ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শোভাযাত্রা ঘিরে নেপালে সংঘর্ষ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম প্রশাসন


শোভাযাত্রা ঘিরে নেপালে সংঘর্ষ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম প্রশাসন

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় তরাই অঞ্চলের মধেশ প্রদেশে গত কয়েক দিন ধরে চলমান দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। চারটি জেলায় ওই দাঙ্গার পর দেশটির সরকার কারফিউ জারি করেছে। একটি শোভাযাত্রার আশপাশে শুরু হওয়া উত্তেজনা কীভাবে দ্রুত কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়ল, সেটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত রবিবার ভারতীয় সীমান্তের কাছে সুনসারি জেলার দেওয়াংগঞ্জ এলাকায় একটি শোভাযাত্রা চলছিল। অভিযোগ রয়েছে যে, শোভাযাত্রার সময় উচ্চ শব্দে গান বাজানো হচ্ছিল এবং ধর্মীয় পতাকা বহন করা হচ্ছিল। শোভাযাত্রার কারণে স্থানীয় আরেকটি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়ে যায়। এ থেকেই দ্রুত সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা পরে আশপাশের জেলাগুলোতেও বিস্তার লাভ করে।

পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে। তবে, কী অবস্থায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এবং নিহতদের মৃত্যু ঠিক কিভাবে হয়েছে, সেই সম্পর্কে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

সুনসারি, সিরাহা, ধনুষা ও সপ্তরী জেলায় উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব জেলায় কারফিউ জারি করা হয়। পাশাপাশি, পারসা জেলায় সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেপাল পুলিশ, আর্মড পুলিশ ফোর্স ও সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা যায়, গত রবিবার সুনসারি জেলার দেওয়াংগঞ্জ গ্রামীণ পৌরসভায় সংঘর্ষে আহত ২৪ বছর বয়সী ওম প্রকাশ মেহতার মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ বছর বয়সী জয় প্রকাশ মেহতাও মারা যান। বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলার গোলবাজারে সংঘর্ষ চলাকালে ১৭ বছর বয়সী গণেশ যাদব নিহত হন। এই ঘটনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।

আহত ১৯ বছর বয়সী সুভাষ ঠাকুরের অবস্থা চিকিৎসকদের মতে আশঙ্কাজনক।

বৃহস্পতিবার মধেশ প্রদেশের প্রাদেশিক রাজধানী জনকপুরে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে জনকপুরধাম উপমহানগর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়। ধনুষা জেলা প্রশাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। জনকপুরে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার এবং পদাতিক টহল জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

সিরাহা জেলার গোলবাজারে কারফিউ উপেক্ষা করে পূর্ব-পশ্চিম মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার সময় বেশ কিছু দোকান ও বিপণিবিতানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় নাগরিক সমাজের কিছু প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন যে, গত কয়েক দিন ধরেই এলাকায় উত্তেজনা বিকাশমান থাকলেও নিরাপত্তা বাহিনী শুরুতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তবে, এ অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে, জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেবে।

সোর্স: আল জাজিরা, কাঠমান্ডু পোস্ট, ফাস্ট পোস্ট

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতালিয়ান ফুটবলের কিংবদন্তি বারেসির মৃত্যু, শোকের ছায়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০৩ পি.এম


ইতালিয়ান ফুটবলের কিংবদন্তি বারেসির মৃত্যু, শোকের ছায়া

ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২৬ : বিশ্বকাপজয়ী ইতালির কিংবদন্তি ফুটবলার ফ্রাঙ্কো বারেসি মারা গেছেন। আজ তিনি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৬৬ বছর বয়সে। এসি মিলানের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধিনায়ক ছিলেন বারেসি। এসি মিলান ক্লাব এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে এসি মিলান বলেছে, 'ফ্রাঙ্কো বারেসির প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইতালির ফুটবল অঙ্গনে। তার আদর্শ ও সততা ক্লাবের ডিএনএতে চিরকাল লেখা থাকবে। তার ৬ নম্বর জার্সি চিরকাল ক্লাবের পরিচয় ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে থাকবে।'

১৯৬০ সালের ৮ মে ইতালির ত্রাভালিয়াদো শহরে জন্মগ্রহণ করেন বারেসি। ইতালির জার্সিতে ১৯৮২ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ৮১ ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি মাত্র এক গোল করেছেন। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে তিনি ইতালির দলের সদস্য থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি। কোচের সঙ্গে বিরোধের কারণে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ দলে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

১৯৯০ সালে বিশ্বকাপে বারেসি প্রথম খেলার সুযোগ পান। তবে আসরে ইতালি সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয়।

১৯৯৪ বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠেন বারেসি। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হার মানে ইতালি। টাইব্রেকারে ইতালির হয়ে প্রথম শট নেওয়া বারেসি গোল করতে ব্যর্থ হন।

খেলোয়াড়ি জীবন কাটিয়েছেন বারেসি এসি মিলানের হয়ে, যেখানে ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ৫৩২ ম্যাচে ১৬ গোল করেছেন। ১৫ মৌসুম ধরে তিনি ক্লাবকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

মিলানের হয়ে বারেসি তিনটি ইউরোপীয় কাপ (বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) ও ছয়টি ইতালিয়ান লিগ শিরোপা অর্জন করেন। ১৯৯৭ সালে বারেসি অবসর নেওয়ার পরে তার সম্মানে ৬ নম্বর জার্সি তুলে রাখে মিলান। তিনি ক্লাবের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই বিরল সম্মানে ভূষিত হন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিজিটাল যুগে ব্যতিক্রম চিত্র, তরুণদের পছন্দের তালিকায় এখনও রেডিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০৪ পি.এম


ডিজিটাল যুগে ব্যতিক্রম চিত্র, তরুণদের পছন্দের তালিকায় এখনও রেডিও

স্মার্টফোন, রিলস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আধিপত্যের এই সময়ে রেডিওর জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কথা সবাই বলছেন। কিন্তু আফ্রিকার চিত্র আমাদেরকে সম্পূর্ণ উল্টো গল্প শোনাচ্ছে। মূলত, তরুণদের মধ্যে বড় একটি অংশ এখনও নিয়মিত রেডিওতে সংবাদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান শোনেন। বিশেষ করে কেনিয়ায় এত বেশি রেডিও স্টেশন সম্প্রচারিত হচ্ছে যে নতুন স্টেশনের জন্য ফ্রিকোয়েন্সির সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

ডিজিটাল যুগে, দেশটির যোগাযোগ কর্তৃপক্ষ একটি এমন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, যা শুনতে অনেকটা বিস্ময়কর মনে হতে পারে। কেনিয়ার রেডিও তরঙ্গপথে এত বেশি ভিড় রয়েছে যে নতুন স্টেশনের জন্য জায়গা ফুরিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে কেনিয়ায় ২৫০টিরও বেশি এফএম রেডিও স্টেশন রয়েছে। এর বাইরেও কিছু স্টেশন সম্প্রচারের অনুমতির অপেক্ষায় আছে। রাজধানী নাইরোবির মতো বড় শহরগুলোর রেডিও উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, নতুন স্টেশনের জন্য আসলে তেমন কোনো ফ্রিকোয়েন্সি খালি নেই।

এই পরিস্থিতি পুরো আফ্রিকায় রেডিওর বিস্ময়কর জনপ্রিয়তার প্রতিফলন। স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের পর অনেকের বিশ্বাস ছিল যে, মানুষের মনোযোগের লড়াইয়ে রেডিও হয়তো হারিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা উত্তর উল্টো। গত এপ্রিলে প্রকাশিত আফ্রোব্যারোমিটারের এক জরিপে দেখা গেছে, আফ্রিকাজুড়ে সংবাদ জানার অন্যতম প্রধান মাধ্যম এখনো রেডিও।

আফ্রিকায় রেডিও সম্প্রচার শুরু হয়েছিল ১৯২০-এর দশকে। তখন ঔপনিবেশিক শাসকেরা এটি প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় গোপন রেডিও স্টেশনও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬০-এর দশকে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকার ট্রানজিস্টর রেডিওকে সহজলভ্য করতে ভর্তুকি দেয়। তবে রেডিও সব সময় ইতিবাচক ভূমিকা রাখেনি। ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডার গণহত্যার পূর্বে একটি রেডিও স্টেশন তুতসি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে দিয়ে সহিংসতা উসকে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গেছে। আফ্রোব্যারোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, শহর ও গ্রামে মিলিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে একাধিকবার রেডিওতে সংবাদ শোনেন। তরুণদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তাও কম নয়। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী আফ্রিকানদের প্রায় ৫৫ শতাংশ নিয়মিত রেডিও থেকে সংবাদ গ্রহণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রে এই হার ৫৮ শতাংশ।

দ্য ইকোনমিস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার দেশগুলোতে রেডিওর এই জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ হলো কম খরচ ও সহজলভ্যতা। সস্তা মোবাইল ফোনেও এফএম রেডিও সুবিধা থাকে। আবার রেডিও শোনার জন্য ব্যয়বহুল মোবাইল ডেটার প্রয়োজন হয় না। বড় শহরের যানজটে আটকে থাকা মানুষও সরাসরি ফোন করে বিভিন্ন রেডিও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ইন্টারনেটও রেডিওর জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। জনপ্রিয় রেডিও উপস্থাপকেরা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তারকা রূপে পরিচিত হয়ে উঠছেন। অন্যদিকে ফ্রিকোয়েন্সির সংকট মোকাবিলা করতে কেনিয়া পরীক্ষামূলকভাবে ডিএবি বা ডিজিটাল অডিও ব্রডকাস্টিং প্রযুক্তি চালু করছে। এর মাধ্যমে একই তরঙ্গপথে আরও অধিক রেডিও স্টেশন সম্প্রচার সম্ভব হবে।

সূত্রঃ দ্য ইকোনমিস্ট

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিথেন গ্যাসে বিধ্বস্ত কয়লাখনি, নিহত সংখ্যা পাকিস্তানে বেড়ে ৩৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


মিথেন গ্যাসে বিধ্বস্ত কয়লাখনি, নিহত সংখ্যা পাকিস্তানে বেড়ে ৩৪

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বালুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লা খনি কমপ্লেক্সের ভেতরে ভয়াবহ মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণের ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৪ জনে দাঁড়িয়ে গেছে। ধসে পড়া খনির ভেতরে এখনো আটকাবদ্ধ অবস্থায় দুই শ্রমিককে উদ্ধারের জন্য উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার কাছে দুর্গম সোরঞ্জ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সময় খনির ধসে পড়া অংশে মোট ৩৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানিয়েছেন বালুচিস্তানের খনি ও খনিজ সম্পদ উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী শোয়েব নোশেরওয়ানি।

বালুচিস্তান প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অপারেশনস পরিচালক মুহাম্মদ ফাহাদ জানিয়েছেন, নিহত ৩৪ জন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি দুই শ্রমিককে খুঁজে বের করার জন্য উদ্ধারকর্মীরা এখনও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রদেশের মুখ্য খনি পরিদর্শক মুহাম্মদ আতিফ বলেছেন, মাটির প্রায় ৪ হাজার ফুট বা এক হাজার ২১৯ মিটার গভীরে উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্গম এলাকা ও ধসে পড়া খনির কারণে অভিযান জটিল হয়ে উঠেছে।

অঞ্চলটির জ্যেষ্ঠ সরকারি খনি কর্মকর্তা আবদুল গনি বালুচ জানিয়েছেন, পাশাপাশি থাকা দুটি কয়লাখনিতে মিথেন গ্যাস জমে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে খনি কমপ্লেক্সের বড় একটি অংশ ধসে পড়ে এবং শ্রমিকরা চাপা পড়েন।

বালুচিস্তানের কয়লাখনিগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে প্রায়ই মিথেন গ্যাস জমে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনার পর খনিগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে দাঙ্গায় ৩ জন নিহত, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


নেপালে দাঙ্গায় ৩ জন নিহত, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় তরাই অঞ্চলের মধেশ প্রদেশে দাঙ্গার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির চার জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ফোর্স ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রশাসন সুনসারি, সপ্তরী, সিরাহা ও ধনুষা জেলায় কারফিউ জারি করেছে। পাশাপাশি পারসা জেলায় সভা সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন সুনসারি জেলার একটি গ্রামে একটি শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং ধীরে ধীরে আশপাশের জেলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবস্থা নেওয়ার সময় দুজন নিহত হন। কারফিউ চলাকালেও বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলায় একটি বিক্ষোভের সময় আরও একজনের মৃত্যু হয়। তবে নিহতদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে।

গত রবিবার সুনসারি জেলার দেওয়াংগঞ্জ গ্রামীণ পৌরসভায় সংঘর্ষে আহত ২৪ বছর বয়সী ওম প্রকাশ মেহতার মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ বছর বয়সী জয় প্রকাশ মেহতারও মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলার গোলবাজারে সংঘর্ষের সময় ১৭ বছর বয়সী গণেশ যাদব নিহত হন।

এ ঘটনায় আহত ১৯ বছর বয়সী সুভাষ ঠাকুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

বৃহস্পতিবার মধেশ প্রদেশের প্রাদেশিক রাজধানী জনকপুরে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে জনকপুরধাম উপমহানগর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়। ধনুষা জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে ক্ষমতা দিয়েছে। জনকপুরে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার ও পদাতিক টহল জোরদার করা হয়েছে।

অন্যদিকে সিরাহা জেলার গোলবাজারে কারফিউ উপেক্ষা করে মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় কয়েকটি দোকান ও বিপণিবিতানেও ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

সিরাহার মুখ্য জেলা কর্মকর্তা সুরেন্দ্র পৌডেল জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উত্তেজনা প্রশমনে রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল পুলিশ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে এবং অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রয়োজন অনুযায়ী আনুপাতিক বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে স্থানীয় পর্যায়ে সংলাপ অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় নাগরিক সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা থাকলেও শুরুতেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

পরিস্থিতির মধ্যে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%