প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি শত্রুর যেকোনো হুমকির প্রতিক্রিয়ায় তাৎক্ষণিক, কার্যকর এবং ‘ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই’ পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের নতুন তেহরান সফরের প্রেক্ষাপটে শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের উদ্দেশে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
এছাড়া, ইরানের সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করার জন্যও আদেশ জারি করেছেন তিনি। এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ’ সম্পদকে হামলার আওতায় আনার নির্দেশ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন অর্থাৎ আগামী ৪ নভেম্বর থেকেই হামলা শুরু হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে।
খামেনি তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, শত্রুরা যদি নতুন করে সামরিক বা সন্ত্রাসী হামলা শুরু করে, তাহলে সংঘাত কখন শেষ হবে, তা ইরানই নির্ধারণ করবে। তেহরানের হাতে যুদ্ধের সময় ও শর্ত নির্ধারণের অধিকার থাকবে বলেও তিনি জানান।
তিনি সামরিক বাহিনীকে নজরদারি, সহায়তা এবং যুদ্ধ পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
গত জুনে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়েছিল। তবে সেটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে পারেনি। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনতেও ব্যর্থ হয় ওই সমঝোতা।
এরপর ইরান নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়, তাহলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে তেহরান।
এই পরিস্থিতিতে কাতার নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেশটির মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনার জন্য আবারও তেহরানে যান।
তবে আলোচনায় এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য বিদ্যমান। ওয়াশিংটন চায়, আলোচনার শুরুতেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হোক। অন্যদিকে, তেহরানের দাবি, আগে ইরানের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে।
এদিকে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে বলে তিনি মনে করেন।
কানসাস সিটির রেডিও স্টেশন কেসিএমওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। তবে আমাদের এমন নিশ্চয়তা প্রয়োজন, যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না হয়।’
এর আগে নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না বলেও জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন