প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চট্টগ্রাম ওয়াসা একটি ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যার উদ্দেশ্য বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন এবং নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। এই উদ্যোগের অধীনে নতুন ৮৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, ‘চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ প্রকল্পের’ আওতায় ওয়াসার নিজস্ব এবং বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়নে এসব নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে। ৮৫টি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে নগরীতে ওয়াসার অর্থায়নে ৭টি নলকূপ স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং সেগুলো বর্তমানে চালু রয়েছে।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো পুরোনো পানির পাইপলাইন আধুনিকায়ন, পানির অপচয় এবং সিস্টেম লস কমানো, পানি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং ৯০ হাজার স্মার্ট মিটার স্থাপনের মাধ্যমে অবৈধ পানির সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করা। বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় নগরীর উঁচু এবং প্রান্তিক এলাকায় পানির ঘাটতি নিরসনে এসব নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৬০টি ‘চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ প্রকল্পের’ আওতায় এবং বাকি ২৫টি ওয়াসার নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, নগরবাসীর মাঝে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গভীর নলকূপ থেকে দৈনিক ১০ লাখ লিটার পানি উত্তোলন করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, কালুরঘাট এলাকায় ৩০টি নলকূপ স্থাপন করা হবে। এসব নলকূপের পানি পাম্পের মাধ্যমে বহদ্দারহাট স্টেশনে নিয়ে সেখান থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হবে। এছাড়া যেসব উঁচু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানির চাপ কম এবং সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে, সেসব এলাকায়ও নলকূপ স্থাপন করা হবে।
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও জানান, বৃহত্তর উন্নয়ন কর্মসূচিটি গত ২০ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। এতে বিশ্বব্যাংক ৩ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা, বাংলাদেশ সরকার ৫৭৮ কোটি টাকা এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা নিজস্ব তহবিল থেকে ৭৪ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, পুরোনো অবকাঠামো এবং অবৈধ সংযোগের কারণে নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানির অপচয় হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে প্রকল্পের আওতায় খুলশী, এ কে খান, বায়েজিদ, অক্সিজেন, কালুরঘাট এবং চাক্তাইসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পুরোনো ও জরাজীর্ণ পানির পাইপলাইন প্রতিস্থাপন করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ অটোমেটেড স্মার্ট মিটারিংসহ ডিস্ট্রিক্ট মিটারড এরিয়া (ডিএমএ) নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সিস্টেম লস কমানো, ৪০ হাজার গ্রাহক সংযোগে পানির চাপের সমতা নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ওয়াসার আধুনিকায়ন কার্যক্রম শুধুমাত্র পানি সরবরাহ প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়নাধীন ও পরিকল্পনাধীন রয়েছে।
আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নগরীর বন্দর-পতেঙ্গা এলাকায় পানি সরবরাহের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া মোহরা পানি শোধনাগার ও মদুনাঘাট এলাকায় নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো পানির অপচয় কমানো, সমান চাপে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করা।
এছাড়া ‘কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-৩’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (এক্সিম ব্যাংক) অর্থায়নে ভাণ্ডালজুড়ি পানি শোধনাগারের সক্ষমতা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ে গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন, আন্তর্জাতিক অর্থায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর বিতরণব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য একটি টেকসই, পর্যাপ্ত পানির চাপসম্পন্ন এবং জবাবদিহিমূলক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন