ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ


ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ

জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার শক্তিশালী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আইনের সঠিক বাস্তবায়ন, জাটকা নিধন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান জোরদার করা, নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার, গবেষণা বৃদ্ধি এবং সরকারিভাবে জেলেদের জন্য বিশেষ বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

ইলিশ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা, নাব্যতা বজায় রাখা, ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ, মোহনা ও উপকূলীয় পরিবেশের সুরক্ষা, বৈজ্ঞানিকভাবে মৎস্য আহরণ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশেষজ্ঞরা অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে তাদের জীবিকা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুন: সৌরশক্তিচালিত সেচে কৃষি খাতে ব্যয় কমছে, উৎপাদন বাড়ছে

মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ইকোসিস্টেম এবং ন্যাচারাল সাকসেশনের কারণে ইলিশের উৎপাদনে উত্থান-পতন ঘটতে পারে। তবে এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। সরকার ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নতুন প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে, যেখানে আইনের প্রয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই প্রকল্পটি শুরু হবে। একইসাথে সরকার এবার ভিজিএফ কার্ড বা জেলেদের জন্য বরাদ্দের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।

ইলিশ গবেষকরা বলেছেন, ভারতের গুজরাটের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণ নির্ধারণে আরও গবেষণা এবং বাংলাদেশ-গুজরাটের নদী ও মোহনা পরিবেশের তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়িত হলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক প্রজনন ও চলাচলের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশের ইলিশ সম্পদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে।

মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন, সরকার ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের’ মেয়াদ শেষ হলেও নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে, যা খুব শিগগিরই অনুমোদিত হবে। ‘মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণের মাধ্যমে ইলিশের টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প’ নামের এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইলিশ উৎপাদন ও সংরক্ষণে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দেওয়া এবং ভিজিএফ এর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ভিজিএফ সুবিধা প্রস্তাবিত প্রকল্পে ৬ লাখ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ ৪৬ হাজার করা হয়েছে।

চলতি বছরও ইলিশ আহরণ কমের দিকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ইকোসিস্টেম এবং ন্যাচারাল সাকসেশনের কারণে ইলিশের উৎপাদন এবারও নিচের দিকে। তবে সরকারি নানা উদ্যোগের কারণে আগামী বছরগুলোতে ইলিশের উৎপাদন বাড়তে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

আরও পড়ুন: সদরপুরের মাঠে আমনের সবুজ ঢেউ, কৃষকদের প্রত্যাশা ও দুশ্চিন্তা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। সম্মিলিতভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে পারলে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং জেলেরা দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল ভোগ করবে।

তিনি বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য। ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেকোনো মূল্যে নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধ করতে হবে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাসুদ রানা বলেছেন, ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ দায়ী নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, জাটকা আহরণ, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা, ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার, নদীর নাব্য হ্রাস, পানি দূষণ, পানি প্রবাহের পরিবর্তন, অপরিকল্পিত অবকাঠামো এবং সমুদ্রে অতিরিক্ত মাছ ধরার চাপ সব মিলিয়ে ইলিশসম্পদের ওপর চাপ তৈরি করছে।

আরও পড়ুন: রাতের আঁধারে সার পাচারের সময় হাতেনাতে ধরল এলাকাবাসী

মৎস্য অধিদপ্তরের বরাতে তিনি জানান, দেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৫.২৯ লাখ টন, যার আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমে প্রায় ৫ লাখ টন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম। কয়েক বছর ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন বাড়ার পর সর্বশেষ হিসাবে তা কমে যাওয়ায় ইলিশসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সরকারি নথিতে শিল্প ট্রলারের জন্য ৪০ মিটার গভীরতার বাইরে মাছ ধরার বিধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় নির্ধারিত গভীরতা অঞ্চলের ভেতরে ট্রলিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল বা অনুপযুক্ত জাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একসঙ্গে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের মাছ ধরা পড়তে পারে। এতে ইলিশের ছোট বয়সের মাছসহ অন্যান্য মাছও প্রজননক্ষম হওয়ার আগেই আহরিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ড. মাসুদ রানা মনে করেন, মা ইলিশ রক্ষায় কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। একটি প্রজননক্ষম মা ইলিশ নদীতে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে তার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের বিপুলসংখ্যক ইলিশ জন্ম নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় টহল, নৌযান পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। নদীতে পানি দূষণ, বর্জ্য ফেলা, নাব্য হ্রাস এবং অন্যান্য মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

তার মতে, কোথায় ইলিশ বেশি ডিম ছাড়ছে, কোন সময় বেশি আসে এবং কোন পরিবেশগত পরিবর্তন তার প্রজননে প্রভাব ফেলছে এসব তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করা উচিত।

আরও পড়ুন: পলাশবাড়ীতে ২ বিঘা জমির লাউক্ষেত ধ্বংস, কৃষানির কান্না থামছে না

স্যাটেলাইট ও জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলিশের বিচরণ, প্রজনন ও নার্সারি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা, এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, নদীর প্রবাহ, ক্লোরোফিল ও অন্যান্য পরিবেশগত তথ্য বিশ্লেষণ করে ইলিশের গতিবিধি ও সম্ভাব্য সমাগমের পূর্বাভাস দেয়া, নদী ও মোহনায় ইন্টারনেট অব থিংকস (আইওটি) সেন্সরের মাধ্যমে পানির গুণাগুণ রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ, ডিএনএ ও হাইড্রোএকাউট্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলিশের উপস্থিতি ও মজুত নির্ণয় এবং ড্রোন ও এআই-ভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে অবৈধ আহরণ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

এছাড়া, জিপিএস-ভিত্তিক নৌযান পর্যবেক্ষণ, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় স্মার্ট ফিশিং গিয়ার, ডিজিটাল ক্যাচ ডেটাবেজ এবং জলবায়ু পরিবর্তনভিত্তিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা চালু করা হলে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র কার্যকরভাবে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। এসব প্রযুক্তিকে সমন্বিত করে একটি ‘স্মার্ট হিলসা ম্যানেজমেন্ট’ গড়ে তুলতে পারলে ইলিশের প্রাকৃতিক মজুত সংরক্ষণ, অবৈধ আহরণ নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

ভারতের গুজরাট রাজ্যের নর্মদা নদীর মোহনা ও ভরুচ অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে, যা বাংলাদেশের ইলিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। গুজরাটে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে অতিবৃষ্টির ফলে নর্মদা নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ বৃদ্ধি, মোহনা অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিবর্তন, ইলিশের চলাচল অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং মৌসুমি মাছের প্রাপ্যতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গুজরাটের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পদ্মা, মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নদী অববাহিকার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ এবং মোহনার পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন ড. মাসুদ রানা।

বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল ওহাব বলেন, দেশে ইলিশের উৎপাদন দুই বছর ধরে কমছে। ২০১৬ সালে ৩ লাখ ৯৬ হাজার টন ইলিশ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে উত্থান শুরু হয়। এরপর প্রতি অর্থবছরে উৎপাদন ১০ থেকে ২০ হাজার টন করে বাড়ে। গত দু’বছর ধরে উৎপাদন কমের দিকে। দেশে টেকসই উৎপাদন প্রতিবছর সাড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টন ইলিশ আহরণ করলে সেটি টেকসই উৎপাদনের সীমার মধ্যে থাকবে।

আরও পড়ুন: একসময় পোলট্রি বিপ্লবের কেন্দ্র, এখন জরাজীর্ণ জামালগঞ্জ খামার

তার মতে, ইলিশের উৎপাদন কমার পেছনে সবচেয়ে বড় দুটি কারণ হলো প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা এবং নির্বিচার জাটকা নিধন। মা ইলিশ রক্ষার জন্য অক্টোবরে যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটি এখনো ঠিক আছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সময়টা কিছুটা পিছিয়ে নেওয়া প্রয়োজন কি না, তা গবেষণা করে দেখা উচিত।

তিনি বলেন, অতীতে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছিল কয়েকটি উদ্যোগের সম্মিলিত প্রভাবে। এর মধ্যে ছিল ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষা, ৮ মাস জাটকা ধরা নিষিদ্ধ রাখা, মার্চ ও এপ্রিলে অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা, সাড়ে ৬ সেন্টিমিটারের কম ফাঁসের জাল নিষিদ্ধ করা এবং বন্ধের সময়ে জেলেদের চালসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া। এছাড়া পাঁচটি অভয়াশ্রম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। অভয়াশ্রমগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ এখন জরুরি।

অধ্যাপক মো. আব্দুল ওহাব বলেন, পদ্মা-মেঘনা অববাহিকায় ইলিশ ডিম ছাড়ার পর মার্চ-এপ্রিলে জাটকা ঝাঁকে ঝাঁকে সাগরের দিকে যেতে থাকে। এ সময় নদ-নদীতে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে এবং উপকূলীয় সাগরে আর্টিসানাল ট্রলারের (যেগুলো ৪০ মিটারের কম গভীরতায় মাছ ধরে) মাধ্যমে ব্যাপক হারে জাটকা নিধন করা হয়। এতে ইলিশ পূর্ণ আকারে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায় না। জাটকা নিধনে ‘জিরো টলারেন্স’ এর পরামর্শ দেন সরকারকে। পাশাপাশি দখলদূষণের ফলে নদীর বাস্তুতন্ত্র নষ্ট এবং নাব্যতা সংকটের কারণেও ইলিশ ঠিকমতো বড় হচ্ছে না।

মৎস্যবিজ্ঞানীদের বক্তব্যের প্রতিফলন পাওয়া যায় উপকূলের জেলেদের মুখ থেকেও। বিষখালী নদীতে ইলিশ মাছ ধরা কয়েকজন জেলের নাম হলো মো. লিটন হোসেন, মো. কাইয়ুম এবং নিরু খান।

আরও পড়ুন: উৎপাদন বাড়লেও ফসলের পুষ্টিমান হারাচ্ছে, বলছে গবেষকরা

তাদের বক্তব্য, ইলিশের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার পরই ছাঁকনির মতো সূক্ষ্ম জাল দিয়ে সেগুলো ধরে ফেলা হয়। জাটকানিধনের প্রথম ধাপে একেবারে ছোট বাচ্চা, যা স্থানীয়ভাবে ‘চাপিলা মাছ’ নামে বাজারে বিক্রি হয়, পরে ধাপে তুলনামূলক বড় ফাঁসের কারেন্ট জালে নির্বিচারে ধরা হয়। শেষের ধাপে বড় ট্রলিং ট্রলার এবং কাঠের রূপান্তরিত ট্রলিং ট্রলারে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ বেহুন্দি জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা হয়। এতে ইলিশ পূর্ণ আকারে বেড়ে ওঠার সুযোগই পাচ্ছে না। চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা ছাড়াও নোয়াখালীর হাতিয়া, ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে জেলেরা ছোট ইলিশ ধরে আনছেন।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের করা এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ইলিশের খাদ্যতালিকায় ২৭ প্রজাতির উদ্ভিদকণা (জুপ্ল্যাংকটন) ও ১২ প্রজাতির প্রাণিকণা (ফাইটোপ্ল্যাংটন) রয়েছে। এসব প্ল্যাংকটনের পরিমাণ মেঘনা নদীতে ৬৮ শতাংশ কমেছে। এর বড় কারণ নদীদূষণ। ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম এক গবেষণা করে দেখিয়েছেন, পদ্মা ও মেঘনার মোহনায় ইলিশের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য প্ল্যাংকটন আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে, যার প্রভাব পড়ছে ইলিশের আকৃতিতেও।

উল্লেখ্য, ইলিশ শুধু জাতীয় অর্থনীতির জন্য নয়, উপকূলীয় জেলে, মৎস্যনির্ভর জনগোষ্ঠী এবং উপকূলের সাধারণ মানুষের জীবিকার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রায় ছয় লাখ মানুষ সরাসরি ইলিশ আহরণে নিয়োজিত, আর পরিবহন, বাজারজাতকরণ, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণসহ নানা কার্যক্রমে আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে।

ইলিশে উচ্চমাত্রায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য অপরিহার্য। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড স্টেট অব ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৪ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিঠা পানির মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। একইসঙ্গে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে এবং ইলিশ আহরণে প্রথম স্থান দখল করে আছে। এছাড়া ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট ইলিশ মাছকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাজমিন হত্যা: সুমনকে নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


তাজমিন হত্যা: সুমনকে নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

কুমিল্লার আলোচিত স্কুলছাত্রী জান্নাতুন তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সুমন মিয়াকে নিয়ে পুলিশ এবং স্থানীয়দের পক্ষ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

পুলিশের মতে, সুমন মিয়া নিয়মিতভাবে গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লালমাইয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন, যেখানে তিনি নিজের বাড়িঘর বিক্রি করে চলে এসেছিলেন। তার মাদকাসক্তির কারণে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন।

পুলিশ জানায়, সুমন মিয়ার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করছিলেন। পেশায় তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদকসেবনের জন্য সুমন শ্বশুরের দামি আসবাব একে একে বিক্রি করে দিয়েছেন। একপর্যায়ে তার স্ত্রী তার বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং পরে তিনি সন্তানসহ আলাদা থাকতে শুরু করেন। এরপর সুমন অটোরিকশা চালিয়ে বিভিন্ন স্থানে মাদকসেবন করতেন।

পুলিশের তদন্ত এবং সুমনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জানা যায়, গত বুধবার মধ্যরাতে কক্সবাজার থেকে ফিরে তাজমিন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় নামেন। সেখান থেকে কুমিল্লা শহরের বাসায় যাওয়ার জন্য তিনি সুমনের অটোরিকশা ৩০০ টাকায় ভাড়া করেন। শর্টকার্ট পথের কথা বলে সুমন তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান।

তাজমিন আতঙ্কিত হয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সুমন তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। ধর্ষণের চেষ্টা করার সময় তাজমিন বাধা দেন। এ সময় ধানখেতে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে সুমন তার গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে ধর্ষণের পর মাটিতে ফেলে পা দিয়ে চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। তার ব্যানিটি ব্যাগ থেকে আইফোন নিলেও পরে একটি জঙ্গলে ফেলে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান তিনি।

বৃহস্পতিবার পুলিশ কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গোয়েন্দা এবং থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে।

সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগমারার একটি জঙ্গল থেকে সেই আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। শনিবার রাতে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন সুমন। পরে বিচারক তাকে জেলা কারাগারে পাঠান।

লালমাই থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘাতক সুমন মিয়া একজন উচ্চমাত্রার নেতাগ্রস্ত। তিনি গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করতেন। তার অপকর্মের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

কুমিল্লার ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ জানান, মামলা তদন্তের স্বার্থে কথিত প্রেমিক রাজু চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর কুমিল্লায় আনা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝালকাঠিতে মাদক মামলায় কারাবন্দি ৩৫ বছর বয়সী নারীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


ঝালকাঠিতে মাদক মামলায় কারাবন্দি ৩৫ বছর বয়সী নারীর মৃত্যু

ঝালকাঠিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাদক মামলায় কারাবন্দি ৩৫ বছর বয়সী কাজল রেখা নামে এক নারীর মৃত্যু ঘটেছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে ঝালকাঠি জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে অসুস্থ হয়ে পড়েন কাজল রেখা। পরবর্তীতে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার মৃত্যু ঘটে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঝালকাঠি জেলা কারাগারের সুপার মোহাম্মদ বিকাশ রায়হান।

মৃত কাজল রেখা নলছিটি উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকার আরিফ হোসেনের স্ত্রী ছিলেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০৫ গ্রাম গাঁজাসহ কাজল রেখা নামে ওই নারীকে নলছিটি থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন থেকে কাজল রেখা ঝালকাঠি জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে স্ত্রীর হত্যার পর ৯৯৯-এ ফোন দিলেন স্বামী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে স্ত্রীর হত্যার পর ৯৯৯-এ ফোন দিলেন স্বামী

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পরকীয়ার সন্দেহ ও পারিবারিক কলহের জেরে সুফিয়া আক্তার নিশি নামের এক গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী আব্দুল মান্নান মনিরের বিরুদ্ধে।

এই ঘটনা ঘটেছে সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরে তিনগাঁও উত্তরপাড়া এলাকায়। হত্যাকাণ্ডের পর, স্বামী নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করে পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

সূত্রে জানা গেছে, পরকীয়া সন্দেহ এবং পারিবারিক কলহের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়া হতো। রাতে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়লে, স্বামী তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং পরে গলাকেটে হত্যা করেন।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, এটি একটি পারিবারিক কলহের ফলস্বরূপ হত্যাকাণ্ড। মরদেহটি উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: নুরুল হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: নুরুল হক

প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাদের জন্য বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ১১টি খাত নির্ধারণ করেছে। আপাতত এই খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রবাসীদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

এ লক্ষ্যে প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন স্থানে এই কার্ডের কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চলছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেসরকারি সংস্থা রামরুর ত্রিশ বছর উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

জোরপূর্বক ও স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি নিয়ে কাজের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)।

অনুষ্ঠানে নুরুল হক বলেন, "প্রবাসীরা আমাদের সোনার মানুষ। তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং তাদের মর্যাদা রক্ষায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিশেষ করে, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "আমি যখন ২০০৮ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তখন বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি গুগল মিট ও জুমের মাধ্যমে কথা বলেছি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখেছি, প্রবাসীদের প্রধানত তিনটি সাধারণ সমস্যা রয়েছে।"

প্রবাসীদের সমস্যা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "প্রথমত, দেশে পাসপোর্ট তৈরি করতেও অনেক সময় দালালের সহায়তা নিতে হয়। পাসপোর্ট সেবায় দালালচক্র ও দুর্নীতি বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। দ্বিতীয়ত, অনেক প্রবাসী বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ পান না। ঋণ করে বিদেশে যাওয়ার পর প্রত্যাশিত কাজ না পেয়ে তাদের অনেক কষ্টে টিকে থাকতে হয়। তৃতীয়ত, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে সেবা পেতে তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এর পাশাপাশি বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনাসহ আরও বিভিন্ন সমস্যার কথাও তারা জানিয়েছেন।"

তিনি আরও বলেন, "প্রবাসীদের এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাদের জন্য বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা ১১টি খাত নির্ধারণ করেছি। আপাতত এসব খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রবাসীদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আমরা প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।"

"জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন জায়গায় এই কার্ডের কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। প্রবাসী কার্ডটি আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে তাদের মৌলিক তথ্য সংরক্ষণ থেকে শুরু করে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস এবং দেশে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা পাওয়ার বিষয়টি সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।"

অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে জমিজমা-সংক্রান্ত সমস্যায় পড়েন। এসব সমস্যার সমাধানে দ্রুত সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, বিশেষ করে সাত দিনের মধ্যে, প্রয়োজনীয় সেবা বা প্রতিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করার জন্য প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে তিন শতাংশ প্রণোদনার ব্যবস্থা রয়েছে।

ইন্টেরিম সরকারের কথা উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, "আগের সরকারের আমলে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকটিকে সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসী কার্ডের সঙ্গে এই ব্যাংকের সংযোগ থাকবে বলেও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।"

বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে প্রবাসীদের তিন লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এই ঋণসুবিধার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রবাসীরা দেশে ফিরে ব্যবসা করতে চাইলে, কোনো উদ্যোগ নিতে চাইলে কিংবা বাড়ি নির্মাণের জন্য ঋণ নিতে চাইলে তাদের সহযোগিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঋণপ্রাপ্তি আরও সহজ ও সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই, প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠান। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অবৈধ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে সরকার কাজ করছে। এসব সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তরুণদের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের উন্নয়নে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন সময়ে উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদানের কথা বলেছেন। অভিবাসন খাতেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা রয়েছে। আমি আশা করি, গত তিন দশকে এই খাতে তাদের অভিজ্ঞতা ও অর্জন আগামী দিনেও বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তরুণেরা যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।"

উল্লেখ্য, গত তিন দশকে আরএমএমআরইউ ১০০টির বেশি গবেষণা পরিচালনা, ১৩টি জাতীয় নীতি ও কৌশল প্রণয়নে অবদান এবং বাংলাদেশের ২১ জেলায় অভিবাসীদের অধিকারভিত্তিক সেবা প্রদান করেছে। এসব কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা, অভিবাসনসংক্রান্ত নতুন জ্ঞান বিনিময় এবং আগামী দিনের নীতিগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন অনুষ্ঠান সঞ্চালক রামরুর উপনির্বাহী পরিচালক মোতাসিম বিল্লাহ এবং পরিচালক (প্রোগ্রাম) মারিনা সুলতানা। এরপর রামরুর অভিবাসন শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া এতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম বিষয়ক উন্নয়ন সংগঠন সমষ্টি, গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%