সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:০৯ পি.এম
সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য স্থানীয় আইন মেনে চলার গুরুত্ব, নিরাপদ প্রবাসজীবন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা এবং আইনি জটিলতা এড়িয়ে চলার লক্ষ্যে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) একটি জনকল্যাণমূলক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য এই বিশেষ সতর্কবার্তা প্রদান করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় আইন, জননিরাপত্তা বা শৃঙ্খলাবিরোধী বিষয়বস্তু ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার, সংরক্ষণ বা আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ধরনের পোস্টে লাইক, মন্তব্য বা শেয়ার না করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।
এছাড়া, কনস্যুলেট সতর্ক করেছে যে, কোনো কাগজপত্র সম্পূর্ণ না বুঝে স্বাক্ষর বা সাদা কাগজে স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ না দিতে হবে। নিজের ইকামা ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তি, কফিল বা প্রতিষ্ঠানের নামে মোবাইল, সিম, যানবাহন বা অন্য কোনো সম্পদ নিবন্ধন না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এক অঞ্চল বা প্রতিষ্ঠানের ইকামা ব্যবহার করে অন্যত্র কাজ করা, রাস্তায় পড়ে থাকা পণ্য বা ক্র্যাপ সংগ্রহ ও বিক্রি, অনুমতি ছাড়া রাস্তার পাশে ব্যবসা এবং অবৈধভাবে পানি বিক্রিসহ দণ্ডনীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।
অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রবাসজীবন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রতিষ্ঠার দুই দশক অতিক্রম করলেও ক্যাম্পাসের প্রধান প্রবেশপথে পুরোনো অবকাঠামোর চিহ্ন এখনো বিদ্যমান। আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়ার চার বছর পরেও বাজেটের অভাবে নতুন প্রধান ফটক নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটককে আধুনিকায়নের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হকের সময়ে এ বিষয়ে পরিকল্পনা করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের মাধ্যমে নকশা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় অনুমোদনসহ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
পরিকল্পনার আওতায়, ক্যাম্পাসের বর্তমান ১ নম্বর গেটটি সরু হওয়ায় সেটিকে দ্বিতীয় প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তুলনামূলক প্রশস্ত হওয়ায় বর্তমান ২ নম্বর গেট বা ওয়াসি গেটের স্থানে নতুন প্রধান ফটক নির্মাণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন ফটকের নকশায় আধুনিক স্থাপত্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যানবাহন চলাচলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথের কাঠামোতে পরিবর্তন আসবে এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন ঘটবে।
তবে নকশা ও পরিকল্পনা প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও অর্থের অভাবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন আটকে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ-সংক্রান্ত ফাইলটি ২০২৩ সাল থেকে অর্থ বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে। পরে প্রকল্পটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বিশেষ একটি প্রকল্পের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইচ উদ্দিন আরটিভিকে বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এরকম থাকাটা মানানসই নয়। আমরা সরকারের অর্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি, তারা এ বছর আমাদের বাজেট দিতে পারবেন। যদি তারা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা নিজেরাই অর্থের ব্যবস্থা করে এ বছরই কাজ শুরু করব।"
প্রধান প্রকৌশলী ড. হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, "আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নকশা ও অন্যান্য সব পরিকল্পনা সম্পন্ন করে অনেক আগেই সেটির অনুমোদন নিয়ে অর্থ দপ্তরে পাঠিয়েছি। তবে বাজেট সংকটে ফাইলটি ২০২৩ সাল থেকে আটকে আছে। এজন্য ফাইলটি আমরা ইউজিসির বিশেষ একটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছি। আশা করছি, চলতি অর্থবছরেই বাজেট পেলে কাজ শুরু করতে পারব।"
উল্লেখ্য, জগন্নাথ কলেজ থেকে ২০০৫ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর দুই দশক অতিক্রম হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অবকাঠামো এখনো পুরোনো অবস্থায় রয়েছে। কলেজ আমলের বেশিরভাগ অবকাঠামো নিয়েই বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর অনেকগুলো এখনো বড় ধরনের সংস্কার বা আধুনিকায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা আসন্ন দুর্গাপূজার ছুটিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ‘জব কর্ণার’ খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন। তারা ছুটির সময় বিসিএস, বিজেএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি অব্যাহত রাখতে চান।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক খন্দকার আব্দুল মজিদের কাছে শিক্ষার্থীরা এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার ছুটিতে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই সময়ে অনেক চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে অবস্থান করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক। সামনে বিসিএস, বিজেএসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষা রয়েছে, তাই তারা ছুটির সময়টিকে প্রস্তুতির কাজে লাগাতে চান। এ কারণে পূজার ছুটির দিনগুলোতে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের জব কর্ণার খোলা রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, পূজার অফিসিয়াল ছুটি পাঁচ দিন থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বাসায় না গিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। সামনে বিজেএস, বিসিএসসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ চাকরির পরীক্ষা রয়েছে। চাকরিপ্রত্যাশীরা এই সময়টাকে কাজে লাগাতে চান। তারা দাবি জানান, জব কর্ণারটি বন্ধের সময়টাতে খোলা রাখা হোক। তারা গ্রন্থাগারিকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক খন্দকার আব্দুল মজিদ বলেন, "পড়ালেখার প্রতি তোমাদের এ আগ্রহ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।" তিনি আরও জানান, "যেহেতু বিষয়টি প্রশাসনিক, বন্ধের মধ্যে অফিস খোলা রাখতে হলে মাননীয় উপাচার্য স্যারের অনুমতির প্রয়োজন।" তিনি উল্লেখ করেন, "তাদের দাবিটি নিয়ে আমি মাননীয় উপাচার্য স্যারের সঙ্গে আলোচনা করব। স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" তিনি বলেন, "মাননীয় উপাচার্য স্যার সব সময়ই শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবির বিষয়ে ইতিবাচক।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে এলপি গ্যাসের অপারেটররা নিশ্চিত করেছেন যে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) কোনো সংকট নেই।
এটি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জানানো হয়। অপারেটরদের পক্ষ থেকে এই নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।
সভাটির আয়োজন করা হয়েছিল দেশের এলপিজি আমদানির পরিমাণ, মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি, বাজার দর এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করার জন্য। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
এ সময় দেশের এলপিজি খাতের সার্বিক চিত্র উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা হয়। এনবিআরের সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট ২০২৬ মাসে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এবং চলতি সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসে (২২ তারিখ পর্যন্ত) ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে।
প্রদর্শিত উপাত্ত অনুযায়ী, দেশে এলপিজির জোগান ও মজুদ পরিস্থিতি ভালো। তাই বর্তমানে এলপি গ্যাসের কোনো ধরনের সংকট নেই বলে সভায় জানান এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা।
এলপিজির পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও গ্রাহক পর্যায়ে যেন সরবরাহ ঘাটতি না হয় এবং অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ যেন মজুদ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করেন, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান জ্বালানিমন্ত্রী। অপারেটররা মন্ত্রীকে তাদের দিক থেকে সব সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গীকার করেন।
এ সময় অপারেটরদের ব্যবসা পরিচালনায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা শোনার পাশাপাশি সেগুলো দ্রুত সমাধান করার জন্য জ্বালানি বিভাগকে নির্দেশনা প্রদান করেন মন্ত্রী।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এলপি গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে সব বাধা অপসারণে মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। একইসঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দেশে জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবার আন্তরিক সহযোগিতাও কামনা করেন মন্ত্রী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) স্বাধীনতা হলে সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে। সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া প্রায় ছয় মাস ধরে সম্পন্ন হয়নি, ফলে অনেক শিক্ষার্থী আবাসন সংকটে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সমস্যার কোনো দৃশ্যমান সমাধান এখনও হয়নি।
হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে সর্বশেষ স্বাধীনতা হলে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে, প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও সিট বরাদ্দের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অনার্স শিক্ষাজীবন শেষ হয়েছে। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে তৎকালীন হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহাজান আলীর দেওয়া তথ্যমতে ৭৮টি সিট ফাঁকা থাকার কথা জানা যায়। সঠিক সময়ে সিট বরাদ্দ না দেওয়ার কারণে প্রায় সবগুলো সিটই অবৈধভাবে দখলে রয়েছে শিক্ষার্থীদের।
এছাড়া, সাবেক হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহাজান আলী চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সিট দেওয়ার লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। তবে, সিট বরাদ্দের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম অনুমতি দেননি বলে হল প্রভোস্ট অভিযোগ করেন। রহস্যজনকভাবে ওই সময়ে জুলাই-৬ হলের সিট বরাদ্দের অনুমতি মিললেও স্বাধীনতা হলের সিট বরাদ্দের বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলামের দ্বিমুখী কার্যকলাপের কারণে ২৫ এপ্রিল অধ্যাপক ড. মো. শাহাজান আলী ব্যক্তিগত কারণে হল প্রভোস্টের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
হল প্রভোস্টের আকস্মিক পদত্যাগের পর সিট বরাদ্দের বাকি কাজ থমকে যায়। এরপর বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সহকারী হল প্রভোস্ট মো. আল ফাহাদ ভূঁইয়াকে হল প্রভোস্ট (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে নিয়োগ দেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও সিট বরাদ্দের বিষয়ে প্রভোস্টের সাথে যোগাযোগ করে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করা হলেও হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে কেউ কেউ বাধ্য হয়ে মেসে থাকছেন, আবার অনেকে অতিরিক্ত খরচে আবাসনের ব্যবস্থা করছেন। বর্তমানে হলের সিটগুলো প্রভোস্টের তত্ত্বাবধানে থাকলেও কবে নাগাদ নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, "হলে সিট পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা করছি। বিষয়টি নিয়ে সংবাদও হয়েছে। কিন্তু এখনো সিট বরাদ্দের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না। এতে আমাদের ভোগান্তি বাড়ছে।"
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সিট না পাওয়ায় বাইরে থাকতে হচ্ছে। এতে বাড়তি অর্থ খরচের পাশাপাশি যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে।"
শিক্ষার্থীদের দাবি, স্বাধীনতা হলের সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে আবাসন সংকটের সমাধান করা হোক। একই সঙ্গে সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে দ্রুত তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট মো. আল ফাহাদ ভূঁইয়া বলেন, "সিট বরাদ্দের বিষয়ে একটি ড্রাফট প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে, গণরুমের ১১ জন ছাত্রের আবাসিকতা নিয়ে স্বাধীনতা হল ও জুলাই-৬ হলের মাঝে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধান করলে আমি যেকোনো সময় সিট বরাদ্দ দিতে পারব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ