ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অক্টোবরে মাছ খাওয়ার সময় ঝুঁকি বাড়তে পারে, সচেতনতা জরুরি


অক্টোবরে মাছ খাওয়ার সময় ঝুঁকি বাড়তে পারে, সচেতনতা জরুরি

মাছ বাঙালির খাদ্য তালিকার একটি পরিচিত উপাদান। ভাতের সঙ্গে মাছের ঝোল, ভাজা অথবা সর্ষে দিয়ে রান্না—মাছ সব সময়ের জন্য খাবারের তালিকায় থাকে। তবে বছরের বিভিন্ন সময় সব ধরনের মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন হয় না। মাছের প্রজাতি, আকার, ধরা পড়ার স্থান এবং পানির পরিবেশের ওপর এর নিরাপত্তা অনেকাংশে নির্ভর করে।

অক্টোবর মাসে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই সময় কিছু মাছের প্রজনন মৌসুম থাকে, অন্যদিকে বর্ষার পর নদী, খাল, বিল ও জলাশয়ের পানিতে বিভিন্ন দূষিত পদার্থ মেশার আশঙ্কা থাকে। আবার বড় শিকারি মাছের শরীরে দীর্ঘদিন ধরে পারদসহ কিছু ক্ষতিকর পদার্থ জমতে পারে।

তবে অক্টোবর এলেই সব ধরনের মাছ খাওয়া বন্ধ করার জন্য কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। বরং মাছের ধরন, উৎস এবং আকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে মাছ বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

বড় শিকারি মাছ নিয়ে কেন সতর্কতা

বড় শিকারি মাছ সাধারণত খাদ্যশৃঙ্খলের উপরের দিকে অবস্থান করে। তারা ছোট মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী খাওয়ার কারণে শরীরে কিছু দূষক, বিশেষ করে পারদ, তুলনামূলকভাবে বেশি জমতে পারে।

হাঙর, করাতমাছ, বড় আকারের ম্যাকারেল এবং কিছু বড় টুনা মাছ এই ধরনের মাছের উদাহরণ। এসব মাছ একবার খেলেই শরীরের ক্ষতি হবে—এমন নয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বেশি পরিমাণে দূষকযুক্ত মাছ খাওয়ার সম্ভাবনা কমানো গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং ছোটদের ক্ষেত্রে মাছ বাছাইয়ের সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

বর্ষার পর মাছ কেনায় সতর্কতা কেন

বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির কারণে নদী, খাল, বিল ও পুকুরের পানির সঙ্গে নর্দমা, কৃষিজমির রাসায়নিক, শিল্পবর্জ্যসহ বিভিন্ন দূষিত পদার্থ মিশে যেতে পারে। সেই পানিতে থাকা মাছও দূষণের সংস্পর্শে আসতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বর্ষা বা বর্ষার পর সব মাছই দূষিত হয়ে যায়। মাছের উৎস এবং জলাশয়ের পরিবেশ এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বন্যার পানি থেকে ধরা মাছের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার। মাছ দেখতে বা গন্ধে স্বাভাবিক মনে হলেও তাতে জীবাণু বা রাসায়নিক দূষণের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই অজানা উৎসের মাছের চেয়ে নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে মাছ কেনা ভালো।

আরও পড়ুন: ক্যানসার হাসপাতালগুলোতে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ইলিশের জন্য অক্টোবর গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশে অক্টোবর মাসে ইলিশের বিষয়টি আলাদা করে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এই সময়ে ইলিশ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, কেনাবেচা ও বিনিময়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তাই এ সময় ইলিশ না খাওয়ার বিষয়টি শুধু স্বাস্থ্যগত নয়, মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো ইলিশের স্বাভাবিক প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ধরে রাখা।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতের বাজেটের বড় অংশ ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যয় হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছোট মাছ কি তুলনামূলক নিরাপদ

মাছের আকার ও খাদ্যশৃঙ্খলে অবস্থানের সঙ্গে শরীরে কিছু দূষক জমার সম্পর্ক রয়েছে। বড় শিকারি মাছের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে শুধু মাছ ছোট হলেই সেটি নিশ্চিতভাবে নিরাপদ—এমন নয়। মাছটি কোন জলাশয় থেকে এসেছে এবং সেই জলাশয় কতটা দূষিত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

মাছ কেনার সময় যেসব বিষয় দেখবেন

আরও পড়ুন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিনামূল্যে অনলাইন কোর্সে আবেদন করার পদ্ধতি

মাছ কেনার সময় কয়েকটি সাধারণ বিষয় খেয়াল করলে নষ্ট বা নিম্নমানের মাছ কেনার ঝুঁকি কমানো যায়।

চোখ দেখুন: তাজা মাছের চোখ সাধারণত স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল থাকে। অতিরিক্ত ঘোলাটে বা বসে যাওয়া চোখ হলে সতর্ক হওয়া ভালো।

ফুলকা দেখুন: তাজা মাছের ফুলকা সাধারণত উজ্জ্বল লালচে বা গোলাপি হয়। অস্বাভাবিক বিবর্ণতা থাকলে মাছটি ভালোভাবে যাচাই করুন।

গন্ধ পরীক্ষা করুন: মাছ থেকে তীব্র পচা বা অস্বাভাবিক গন্ধ বের হলে না কেনাই ভালো।

আরও পড়ুন: খাদ্যপণ্যে নিষিদ্ধ টেক্সটাইল রং ও হাইড্রোজ মেশানোর ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

মাংসের দৃঢ়তা দেখুন: মাছের শরীর অতিরিক্ত নরম হয়ে গেলে বা চাপ দিলে অস্বাভাবিকভাবে বসে গেলে সতর্ক হওয়া উচিত।

উৎস জানুন: সম্ভব হলে মাছ কোথা থেকে এসেছে এবং কতক্ষণ আগে ধরা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করুন।

রান্না করলেই কি সব ঝুঁকি দূর হয়

ভালোভাবে রান্না করলে অনেক জীবাণু ধ্বংস হতে পারে। তবে মাছের শরীরে থাকা সব ধরনের রাসায়নিক দূষক রান্নার মাধ্যমে দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বিশেষ করে দূষিত বন্যার পানি থেকে ধরা মাছের ক্ষেত্রে শুধু ধুয়ে বা ভালোভাবে রান্না করলেই নিরাপদ হবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মাছের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে তা না খাওয়াই ভালো।

মাছ খাওয়া কি বন্ধ করতে হবে

অক্টোবর মাসে মাছ খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। মাছ উচ্চমানের আমিষের উৎস। অনেক মাছে ওমেগা-৩ চর্বি, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজও থাকে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় মাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে একই ধরনের মাছ নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের মাছ খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো। এতে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির সম্ভাব্য দূষকের সংস্পর্শ অতিরিক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশে অক্টোবর মাসে ইলিশের ক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। ৮ থেকে ২৯ অক্টোবরের নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ কেনাবেচা বা পরিবহন থেকে বিরত থাকা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

এছাড়া বন্যা বা জলাবদ্ধতার পানি থেকে ধরা অজানা উৎসের মাছ কেনার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার। মাছ দেখতে স্বাভাবিক হলেই সেটি নিরাপদ—এমন নিশ্চয়তা নেই।

তাহলে অক্টোবর এলেই মাছ খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং মাছের ধরন, আকার, উৎস ও মৌসুম বিবেচনা করে মাছ বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। নিরাপদ উৎসের মাছ কিনে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও রান্না করে খাওয়ার অভ্যাসই পারে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে।

সূত্র: নিউজ ১৮

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪২ পি.এম


ইবিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান

দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের ঘোষিত তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাসের পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের হয়, যা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে ফেলা হয়।

এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মামুন আল রশীদ, জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সরফরাজ নেওয়াজ, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আব্দুল মঈদ বাবুলসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ সম্পর্কে সতর্ক থাকার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, “আজকের এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র একদিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে। এটি এখন আর শুধু ঢাকা শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; দেশের প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতেও ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। আমরা যদি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন না হই, তাহলে আমাদেরও এর ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশের অন্যতম একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই, যা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় অনুসরণ করবে। একাডেমিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম ও শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও প্রাণবন্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা এই ক্যাম্পাসকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, ক্লিন ও গ্রিন ক্যাম্পাসে রূপান্তর করতে চাই।

উপাচার্য বলেন, এ জন্য আপনাদের সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনারা নিজ নিজ অবস্থান ও আঙিনায় উদ্যোগ নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করবেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা আশা করি, এক মাসের মধ্যেই ক্যাম্পাসের পরিবেশে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্রীড়াবিদদের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


ক্রীড়াবিদদের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

সরকার ক্রীড়া কার্ডপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের জন্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন, প্রতি চার মাস পর পর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ক্রীড়াবিদদের মূল্যায়ন করে তালিকা হালনাগাদ করা হবে।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে ক্রীড়া কার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

সভায় প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ক্রীড়াবিদদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের মাধ্যমে ভাতা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর পাশাপাশি রেলপথ, বিমান ও সড়কপথে ক্রীড়াবিদদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, "দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্রীড়াবিদরা যেন আশা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারেন এবং তাদের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।"

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে দেশের ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং তাঁদের ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা ৫০০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যোগ্যতা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নতুন ক্রীড়াবিদদেরও এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, শিগগিরই নতুন করে ৯৫ জন ক্রীড়াবিদকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। অন্যদিকে, ইতিমধ্যে ৩১ জনকে ভাতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রতি চার মাস পর পর পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করে তালিকা হালনাগাদ করা হবে। এতে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কেউ বাদ পড়বেন এবং যোগ্য নতুন ক্রীড়াবিদদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সভায় সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ব্যক্তিগত কারণে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বলে আগেও জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সিদ্ধান্তের পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা হবে।"

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্ব দেন আমিনুল হক। তিনি আগামী পাঁচ বছর পর অলিম্পিকে পদকের জন্য লড়াই করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার কথা জানান। এ ছাড়া এশিয়ান গেমসসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলো সামনে রেখে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

ক্রীড়াবিদদের নাগরিক ও পরিবহনসুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাঁদের খেলাধুলায় আরও মনোযোগী করে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ২৮৭ ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ২৮৭ ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধিত

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য মোট ২৮৭ জন ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ২৯ জন প্রবাসী এবং ২৫৮ জন দেশের অভ্যন্তরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ভোটার হিসেবে রয়েছেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে যে, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় আজ শেষ হচ্ছে।

ইসির তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর আপিল নিষ্পত্তি হবে। এছাড়া ৭ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈধ মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ও মির্জা ফয়সল আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দেলওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৭ হাজার ২০৩ জন। তবে সম্প্রতি নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫ জনে।

উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


ঢাকায় বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসনের উদ্দেশ্যে অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক (ইনার সার্কুলার রিং রোড) নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার জন্য একটি সভা আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয় রোববার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশনা প্রদান করেন, যাতে তারা প্রকল্পের বিদ্যমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে নির্মাণকাজের গতিকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সেগুলো দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তারেক রহমান। একইসঙ্গে, প্রকল্পের কাজে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার জন্যও তিনি নির্দেশনা দেন।

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%