বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৫৫ এম
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আচরণবিধি বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, নির্বাচনে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া এবং নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিধিমালার আওতায় অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে এবং অনিয়মে প্রভাবিত ভোটকেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করা বা নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবে নির্বাচন কমিশন।
এ প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, "আমাদের বার্তা হলো, আচরণবিধি আমরা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। এ ব্যাপারে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
তিনি আরও বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনের কাছে এলে তা যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রার্থিতা বাতিলেরও বিধান রয়েছে।
ইসির হালনাগাদকৃত স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় নির্বাচনী অপরাধের জন্য শাস্তি, প্রার্থিতা বাতিল এবং অনিয়মপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের ফলাফল স্থগিতের ক্ষমতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিধিমালার ৮০(ক) অনুযায়ী, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো, আঘাত করা কিংবা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকের কাজে বাধা দেওয়া, তাদের শারীরিক ক্ষতি করা কিংবা দায়িত্ব পালনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম নষ্ট করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের যেতে বাধা দেওয়া, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে না দেওয়া বা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে।
এ ছাড়া, ভোট দেওয়ার জন্য ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত বা অপেক্ষমাণ ব্যক্তিদের ভোট দিতে বাধা দিয়ে কেন্দ্র ত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টার ক্ষেত্রেও সংশোধিত বিধিমালায় কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণের কথাও বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে যে চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী কিংবা তার নির্বাচনী এজেন্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন, কমিশন তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে।
তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর কমিশন যদি সন্তুষ্ট হয় যে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী, তার নির্বাচনী এজেন্ট অথবা তাদের নির্দেশে অন্য কেউ বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন, তাহলে লিখিত আদেশের মাধ্যমে ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা যাবে।
ভোটকেন্দ্রে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করার ক্ষমতাও কমিশনের রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান শেষে কমিশন ফলাফল প্রকাশের নির্দেশ দিতে পারবে। অনুসন্ধানে ন্যায়সংগত মনে হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দেওয়া যেতে পারে।
সিইসি বলেন, নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ। ভোটার স্লিপসহ নির্বাচনী প্রচারে কোন ধরনের উপকরণ কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, তা আচরণবিধিতে নির্ধারিত রয়েছে। এসব বিধান লঙ্ঘন করলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।
নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চাওয়ার কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে। নির্বাচনে পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি থাকবে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা আচরণবিধি ষোলো আনা বাস্তবায়ন করতে চাই, কোনো ভয়ভীতি ছাড়া ভোটাররা যাতে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন এবং ভোট দিয়ে নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারেন, আমরা সেই ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।"
সিইসি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশনের প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। সাধারণত ভোটগ্রহণের প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হয়। আইনগতভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোর বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রতি ধাপে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
সূত্র বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হলেও কোনো রাজনৈতিক জোটকে স্পষ্ট বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের ম্যাজিক ফিগার থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৯টা পর্যন্ত ৫০ লাখের বেশি ভোট গণনা হয়েছে, যা ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জানানো হয়েছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেতে যাচ্ছে। অপরদিকে, বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮টি আসন পেতে পারে। ফলস্বরূপ, নির্বাচনের ফলাফলে কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারছে না।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ‘রা’আম এবং ‘জয়েন্ট লিস্ট’ বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, তারা নেসেটে রেকর্ড ১৯টি আসন জিততে পারে, যা বর্তমান সম্মিলিত ১০টি আসনের প্রায় দ্বিগুণ।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে প্রকাশিত হতে পারে, তবে কোনো জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
৫ লাখের বেশি বিশেষ ‘ডাবল-এনভেলপ’ বা দ্বৈত খামযুক্ত ব্যালট এখনও গণনা করা বাকি রয়েছে। এই ব্যালটগুলোর গণনার পর আসন বণ্টনের চিত্র পরিবর্তিত হতে পারে। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানায়, দ্বৈত খামযুক্ত ব্যালট গণনা শুরু হয়ে গেছে।
এই ব্যালটের মধ্যে সেনাসদস্য, কূটনীতিক এবং নিবন্ধিত ভোটকেন্দ্রের বাইরে থেকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়াও, কারাবন্দি, চিকিৎসাকর্মী, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ভোটকেন্দ্রে যেতে অক্ষম ব্যক্তি এবং বিদেশে ইসরাইলি মিশনে কর্মরত প্রতিনিধিদের ভোটও এই প্রক্রিয়ার অংশ।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর-এর হামলা এবং গাজায় সংঘটিত গণহত্যার পর অনুষ্ঠিত এবারের নির্বাচনকে নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রীর পদের ওপর গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন হয়নি, ৭৭ বছর বয়সী নেতানিয়াহু ভোটে পরাজিত হয়েছেন বলা যায় না।
নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের পর, আগামী সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন।
চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর যিনি সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করবেন, তাকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সরকার গঠনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত ইসরাইলে আবারও নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
বুধবার জেরুজালেমে নিজের বাসভবনে এক বৈঠকে মঙ্গলবারের নির্বাচনে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। গত দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
তিনি বলেন, ‘এটি ইসরাইলি সমাজের জন্য গর্বের বিষয়। ইসরাইলে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষা কতটা গভীর, তা দেখে বিস্মিত হয়েছি।’
হারজোগ আরও জানান, আগামী সপ্তাহে তিনি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল হাতে পাওয়ার আশা করছেন। এরপর তিনি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন।
তিনি বলেন, ‘গতকালের নির্বাচনের পর আমাদের অবশ্যই সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে, যাতে আরেকটি নির্বাচন এড়ানো যায়। সবার কাছে আমার প্রত্যাশা, এখানে আলোচনায় আসা প্রত্যেকেই খোলা মন নিয়ে আসবেন।
সূত্র: আল জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে বরখাস্ত করেছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রতিরক্ষা দফতরের এক কর্মকর্তা। টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ইরানে নতুন হামলার সম্ভাবনা যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিবেচনায় রয়েছে, তখন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো। আট মাস ধরে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়া জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতিবিষয়ক বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সামরিক মহলে এই পদটি ‘জে৫’ নামে পরিচিত।
হেগসেথের অধীনে এই পদ থেকে সরানো দ্বিতীয় জেনারেল হলেন সিলভিয়া। এর আগে, গত বছরের অক্টোবরে, সিলভিয়ার পূর্বসূরি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোসেফ ম্যাকগিকে অবসরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিরক্ষা দফতরের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিলভিয়ার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আপাতত কাউকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। বরখাস্তের কারণ সম্পর্কেও তাকে কিছু জানানো হয়নি।
জয়েন্ট স্টাফের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘আমাদের দেশের জন্য ৩২ বছরের গৌরবময় সেবার জন্য চেয়ারম্যান, জয়েন্ট স্টাফ এবং জয়েন্ট ফোর্স লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়া ও তার পরিবারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। আমরা তার ও তার পরিবারের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ঢাকা ওয়াসার ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত ওয়াসা ভবন পরিদর্শন শেষে তিনি এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘আইনের সংশোধন এনে সারা বাংলাদেশ থেকে ওয়াসার বোর্ড উঠিয়ে দেয়া হবে। এর ফলে আমাদের উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
শহরের পানির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কাজেই ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বাড়ানোর কাজে গুরুত্ব দিতে হবে। ১৬ ইউনিয়নের প্রকল্পের কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দ্রুত শেষ করতে হবে। দ্রুত পূর্বাচল এলাকায় পানির নেটওয়ার্ক তৈরির ব্যবস্থা করতে হবে।’
তিনি রাষ্ট্রের কাছে সহযোগিতা না চেয়ে মানুষের কাছ থেকে নেয়া বিল কাজে লাগিয়ে সেবার মান বাড়ানোর নির্দেশনা দেন। মীর শাহে আলম বলেন, ‘বিল পরিশোধের পর ঢাকাবাসীর পানির প্রাপ্ততা নিশ্চিত থাকতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, দুই মাস পর তিনি আবারো ওয়াসা ভবনে আসবেন। তিনি বলেন, ‘এরমধ্যে কোনো প্রকল্প পরিচালকের ব্যর্থতা পেলে তাকে সরিয়ে দেয়া হবে। আপনাদের দীর্ঘমেয়াদে কী পরিমাণ জনবল প্রয়োজন এবং কাজের এলাকা কতটা বাড়াতে হবে তা জানাবেন। আমি ব্যবস্থা করে দিব।’
এ সময় তিনি ওয়াসার কর্মকর্তাদের কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলাফেরা ও খাওয়া অনুসরণ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘দলবাজি কম করে মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ভূগর্ভস্থ পানি কমিয়ে ২০ শতাংশে আনতে চাই। সারভেস ওয়াটারের দিকে গুরুত্ব দিতে চাই। যাতে ভূমিকম্পে সুযোগ কমে আসে।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘ঢাকা ওয়াসার চোরাই লাইনগুলো খুঁজে বের করতে হবে। এরসঙ্গে রাজনৈতিক কর্মী বা স্থানীয় সন্ত্রাসীরা যুক্ত থাকলে আমাদের জানাবেন। আমরা ব্যবস্থা নিব।’
ঢাকাবাসীকে পানি ব্যবহারে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এতে আপনাদেরই পানির বিল কম আসবে এবং ওয়াসার পানি সরবরাহের চাপ কমবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২০২৭ সালের নভেম্বরে বহুল প্রতীক্ষিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’র কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য প্রদান করেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তা ইস্যুতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ইতোমধ্যে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। নদী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কারিগরি কমিটি বর্তমানে কাজ করছে। তিস্তার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও প্রায় শেষের দিকে রয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ফিরে আসার পর এ বিষয়ে অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রকল্পের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার জন্য দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করা হচ্ছে, উল্লেখ করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, সিইজিআইএস, নদী কমিশনের কর্মকর্তা ও বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। এসব পরামর্শের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হবে। স্থানীয়দের জন্য সবচেয়ে বেশি সুফল নিশ্চিত করতে ডিপিপি তৈরিতে আরও আট থেকে নয় মাস সময় লাগবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, প্রতিমন্ত্রী এ কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও রংপুর- এই পাঁচ জেলার প্রায় তিন কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে।
মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খালের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লালমনিরহাটে আসবেন এবং দৃষ্টিনন্দন খালটির উদ্বোধন করবেন। এর ফলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ সরাসরি সেচ সুবিধা লাভ করবেন। পাশাপাশি খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ করা হবে, যা ‘নতুন লালমনিরহাটের’ দ্বার উন্মোচন করবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা সুনীল কুমার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাসসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ