বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:২৭ পি.এম
ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী সাগরদাঁড়ি আপ ট্রেনটি চালক নিখোঁজ হয়ে যান। এই ঘটনার পর, এক ঘণ্টা ৭ মিনিট পর, সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে তিনি ফিরে এসে ট্রেন নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। এই ঘটনায় ট্রেনের যাত্রীরা নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশন মাস্টার এবং কর্মচারীরা আত্মগোপন করেন। পরে, এক ঘণ্টা ১০ মিনিট পর চালক ফিরে আসলে ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
ট্রেনের যাত্রী বাপ্পি নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, "আগামীকাল শুক্রবার রাজশাহীতে বিএসসি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি। খুলনা থেকে এই ট্রেনে উঠেছি। আজ পৌঁছাতে না পারলে পরীক্ষা দেব কীভাবে, সেই চিন্তায় আছি।"
এক ঘণ্টা পর ট্রেনের চালক মাহবুবুর রহমান ফিরে এলেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি। তার কাছে যখন নিখোঁজ থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে ট্রেন চালু করে হুইসেল বাজিয়ে যাত্রা শুরু করেন।
সাগরদাঁড়ি ট্রেনের গার্ড শফিকুল ইসলাম জানান, "খুলনা থেকে ট্রেনটি নিয়ে বিকেল ৬টা ৭ মিনিটে মোবারকগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছাই। এরপর ট্রেন ছাড়ার ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হলেও ট্রেন না ছাড়ায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, চালক ইঞ্জিন রেখে চলে গেছেন। তবে কী কারণে তিনি ইঞ্জিন রেখে চলে গেছেন, তা বলতে পারছি না।"
মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহজাহান আলী জানান, "খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সাগরদাঁড়ি ১৬১ আপ ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে মোবারকগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী দুই মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পর ট্রেন ছাড়ার ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়। কিন্তু চালককে ইঞ্জিনে গিয়ে দেখা যায়, দরজা বন্ধ এবং ইঞ্জিনও বন্ধ। এরপর থেকেই তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। এক ঘণ্টার বেশি সময় পর চালক ফিরে এসে ট্রেন নিয়ে যাত্রা শুরু করেন।" এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টার শাহজাহান আলী বলেন, "বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে রেল কর্তৃপক্ষ।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুয়েতের আল আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নতুন করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এই হামলায় দাবি করা হয়েছে যে, দুটি ড্রোন হ্যাঙ্গার, একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং কয়েকটি সামরিক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসি তাদের পরিচালিত ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ৫৬তম ধাপের অংশ হিসেবে এই আক্রমণটি চালিয়েছে জানিয়েছে। হামলায় মার্কিন ঘাঁটিটির দুটি ড্রোন রাখার স্থান, একটি বিশালাকার জ্বালানি ট্যাংক এবং বেশ কয়েকটি সামরিক হেলিকপ্টার আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
একই বিজ্ঞপ্তিতে আইআরজিসি জোর দিয়ে বলেছে যে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা না হলে এবং মুসলিম বিশ্বের সম্পদ লুটপাট বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। এছাড়া কুয়েতের সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তাতেও এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
তবে আইআরজিসির এই বড় ধরনের হামলার দাবির বিষয়ে কুয়েত কিংবা মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য জানানো হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর বাউফলে, এক গৃহবধূর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগের কারণে জামায়াতের সেক্রেটারি ফারুক হোসেন প্যাদাকে মারধরের শিকার হতে হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে, যখন ফারুক হোসেন প্যাদাকে দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আটক করে স্থানীয় কয়েকজন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে যে, এক গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলার কারণে ফারুক হোসেন প্যাদাকে তারা মারধর করেন। পরে, ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে, ফারুককে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ফারুক অভিযোগটি অস্বীকার করে জানান, 'স্থানীয় সাইদুল, পারভেজসহ মৃধা বাড়ির ৪-৫ জন আমাকে মারধর করেছে। তারা আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। অতীতে তাদের সঙ্গে আমার বিরোধ ছিল। এই বিরোধের কারণে আমার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে, এক নারীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষ আমাকে বাড়াবাড়ি না করতে বলেছিল, কিন্তু আমি সরে গেছি। তারা আমাকে কোথাও হাতেনাতে ধরতে পারেনি, তারপরও তারা আমার বিরুদ্ধে গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে মারধর করেছে।' অন্যদিকে, গৃহবধূর শাশুড়ি জাহানারা বেগম জানান, ফারুক অনেক দিন ধরে তার পুত্রবধূকে বিরক্ত করছিল। তিনি বিভিন্নভাবে টাকা-পয়সার প্রলোভন দেখানোর চেষ্টা করতেন এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতে চাইতেন। আশপাশের লোকজন আগে থেকেই এ বিষয়ে তথ্য দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা বিশ্বাস করেননি। পরবর্তীতে ফারুকের ছেলে তাদের ছেলেকে কিছু ছবি দেখালে তারা বিষয়টি বিশ্বাস করতে বাধ্য হন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছিল, কিন্তু এরপরও ফারুক আমার পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দেয়। এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, 'মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কাউখালীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি ২০২৬ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অস্থায়ী স্বেচ্ছাসেবী সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের জন্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন এবং সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা সভাকক্ষে ৫টি ইউনিয়ন থেকে আবেদনসমূহ প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত ভাইবা পরীক্ষায় অংশ নেন প্রার্থীরা।
সুপারভাইজার ৩টি পদের বিপরীতে ৩৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন। অন্যদিকে, তথ্য সংগ্রহকারী ২৮টি পদের জন্য ৩৪৭ জন আবেদন করেছেন। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইউনিয়ন ভিত্তিক আলাদা বোর্ড তৈরি করে সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার প্রার্থীদের জন্য মৌখিক (ভাইবা) পরীক্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়। কাউখালী উপজেলার ফ্যামিলি কার্ড শুমারি ২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সঠিক কর্মী নির্বাচনের উপর আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ভাইবা নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, ভুয়া বিল-ভাউচার, কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘ অনুসন্ধানে একাধিক প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন হলেও বাস্তবে কাজ না হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, কোথাও নামমাত্র কাজ দেখিয়ে পুরো বিল তুলে নেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে এই কর্মকর্তা প্রতিটি ইউনিয়নে নিজ নিয়ন্ত্রণে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বরাদ্দের অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয় এবং প্রকল্প সভাপতিদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করা হয়।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো, এক ইউপি সদস্যের স্বামীর কাছে দুটি প্রকল্পের কমিশন বাবদ ৪৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন পিআইও মোহাম্মদ আলী। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অনুসন্ধানে কথা হয় একাধিক প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্যের সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, প্রতিটি প্রকল্প থেকে প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়। কেউ কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিল আটকে রাখা হয়। তাদের দাবি, যেসব প্রকল্পের কাজ ভালো হয়েছে সেখান থেকে ২০ শতাংশ এবং যেসব প্রকল্পের কাজ নিম্নমানের হয়েছে, সেগুলো থেকেও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে পিআইও নিজেই নিজের পছন্দের লোকজন দিয়ে প্রকল্পের কাজ করান। কোথাও নামমাত্র কাজ দেখিয়ে, আবার কোথাও কোনো কাজই না করেই বরাদ্দের পুরো অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ প্রকল্প তিনি নিজে পরিদর্শন করেন না; অফিস সহায়ককে দিয়ে আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন দেখিয়ে বিল অনুমোদন করা হয়েছে।
দুমকি উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় টিআর, কাবিখা, কাবিটা, খাদ্য সহায়তা ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সরকারি বরাদ্দ আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ এসব বরাদ্দ সম্পর্কে অবগত না থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে যেসব প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে সেগুলো হলো, লেবুখালী ইউনিয়নের প্রকল্প নং-৭: মকবুল শরীফ বাড়ি থেকে সিদ্দিক শরীফের দোকান পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরেজমিনে কোনো কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য মোসা. জেসমিন বেগম বলেন, তিনি বরাদ্দ ও কাজ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রকল্প নং-২২: গাড়ি ধৌত করার র্যাম্প সংলগ্ন স্থানে মাটি ভরাট ও ইট সলিংয়ের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজের প্রমাণ মেলেনি। প্রকল্প সভাপতি চেয়ারম্যান মো. আজহার আলী মৃধার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকল্প নং-৯: উপজেলা পরিষদের মাঠ ও ইউএনওর বাসভবনের ফুল বাগানে মাটি ভরাটের জন্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সরেজমিনে কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্প সভাপতি আব্দুল জলিল জানান, বিষয়টি পিআইও জানেন।
প্রকল্প নং-৬: পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচনী কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কোনো কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কার্তিকপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ভরাট প্রকল্প: ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে সরেজমিনে গিয়ে ওই নামে কোনো বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অথচ বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া শ্রীরামপুর, পাংগাশিয়া ও লেবুখালী ইউনিয়নের একাধিক রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে বরাদ্দের তুলনায় অতি সামান্য কাজ করে পুরো বিল উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেক প্রকল্পে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার কাজ দেখিয়ে ২ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়েছে।
অনিয়ম, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং স্বপরিবারে বিদেশ গমনের জন্য অনাপত্তিপত্র নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলীকে তার মুঠোফোন কল দিলে তিনি প্রতিবেদককে সরাসরি দেখা করতে বলেন বলে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে তার মুঠোফোনে ও হট্সাপেপে একাধিক বার কল দেয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পটুয়াখালীর সহকারী কমিশনার তাপস বিশ্বাস জানান, মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ ছিলো পরে সেখানে আমরা অভিযানে যাই। সেই অভিযানের রিপোর্ট হেড অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি কিন্তু বেশ কিছুদিন যাবত আমাদের কমিশন নেই যার কারণে সেই রিপোর্ট পাস হয়ে আসেনি। তবে পাশ হয়ে আসলে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, পিআইও বিরুদ্ধে দূর্নীতির চিঠি এসেছে এবিষয়ে কাজ চলছে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কাজী মোঃ বদরুউজ্জামান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়েছে এবং সেই রিপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এদিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পিআইও মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে অতীতে বিভাগীয় তদন্ত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান হলেও তিনি এখনও একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়ায় তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ