ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিউইয়র্কে তারেক রহমানের সফরে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি


নিউইয়র্কে তারেক রহমানের সফরে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি

ঢাকা ত্যাগ করে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তার নিউইয়র্ক সফর উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

দলটির নেতারা জানিয়েছেন, ২১ সেপ্টেম্বর রবিবার জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই সহস্রাধিক নেতাকর্মী নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হবে। বিমানবন্দরে তার সফরসঙ্গীদের সম্মানিত রাখার জন্য ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে প্রস্তুত থাকার কথাও তারা উল্লেখ করেছেন।

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা দফায় দফায় মিছিল করেন। এ সময় ৭৩ স্ট্রিট এলাকায় দলটির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। এর নিকটবর্তী ডাইভারসিটি প্লাজায় শেখ হাসিনার ফাঁসির আদেশ ও মামলা বাতিলের দাবিতে সমাবেশ করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তবে দুই পক্ষের কর্মসূচির মধ্যে কোনো অঘটন ঘটেনি।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

গত শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা এসব তথ্য তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লূর রহমান জিল্লূ, গিয়াস আহমেদ, মিল্টন ভূঁইয়া এবং সোহায়েল হোসেন সোহেল। স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন জসিম ভূঁইয়া, আব্দুস সবুর, আহবাব চৌধুরী, সেলিম রেজা, সোলায়মান ভূঁইয়া, আখতার হোসেন বাদল, তোফায়েল চৌধুরী, আবু সাইয়িদ আহমেদ, মোশাররফ হোসেন সবুজ, কামাল পাশা বাবুল, গোলাম ফারুক শাহিন, মুক্তিযোদ্ধা বাবর আলী, আবু সাইয়িদ, জাকির হোসেন এবং গিয়াস উদ্দীন।

এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন খোকন জানান, প্রধানমন্ত্রীর দেশে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজ’ থাকায় জাতিসংঘ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন তিনি। এজন্য গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হচ্ছে না। দূতাবাস নাগরিক সংবর্ধনা নিয়ে ‘অযাচিত তথ্য’ দেওয়ার কারণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী দেশের লাখ লাখ ডলার খরচ করে সংবর্ধনা নিতে চান না। কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্দেশ্যে তিনি ছোট একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে জাতিসংঘে আসছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির পক্ষ থেকে তারেক রহমানের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি না, জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস আহমেদ বলেন, এ ধরনের কিছু তার ওপর নেই। তিনি উল্লেখ করেন, "এমন কিছু থাকলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে চিঠি লিখতেন না।" তিনি একজন বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে আসছেন। তার বিরুদ্ধে কিছু গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

এদিকে, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাইম ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, বয়স ৩৫ হলেই আবেদন করা যাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ পি.এম


প্রাইম ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, বয়স ৩৫ হলেই আবেদন করা যাবে

প্রাইম ব্যাংক পিএলসি জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

পদের নাম: হেড অব ফ্রড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট

বিভাগ: আইসিসিডি

পদসংখ্যা: ১

শিক্ষাগত যোগ্যতা: ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং/অ্যাকাউন্টিং/বিজনেস বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা আবশ্যক।

অন্যান্য যোগ্যতা: বিভিন্ন ডেটাসেট বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় আইটি দক্ষতা থাকতে হবে।

অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১২ বছর

চাকরির ধরন: ফুলটাইম

কর্মক্ষেত্র: অফিসে

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)

বয়সসীমা: কমপক্ষে ৩৫ বছর

কর্মস্থল: ঢাকা

বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে শিশুর জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে শিশুর জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগী

দেশের বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে শিশুর জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে।

চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, মাগুরাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা গেছে যে, জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শয্যা সংকটের কারণে নির্ধারিত ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দা ও মেঝেতে বিছানা পেতে শিশুদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। গরম আবহাওয়ার পাশাপাশি ঘন ঘন লোডশেডিং এবং চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে চিকিৎসকরা অভিভাবকদের শিশুদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকার এবং আক্রান্ত হলে দ্রুত পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য ওয়ার্ডে ১০৫টি শয্যা রয়েছে। তবে সেখানে তিন শতাধিক শিশু জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি আছে। এর মধ্যে অন্তত দেড়শ জন শুধুমাত্র জ্বর নিয়ে ভর্তি। এছাড়া গড়ে প্রতিদিন নতুন আরও দেড় শতাধিক শিশু চিকিৎসার জন্য আসছে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ৫৬ শয্যার বিপরীতে ৬৬ জন শিশু ভর্তি আছে, যার একটি বড় অংশ জ্বরে আক্রান্ত। মা ও শিশু হাসপাতালেও ৬০ শতাংশ শিশু জ্বর নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। সরকারি বিআইটিআইডি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ নগরীর বেসরকারি পার্কভিউ, সিএসসিআর, শেভরন, মেট্রোপলিটন, মেডিকেল সেন্টার, ল্যাবএইড, সাজিনা, সার্জিস্কোপ ও একুশে হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের অর্ধেকই জ্বরে আক্রান্ত বলে জানা গেছে।

শিশুদের ভর্তি সংখ্যা নিয়ে চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিয়া মন্তব্য করেন, "ওয়ার্ডগুলোতে শিশুদের ভর্তি সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। আবহাওয়ার কারণে শিশুরা জ্বরে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। মোট ভর্তি হওয়া শিশুদের ৫০ শতাংশের বেশি শিশু কোনো না কোনোভাবে জ্বরে আক্রান্ত।"

তিনি আরও বলেন, "অনেক অভিভাবক ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাওয়াচ্ছেন। এ রকম করা যাবে না। যদি শিশুর শরীরে তাপমাত্রা বেশি অনুভূত হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।" বহির্বিভাগে যারা চিকিৎসার জন্য আসছেন, তাদের পরিস্থিতি বুঝে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একরাম হোসেন জানান, জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যার তুলনায় শিশু রোগী ভর্তি বেশি। তবে যারা ভর্তি তাদের বেশির ভাগ জ্বরে আক্রান্ত। জ্বরের কারণে সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাজেদুর রহমান জানান, শিশুরা এখন নানাবিধ সংক্রমণ জাতীয় রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাম, ডেঙ্গুর পাশাপাশি জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। ঋতু পরিবর্তনে ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ বাড়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্কও বেড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শিশুদের চিকিৎসাসেবা দিতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেও ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। তাপপ্রবাহ ও পানিশূন্যতার কারণে শিশু ও প্রবীণরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালটিতে ৪০০-৪৫০ রোগী ভর্তি রয়েছে, যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি। বহির্বিভাগে প্রতিদিন ১,০০০-১,২০০ রোগী সেবা নিচ্ছে।

শয্যা না পেয়ে রোগীরা ওয়ার্ডের মেঝে, বারান্দা ও হাঁটার গলিতে তোশক বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ১৩০-১৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত প্রায় ৭০-৮০ জন শিশু ভর্তি আছে। এছাড়া ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপও দেখা গেছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ও চিকিৎসকরা বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন পানের পরামর্শ দিয়েছেন। শিশুদের ঘাম মুছে দেওয়া ও সরাসরি অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি বা আইসক্রিম খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। সেই সঙ্গে বাসি বা খোলা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই রকম চিত্র দেখা গেছে মাগুরা জেলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে। ঠাণ্ডা, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর চাপে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। গত তিনদিনে প্রায় তিনশ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। শিশু ওয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ৪৫ জন হলেও সেখানে সবসময় দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকছে বলে জানা গেছে। ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে মেঝেতে বিছানা পেতে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং। বিদ্যুৎ চলে গেলে গরমে অসুস্থ শিশুরা অতিরিক্ত ঘেমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। রোগীর স্বজনরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।

হাসপাতালের আরএমও মো. মামুন উর রশীদ বলেন, "লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজন সবাইকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে রোগীর ধারণক্ষমতা ৪৫ জন হলেও বর্তমানে সবসময় ২০০ জনের বেশি ভর্তি থাকছে।"

এছাড়া ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, সাতক্ষীরা, কুমিল্লা, নরসিংদী, বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও রাজশাহীর হাসপাতালগুলোতেও জ্বর-ঠাণ্ডায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপ্রতিম হত্যার কারণ ৫ হাজার টাকার বিরোধ: পুলিশ তদন্ত অব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ পি.এম


অপ্রতিম হত্যার কারণ ৫ হাজার টাকার বিরোধ: পুলিশ তদন্ত অব্যাহত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনার তদন্তে একের পর এক তথ্য বেরিয়ে আসছে।

পুলিশ একটি আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তার মুঠোফোনে আসা কলের সূত্র ধরে আরও দুজনকে হেফাজতে নিয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পেছনে আইফোন এবং ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তুহিন নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি অন্যদের নাম প্রকাশে অনাগ্রহ দেখান। তদন্তকারীদের কাছে তিনি জানান যে, তাদের নাম প্রকাশ না করার বিষয়ে তিনি ‘ওয়াদাবদ্ধ’ ছিলেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে তুহিনকে হেফাজতে নেওয়ার সময় অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তদন্তকারীরা।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় তুহিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন আসে। ফোনগুলো করছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এক কিশোর। বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসলে তাকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। সে সময় তার পরনে ছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা টি-শার্ট।

পরে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে আইফোনের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা ধার দেওয়া নিয়ে বিরোধের তথ্যও পাওয়া গেছে। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেকে ওই কিশোর কাজ করত। জানা গেছে, অপ্রতিম তাকে ৫ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল। সেই টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

তদন্তকারীদের ধারণা, টাকা ফেরত চাওয়ার কারণে অপ্রতিমের ওপর ওই কিশোরের বিরক্তি তৈরি হয়েছিল। একপর্যায়ে অপ্রতিম না থাকলে ধার করা টাকা ফেরত দিতে হবে না এমন চিন্তাও তার মধ্যে তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে এই বিরোধই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্তাধীন।

গত শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইসের পাশে দক্ষিণ সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলটি তার বাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে।

হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা

একটি শিশু খালি হাতে জন্মগ্রহণ করে। সে কোনো মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় না। বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে চারপাশের মানুষ ও পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে তার মনে সহানুভূতি জন্ম নেয়। দায়িত্ববোধের সৃষ্টি হয়। বিনয়ের বীজও জন্ম নেয়। এই বীজকে বোনার দায়িত্ব কার? উত্তরটি সহজ। বাবা-মা এবং শিক্ষক। তাদের ছাড়া কোনো সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাদের ছাড়া নৈতিক শিক্ষাও পরিপূর্ণতা পায় না।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এনেছেন। তিনি এক অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন শিক্ষক, অভিভাবক, সেলিব্রেটি ও সমাজ সংস্কারকদের সামনে। তার বক্তব্যটি ছিল নিছক রাজনৈতিক ঘোষণা নয়। এটি ছিল আত্মজিজ্ঞাসার একটি রূপ। প্রশ্নটি ছিল সরল। দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শিশুদের হৃদয়ে কতটা মানবিকতা বোনা হচ্ছে?

আলাপের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ফিরে যান নিজের শৈশবে। একদিন তিনি বাড়ির এক কর্মচারীকে অপমানজনক ভাষায় সম্বোধন করেছিলেন। বাবা শহীদ জিয়া বিষয়টি জানতে পেরে তাকে কান ধরে সেই কর্মচারীর কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন। ঘটনাটি ছোট হলেও এর প্রভাব বছরের পর বছর রয়ে গেছে। দেশে ফেরার পর তিনি উপলব্ধি করেন, ঠিক এই ধরনের পারিবারিক শিক্ষায় সমাজে একটি ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ব্যক্তিগত স্মৃতিই যেন গোটা বক্তব্যের সুরকে বেঁধে দেয়। মূল্যবোধ শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের অধ্যায় নয়। এটি তৈরি হয় দৈনন্দিন ছোট ছোট মুহূর্তে। একটি কথায়। একটি আচরণে। একটি প্রতিক্রিয়ায়।

ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ থেকে প্রধানমন্ত্রী সরকারি পরিকল্পনায় প্রবেশ করেন। তিনি জানান, আগামী প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পাঠ্যক্রমে নতুন অধ্যায় যুক্ত হচ্ছে। সেখানে থাকবে নীতিবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ এবং পারিবারিক মূল্যবোধ। পাশাপাশি সরকার আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই ধারণাকে বলা হচ্ছে 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস'।

তবে এই পরিবর্তনের ভার তিনি একা পাঠ্যবইয়ের ওপর দিতে চান না। শিক্ষকদের সীমাবদ্ধতার কথা তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। তাদের সংকটের কথাও খোলাখুলি বলেন। তিনি উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন। লক্ষ্য একটাই। শিক্ষকরা যেন অর্জিত জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঠিকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারেন। কারণ শিক্ষক এবং বাবা-মা, এই দুজনই মূল্যবোধ সৃষ্টির প্রকৃত কেন্দ্রবিন্দু। শ্রেণিকক্ষে যে কাজ শুরু হয়, তার পূর্ণতা আসে ঘরে। পূর্ণতা আসে সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে। পূর্ণতা আসে স্বতঃস্ফূর্ত শৃঙ্খলার চর্চায়।

এই আয়োজনের সবচেয়ে জীবন্ত মুহূর্তটি আসে অন্য জায়গায়। সেটি আসে যখন প্রধানমন্ত্রী সরাসরি শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জটিল কোনো নীতিকথা বলেন না। তিনি চান একটি সহজ প্রতিশ্রুতি। প্রতি বছর একটি করে গাছ লাগাতে হবে। স্কুলে হোক বা বাসার আশেপাশে। যেখানেই সুযোগ মেলে সেখানেই।

শুধু গাছ পোঁতাই শেষ কথা নয়। তিনি চান শিশুরা নিজেই তথ্য খুঁজে বের করুক। গাছটি কী প্রজাতির? গাছটি কতদিন বাঁচে? গাছটি কতটা অক্সিজেন উৎপাদন করে? গাছটি মানুষের কী কাজে লাগে? এভাবে প্রতি বছর একটি করে নতুন জ্ঞান শিশুর ভাণ্ডারে যুক্ত হবে। গাছটি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার চারপাশও বদলে যাবে। ক্লান্ত বন্ধুরা পাবে ছায়ায় বিশ্রামের জায়গা। বাসার আশেপাশে বইবে ঠান্ডা, সুন্দর বাতাস। তার আহ্বান ছিল সরল-সকলে মিলে চেষ্টা করি, আমাদের এই বাংলাদেশটাকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে।

গোটা বক্তব্য জুড়ে ঘুরেফিরে আসে একটি শব্দ। শব্দটি হলো নির্দয়তা। মানুষ, পশুপাখি বা প্রকৃতি, কারো প্রতি যেন শিশুরা নির্দয় না হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রীর কথায় এই আশঙ্কা স্পষ্ট। এই আকাঙ্ক্ষাও সমান স্পষ্ট। তার মতে, মুরুব্বিদের প্রতি শ্রদ্ধা জরুরি। অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করা জরুরি। বিনয়ী ভাষায় কথা বলাও জরুরি। এই সাধারণ, প্রায় পুরনো ধাঁচের গুণাবলিই আসলে একটি মানবিক সমাজের ভিত্তি। প্রশ্ন থেকে যায় একটি জায়গায়। দ্রুত বদলে যাওয়া সামাজিক বাস্তবতায় এই মূল্যবোধগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তিনি ডাক দেন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার। সরকার, শিক্ষক, অভিভাবক, সবাইকে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবার ফিরে আসে বাবার প্রসঙ্গ। সময়টা ১৯৮৬ সাল। সৌদি আরবে তখন ওমরাহ পালন করছিলেন তিনি। এক ইন্দোনেশীয় ব্যক্তি বাংলাদেশের পরিচয় শুনে সঙ্গে সঙ্গে উচ্চারণ করেছিলেন জিয়াউর রহমানের নাম। তখন মানুষ শহীদ জিয়া এবং বাংলাদেশকে একসঙ্গে চিনত। সন্তান হিসেবে সেই মুহূর্তে পিতার জন্য তিনি গর্ব অনুভব করেছিলেন। এই ব্যক্তিগত স্মৃতিটি আবার একটি কথা মনে করিয়ে দেয়। একটি নাম কীভাবে একটি দেশের পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। আর সেই পরিচয় গড়ে ওঠে ঠিক এমনই ছোট ছোট নৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।

শেষ পর্যন্ত পুরো আয়োজনটি দাঁড়ায় একটি সরল উপলব্ধির ওপর। কেবল অর্থনৈতিক অগ্রগতি দিয়ে মানবিক বাংলাদেশ গড়া যায় না। কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সনদ দিয়েও তা সম্ভব নয়। প্রয়োজন নৈতিক এবং পারিবারিক মূল্যবোধের সমান্তরাল বিকাশ। আর এই কাজ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। এটি কোনো একক মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব নয়। শিক্ষক এই গল্পের অংশীদার। অভিভাবকও অংশীদার। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অংশীদার। এমনকি শিশুরা নিজেরাও এই গল্পের অংশীদার।

শিশুর ভেতর মূল্যবোধ জন্ম থেকে থাকে না। তা বেড়ে ওঠে প্রতিদিনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতায়। একটি গাছের যত্নে। একটি ক্ষমা চাওয়ার মুহূর্তে। একজন প্রবীণের প্রতি সম্মানে। আর ঠিক এই জায়গাতেই লুকিয়ে থাকে প্রশ্নটির আসল উত্তর। মানবিক বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু হয় না বড় কোনো নীতিতে। তা শুরু হয় একটি শিশুর হাতে লাগানো ছোট্ট একটি চারাগাছে।

লেখক: সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদপ্তর।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%