১১:৪৩ এম
ঢাকা থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত পৃথক লেনে চালকরা গতি ও স্বস্তিতে ছুটতে পারেন। কিন্তু উত্তরাঞ্চলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে যায়। নাটোর হয়ে খুলনা অথবা সোনামসজিদ বন্দর মহাসড়কে লেন পৃথক নয়। সরু সড়কে অসংখ্য বাঁক পেরিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর ফলে প্রায়ই মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটে। গবেষণায় দেখা গেছে, নাটোর-খুলনা-রাজশাহী মহাসড়কের ১০০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ও বাঁকে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে মৃত্যুর হারে ঢাকার পর রাজশাহী বিভাগ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর নাটোরের বড়াইগ্রামে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন প্রাণ হারান। ঠিক এক যুগ পর একই দিনে বড়াইগ্রামেই বালুর ট্রাকের ধাক্কায় ১৪ জন নিহত হন।
২০২১ সালে নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের কাটাখালীতে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৭ জন মারা যান। একই সড়কের পুঠিয়ার ঝলমলিয়া বাজারে বালুবাহী ট্রাক উল্টে চারজন প্রাণ হারান।
আরও পড়ুন: তাহসিফের বান্ধবী জেরিকার রিমান্ড ৩ দিন বাড়াল আদালত
চলতি বছরে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক খুলনা-রাজশাহীর ২৬৯ কিলোমিটার মহাসড়কের দুর্ঘটনা প্রবণতা, কারণ বিশ্লেষণ এবং ১০০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হলো বড়াইগ্রাম, দাসুড়িয়া, বনপাড়া, ঝলমলিয়া, পুঠিয়া, কাটাখালি। রাজশাহী জেলায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটে এমন ৪৩টি হটস্পট রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ থেকে নাটোরের বনপাড়া পর্যন্ত সড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ত। উত্তরাঞ্চলের হাজারো যানবাহন চলাচল করলেও সড়কটি প্রশস্ত হয়নি। ৩১ কিলোমিটারে ২৫টি বাঁক রয়েছে। নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের বনপাড়া থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত ৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক, কাশিয়াডাঙ্গা-আমনুরা, খড়খড়ি-বাগমারা, পুঠিয়া-বাঘা সড়কে অন্তত ৪৬টি বাঁক রয়েছে। এসব বাঁকে প্রায়ই মুখোমুখি সংঘর্ষসহ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হলো বেপরোয়া গতি। এছাড়া সরু সড়কে বিপজ্জনক বাঁক, ড্রাইভিং জ্ঞানের অভাব, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ক্লান্ত ও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ধীরগতির তিন চাকার যানবাহনের অবাধ চলাচল এবং সচেতনতার অভাবের কারণে প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ঘটছে।
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী (সড়ক বিভাগ, রাজশাহী) আহসান হাবীব জানিয়েছেন, প্রাণহানি কমানোর জন্য সড়ক বিভাগ রোড সেফটি প্রকল্পের আওতায় সাইন-সিগন্যাল, রোড মার্কিং, চালকদের প্রশিক্ষণ, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে রাজশাহী বিভাগে প্রতি ১০০টি দুর্ঘটনায় অন্তত ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে এই বিভাগে শুধুমাত্র জাতীয় মহাসড়কে ৯৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৪২০টি দুর্ঘটনায় ৩৭০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন