সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৬ পি.এম
একটি শিশু খালি হাতে জন্মগ্রহণ করে। সে কোনো মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় না। বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে চারপাশের মানুষ ও পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে তার মনে সহানুভূতি জন্ম নেয়। দায়িত্ববোধের সৃষ্টি হয়। বিনয়ের বীজও জন্ম নেয়। এই বীজকে বোনার দায়িত্ব কার? উত্তরটি সহজ। বাবা-মা এবং শিক্ষক। তাদের ছাড়া কোনো সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাদের ছাড়া নৈতিক শিক্ষাও পরিপূর্ণতা পায় না।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এনেছেন। তিনি এক অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন শিক্ষক, অভিভাবক, সেলিব্রেটি ও সমাজ সংস্কারকদের সামনে। তার বক্তব্যটি ছিল নিছক রাজনৈতিক ঘোষণা নয়। এটি ছিল আত্মজিজ্ঞাসার একটি রূপ। প্রশ্নটি ছিল সরল। দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শিশুদের হৃদয়ে কতটা মানবিকতা বোনা হচ্ছে?
আলাপের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ফিরে যান নিজের শৈশবে। একদিন তিনি বাড়ির এক কর্মচারীকে অপমানজনক ভাষায় সম্বোধন করেছিলেন। বাবা শহীদ জিয়া বিষয়টি জানতে পেরে তাকে কান ধরে সেই কর্মচারীর কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন। ঘটনাটি ছোট হলেও এর প্রভাব বছরের পর বছর রয়ে গেছে। দেশে ফেরার পর তিনি উপলব্ধি করেন, ঠিক এই ধরনের পারিবারিক শিক্ষায় সমাজে একটি ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ব্যক্তিগত স্মৃতিই যেন গোটা বক্তব্যের সুরকে বেঁধে দেয়। মূল্যবোধ শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের অধ্যায় নয়। এটি তৈরি হয় দৈনন্দিন ছোট ছোট মুহূর্তে। একটি কথায়। একটি আচরণে। একটি প্রতিক্রিয়ায়।
ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ থেকে প্রধানমন্ত্রী সরকারি পরিকল্পনায় প্রবেশ করেন। তিনি জানান, আগামী প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পাঠ্যক্রমে নতুন অধ্যায় যুক্ত হচ্ছে। সেখানে থাকবে নীতিবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ এবং পারিবারিক মূল্যবোধ। পাশাপাশি সরকার আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই ধারণাকে বলা হচ্ছে 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস'।
তবে এই পরিবর্তনের ভার তিনি একা পাঠ্যবইয়ের ওপর দিতে চান না। শিক্ষকদের সীমাবদ্ধতার কথা তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। তাদের সংকটের কথাও খোলাখুলি বলেন। তিনি উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন। লক্ষ্য একটাই। শিক্ষকরা যেন অর্জিত জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঠিকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারেন। কারণ শিক্ষক এবং বাবা-মা, এই দুজনই মূল্যবোধ সৃষ্টির প্রকৃত কেন্দ্রবিন্দু। শ্রেণিকক্ষে যে কাজ শুরু হয়, তার পূর্ণতা আসে ঘরে। পূর্ণতা আসে সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে। পূর্ণতা আসে স্বতঃস্ফূর্ত শৃঙ্খলার চর্চায়।
এই আয়োজনের সবচেয়ে জীবন্ত মুহূর্তটি আসে অন্য জায়গায়। সেটি আসে যখন প্রধানমন্ত্রী সরাসরি শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জটিল কোনো নীতিকথা বলেন না। তিনি চান একটি সহজ প্রতিশ্রুতি। প্রতি বছর একটি করে গাছ লাগাতে হবে। স্কুলে হোক বা বাসার আশেপাশে। যেখানেই সুযোগ মেলে সেখানেই।
শুধু গাছ পোঁতাই শেষ কথা নয়। তিনি চান শিশুরা নিজেই তথ্য খুঁজে বের করুক। গাছটি কী প্রজাতির? গাছটি কতদিন বাঁচে? গাছটি কতটা অক্সিজেন উৎপাদন করে? গাছটি মানুষের কী কাজে লাগে? এভাবে প্রতি বছর একটি করে নতুন জ্ঞান শিশুর ভাণ্ডারে যুক্ত হবে। গাছটি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার চারপাশও বদলে যাবে। ক্লান্ত বন্ধুরা পাবে ছায়ায় বিশ্রামের জায়গা। বাসার আশেপাশে বইবে ঠান্ডা, সুন্দর বাতাস। তার আহ্বান ছিল সরল-সকলে মিলে চেষ্টা করি, আমাদের এই বাংলাদেশটাকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে।
গোটা বক্তব্য জুড়ে ঘুরেফিরে আসে একটি শব্দ। শব্দটি হলো নির্দয়তা। মানুষ, পশুপাখি বা প্রকৃতি, কারো প্রতি যেন শিশুরা নির্দয় না হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রীর কথায় এই আশঙ্কা স্পষ্ট। এই আকাঙ্ক্ষাও সমান স্পষ্ট। তার মতে, মুরুব্বিদের প্রতি শ্রদ্ধা জরুরি। অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করা জরুরি। বিনয়ী ভাষায় কথা বলাও জরুরি। এই সাধারণ, প্রায় পুরনো ধাঁচের গুণাবলিই আসলে একটি মানবিক সমাজের ভিত্তি। প্রশ্ন থেকে যায় একটি জায়গায়। দ্রুত বদলে যাওয়া সামাজিক বাস্তবতায় এই মূল্যবোধগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তিনি ডাক দেন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার। সরকার, শিক্ষক, অভিভাবক, সবাইকে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবার ফিরে আসে বাবার প্রসঙ্গ। সময়টা ১৯৮৬ সাল। সৌদি আরবে তখন ওমরাহ পালন করছিলেন তিনি। এক ইন্দোনেশীয় ব্যক্তি বাংলাদেশের পরিচয় শুনে সঙ্গে সঙ্গে উচ্চারণ করেছিলেন জিয়াউর রহমানের নাম। তখন মানুষ শহীদ জিয়া এবং বাংলাদেশকে একসঙ্গে চিনত। সন্তান হিসেবে সেই মুহূর্তে পিতার জন্য তিনি গর্ব অনুভব করেছিলেন। এই ব্যক্তিগত স্মৃতিটি আবার একটি কথা মনে করিয়ে দেয়। একটি নাম কীভাবে একটি দেশের পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। আর সেই পরিচয় গড়ে ওঠে ঠিক এমনই ছোট ছোট নৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।
শেষ পর্যন্ত পুরো আয়োজনটি দাঁড়ায় একটি সরল উপলব্ধির ওপর। কেবল অর্থনৈতিক অগ্রগতি দিয়ে মানবিক বাংলাদেশ গড়া যায় না। কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সনদ দিয়েও তা সম্ভব নয়। প্রয়োজন নৈতিক এবং পারিবারিক মূল্যবোধের সমান্তরাল বিকাশ। আর এই কাজ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। এটি কোনো একক মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব নয়। শিক্ষক এই গল্পের অংশীদার। অভিভাবকও অংশীদার। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অংশীদার। এমনকি শিশুরা নিজেরাও এই গল্পের অংশীদার।
শিশুর ভেতর মূল্যবোধ জন্ম থেকে থাকে না। তা বেড়ে ওঠে প্রতিদিনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতায়। একটি গাছের যত্নে। একটি ক্ষমা চাওয়ার মুহূর্তে। একজন প্রবীণের প্রতি সম্মানে। আর ঠিক এই জায়গাতেই লুকিয়ে থাকে প্রশ্নটির আসল উত্তর। মানবিক বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু হয় না বড় কোনো নীতিতে। তা শুরু হয় একটি শিশুর হাতে লাগানো ছোট্ট একটি চারাগাছে।
লেখক: সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদপ্তর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদনকারীরা আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
পদের নাম: মেকানিক্যাল ডিজাইনার
পদসংখ্যা: ৩
শিক্ষাগত যোগ্যতা: মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি
অন্যান্য যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, বিল অফ মেটেরিয়ালস প্রস্তুত করা, যন্ত্রাংশের ম্যাপিং নিশ্চিত করা এবং নির্দেশাবলী বাস্তবায়নে দক্ষতা থাকা আবশ্যক।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১ থেকে ৫ বছর
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: ২২ থেকে ৩৫ বছর
কর্মস্থল: গাজীপুর (কালিয়াকৈর)
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
প্রার্থীদের জন্য অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে প্রভিডেন্ট ফান্ড, মোবাইল বিল, বিমা, লভ্যাংশ, দুপুরের খাবার সুবিধা, প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট এবং বছরে ২টি উৎসব বোনাস কোম্পানির নীতিমালা অনুযায়ী প্রদান করা হবে।
আবেদন করার নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজধানী ঢাকায় জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে।
দলটি সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলামোটর এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করবে।
এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য এই বিক্ষোভ মিছিলে দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উপস্থিত থাকবেন।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানাতে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।
সরকার দেশে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে এই দামবৃদ্ধি হয়েছে।
সরকারের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সামনে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের ভারসাম্য রক্ষার জন্য, অনিচ্ছা সত্ত্বেও, সরকারকে তেলের দাম বাড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি সামাল দিতে গিয়ে সরকারকে প্রতি মাসে জ্বালানি খাতে প্রায় ১৩ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারের সামনে এই সমন্বয় ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।
ভর্তুকির হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধুমাত্র ডিজেলের ক্ষেত্রে সরকারকে প্রতি লিটারে ৯০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দিতে হচ্ছিল, যা বছরে বিশাল বাজেট ঘাটতি তৈরি করছিল। এক ডিজেল খাতেই বছরে ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা দাঁড়াচ্ছিল। আর সার্বিকভাবে সব ধরনের জ্বালানি খাত মিলিয়ে সরকারকে বছরজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আকিজ প্লাস্টিকস, আকিজ গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী ব্যক্তিরা আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।
পদের নাম: অফিসার/সিনিয়র অফিসার
বিভাগ: ট্রান্সপোর্ট
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি
অন্যান্য যোগ্যতা হিসেবে, যানবাহনের দৈনিক চলাচল এবং ট্রিপের হিসাব সংরক্ষণে দক্ষতা থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ বছর
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: ২৮ থেকে ৩৫ বছর
কর্মস্থল: যেকোনো জায়গায়
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
প্রার্থীদের জন্য অন্যান্য সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট এবং বছরে ২টি উৎসব বোনাস।
আবেদন করার নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছে পুলিশ।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এই আবেদনটি করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমান—এই তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এই ঘটনার পর ২২ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
ভিডিও ভাইরালের পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গত ২১ জুলাই গাড়ি চালক ও মরিয়ম খাতুনের মামা ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট ৮ সপ্তাহের জামিন পান। সেই মামলার বাদী ওবায়দুরকে এবার মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সাথে ভিকটিমের ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় ভিকটিম মরিয়ম ও তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামসহ শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫নং বিল্ডিং এর ৩য় তলায় বসবাস করতেন। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সাথে ভিকটিম মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী ভিকটিম মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত বলে বিভিন্ন সময় মোবাইলের মাধ্যমে তার পরিবারকে জানানো হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর বিকাল অনুমান সাড়ে ৫ টায় গাজী নজরুল ভিকটিমের বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলেন। বাসায় এসে তিনি দেখতে পান সেখানে অনেক লোকজন উপস্থিত।
তখন তিনি জানতে পারেন বাসার ভিতরের রুমে ভিকটিম মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে তিনি তার মেয়ের দেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে দেখতে পান। এ সময় বিছানার উপরে তার লেখা একটি সুসাইড নোট পান। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলা করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ