০৫:০২ পি.এম
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে দেশের ২২ জেলায় সরকারি উদ্যোগে ‘শিশু স্বর্গ’ গড়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিশুর সমন্বিত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের ২২ জেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. মো. নুরুজ্জমান খান, যিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক, সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ২২ জেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
এছাড়া, তিনি জানান, সম্প্রতি কড়াইল বস্তিতে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে, যেখানে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৩০০ শিশুকে সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
এম এ মুহিত বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘কমিউনিটি বেসড আর্লি কেস ডিটেকশন’ (প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্তকরণ) ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, শত সীমাবদ্ধতার মাঝেও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা প্রদান করছেন। প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি সার্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তিনি স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সবার ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিবছর ৬ অক্টোবর বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস পালিত হয়। এই দিনটি সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের অধিকার, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শিক্ষা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
সেরিব্রাল পালসি শুধু শিশুর চলাফেরার সমস্যা নয়, বরং এর সঙ্গে কথা বলা, খাওয়া, দৃষ্টি, শ্রবণ, শেখা এবং দৈনন্দিন কাজেও বিভিন্ন মাত্রার সমস্যা যুক্ত হতে পারে। তবে সবার অবস্থা এক নয়। অনেকেই সামান্য সহায়তায় স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে সক্ষম। সূত্র: বাসস
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন