০৬:২০ পি.এম
পৃথিবীর শুষ্কতম মরুভূমিগুলোর মধ্যে একটি হলো চিলির আতাকামা। সাধারণত যেখানে পাথুরে মাটি, বাদামি বালিয়াড়ি এবং শুষ্কতার চিহ্ন দেখা যায়, সেই মরুভূমি এবার এক নতুন রূপ ধারণ করেছে। বিশাল এলাকা এখন নানা রঙের বুনোফুলে আচ্ছাদিত হয়ে গেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হচ্ছে, মরুভূমির ওপর রঙিন ফুলের একটি বিশাল চাদর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তের সময় আতাকামায় মাঝে মাঝে ফুল ফুটতে দেখা যায়। তবে এবারের দৃশ্য অনেক বেশি বিস্তৃত এবং ব্যতিক্রমী। স্থানীয়ভাবে এই বিশেষ প্রাকৃতিক ঘটনাকে ‘দেসিয়ের্তো ফ্লোরিদো’ বলা হয়, যার অর্থ ফুলে ভরা মরুভূমি।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ভারী বৃষ্টিতেই বদলে গেল মরুভূমি
চলতি বছরের শুরুতে এল নিনোর প্রভাবে আতাকামায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেই বৃষ্টির পানি মরুভূমির মাটির গভীরে থাকা অসংখ্য বীজ ও কন্দে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে সুপ্ত অবস্থায় থাকা এসব বীজ এবং উদ্ভিদাংশ পর্যাপ্ত পানি পেয়ে অঙ্কুরিত হয়ে ফুলে পরিণত হয়েছে।
চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টে চিলির বিভিন্ন অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিও হয়েছে। ১৯৫০-এর দশকে বৃষ্টিপাতের পরিমাপ শুরু হওয়ার পর কিছু কিছু এলাকায় এবারই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে।
কয়েক দশক পর ফুটেছে ফুল
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
আতাকামার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগের জীববিজ্ঞানী সেসার পিসারোর মতে, কিছু কিছু এলাকায় ১৬০, ১৮০ এমনকি ১৯০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। এর পেছনে তীব্র এল নিনোর প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই বৃষ্টিই মরুভূমির মাটিতে দীর্ঘদিন ধরে সুপ্ত থাকা জৈব উপাদানকে সক্রিয় করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বীজ, কন্দ এবং বিভিন্ন ধরনের ভূগর্ভস্থ উদ্ভিদাংশ। এমনকি বিভিন্ন অমেরুদণ্ডী প্রাণী এবং সরীসৃপের ডিমও এতে সক্রিয় হতে পারে।
ফলে আতাকামার কিছু পাহাড় ও পর্বতমালায় ৩০ থেকে ৪০ বছর বা তারও বেশি সময় পর সবুজ উদ্ভিদ এবং ফুল দেখা যাচ্ছে। কিছু জৈব উপাদান বছরের পর বছর, এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে।
২০০টির বেশি প্রজাতির ফুল
আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন
এবার আতাকামায় ২০০টিরও বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ফুল দেখা যাচ্ছে। লাল ও হলুদ নানুকা, বেগুনি রক পার্সলেন, সাদা সুসপিরোস, কমলা টেরসিওপেলোসসহ বিভিন্ন রঙের ফুলে মরুভূমির পাহাড়, সমতলভূমি এবং গিরিখাত আচ্ছাদিত হয়ে গেছে।
মরুভূমির পরিচিত স্থানীয় উদ্ভিদ ‘গাররা দে লেওন’-এরও দেখা মিলছে। সব মিলিয়ে শুষ্ক এবং বাদামি আতাকামা এখন রঙিন ফুলের বিশাল প্রান্তরে পরিণত হয়েছে।
১৯৯৭ সালের পর সবচেয়ে বড় ফুলেল মরুভূমি
চলতি বছর প্রায় ১৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় ফুলের বিস্তার ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পর এবারই সবচেয়ে তীব্র এবং বিস্তৃত ‘দেসিয়ের্তো ফ্লোরিদো’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে
এই ঘটনা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করেনি, বরং মরুভূমির জীববৈচিত্র্যেরও একটি বিরল চিত্র সামনে এনেছে।
ফুল দেখতে বাড়ছে পর্যটক
বুনোফুলে ঢেকে যাওয়া আতাকামা দেখতে এখন চিলির বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও পর্যটকেরা আসছেন। দুর্গম এবং প্রতিকূল এলাকাতেও লাখ লাখ ফুলের এই অসাধারণ দৃশ্য দেখতে মানুষ যাচ্ছে।
চিলির জাতীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক এই দৃশ্য নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আগে আতাকামা অঞ্চলে প্রায় ৩ লাখ পর্যটকের আগমন হতে পারে। ফলে এবারের ‘দেসিয়ের্তো ফ্লোরিদো’ ইতোমধ্যে আতাকামার অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: লাইভ সম্প্রচারে প্রার্থনার সময় ক্রুশ পড়ে যাজক পাত্রিসিও আলফ্রেডো সানচেজ মোলিনারির মৃত্যু
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন