ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাতক্ষীরায় ১৯ হাজার ৬৪৯ টন বোরো চাল সংগ্রহ


সাতক্ষীরায় ১৯ হাজার ৬৪৯ টন বোরো চাল সংগ্রহ

চলতি বছরে বোরো চাল সংগ্রহের মৌসুমে সাতক্ষীরায় সরকারিভাবে ১৯ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৫৫০ টন সেদ্ধ চাল ক্রয় করা হয়েছে। প্রতি কেজি ৪৯ টাকা দরে, যার মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৬ কোটি ২৮ লাখ ২৭ হাজার ৯৫০ টাকা।

এই তথ্য সাতক্ষীরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে জানা গেছে। তবে, গত মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমে চাল সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১০ হাজার ১৫৬ দশমিক ৭০ টন, কলরোয়া উপজেলায় ১ হাজার ২১৪ টন, দেবহাটা উপজেলায় ১ হাজার ২৭৩ টন, কালিগঞ্জে ৬৭৫ টন, শ্যামনগরে ১৪২ টন, আশাশুনিতে ১৭৫ দশমিক ৯৮০ টন এবং তালা উপজেলার জন্য ৬ হাজার ১৩ দশমিক ৫৬০ টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

চলতি মৌসুমে বোরো চালের মোটা জাতের জন্য সরকারিভাবে প্রতি কেজিতে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯ টাকা। এই হিসাব অনুযায়ী, ক্রয়কৃত ১৯ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৫৫০ টন চালের মোট মূল্য ৯৬ কোটি ২৮ লাখ ২৭ হাজার ৯৫০ টাকা।

সূত্রটি আরও জানায়, গত ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়ে ১৫ অক্টোবর শতভাগ সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, গত বোরো মৌসুমে জেলায় ১১ হাজার ৯৫৩ টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছিল, যার মোট মূল্য ছিল ৫৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এই হিসাবে, চলতি মৌসুমে ৭ হাজার ৬৯৬ দশমিক ৫৫ টন পরিমাণ চাল ক্রয় বা সংগ্রহ বেড়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা (ভারপ্রাপ্ত) খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করে জেলার সাতটি উপজেলার ২৪৭টি নিবন্ধিত মিল মালিকদের থেকে স্বচ্ছতা বজায় রেখে চলতি মৌসুমে ১৯ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৫৫০ টন চাল ক্রয় করা হয়েছে। এ সময় চালের গুণগত মান বা পুষ্টি সঠিকভাবে যাচাই করা হয়েছে। তাছাড়া, জেলার সব গুদাম কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন কেউ অসৎ উপায়ে নিম্নমানের চাল সরকারি গুদামে প্রবেশ করতে না পারে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রদল নেতার গায়ে গরম পানি ঢেলে দিলেন আওয়ামী লীগ কর্মী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রদল নেতার গায়ে গরম পানি ঢেলে দিলেন আওয়ামী লীগ কর্মী

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির বিরুদ্ধে বাজে মন্তব্যের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী সুলতানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে হাসানুজ্জামান (৩১) নামে এক ছাত্রদল নেতার গায়ে গরম পানি ঢেলে দেওয়ার। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের পুকুরপাড়া মোড় এলাকায় একটি চায়ের দোকানে এই ঘটনা ঘটে।

আহত ছাত্রদল নেতা হাসানুজ্জামান শঙ্করচন্দ্র গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আহত অপর দুজন হলেন সিরাজুল ইসলাম (৪২) ও হাসান আলী (৩২), যাঁরা একই এলাকার বাসিন্দা। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসানুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, "রাতে চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলাম। এ সময় চায়ের দোকানে বসে থাকা আওয়ামী লীগ কর্মী সুলতান বিএনপি ও দলের স্থানীয় নেতৃত্ব নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে দোকানের কেটলিভর্তি ফুটন্ত গরম পানি আমার গায়ে ঢেলে দেন। আমাকে বাঁচাতে গেলে পাশে থাকা সিরাজুল ও হাসানের গায়েও গরম পানি পড়ে। এতে তাদের শরীরও ঝলসে যায়।"

অভিযুক্ত সুলতান শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আত্তাব হোসেনের ছেলে এবং দলটির সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে। সুলতানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রানা জানিয়েছেন, "ওই ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে সফরে মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে সফরে মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি

মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি মধ্যপ্রাচ্যে সফর শুরু করেছেন, যার উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে দেখা। সংঘাত বন্ধে কাজ করছেন এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাও তার সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

সফরের প্রথম অংশে তিনি কাতারে পৌঁছেছেন। পরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর হিসেবে তিনি নিজেকে চিহ্নিত করেছেন।

মারফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তায় তার সফরের তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রথমত, মার্কিন সিনেটের সদস্যদের জন্য সরেজমিনে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির অবস্থা দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, কাতার ও সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করবেন মারফি। একই সঙ্গে সংঘাত বন্ধের প্রচেষ্টা সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবেন।

তৃতীয়ত, উপসাগরীয় অঞ্চলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিষয়ে নতুন করে চিন্তা করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

মারফি বলেন, "যুদ্ধ যখন তীব্রভাবে চলছে, তখন দুই দলের মার্কিন সিনেট সদস্যদেরই মধ্যপ্রাচ্যে উপস্থিত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।"

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনা যুদ্ধের প্রভাবের মুখোমুখি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের পরিদর্শক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনার শত শত ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুটিংয়ে ফিরছেন তানিয়া বৃষ্টি, দীর্ঘ নয় মাস পর প্রস্তুতি নিচ্ছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


শুটিংয়ে ফিরছেন তানিয়া বৃষ্টি, দীর্ঘ নয় মাস পর প্রস্তুতি নিচ্ছেন

দীর্ঘ প্রায় নয় মাস অভিনয়ের বাইরে থাকার পর আবারও শুটিংয়ে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। মস্তিষ্কের টিউমারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও বিশ্রামে থাকার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তিনি কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে ফেসবুক লাইভে নিজের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা নিয়ে কথা বলেন তানিয়া বৃষ্টি। এ সময় তিনি জানান, আগের তুলনায় এখন অনেকটাই ভালো আছেন। তবে তাঁর চিকিৎসা এখনও চলমান।

লাইভে এক দর্শকের প্রশ্নের জবাবে অভিনেত্রী বলেন, "এখন আমার কেমোথেরাপি চলছে। ছয় মাসের মধ্যে তিন মাস শেষ হলো, চতুর্থ মাসের কেমো চলছে। আরও দুই মাস এটা চলার পর কিছু টেস্ট করা হবে। সেটার পর ডাক্তার জানাবেন, পরবর্তী চিকিৎসা কী হবে।"

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তানিয়া বৃষ্টি। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। ওই মাসেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা হয়। পরবর্তী চিকিৎসার জন্য ৯ মার্চ ভারতের চেন্নাইয়ে যান তিনি। সেখানে আরও একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসা শেষে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফেরেন এই অভিনেত্রী। এরপর থেকে চিকিৎসা ও বিশ্রামে ছিলেন তিনি।

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়ে তানিয়া বৃষ্টি বলেন, "আমার ইচ্ছা আছে। এই মাস থেকেই শুটিং শুরু করতে চাই। কথাবার্তা চলছে। শুটিং শুরু করলে অবশ্যই জানাব।"

প্রায় নয় মাস শুটিং না করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি আসলে নয় মাসের মতো শুটিং করিনি, কারণ আমি অসুস্থ ছিলাম। এখনো আছি, তবে তখন একটু বেশি খারাপ ছিলাম। এখন অনেকটা ভালো আছি। এটা চিন্তাভাবনা করে এখন করছি।"

এ সময় ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থনের কথাও তুলে ধরেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, "যারা আমাকে ভালোবাসেন, আমাকে সাপোর্ট দেন, আমার জন্য অপেক্ষা করেন, তাদের যেটা চাওয়া আমি সেটা করতে চাই। যদি এত মানুষ চান আমি করি, তাহলে আমি অবশ্যই করব।"

লাইভের শেষ দিকে দীর্ঘদিন পাশে থাকা ভক্ত ও দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তানিয়া বৃষ্টি। অসুস্থতার সময়ে যারা তার খোঁজ নিয়েছেন, সুস্থতার জন্য দোয়া করেছেন এবং অভিনয়ে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

এদিকে, অভিনয়ে ফেরার অপেক্ষায় থাকা তানিয়া বৃষ্টির হাতে রয়েছে ‘ট্রাইব্যুনাল’ নামের একটি সিনেমার কাজ। রায়হান খান পরিচালিত ছবিটিতে আরও অভিনয় করছেন তারিক আনাম খান, সাবেরী আলম, মৌসুমী হামিদ, সায়রা আক্তার জাহান, আদর আজাদ, শাহেদ আলী, মিলন ভট্টাচার্য, অশোক ব্যাপারী, রাকিব হোসেন ইভন ও উপমা।

চিকিৎসা চলমান থাকলেও অভিনয়ে ফেরার এই উদ্যোগে আশাবাদী তানিয়ার ভক্তরা। তবে শুটিং শুরুর চূড়ান্ত সময়সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি অভিনেত্রী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অক্টোবরে মাছ খাওয়ার সময় ঝুঁকি বাড়তে পারে, সচেতনতা জরুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪২ পি.এম


অক্টোবরে মাছ খাওয়ার সময় ঝুঁকি বাড়তে পারে, সচেতনতা জরুরি

মাছ বাঙালির খাদ্য তালিকার একটি পরিচিত উপাদান। ভাতের সঙ্গে মাছের ঝোল, ভাজা অথবা সর্ষে দিয়ে রান্না—মাছ সব সময়ের জন্য খাবারের তালিকায় থাকে। তবে বছরের বিভিন্ন সময় সব ধরনের মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন হয় না। মাছের প্রজাতি, আকার, ধরা পড়ার স্থান এবং পানির পরিবেশের ওপর এর নিরাপত্তা অনেকাংশে নির্ভর করে।

অক্টোবর মাসে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই সময় কিছু মাছের প্রজনন মৌসুম থাকে, অন্যদিকে বর্ষার পর নদী, খাল, বিল ও জলাশয়ের পানিতে বিভিন্ন দূষিত পদার্থ মেশার আশঙ্কা থাকে। আবার বড় শিকারি মাছের শরীরে দীর্ঘদিন ধরে পারদসহ কিছু ক্ষতিকর পদার্থ জমতে পারে।

তবে অক্টোবর এলেই সব ধরনের মাছ খাওয়া বন্ধ করার জন্য কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। বরং মাছের ধরন, উৎস এবং আকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে মাছ বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বড় শিকারি মাছ নিয়ে কেন সতর্কতা

বড় শিকারি মাছ সাধারণত খাদ্যশৃঙ্খলের উপরের দিকে অবস্থান করে। তারা ছোট মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী খাওয়ার কারণে শরীরে কিছু দূষক, বিশেষ করে পারদ, তুলনামূলকভাবে বেশি জমতে পারে।

হাঙর, করাতমাছ, বড় আকারের ম্যাকারেল এবং কিছু বড় টুনা মাছ এই ধরনের মাছের উদাহরণ। এসব মাছ একবার খেলেই শরীরের ক্ষতি হবে—এমন নয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বেশি পরিমাণে দূষকযুক্ত মাছ খাওয়ার সম্ভাবনা কমানো গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং ছোটদের ক্ষেত্রে মাছ বাছাইয়ের সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

বর্ষার পর মাছ কেনায় সতর্কতা কেন

বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির কারণে নদী, খাল, বিল ও পুকুরের পানির সঙ্গে নর্দমা, কৃষিজমির রাসায়নিক, শিল্পবর্জ্যসহ বিভিন্ন দূষিত পদার্থ মিশে যেতে পারে। সেই পানিতে থাকা মাছও দূষণের সংস্পর্শে আসতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বর্ষা বা বর্ষার পর সব মাছই দূষিত হয়ে যায়। মাছের উৎস এবং জলাশয়ের পরিবেশ এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বন্যার পানি থেকে ধরা মাছের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার। মাছ দেখতে বা গন্ধে স্বাভাবিক মনে হলেও তাতে জীবাণু বা রাসায়নিক দূষণের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই অজানা উৎসের মাছের চেয়ে নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে মাছ কেনা ভালো।

ইলিশের জন্য অক্টোবর গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশে অক্টোবর মাসে ইলিশের বিষয়টি আলাদা করে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এই সময়ে ইলিশ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, কেনাবেচা ও বিনিময়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তাই এ সময় ইলিশ না খাওয়ার বিষয়টি শুধু স্বাস্থ্যগত নয়, মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো ইলিশের স্বাভাবিক প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ধরে রাখা।

ছোট মাছ কি তুলনামূলক নিরাপদ

মাছের আকার ও খাদ্যশৃঙ্খলে অবস্থানের সঙ্গে শরীরে কিছু দূষক জমার সম্পর্ক রয়েছে। বড় শিকারি মাছের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে শুধু মাছ ছোট হলেই সেটি নিশ্চিতভাবে নিরাপদ—এমন নয়। মাছটি কোন জলাশয় থেকে এসেছে এবং সেই জলাশয় কতটা দূষিত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

মাছ কেনার সময় যেসব বিষয় দেখবেন

মাছ কেনার সময় কয়েকটি সাধারণ বিষয় খেয়াল করলে নষ্ট বা নিম্নমানের মাছ কেনার ঝুঁকি কমানো যায়।

চোখ দেখুন: তাজা মাছের চোখ সাধারণত স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল থাকে। অতিরিক্ত ঘোলাটে বা বসে যাওয়া চোখ হলে সতর্ক হওয়া ভালো।

ফুলকা দেখুন: তাজা মাছের ফুলকা সাধারণত উজ্জ্বল লালচে বা গোলাপি হয়। অস্বাভাবিক বিবর্ণতা থাকলে মাছটি ভালোভাবে যাচাই করুন।

গন্ধ পরীক্ষা করুন: মাছ থেকে তীব্র পচা বা অস্বাভাবিক গন্ধ বের হলে না কেনাই ভালো।

মাংসের দৃঢ়তা দেখুন: মাছের শরীর অতিরিক্ত নরম হয়ে গেলে বা চাপ দিলে অস্বাভাবিকভাবে বসে গেলে সতর্ক হওয়া উচিত।

উৎস জানুন: সম্ভব হলে মাছ কোথা থেকে এসেছে এবং কতক্ষণ আগে ধরা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করুন।

রান্না করলেই কি সব ঝুঁকি দূর হয়

ভালোভাবে রান্না করলে অনেক জীবাণু ধ্বংস হতে পারে। তবে মাছের শরীরে থাকা সব ধরনের রাসায়নিক দূষক রান্নার মাধ্যমে দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বিশেষ করে দূষিত বন্যার পানি থেকে ধরা মাছের ক্ষেত্রে শুধু ধুয়ে বা ভালোভাবে রান্না করলেই নিরাপদ হবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মাছের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে তা না খাওয়াই ভালো।

মাছ খাওয়া কি বন্ধ করতে হবে

অক্টোবর মাসে মাছ খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। মাছ উচ্চমানের আমিষের উৎস। অনেক মাছে ওমেগা-৩ চর্বি, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজও থাকে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় মাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে একই ধরনের মাছ নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের মাছ খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো। এতে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির সম্ভাব্য দূষকের সংস্পর্শ অতিরিক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশে অক্টোবর মাসে ইলিশের ক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। ৮ থেকে ২৯ অক্টোবরের নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ কেনাবেচা বা পরিবহন থেকে বিরত থাকা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

এছাড়া বন্যা বা জলাবদ্ধতার পানি থেকে ধরা অজানা উৎসের মাছ কেনার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার। মাছ দেখতে স্বাভাবিক হলেই সেটি নিরাপদ—এমন নিশ্চয়তা নেই।

তাহলে অক্টোবর এলেই মাছ খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং মাছের ধরন, আকার, উৎস ও মৌসুম বিবেচনা করে মাছ বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। নিরাপদ উৎসের মাছ কিনে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও রান্না করে খাওয়ার অভ্যাসই পারে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে।

সূত্র: নিউজ ১৮

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%