প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বরগুনার আমতলীর গুলিশাখালী ইউনিয়নের শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন কাজীকে (৩৫) তাঁর বাবার ১০ বিয়ের প্রতিবাদ করার কারণে হত্যা করা হয়েছে। বাবার নেতৃত্বে, মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজী, তাঁর চাচাতো ভাই রিফাত কাজী এবং বিভিন্ন সহযোগীরা মিলে রিপন কাজীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছেন। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টা নাগাদ পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকায় ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহে মোস্তফা কাজী এবং ফিরোজ কাজী নামের দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহত রিপন কাজী ছিলেন আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামের মো. মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর ছেলে। তিনি এ ইউনিয়নের শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন। জানা যায়, মিজানুর কাজী দশ বিয়ে করেছেন। এর ফলে বাবার সঙ্গে রিপন কাজীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের প্রভাবেই ছেলে রিপন কাজী গত দুই বছর আগে বাবাকে মারধর করেন, ফলে বাবা মিজানুর কাজীর পা ভেঙে যায়।
এরপর থেকেই প্রতিশোধের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। বাবা নিজেই ছেলের হত্যার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার এই পটভূমির মধ্যে, শেখ হাসিনার পতনের পর চাচাতো ভাই রিফাত কাজীর সঙ্গে রিপন কাজীর মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। দুইজনের মধ্যে চরম বিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। নিহতের ভাই সাব্বির কাজী অভিযোগ করেছেন যে, বাবার নেতৃত্বে রিপন কাজীর হত্যার পরিকল্পনা তৈরি হয়। মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টার দিকে রিপন এবং তার চাচাতো ভাই রাজিব কাজী বাজারঘোনা এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে গ্রামের বাড়ি কালিবাড়ী যাচ্ছিলেন। ঠিক এই সময় পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকায় ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে তাদের গতিরোধ করে ১৫-২০ জনের একটি দল, যাদের মধ্যে ছিল বাবার দল। তারা রিপন কাজীকে ধারাল অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে আমতলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মিজানুর কাজীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই বাবাসহ সন্ত্রাসীরা পলাতক হয়ে যায়। স্থানীয়রা সন্দেহভাজন মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পুলিশ তাদের পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করেছে। সেখানেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ওসি মো. মনিরুজ্জামান।
এ ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পটুয়াখালী সদর থানায় নিহতের মাতা আমেনা বেগম বাদী হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিহতের লাশ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী রাজিব কাজী বলেন, “আমি আর রিপন কাজী রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাজারঘোনা থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে গগণখা নামক এলাকায় পৌঁছালে রাসেল কাজী চাচাতো ভাই রিপনকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।” এতে তাদের মোটরসাইকেল ঘটনা স্থলে পড়ে যায়। রাজিব দৌড়ে পালিয়ে গেলেও রিপন কাজীকে ১৫-২০ জন মিলে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রিপন কাজীর ছোট ভাই সাব্বির কাজী বলেন, “বাবা মিজানুর কাজী ১০টি বিয়ে করেছেন।
ভাই রিপন প্রতিবাদ করায় বাবার নেতৃত্বে ও চাচাতো ভাই রিফাত কাজীসহ সহযোগীরা রিপনকে হত্যা করেছে।” মাতা আমেনা বেগম কান্নার সঙ্গে বলেন, “যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তাদের কঠোর বিচার চাই। স্বামীর বিয়েতে বাধা দেওয়ায় আমার সন্তানকে হত্যা হতে হলো।” আমতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জালাল উদ্দীন ফকির বলেন, “রিপন কাজী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন। তাঁকে হত্যা করা হবে তা আমাদের কল্পনাতেও ছিল না।” এদিকে, আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “স্থানীয় জনতা দুইজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তাদের পটুয়াখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গত রাতে ঘটনার সময় থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে, যা মিজানুর কাজীর।” পটুয়াখালী সদর থানার ওসি বলেন, “দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় রাখা হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন