ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঔষধি উদ্ভিদ ব্যবহার করে নিরাপদ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতা


ঔষধি উদ্ভিদ ব্যবহার করে নিরাপদ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক প্ল্যানটেইন নামক ঔষধি উদ্ভিদ ব্যবহার করে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনের একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। প্রায় দুই দশকের গবেষণার ফলস্বরূপ, তারা ‘বাউ-প্লান্টিভ’ নামে একটি ফাইটোজেনিক ফিড অ্যাডিটিভ তৈরি করেছেন, যা প্ল্যানটেইনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ঔষধি বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগায়। একই সঙ্গে, তারা দেশে প্ল্যানটেইনের বীজ উৎপাদন, চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও খামারে ব্যবহারের জন্য একটি দেশীয় ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন।

গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন, যিনি বাকৃবির এনিমেল নিউট্রিশন বিভাগের অধ্যাপক। সহযোগী গবেষক হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. তামান্না হক। গবেষণায় স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও যুক্ত রয়েছেন। বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস (বিএএস)-ইউএসডিএ অর্থায়নে ‘সাসটেইনেবল কমার্শিয়ালাইজেশন অব প্ল্যানটেইন অ্যান্ড সিড ভ্যালু চেইন ডেভেলপমেন্ট ফর সেফ অ্যান্ড ফাংশনাল ব্রয়লার মিট প্রোডাকশন’ প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে।

ড. মোহাম্মদ আল-মামুন জানান, "আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিকভাবে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন পোল্ট্রি মাংস উৎপাদন করা।" তিনি বলেন, প্রচলিত ব্রয়লার উৎপাদনে ব্যবহৃত কৃত্রিম মেডিসিন, ভিটামিন ও গ্রোথ প্রমোটরের বিকল্প হিসেবে তারা প্ল্যানটেইন নিয়ে গবেষণা করছেন। তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ‘বাউ-প্লান্টিভ’ বাজারে আনা নয়, বরং প্ল্যানটেইন থেকে বীজ, বীজ থেকে ফিড, ফিড থেকে কার্যকরী মাংস এবং গবেষণা থেকে একটি টেকসই বাংলাদেশভিত্তিক বাণিজ্যিক সিড-টু-মিট ভ্যালু চেইন তৈরি করা।

আরও পড়ুন: সৌরশক্তিচালিত সেচে কৃষি খাতে ব্যয় কমছে, উৎপাদন বাড়ছে

ড. আল-মামুন আরও বলেন, "বাউ-প্লান্টিভ খাওয়ানো ব্রয়লারের হাড়ের গঠন শক্তিশালী হয় এবং হাড়ে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনের পরিমাণ বাড়ে।" তিনি উল্লেখ করেন, মুরগির দৈহিক তৎপরতাও বৃদ্ধি পায় এবং পালক ঘন ও উজ্জ্বল হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মুরগির মাংসে স্বাস্থ্যকর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বা আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিডের পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে, মাংসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধি পায় এবং গরমের ধকল বা হিট স্ট্রেস সহ্য করার সক্ষমতাও উন্নত হয়।

গবেষণার প্রতিটি ট্রায়ালে প্রায় ৪৫০টি করে ব্রয়লার মুরগি নিয়ে ৩৫ দিন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তিনটি পৃথক পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জে উন্মুক্ত মাঠের পাশাপাশি এসি ও নন-এসি গ্রিনহাউসেও প্ল্যানটেইন চাষ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে প্ল্যানটেইন উৎপাদনের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে।

প্ল্যানটেইন চাষের ক্ষেত্রে বীজের আমদানিনির্ভরতা ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আমদানিকৃত প্যারেন্টাল বীজ দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি একরে মাত্র আড়াই কেজি বীজ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে প্রথম প্রজন্মের (জি-১) বীজ উৎপাদন বেড়ে প্রায় ১৪০ কেজিতে এবং দ্বিতীয় প্রজন্মে (জি-২) প্রতি একরে প্রায় ২০০ কেজিতে পৌঁছেছে। বর্তমানে এক একর প্ল্যানটেইন থেকে উৎপাদিত বীজ দিয়ে প্রায় ৮০ একর জমিতে নতুন করে চাষ করা সম্ভব। ফলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত বীজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে প্ল্যানটেইনের বীজের একটি শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গবেষকেরা জানান, প্ল্যানটেইনকে প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে দেশীয় কয়েকটি ঔষধি উদ্ভিদের সমন্বয়ে ‘বাউ-প্লান্টিভ’ নামে ফাইটোজেনিক ফিড অ্যাডিটিভ তৈরি করা হয়েছে। ব্রয়লার ও দেশি মুরগির ওপর ধারাবাহিক পরীক্ষায় এর ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া গেছে। প্রচলিত কৃত্রিম অ্যাডিটিভের তুলনায় বাউ-প্লান্টিভ ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা কমে। প্রচলিত মেডিসিন ব্যবহারে প্রতি মুরগিতে গড়ে সাড়ে ৮ টাকা খরচ হলেও বাউ-প্লান্টিভ ব্যবহারে তা প্রায় ৭ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন: সদরপুরের মাঠে আমনের সবুজ ঢেউ, কৃষকদের প্রত্যাশা ও দুশ্চিন্তা

ড. আল-মামুন বলেন, "বাংলাদেশে প্ল্যানটেইন নিয়ে গবেষণার কাজ আমিই প্রথম শুরু করি।" তিনি জানান, ২০০৪ সালে জাপানে পিএইচডি করার সময় থেকেই তিনি এই ভেষজ নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, "ব্রয়লার মুরগিতে প্ল্যানটেইনের ব্যবহার বাংলাদেশ এমনকি বিশ্বেও প্রথমবারের মতো আমরা করেছি।" জাপানে গবেষণার সময় প্ল্যানটেইনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু হলেও পরে বাংলাদেশে এর চাষ, ব্যবহার ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে। তাদের তৈরি ‘বাউ-প্লান্টিভ’ এখন গবেষণাগার থেকে খামার পর্যায়ে প্রয়োগের পর্যায়ে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, "এখন মূল চ্যালেঞ্জ বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ।" তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের, বীজ কোম্পানির, ফিড মিলের, পোল্ট্রি শিল্পের, এনজিওর এবং বাজার ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, "পাশাপাশি আধুনিক প্রসেসিং, বাস্ট ফ্রিজিং ও কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।" এ উদ্যোগ সফল হলে একদিকে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ পোল্ট্রি মাংস উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে প্ল্যানটেইন বীজ ও ফিড অ্যাডিটিভ শিল্পের বিকাশ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জানা যায়, প্ল্যানটেইন একটি ঔষধি উদ্ভিদ। এতে গ্লাইকোসাইড, ক্যাটালপলসহ বিভিন্ন বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ রয়েছে। উদ্ভিদটির শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত প্ল্যানটেইনের বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদানের মান জাপানে উৎপাদিত প্ল্যানটেইনের কাছাকাছি। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত প্রায় আট মাস এটি চাষ করা সম্ভব।

প্রসঙ্গত, ‘বাউ-প্লান্টিভ’ প্ল্যানটেইন ও দেশীয় কয়েকটি ঔষধি ভেষজের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিলে এবং চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। গবেষণার বিভিন্ন ফলাফল নিয়ে ‘পোল্ট্রি সায়েন্স জার্নাল’ ও ‘ইতালিয়ান জার্নাল অব অ্যানিমেল সায়েন্স’সহ বিভিন্ন সাময়িকীতে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পেটেন্টের জন্যও আবেদন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাতের আঁধারে সার পাচারের সময় হাতেনাতে ধরল এলাকাবাসী

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেপ্টেম্বরের রাতে অস্বাভাবিক ঠান্ডা, শীত কি আগেভাগে আসছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৮ পি.এম


সেপ্টেম্বরের রাতে অস্বাভাবিক ঠান্ডা, শীত কি আগেভাগে আসছে?

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে, যা সেপ্টেম্বর মাসে গত ২৫ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এবং ২০০১ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ব্যাপক বৃষ্টিপাত এবং মেঘলা আকাশের পর এই অস্বাভাবিক ঠান্ডা রাতের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে প্রশ্ন উঠেছে যে, এ বছর কি শীত আগেভাগে আসছে।

উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ রাখা হয়েছে, ফ্যানের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাপমাত্রা হ্রাসের ফলে আবহাওয়ায় হঠাৎ এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তবে, এই তাপমাত্রা হ্রাসের সঙ্গে এল নিনো বা শীতের আগাম আগমনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত একটি দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী আবহাওয়া ব্যবস্থার ফল, যা ভারতজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সৃষ্টি করেছে।

তাপমাত্রা হ্রাসের কারণ

বঙ্গোপসাগর থেকে স্থলভাগে প্রবেশ করা একটি দীর্ঘস্থায়ী গভীর নিম্নচাপের কারণে এই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছিল। মৌসুমী বায়ু বিদায় নেওয়ার সময় হওয়ায়, এই নিম্নচাপটি যথেষ্ট অনুকূল পরিবেশ পেয়েছিল বলে ‘মৌসম টাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা দেবেন্দ্র ত্রিপাঠী ইন্ডিয়া টুডেকে জানিয়েছেন। মৌসুমী বায়ু সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হিমালয় অঞ্চল এবং উত্তর সমভূমিতে পশ্চিমা বায়ু শক্তিশালী হয়ে ওঠে, যা আবহাওয়া ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।

এই নিম্নচাপের প্রভাবে ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশে বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া, উত্তরাখণ্ড, দিল্লি, হরিয়ানা ও রাজস্থানও এর আওতাভুক্ত ছিল। একটানা মেঘলা আকাশ, বাতাসে প্রচুর আর্দ্রতা এবং অবিরাম বৃষ্টির কারণে দিনের বেলার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়নি। তবে, আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি কোনো ঋতু পরিবর্তনের লক্ষণ নয়, বরং একটি সক্রিয় আবহাওয়া ব্যবস্থার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

তাপমাত্রা কি আবার বাড়বে?

নিম্নচাপটি দুর্বল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর ভারতে শুষ্ক পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ১ অক্টোবর থেকে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান এবং উত্তর প্রদেশের বেশিরভাগ অংশে রোদের দেখা মিলতে পারে। মেঘের পরিমাণ কমলে এবং বায়ুমণ্ডল শুষ্ক হলে দিনের তাপমাত্রা ফের বৃদ্ধি পাবে এবং উত্তর সমভূমি অঞ্চলে উষ্ণ আবহাওয়া ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আসছে আরেকটি নিম্নচাপ

মিয়ানমারের কাছে তৈরি হওয়া আরেকটি নিম্নচাপ বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারলেও আগের সিস্টেমটির মতো এটি খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এই নতুন সিস্টেমটির প্রভাবে পূর্ব উত্তর প্রদেশ, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড় এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন করে মেঘ ও বৃষ্টি হতে পারে।

তবে কি শীতের আগমনী বার্তা?

এর সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো- না। আপাতত বিষয়টি স্পষ্ট যে, দিল্লির এই অস্বাভাবিক ঠান্ডা সেপ্টেম্বর রাত কোনোমতেই শীতের আগাম বার্তা নয়। তাপমাত্রার এই সাম্প্রতিক পরিবর্তন সম্পূর্ণ সাময়িক এবং এর সঙ্গে এল নিনোর কোনো প্রত্যক্ষ সংযোগ নেই।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে বাংলাদেশিদের জন্য আইন মেনে চলার বিশেষ সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


সৌদিতে বাংলাদেশিদের জন্য আইন মেনে চলার বিশেষ সতর্কতা জারি

সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য স্থানীয় আইন মেনে চলার গুরুত্ব, নিরাপদ প্রবাসজীবন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা এবং আইনি জটিলতা এড়িয়ে চলার লক্ষ্যে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) একটি জনকল্যাণমূলক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য এই বিশেষ সতর্কবার্তা প্রদান করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় আইন, জননিরাপত্তা বা শৃঙ্খলাবিরোধী বিষয়বস্তু ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার, সংরক্ষণ বা আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ধরনের পোস্টে লাইক, মন্তব্য বা শেয়ার না করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

এছাড়া, কনস্যুলেট সতর্ক করেছে যে, কোনো কাগজপত্র সম্পূর্ণ না বুঝে স্বাক্ষর বা সাদা কাগজে স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ না দিতে হবে। নিজের ইকামা ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তি, কফিল বা প্রতিষ্ঠানের নামে মোবাইল, সিম, যানবাহন বা অন্য কোনো সম্পদ নিবন্ধন না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এক অঞ্চল বা প্রতিষ্ঠানের ইকামা ব্যবহার করে অন্যত্র কাজ করা, রাস্তায় পড়ে থাকা পণ্য বা ক্র্যাপ সংগ্রহ ও বিক্রি, অনুমতি ছাড়া রাস্তার পাশে ব্যবসা এবং অবৈধভাবে পানি বিক্রিসহ দণ্ডনীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।

অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রবাসজীবন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজেট সংকটে ৪ বছরে শুরু হয়নি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংস্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


বাজেট সংকটে ৪ বছরে শুরু হয়নি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংস্কার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রতিষ্ঠার দুই দশক অতিক্রম করলেও ক্যাম্পাসের প্রধান প্রবেশপথে পুরোনো অবকাঠামোর চিহ্ন এখনো বিদ্যমান। আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়ার চার বছর পরেও বাজেটের অভাবে নতুন প্রধান ফটক নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটককে আধুনিকায়নের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হকের সময়ে এ বিষয়ে পরিকল্পনা করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের মাধ্যমে নকশা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় অনুমোদনসহ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

পরিকল্পনার আওতায়, ক্যাম্পাসের বর্তমান ১ নম্বর গেটটি সরু হওয়ায় সেটিকে দ্বিতীয় প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তুলনামূলক প্রশস্ত হওয়ায় বর্তমান ২ নম্বর গেট বা ওয়াসি গেটের স্থানে নতুন প্রধান ফটক নির্মাণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন ফটকের নকশায় আধুনিক স্থাপত্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যানবাহন চলাচলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথের কাঠামোতে পরিবর্তন আসবে এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন ঘটবে।

তবে নকশা ও পরিকল্পনা প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও অর্থের অভাবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন আটকে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ-সংক্রান্ত ফাইলটি ২০২৩ সাল থেকে অর্থ বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে। পরে প্রকল্পটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বিশেষ একটি প্রকল্পের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইচ উদ্দিন আরটিভিকে বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এরকম থাকাটা মানানসই নয়। আমরা সরকারের অর্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি, তারা এ বছর আমাদের বাজেট দিতে পারবেন। যদি তারা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা নিজেরাই অর্থের ব্যবস্থা করে এ বছরই কাজ শুরু করব।"

প্রধান প্রকৌশলী ড. হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, "আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নকশা ও অন্যান্য সব পরিকল্পনা সম্পন্ন করে অনেক আগেই সেটির অনুমোদন নিয়ে অর্থ দপ্তরে পাঠিয়েছি। তবে বাজেট সংকটে ফাইলটি ২০২৩ সাল থেকে আটকে আছে। এজন্য ফাইলটি আমরা ইউজিসির বিশেষ একটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছি। আশা করছি, চলতি অর্থবছরেই বাজেট পেলে কাজ শুরু করতে পারব।"

উল্লেখ্য, জগন্নাথ কলেজ থেকে ২০০৫ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর দুই দশক অতিক্রম হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অবকাঠামো এখনো পুরোনো অবস্থায় রয়েছে। কলেজ আমলের বেশিরভাগ অবকাঠামো নিয়েই বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর অনেকগুলো এখনো বড় ধরনের সংস্কার বা আধুনিকায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজার ছুটিতে ইবি গ্রন্থাগারের জব কর্ণার খোলার দাবি শিক্ষার্থীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১০ পি.এম


দুর্গাপূজার ছুটিতে ইবি গ্রন্থাগারের জব কর্ণার খোলার দাবি শিক্ষার্থীদের

চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা আসন্ন দুর্গাপূজার ছুটিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ‘জব কর্ণার’ খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন। তারা ছুটির সময় বিসিএস, বিজেএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি অব্যাহত রাখতে চান।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক খন্দকার আব্দুল মজিদের কাছে শিক্ষার্থীরা এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার ছুটিতে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই সময়ে অনেক চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে অবস্থান করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক। সামনে বিসিএস, বিজেএসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষা রয়েছে, তাই তারা ছুটির সময়টিকে প্রস্তুতির কাজে লাগাতে চান। এ কারণে পূজার ছুটির দিনগুলোতে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জব কর্ণার খোলা রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, পূজার অফিসিয়াল ছুটি পাঁচ দিন থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বাসায় না গিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। সামনে বিজেএস, বিসিএসসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ চাকরির পরীক্ষা রয়েছে। চাকরিপ্রত্যাশীরা এই সময়টাকে কাজে লাগাতে চান। তারা দাবি জানান, জব কর্ণারটি বন্ধের সময়টাতে খোলা রাখা হোক। তারা গ্রন্থাগারিকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপি গ্রহণের পর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক খন্দকার আব্দুল মজিদ বলেন, "পড়ালেখার প্রতি তোমাদের এ আগ্রহ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।" তিনি আরও জানান, "যেহেতু বিষয়টি প্রশাসনিক, বন্ধের মধ্যে অফিস খোলা রাখতে হলে মাননীয় উপাচার্য স্যারের অনুমতির প্রয়োজন।" তিনি উল্লেখ করেন, "তাদের দাবিটি নিয়ে আমি মাননীয় উপাচার্য স্যারের সঙ্গে আলোচনা করব। স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" তিনি বলেন, "মাননীয় উপাচার্য স্যার সব সময়ই শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবির বিষয়ে ইতিবাচক।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%