০২:২৪ এম
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের বাকপ্রতিবন্ধী ও মানসিক ভারসাম্যহীন এক তালাকপ্রাপ্ত নারী একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এই শিশুর পিতৃপরিচয় নিয়ে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যের। পরিবারের সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পরিবারের দাবি, প্রায় আট বছর আগে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং বাকপ্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। এ অবস্থার কারণে আড়াই বছর আগে তার স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তাদের প্রায় ছয় বছরের সংসার ছিল। বিচ্ছেদের পর থেকেই মেয়েটি বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। ওই নারীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ে কোথাও একা যেত না।
সে কথা বলতে পারে না, এবং নিজের মনের কথাও বোঝাতে পারে না। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি বুঝতে পারি সে সন্তানসম্ভবা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ের মুখের ভাষা নেই। সে কিছু বলতে পারে না। তাই শিশুটির বাবার পরিচয়ও জানা সম্ভব হচ্ছে না।’ ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। স্থানীয় বিএনপির সভাপতি মো. রাজ্জাক শেখ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। যারাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
স্থানীয় বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী বলেন, একজন অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রকৃত দোষীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ জালাল মিয়া বলেন, পরিবারটিকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি। বিভিন্ন সময় তাদের চিকিৎসা ও আর্থিক সহযোগিতা করেছি। তবে মেয়েটি যে গর্ভবতী ছিল তা আমি বুঝতে পারিনি। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাথরঘাটা থানার ওসি বলেন, এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন