ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যেসব কথা কলিগকে কখনোই বলা উচিত নয়


যেসব কথা কলিগকে কখনোই বলা উচিত নয়

কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে দিনের একটি বড় সময় কাটে। প্রতিদিনের কাজ, আড্ডা এবং গল্পের মাধ্যমে অনেক সময় সহকর্মীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের ভিত্তিতে অনেকে ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করে ফেলেন।

কিন্তু কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক যতই ভালো হোক, ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয় নিজের মধ্যেই রাখা নিরাপদ। কারণ বন্ধুত্ব এবং পেশাগত সম্পর্ক এক বিষয় নয়। সময়ের সঙ্গে সহকর্মী, দায়িত্ব এবং সম্পর্কের সমীকরণ পরিবর্তিত হতে পারে। তখন একসময় বিশ্বাস করে বলা কথাই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রেম ও সম্পর্কের কথা

আরও পড়ুন: শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে, নিরাপদ থাকতে মেনে চলুন অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম

প্রেমের অবস্থা, সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি কিংবা সঙ্গীর সঙ্গে সমস্যা রয়েছে কি না—এসব অত্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয়। ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হলেও সম্পর্কের খুঁটিনাটি জানানো জরুরি নয়। ব্যক্তিগত সম্পর্কের এসব তথ্য পরবর্তী সময়ে অফিসের আড্ডা কিংবা আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

বিয়ে ও সংসারের বিষয়

বিয়ে কবে করবেন, কেন বিয়ে করছেন না, সংসারে কী চলছে কিংবা পরিবারের সঙ্গে কোনো সমস্যা আছে কি না—এ ধরনের বিষয়গুলো ব্যক্তিগত। নিজের পারিবারিক জীবনের এমন তথ্য অফিসে বিস্তারিতভাবে শেয়ার না করাই ভালো, যা পরে অন্যের মন্তব্য বা আলোচনার কারণ হতে পারে।

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা

আরও পড়ুন: পোষা বেড়াল ভেবে এক বছর লালন-পালন, নতুন প্রজাতি ‘লিওপার্ডাস টিলকাও’ শনাক্ত

বিয়ে হয়েছে কি না, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা কী অথবা পরিবার নিয়ে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত কী—এসব সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। কোনো সহকর্মী নিজে থেকে এসব তথ্য না জানালে এ বিষয়ে অতিরিক্ত কৌতূহল দেখানোও ঠিক নয়।

আর্থিক তথ্য

বেতন কত, পরিবারের আর্থিক অবস্থা কেমন, ঋণ আছে কি না অথবা কত টাকা সঞ্চয় করেন—এসব তথ্যও ব্যক্তিগত। বন্ধুত্বের ভিত্তিতে আলোচনা শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে তা অপ্রয়োজনীয় তুলনা, আলোচনা কিংবা ভুল বোঝাবুঝির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

অফিসের অন্যদের নিয়ে ব্যক্তিগত মতামত

আরও পড়ুন: সন্তান হারানোর শোক অন্য প্রাণীদেরও সমান কষ্ট দেয়, সাক্ষী অতল সমুদ্র

কোনো সহকর্মীর অনুপস্থিতিতে তাকে নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য করা অনেক সময় সহজ মনে হতে পারে। একইভাবে বস, সিনিয়র কিংবা অন্য সহকর্মী সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্যও পরে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। কে কখন সেই কথা অন্যের কাছে বলবেন, তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই কারও অনুপস্থিতিতে কথা বলার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

চাকরি বদলের পরিকল্পনা

অন্য কোথাও চাকরির চেষ্টা করছেন, কোথায় আবেদন করেছেন অথবা কবে চাকরি ছাড়তে পারেন—এ ধরনের পরিকল্পনা নিশ্চিত হওয়ার আগে সহকর্মীদের জানানো প্রয়োজন নেই। ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখাই নিরাপদ।

নিজের দুর্বলতা বা ব্যক্তিগত সংকট

আরও পড়ুন: নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের ১১৪ বছরের পুরনো চিঠি প্রকাশ

জীবনের কঠিন সময়, ব্যক্তিগত সমস্যা অথবা নিজের কোনো দুর্বলতার কথা কাছের কাউকে বললে মানসিকভাবে স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। তবে কর্মক্ষেত্রে এমন তথ্য শেয়ার করার আগে ভাবা উচিত, ভবিষ্যতে তা কোনোভাবে পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে কি না।

ব্যক্তিগত নথি ও গোপন তথ্য

পাসওয়ার্ড, গুরুত্বপূর্ণ নথি, ব্যক্তিগত ছবি, ব্যাংক বা আর্থিক তথ্য অথবা প্রতিষ্ঠানের গোপন কোনো তথ্য কখনোই শুধু বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে অন্যের সঙ্গে ভাগ করা উচিত নয়। ব্যক্তিগত ও পেশাগত নিরাপত্তার জন্য এসব তথ্য গোপন রাখা জরুরি।

তাহলে কি কলিগের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না?

আরও পড়ুন: আজ বিশ্ব মান দিবস: ভেজালের বিরুদ্ধে মানের অঙ্গীকার

অবশ্যই যাবে। কর্মক্ষেত্রে বন্ধুত্ব, আড্ডা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা কাজের পরিবেশকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। তবে বন্ধুত্ব মানে নিজের জীবনের প্রতিটি দরজা খুলে দেওয়া নয়।

কর্মক্ষেত্রে মানুষকে বিশ্বাস করা যায়, বন্ধুত্বও করা যায়। তবে নিজের ব্যক্তিগত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছেই রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে খারাপ ভাবা কিংবা সবাইকে সন্দেহ করার বিষয় এটি নয়। বরং মনে রাখতে হবে, পেশাগত সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে।

আজ যে সহকর্মী খুব কাছের, ভবিষ্যতে তিনি হয়তো অন্য বিভাগে, অন্য প্রতিষ্ঠানে কিংবা সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকায় থাকবেন। তাই কর্মক্ষেত্রে ভালো সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সীমারেখাও থাকা প্রয়োজন।

সব কথা বললেই সম্পর্ক গভীর হয় না। কখন কোন কথা নিজের কাছে রাখতে হবে, সেটিও পেশাদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আরও পড়ুন: পানির বাইরে ডাঙায়ও বেঁচে থাকে যেসব মাছ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরে তিন মণ আলুর দামে এক কেজি ইলিশের বিক্রি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২০ পি.এম


চাঁদপুরে তিন মণ আলুর দামে এক কেজি ইলিশের বিক্রি

ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে, তবে নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের অভাব দেখা দিয়েছে। সরবরাহের অভাবে চাঁদপুরের বিভিন্ন মাছের আড়ত ও বাজারে জাতীয় মাছটির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। একই অর্থের বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় আড়াই থেকে তিন মণ আলু। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের অনেক পরিবারে ইলিশ ক্রয় করা এখন সম্ভব হয়ে উঠছে না।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, ইলিশের দাম অত্যন্ত চড়া। বড় আকারের ইলিশের সরবরাহ কম থাকার কারণে দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের ইলিশের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

চাঁদপুর সদর, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, হাইমচর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার মাছের বাজারেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যান্য মাছের তুলনায় ইলিশের দাম অনেক বেশি।

কিছু মৎস্য ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, নদী থেকে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়াই দাম বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ। আড়তে মাছের পরিমাণ কম হলেও ক্রেতাদের চাহিদা রয়েছে। ফলে সরবরাহ কম এবং চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে ইলিশের দাম বেড়ে গেছে।

নদীতেও ইলিশের সংকটের চিত্র দেখা যাচ্ছে। জেলেরা জানিয়েছেন, আগের মতো জালে ইলিশ ধরা পড়ছে না। অনেক সময় নদীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করেও আশানুরূপ মাছ ধরা পড়ছে না।

মাছ ধরতে নৌকার জ্বালানি, শ্রমিক, বরফ ও খাবারের জন্য প্রতিদিন খরচ হচ্ছে। এতে অনেক জেলে লোকসানে পড়ছেন এবং কেউ কেউ পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন।

এক জেলে বলেন, "নদীতে মাছ না থাকলে আমাদের কষ্টটা কেউ বোঝে না। জাল ফেলতে যে খরচ হয়, অনেক সময় সেই টাকাটাও ওঠে না। মাছ পেলে সংসার চলে, না পেলে ধারদেনা করতে হয়। কিস্তি আর মহাজনের ঋণের টাকা ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারছি না। ছেলে-সন্তানদের নিয়ে খুব অভাবে আছি।"

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে ইলিশের দাম এত বেড়ে গেছে যে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের পক্ষে এখন ইলিশ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এক ক্রেতা বলেন, "এক কেজি ইলিশের দাম যদি আড়াই হাজার টাকার ওপরে হয়, তাহলে পরিবারে ইলিশ খাওয়ানো কঠিন। একই টাকায় অনেক কেজি আলু বা অন্য মাছ কেনা যায়।"

মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদীতে ইলিশের সরবরাহ বাড়লে বাজারে দাম কমতে পারে। তবে কবে নাগাদ ইলিশের সরবরাহ বাড়বে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না তারা।

মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, "ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে আমরা সব সময় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে থাকি। জাটকা সংরক্ষণ, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বন্ধ এবং অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নদীতে ইলিশের বিচরণ ও সরবরাহ বাড়লে বাজারে দামও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২১ পি.এম


রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন যে, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেছেন, "মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে।" সংকটের স্থায়ী সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থল হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।

সহকারী প্রেস সচিব জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা নিয়ে বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।

দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় বারহাম সালেহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩ বছর ধরে অচল ৫ কোটি টাকার পানি প্রকল্প, স্থানীয়দের সংস্কারের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২১ পি.এম


৩ বছর ধরে অচল ৫ কোটি টাকার পানি প্রকল্প, স্থানীয়দের সংস্কারের দাবি

হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরবাসীর নিরাপদ পানি সরবরাহের উদ্দেশ্যে নির্মিত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি, যেটির ব্যয় ছিল প্রায় ৫ কোটি ৮ লাখ টাকা, চালুর এক বছরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। তিন বছর ধরে অচল থাকার কারণে পৌরবাসী এই প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্ল্যান্টটির নির্মাণকাজ শুরু হয়, যা শ্যামলী পাড়ার উত্তরে স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে পৌরসভার জায়গায় নির্মিত হয়। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০২২ সালের ২৮ জুন প্ল্যান্টটি মাধবপুর পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সূত্রে জানা গেছে, প্ল্যান্টটির ঘণ্টায় ২ লাখ লিটার পানি পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গভীর নলকূপ থেকে পানি উত্তোলন করে পরিশোধনের পর ৪৫০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার ওভারহেড ট্যাংকে সংরক্ষণ করার কথা ছিল। পরে পাইপলাইনের মাধ্যমে পৌরবাসীর মধ্যে ওই পানি সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল।

হস্তান্তরের পর প্ল্যান্টটি চালু হয় এবং প্রায় এক বছর কার্যক্রম চলে। তবে ২০২৩ সালের পর থেকে এটি আর সচল হয়নি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় প্ল্যান্টের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, পানি উত্তোলনের জন্য স্থাপন করা তিনটি গভীর নলকূপও বর্তমানে নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পানি সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইনও পুরোপুরি স্থাপন করা হয়নি। ফলে প্ল্যান্টটি পুনরায় চালু করতে হলে একাধিক অবকাঠামো মেরামত ও সংস্কারের প্রয়োজন হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা পবিত্র রায় বলেন, "প্ল্যান্টটি চালু হওয়ার পর কিছুদিন পৌরবাসী পানি পেয়েছেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে এটি বন্ধ। তিনটি গভীর নলকূপও নষ্ট হয়ে গেছে। প্ল্যান্টটি দ্রুত মেরামত করে নিয়মিত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।"

পৌর নাগরিক নয়ন মিয়া মন্তব্য করেন, "জনগণের অর্থে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দুঃখজনক। বছরের পর বছর পড়ে থাকলে যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে সরকারি অর্থের অপচয় আরও বাড়বে। দ্রুত এটি সচল করার পাশাপাশি কেন দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।"

মাধবপুরের সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান মানিক বলেন, "প্ল্যান্টটি বন্ধ থাকায় পৌরবাসী কষ্ট করছেন। তার দায়িত্বকালেও এটি চালু ও সচল রাখার বিষয়ে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দ্রুত প্রয়োজনীয় মেরামত করে প্ল্যান্টটি চালু করা প্রয়োজন।"

মাধবপুর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্ল্যান্টটি চালুর বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার কারণে এটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

মাধবপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, মাধবপুরে যোগদানের পর তিনি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও ওভারহেড ট্যাংক পরিদর্শন করেছেন। প্ল্যান্টটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। কীভাবে দ্রুত এটি সচল করা যায়, তা গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

মাধবপুরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী তুষার পাল বলেন, প্ল্যান্টটি মেরামতের জন্য তাঁদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সংস্কারের জন্য বড় বাজেট প্রয়োজন।

প্রায় ২৫ হাজার পৌরবাসীর জন্য নির্মিত এ প্ল্যান্টটি দ্রুত সংস্কার করে পুনরায় চালু এবং নিরাপদ পানি সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় মেরামত, নষ্ট গভীর নলকূপ সংস্কার এবং পানি সরবরাহের অবকাঠামো সম্পন্ন করে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটানো হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্যাকসের স্পিনে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজ শুরু ইংল্যান্ডের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২২ পি.এম


জ্যাকসের স্পিনে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজ শুরু ইংল্যান্ডের

টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর ওয়ানডে ফরম্যাটেও ইংল্যান্ডের শক্তি প্রদর্শনের আশঙ্কা ছিল। তবে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কা স্বাগতিকদের সহজে ছাড় দেয়নি। ইংল্যান্ডকে একসময় নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাধ্যমে চাপের মধ্যে ফেলে দেয় তারা, কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে সফরকারীরা শেষ পর্যন্ত ম্যাচটিকে জমাতে পারেনি। চেস্টার-লি-স্ট্রিটের রিভারসাইড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম ওয়ানডেতে ইংল্যান্ড ৮৯ রানের জয় নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত টসে ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ৪৮.১ ওভারে ২৬৫ রানে অলআউট হয়। শ্রীলঙ্কার ইনিংস ১৭৬ রানে শেষ হয়।

ইংল্যান্ডের জয়ে অলরাউন্ডার উইল জ্যাকসের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি দুর্দান্ত স্পিন বোলিংয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপকে ভেঙে ফেলে ক্যারিয়ারের প্রথমবার ওয়ানডে ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে পাঁচ উইকেট অর্জন করেন। ২৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স ছিল চমকপ্রদ।

ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল ভালো। টম ব্যান্টন ১০ রানে আউট হলেও পাওয়ারপ্লের ১০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৬৪ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। এরপর ২৯ বলে ৩২ রান করে আউট হন বেন ডাকেট।

জো রুট ও হ্যারি ব্রুকের ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে ইনিংসের ভিত্তি শক্তিশালী হতে থাকে। ওয়ানডেতে টানা সপ্তম হাফসেঞ্চুরির পথে থাকা রুটকে ৪৪ রানে বোল্ড করেন অভিষিক্ত সাচিন্দু। পরে অধিনায়ক ব্রুক ৬৯ বলে ৭টি বাউন্ডারিতে ৬৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন।

একপর্যায়ে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৮২ রান। সেখান থেকে শ্রীলঙ্কা ঘুরে দাঁড়ায় এবং মাত্র ২৯ রানের মধ্যে চার উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডকে বড় সংগ্রহে পৌঁছাতে বাধা দেয়। জস বাটলার ৩৩ বলে ৩১ রান করেন।

শেষদিকে ৪৭ বলে ৪৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন উইল জ্যাকস। তার ব্যাটিংয়ের কারণে ইংল্যান্ড কোনোমতে ২৬৫ রানের সংগ্রহ পায়।

জয়ের জন্য ২৬৬ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরু থেকেই চাপের মধ্যে পড়ে। কামিন্দু মেন্ডিস ২৭ রানে আউট হওয়ার পর সফরকারীরা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। জ্যাকসের স্পিনে একপর্যায়ে ১০৫ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে তারা ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে।

তবে ওয়েলালাগে একপ্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান। তিনি ৩৬ বলে ৪৫ রান করেন এবং দলের পরাজয়ের ব্যবধান কমান। শেষ পর্যন্ত ১৭৬ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর একই ওভারে চার বলের মধ্যে তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের ইতি টানেন জ্যাকস। তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন।

এটি ওয়ানডে ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে জ্যাকসের প্রথম ফাইফার।

তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে আগামী বৃহস্পতিবার হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%