্ট্রেলিয়াও অ্যাপলের ফোনের সমস্যা নিয়ে বিদ্রূপ করেছে। তাদের একটি পোস্টে বলা হয়েছে, ‘ফোন খোলার সময় ডিসপ্লে না ভাঙলে জীবনটা কেমন লাগে।’

এদিকে, স্যামসাং সৌদি আরবের আরেকটি পোস্টে গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এর ডিসপ্লেতে আইফোন ডুওর মতো ফাটল দেখানো হয়েছে। পরে প্রকাশ করা হয়, সেটি আসলে ফোনের একটি ওয়ালপেপার বা পর্দার ছবি।

সূত্র: 9to5Google

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানবদেহে শনাক্ত গরুর শামন্ডা ভাইরাস, সতর্কতা জারি বাকৃবি অধ্যাপকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


মানবদেহে শনাক্ত গরুর শামন্ডা ভাইরাস, সতর্কতা জারি বাকৃবি অধ্যাপকের

গবাদিপশুর রোগ হিসেবে পরিচিত শামন্ডা ভাইরাস (Shamonda virus) এবার মানুষের শরীরে প্রথমবারের মতো শনাক্ত হয়েছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ একটি গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ নিশ্চিত করেছে, যার রোগপ্রতিরোধক্ষমতা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। এই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে প্রাণিস্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু করেছে।

এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মেডিসিন বিভাগের প্রাণী কল্যাণ ও আচরণ ল্যাবরেটরির অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম গবাদিপশুর অস্বাভাবিক রোগ ও প্রজননজনিত সমস্যা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পরীক্ষাগারভিত্তিক রোগ শনাক্তকরণ, সতর্কতা এবং ওয়ান হেলথ (One Health) পদ্ধতিতে নজরদারি জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন।

ড. আরিফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে শামন্ডা ভাইরাস শনাক্তের নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত নেই, তবে পর্যাপ্ত নজরদারি ছাড়া ভাইরাসটির অনুপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো মানবদেহে শামন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টি প্রকাশ করে। আক্রান্ত ব্যক্তি লিওঁর হাসপাতালে গুরুতর রোগের চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং তার রোগপ্রতিরোধক্ষমতা ছিল অত্যন্ত দুর্বল।

একাধিক জৈবিক নমুনা পরীক্ষায় ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। ৭ অক্টোবর দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তার সংক্রমণের বিষয়ে অবহিত হয় এবং পরে রোগীটি মারা যান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ECDC) ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে।

বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব ফ্রান্সে সংক্রমিত কিউলিকয়েডিস (Culicoides) নামের ক্ষুদ্র রক্তচোষা মিজের কামড়ে ওই ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে সংক্রমণের প্রকৃত উৎস এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত নয় এবং মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

১৯৬৫ সালে নাইজেরিয়ায় গরু থেকে প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল ও জাপানে প্রাণীর শরীরে এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপে গবাদিপশুর মধ্যে প্রথমবারের মতো ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়। জুন থেকে প্রাণীর মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর জুলাইয়ের শেষ দিকে ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়। এরপর অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়।

ড. আরিফ আরও বলেন, ভাইরাসটি প্রধানত গরুকে আক্রান্ত করে। আক্রান্ত গবাদিপশুর জ্বর, ডায়রিয়া, অবসন্নতা, ক্ষুধামন্দা ও দুধ উৎপাদন কমে যেতে পারে। এ ছাড়া গর্ভপাত, মৃত বাছুর জন্ম এবং ভ্রূণের জন্মগত বিকৃতির ঘটনাও ঘটতে পারে। গরুর পাশাপাশি ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া ও অন্যান্য প্রাণীতেও ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে এসব লক্ষণ অন্য রোগের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। তাই শুধুমাত্র উপসর্গ দেখে শামন্ডা ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব নয়। পরীক্ষাগারভিত্তিক রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

মানুষের শরীরে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হলেও বিশেষজ্ঞরা এখনই ব্যাপক জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা দেখছেন না। অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, একটি মানব সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে একটি বিচ্ছিন্ন সংক্রমণের ভিত্তিতে একে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। মানুষের শরীরে ভাইরাসটি কী ধরনের রোগ সৃষ্টি করতে পারে, কতটা সংক্রমণক্ষম এবং কোন জনগোষ্ঠী বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারে এসব বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

তবে বাংলাদেশে রোগটি প্রতিরোধে নজরদারির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ড. আরিফ বলেন, গাভীর গর্ভপাত, মৃত বা বিকৃত বাছুর জন্ম, জ্বর-ডায়রিয়া কিংবা হঠাৎ দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার ঘটনা দেখা দিলে প্রচলিত রোগের পাশাপাশি গবেষণার প্রয়োজনে Simbu serogroup-এর ভাইরাসের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। তবে শুধুমাত্র এসব লক্ষণের ভিত্তিতে শামন্ডা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। খামারিদের গোয়ালঘর ও আশপাশের ভেজা, কাদাযুক্ত এবং জৈব পদার্থসমৃদ্ধ স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে। পশুর ঘরে মিজের প্রবেশ ও সংস্পর্শ কমাতে উপযুক্ত জাল, পরিচ্ছন্ন আবাসন এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।

গাভীর গর্ভপাত, মৃত বা বিকৃত বাছুর জন্ম, জ্বর, ডায়রিয়া কিংবা হঠাৎ দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার ঘটনা তারিখসহ নথিবদ্ধ করে দ্রুত প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। খামারে কাজের সময় শরীর ঢাকা পোশাক ও উপযুক্ত রিপেলেন্ট (পোঁকা ও মাছি নিরোধক) ব্যবহার করে কামড়ানো মিজ থেকে সুরক্ষিত থাকতে হবে। একই সাথে অস্বাভাবিক রোগ বা প্রজননজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে গুজবে কান না দিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও প্রাণিচিকিৎসককে জানাতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর ৬৪ চরমপন্থি স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর ৬৪ চরমপন্থি স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন

অস্ত্রের গর্জন, চাঁদাবাজি এবং খুনের আতঙ্কের প্রেক্ষাপটে, তিন জেলার চরমপন্থিরা অবশেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন। সিরাজগঞ্জ, পাবনা এবং রাজবাড়ী জেলা এক সময় সর্বহারা চরমপন্থিদের অবাধ বিচরণের কারণে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল।

কালের বিবর্তনে, সেই জেলাগুলো এখন অনেকাংশে চরমপন্থামুক্ত হয়ে উঠেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, আরও ৬৪ চরমপন্থি আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে, সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন এসআরবি-১২ এর প্রধান কার্যালয়ে তারা আত্মসমর্পণ করবেন।

এসআরবি জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দফায় দফায় আত্মসমর্পণের মাধ্যমে চরমপন্থি সংগঠনের সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পাচ্ছেন। এই ধারাবাহিকতায়, ওই তিন জেলার আরও ৬৪ চরমপন্থি সর্বহারা আলোর পথে ফিরে আসতে চলেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত হলো ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


পাবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত হলো ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির উদ্যোগে ‘১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড ২০২৭’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়। এতে পাবনা এবং আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন কলেজের ১৫ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী পর্বে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হন।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয়, যেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকা উত্তোলনের পর একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। এই র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে একাডেমিক ভবন-২-এর সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এরপর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অলিম্পিয়াডের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে পরীক্ষার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে পরীক্ষার্থী ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংগীত, আবৃত্তি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় বিভিন্ন কলেজের ১৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে জাতীয় পর্যায়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী পর্বে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন, রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক রতন কুমার পাল এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক মো. ফারুক আহমেদ।

এছাড়াও রসায়ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ, বিভিন্ন কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক এবং চার শতাধিক পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, "উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য রসায়ন অলিম্পিয়াড অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এ সময়টি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও চিন্তাশক্তির বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি রসায়নের মতো বিশেষায়িত বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন এবং উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।"

তিনি আরও বলেন, "রসায়ন অলিম্পিয়াড শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধারণাগত স্বচ্ছতা তৈরি, গাণিতিক ও বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধি, যৌক্তিক চিন্তাভাবনা এবং জটিল সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে পরমাণুর গঠন, রাসায়নিক বন্ধন, রাসায়নিক সাম্যাবস্থা ও জারণ-বিজারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবভিত্তিকভাবে বোঝার আগ্রহ তৈরি করবে। ফলে শিক্ষার্থীরা মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার পরিবর্তে বিশ্লেষণধর্মী ও বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠবে।"

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, "দেশের টেকসই উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার অত্যন্ত জরুরি। তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলা এবং বিজ্ঞানের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়াতেই ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছে।"

তিনি বলেন, "এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে। আঞ্চলিক পর্যায় থেকে মেধাবীদের বাছাই করে আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। আমরা আশা করি, আমাদের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বয়ে আনবে। শুধু প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে নয়, বরং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তাই একটি বিজ্ঞানমনস্ক ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।"

অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রতন কুমার পাল তার বক্তব্যে আয়োজনটি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, "১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড সফলভাবে আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বাংলাদেশ রসায়ন সমিতি, রসায়ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।"

তিনি আরও বলেন, "সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান ও রসায়নচর্চার আগ্রহ ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%