০২:১৬ এম
পটুয়াখালী সদর উপজেলার রিপন কাজী নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১১টার সময়, উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের গগনখা বাজারের নিকটবর্তী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত রিপন কাজী (৩৮) সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ও আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালীবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বাবার নাম মিজানুর রহমান কাজী। নিহত রিপন গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতির পদে কাজ করতেন।
নিহতের মা ও ভাই অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক ও পারিবারিক বিরোধের কারণে রিপনের চাচাত ভাইদের দ্বারা ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা জানান, হামলাকারীদের সঙ্গে রিপনের বাবা, মিজানুর রহমান কাজী,ও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী এবং রিপনের চাচাত ভাই রাজীব কাজী বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে, সে ও রিপন গগনখা বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ফারুক মাস্টারের বাড়ির সামনে যখন পৌঁছান, তখন চাচাত ভাই রাসেল কাজী মোটরসাইকেল থামিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন। মামলার সময় হঠাৎ রাসেল, রিফাত (২৬), সোহাগ (৪২), রাহাত (২৯), এবং রিফাতের খালাত ভাই পলাশসহ মোট ৭-৮ জন ধারাল অস্ত্র নিয়ে রিপনের ওপর হামলা শুরু করে। হামলাকারীদের মাঝে রিপনের বাবা মিজানুর রহমানও ছিলেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
রাজীব জানান, প্রাণে বাঁচতে সে পাশের একটি খালে ঝাঁপ দিয়ে escapes করে। খালের অপর পারে উঠে চিৎকার করতে থাকে। এরপর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এসে রিপনকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ছোট ভাই রাব্বী কাজী (২৭) অভিযোগ করে বলেন, তার বড় ভাই রিপন গөгөলশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতির পদে ছিলেন। অন্যদিকে চাচাত ভাই রিফাত কাজী একই ইউনিয়নের ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করতেন। দুই দলের মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল।
এছাড়া, তাদের বাবা মিজানুর রহমান কাজী একাধিক বিয়ে করায় বাড়ির জমিজমা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছিলেন। চাচাত ভাইয়েরা কম দামে জমি কেনার জন্য তাকে বিয়ে করতে উৎসাহিত করতেন। এর ফলে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এসব বিষয় নিয়েই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ ছিল, এবং সেই বিরোধের ফল হিসেবে রিপনের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনাটির পর থেকে মিজানুর রহমান কাজী ও অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাই তাদের কোনও বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন