মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৩১ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরও ক্রিস্টা পাইকের জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে দেরি হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ এবং জরুরি সেবাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তির কারণে চিকিৎসাসহায়তা পেতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লেগে যায়। সোমবার প্রকাশিত জরুরি ফোনকলের রেকর্ডিং থেকে এই তথ্য প্রকাশ পায়।
৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসি অঙ্গরাজ্যের রিভারবেন্ড কারাগারে ৫০ বছর বয়সী পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়। তাকে পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধের দুটি মাত্রা দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি মারা যাননি। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন করে।
রাত ৮টা ৪০ মিনিটে প্রথম ফোনটি করা হয়। ফোনে জানানো হয়, প্রায় এক ঘণ্টা আগে ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও বন্দি মারা যাননি এবং অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন। তবে জরুরি সেবার দায়িত্বে থাকা কর্মী পরিচয় নিশ্চিত করার সংকেত চাইলে ফোনকারী তা দিতে পারেননি। ফলে ঘটনাটি সত্য কি না, তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়।
রেকর্ডিং অনুযায়ী, রাত ৯টা ৩ মিনিটে জরুরি যোগাযোগ বিভাগের এক কর্মী জানান, তাদের কাছে ফোনটি ভুয়া বলে তথ্য এসেছে এবং কারাগারে চিকিৎসাসহায়তার প্রয়োজন নেই। চার মিনিট পর এক সেবাকর্মী জানান, কারাগারের ফটকের বাইরে থাকা এক ব্যক্তি ঘটনাটি সত্য বলে দাবি করছেন এবং দ্রুত ভেতরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন।
পরে কারাগারের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ ফোনটির সত্যতা নিশ্চিত করে। রাত ৯টা ১১ মিনিটে জরুরি সেবাকর্মীদের কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রথম ফোনের প্রায় ৩১ মিনিট পর তারা ভেতরে যাওয়ার ছাড়পত্র পান।
১৯৯৫ সালে সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর এক সময় কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সাহায্য নিতে হয়। তার আইনজীবীরা তখন বেঁচে থাকার আশা কম বলে জানান। পরে পাইক জ্ঞান ফিরে পেয়ে কথা বলতে শুরু করেন এবং সহায়তা নিয়ে হাঁটতেও সক্ষম হন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে আবার নারীদের কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র পরিচিত ব্যক্তি পাইক, এমনটি জানিয়েছে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী একটি গবেষণা সংস্থা। তবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা কেন ব্যর্থ হয়েছিল, তা টেনেসির সংশোধন বিভাগ এখনো জানায়নি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শিরায় ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থায় ত্রুটি হয়ে ওষুধ রক্তপ্রবাহে না গিয়ে শরীরের টিস্যুতে জমে থাকতে পারে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তা স্থগিত করার শেষ মুহূর্তের আবেদন নাকচ করেছিল। পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৮২০ সালের পর টেনেসিতে তিনিই হতেন মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম নারী। তবে এখন তার পরবর্তী পরিণতি কী হবে, তা স্পষ্ট নয়।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় ৬১টি ফ্লাইটের অন্তত ৮ হাজার ৩৮১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এই ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ২২টি সরাসরি এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সোমবার (১২ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রিয়াদ এয়ারের ফ্লাইটের যাত্রীদের এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, কারণ এয়ারলাইনসটি এখনও যাত্রীসংখ্যা জানায়নি। তথ্য পাওয়ার পর যাত্রীর হিসাব হালনাগাদ করা হবে।
স্থগিত হওয়া ২২টি সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নয়টি, রিয়াদ এয়ারের সাতটি, সৌদিয়ার চারটি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের নয়টি, কাতার এয়ারওয়েজ ও ফ্লাইদুবাইয়ের পাঁচটি করে, সালামএয়ারের তিনটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।
এর আগে, বেবিচক জানিয়েছিল যে ৫১টি ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় ৫ হাজার ৪১৮ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। সর্বশেষ হিসাবে, স্থগিত ফ্লাইট এবং ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীদের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে একের পর এক হামলার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে। এসব ঘটনার পর ফ্লাইট চলাচল স্থগিত এবং বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রধান ক্যাথলিক ধর্মীয় নেতা আর্চবিশপ (খ্রিস্টধর্মের উচ্চপদস্থ ও প্রধান একজন ধর্মযাজক) টিমোথি ব্রগলিও ফোর্ট হুডে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা চিকিৎসক নাসির আবদুল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তার মতে, প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেখানোর মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের অনুকরণ করা হতে পারে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্রগলিও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পরিকল্পনার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। গত সপ্তাহে হেগসেথ জানিয়েছিলেন, আগামী ডিসেম্বরে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য জনসাধারণের দেখার জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
ব্রগলিও বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে দায়িত্ব পাওয়া কোনো ক্যাথলিক সেনাসদস্যের উচিত এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাওয়া। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের কাজে অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের মধ্যে গভীর নৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা কি সত্যিই এই বিশ্বের সন্ত্রাসীদের অনুকরণ করতে চাই? আমাদের প্রতিপক্ষকে বর্বরভাবে হত্যা করে তা কি জনসমক্ষে প্রদর্শন করতে চাই?’
বিবৃতিতে ব্রোগলিও আরও বলেন, বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সাধারণত ভালো সুনাম রয়েছে। তবে হুইলচেয়ারে থাকা একজন মানুষের মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সারা বিশ্বে প্রচার করে সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসীদের কাতারে দাঁড় করানোর কোনো মূল্য আছে কি না, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। এ সিদ্ধান্ত মানুষের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেই প্রশ্নও তিনি উত্থাপন করেন।
এ বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর তিন দিন আগে পোপ চতুর্দশ লিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, মৃত্যুদণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এটি মানুষের অলঙ্ঘনীয় অধিকার ও মর্যাদার ওপর আঘাত। তবে তার ওই বক্তব্যে হাসানের মৃত্যুদণ্ডের পরিকল্পনা কিংবা সম্প্রতি প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইকের ঘটনার সরাসরি উল্লেখ ছিল না। বক্তব্যটি এসেছিল মৃত্যুদণ্ডবিরোধী বিশ্ব দিবস উপলক্ষে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেছেন, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে বোঝাতেই মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
২০১৩ সালে সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন হাসান। ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং ৩০ জনের বেশি মানুষকে আহত করার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সাবেক এই সেনা মনোরোগ চিকিৎসক বিচার চলাকালে স্বীকার করেছিলেন, তিনিই গুলি চালিয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হাত থেকে ইসলামি বিদ্রোহীদের রক্ষা করতেই তিনি এ হামলা চালান।
হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৬১ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে দেশটির সামরিক বাহিনী। পাশাপাশি ১৯৪৫ সালের পর প্রথমবারের মতো গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাও ঘটতে পারে।
আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য প্রকাশ্যে দেখানোর ঘটনা অত্যন্ত বিরল। প্রায় ৯০ বছর আগে কেনটাকিতে রেইনি বেথিয়াকে ধর্ষণের দায়ে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ২০ হাজার মানুষ সেই মৃত্যুদণ্ড প্রত্যক্ষ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। ইরান, আফগানিস্তান ও উত্তর কোরিয়ায় এখনো প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হয়।
হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সদস্যদের মধ্যেই সমালোচনা তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকান দলের একাধিক আইনপ্রণেতাও এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন।
আলাস্কার সিনেটর লিসা মারকাউস্কি বলেন, এ ধরনের কাজ সন্ত্রাসী ও স্বৈরশাসকদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নয়। নর্থ ডাকোটার সিনেটর কেভিন ক্রেমার বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড কোনো বিনোদন নয়।’
প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন জানিয়েছেন, তার দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতার এ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিষয়টি তিনি হোয়াইট হাউসের কাছে তুলে ধরবেন।
জনসনের আশঙ্কা, মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্যের ভিডিও ভবিষ্যৎ সন্ত্রাসীদের নতুন করে লোক সংগ্রহের উপকরণ হয়ে উঠতে পারে। তাই পরিকল্পনাটির নীতিগত প্রভাবগুলো ভালোভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে, ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হলেও তিনি তা দেখবেন না।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেড মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপনে ১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে কারখানাটিতে বছরে ৬০ লাখ পিস অন্তর্বাস ও ব্রা উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকায় বেপজা কমপ্লেক্সে সোমবার (১২ অক্টোবর) এ লক্ষ্যে জমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান লি কিয়াংকিয়াং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বেপজার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মোংলা ইপিজেডে ১৬ হাজার ৪২৬ দশমিক ৩৭ বর্গমিটার জমিতে কারখানাটি স্থাপন করা হবে। উৎপাদিত অন্তর্বাস ও ব্রা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের জন্য রপ্তানি করা হবে, যার মধ্যে এয়ারি, ক্যালভিন ক্লেইন, জারা, ফ্লোরেন্স অ্যান্ড ফ্রেড (টেসকো), এএসওএস ও প্রাইমার্ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে এইচঅ্যান্ডএম, ওয়ালমার্ট, এমঅ্যান্ডএস ও গ্যাপ।
লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেড যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের পাশাপাশি আলজেরিয়া, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, চিলি, মেক্সিকো, ইরাক, জাপান ও কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানির পরিকল্পনা করছে।
বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে স্বাগত জানান বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। বাংলাদেশ ও বেপজার ওপর আস্থা রেখে বিনিয়োগে এগিয়ে আসায় তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মসিহউদ্দিন বিন মেসবাহ, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ.এস.এম. আনোয়ার পারভেজ এবং অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) ফজলুল হক মজুমদারসহ বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোংলা ইপিজেডে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে এবং ১০টি প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়ন কাজ চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত ইপিজেডটি থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এখানে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭১ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং কর্মসংস্থান হয়েছে ১৬ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশির।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের সংসার খরচ নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে। আয় দিয়ে ব্যয় সামলাতে ব্যর্থ হয়ে ঋণের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে অনেক মার্কিন নাগরিক গাড়ি, গৃহঋণ, শিক্ষাঋণ ও ঋণপত্রের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে পারছেন না। সাম্প্রতিক আর্থিক তথ্যেও ঋণ পরিশোধে পিছিয়ে পড়ার এই চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।
নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে গাড়ির ঋণের কিস্তি দীর্ঘ সময় ধরে বকেয়া থাকার হার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ঋণপত্রের প্রায় ১৩ শতাংশ বকেয়া দীর্ঘ সময় ধরে অপরিশোধিত রয়েছে, যা ২০১০ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। ওই সময় আবাসন খাতের সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক চাপ তীব্র হয়েছিল।
গৃহঋণের কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে পড়া পরিবারের হারও গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ২০০৭-২০০৯ সালের মহামন্দার সময়ের সর্বোচ্চ হারের তুলনায় এটি এখনো অনেক কম।
গত এক বছরে শিক্ষাঋণের কিস্তি বকেয়া থাকার হারও বেড়েছে। মহামারির সময় দেওয়া ঋণ পরিশোধের বিশেষ সুবিধা শেষ হয়ে যাওয়া এবং বাইডেন প্রশাসনের একটি ঋণ পরিশোধ পরিকল্পনার সঙ্গে এই বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের পারিবারিক আর্থিক পরিস্থিতিবিষয়ক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে দেশটির প্রায় ৯ শতাংশ পরিবার আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি ঋণ পরিশোধে ব্যয় করেছে। ২০১০ সালের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ হার।
একই জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ২০ শতাংশ পরিবার কোনো না কোনো ঋণের কিস্তি সময়মতো দিতে পারেনি। ২০২২ সালে এই হার ছিল প্রায় ১২ শতাংশ।
বয়স্কদের মধ্যেও ঋণ পরিশোধের সমস্যা বাড়ছে। ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের গাড়ির ঋণের কিস্তি বকেয়া থাকার হার ২০০০ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বয়সীদের মধ্যে ঋণপত্রের কিস্তি বকেয়া থাকার হারও ২০১১ সালের পর সর্বোচ্চ হয়েছে।
ঋণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ডেট ডটকমের মার্চ মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি মার্কিন নাগরিক খাবার, বাড়িভাড়া ও বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে ঋণপত্র ব্যবহার করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতির কারণে এক বছর আগের তুলনায় তাঁদের ঋণপত্রে বকেয়া অর্থের পরিমাণ বেড়েছে।
আয় বাড়ছে দামের তুলনায় কম
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ও বেকারত্বের মতো কিছু সূচক তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। টানা পাঁচ বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবের পর সাম্প্রতিক এক জরিপে ১০ জনের মধ্যে ৯ জন মার্কিন নাগরিক বলেছেন, অর্থনীতি নিয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ ভাবনায় পণ্যের দাম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জিরার্ডের প্রত্যয়িত আর্থিক পরিকল্পনাবিদ কেলি রিগ্যানের মতে, মূল্যস্ফীতি মানুষের পারিবারিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। জরুরি সঞ্চয় শেষ হয়ে গেলে অনেকেই ঋণপত্রের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিনি বলেন, মানুষের আয়ের তুলনায় পণ্যের দাম দ্রুত বাড়লে ব্যয় মেটাতে ঘাটতি তৈরি হয়। বাজেটে সাশ্রয় করার সুযোগ না থাকলে কিংবা জরুরি সঞ্চয় না থাকলে সেই ঘাটতি পূরণ করতে মানুষকে ঋণ নিতে হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় লাখো পরিবার আগের তুলনায় কম পণ্য ও সেবা কিনতে পারছে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে এবং অর্থনীতি নিয়ে হতাশাও বাড়ছে।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোক্তা পরিস্থিতিবিষয়ক জরিপের গত সপ্তাহের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি ভোক্তা আগামী এক বছরে ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা করছেন। তাদের মধ্যে খাবার ও নিত্যপণ্য, গৃহস্থালির সামগ্রী, গাড়ি, বাইরে খাওয়াদাওয়া এবং ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার খরচ কমানোর প্রবণতা বেশি।
জরিপটির পরিচালক জোয়ান সু বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের হতাশা বাড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষই মনে করছেন, বছরের শুরু থেকে অর্থনীতির গতিপথ দুর্বল হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মূল্যস্ফীতির চাপ, মজুরি বৃদ্ধির ধীরগতি এবং সঞ্চয়ের ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোকে ঋণের ওপর আরও নির্ভরশীল করে তুলছে। এর ফলে ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে না পারা মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ