রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৬ পি.এম
ভারতের উত্তর প্রদেশে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণের কারণে ভয়াবহ দুর্যোগের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে রাজ্যটিতে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এই প্রাণহানির তথ্য প্রকাশ করেছে। এএফপির খবর অনুযায়ী, ২৪ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাসকারী উত্তর প্রদেশ ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য হিসেবে পরিচিত। বর্ষা মৌসুমে সাধারণত প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেখানে নিয়মিত কালবৈশাখী ও অতিবৃষ্টি হয়ে থাকে।
রাজ্যের ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, উত্তর প্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অতিভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ৫৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে। পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ স্থলভাগে প্রবেশ করায় পুরো অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এক হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অফিস গত কয়েক বছর ধরে তীব্র বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের মতো চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির বৃদ্ধি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত শুক্রবার থেকে রোববারের মধ্যে রাজ্যে গড়ে ৬৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অথচ বছরের এই সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের গড় মাত্র ৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। কলেজ ক্যাম্পাসে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে নবীন শিক্ষার্থীদের আগমনে, যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়।
নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে শাখাভিত্তিক নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এবং তাদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের শখ, ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথাও শোনা হয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এইচ. এম. হাসান জাকির নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি এ. পি. জে. আবদুল কালামের একটি উক্তি তুলে ধরে বলেন, "মানুষ যেটা ঘুমিয়ে দেখে, সেটা স্বপ্ন নয়; মানুষ যেটা জেগে দেখে, সেটাই স্বপ্ন।" শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখতে এবং তা বাস্তবায়নে নিয়মিত পড়াশোনা করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সময় ভাগ করে কীভাবে পড়াশোনা করতে হবে, সে বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শও দেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের একে একে তাদের শখ ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা শোনেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ অ্যাডভোকেট, কেউ পাইলট, কেউ নার্স, কেউ সমাজসেবক, আবার কেউ ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্নের কথা জানায়। এক শিক্ষার্থী জানান, পড়াশোনা শেষ করে তিনি অ্যাডভোকেট হতে চান এবং তার শখ বই পড়া। অন্য এক শিক্ষার্থী জানান, ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তার শখ ভ্রমণ করা।
ইংরেজি বিভাগের লেকচারার মো. ইমদাদুল হক নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস করার এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।
মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুমানা পারভিন নবীন শিক্ষার্থীদের বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শামসুন্নাহার নবীন শিক্ষার্থীদের কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি নিয়মিত ক্লাস, পড়াশোনা ও সিটি পরীক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কলেজের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মূল্যবান ও মানসম্মত পাঠদান করবেন বলে জানান তিনি। নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমে ভালো ফলাফল করার জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।
এরপর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফরিদা ইয়াছমিন নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, "তোমরা এই কলেজে ভর্তি হয়ে আমাদের ধন্য করেছ। এখন ভালো ফলাফল করে তোমরাই নিজেদের ধন্য করবে।" তিনি বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ঐতিহ্য ও সুনামের কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। কলেজের নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলা মেনে চলার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেন।
কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর তছমিনা বেগম চৌধুরী নবীন শিক্ষার্থীদের বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, "তোমরা আজ থেকে এই কলেজের শিক্ষার্থী। উচ্চমাধ্যমিকের সময়টা খুবই সামান্য। চোখের পলকে সময় চলে যাবে।" তাই সময়ের সঠিক ব্যবহার, নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে কলেজের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা ও সুস্থ থাকার পরামর্শ দেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, "বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার স্বপ্ন ছিল। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।" অন্য এক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, "আমার পরিবার হয়তো আমাকে এত দূর পড়তে দিতে চাইত না। কিন্তু এখানে পড়ার ইচ্ছা ছিল, তাই ভর্তি হয়েছি।" নবীন শিক্ষার্থী ফারহানা আখি বলেন, "আজকের দিনটা খুবই ভালো কেটেছে। নতুন অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। তাদের কথাগুলো ভালো লেগেছে। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনাগুলো শুনে একটু ভয়ও লাগছে—এখানে মানিয়ে নিতে পারব তো? অনেক আশা নিয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছি। খুব আনন্দ লাগছে।"
একজন অভিভাবক বলেন, "মেয়ের স্বপ্ন ছিল এই কলেজে পড়া। আলহামদুলিল্লাহ, তাকে এখানে ভর্তি করাতে পেরেছি। আশা করছি, সে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে ভালো ফলাফল করবে এবং ভবিষ্যতে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা।"
নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল। নবীনদের প্রাণচাঞ্চল্যে পুরো কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে এক শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বিষধর কালাচ সাপের ছোবলে আক্রান্ত হয়েছেন যখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে অংশ নেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভ চলাকালীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘প্রশাসন কী করে, আমার ভাইকে সাপে কাটে’, ‘প্রশাসনের প্রহসন, মানি না, মানব না’, ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘প্রশাসনের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘আমার ভাইকে সাপে কাটে, প্রভোস্ট কী করে’ ইত্যাদি স্লোগান শোনা যায়।
জোহা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আশিক এ সময় বলেন, "আমাদের তিনটি যৌক্তিক দাবি ছিল। প্রথমত, আমাদের হলের ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। ড্রেনগুলো যথাযথভাবে পরিষ্কার ও সংস্কার করা প্রয়োজন। আমাদের হলটি সীমানার দিকে হওয়ায় এখানে জঙ্গলের পরিমাণ বেশি। হলে একটি ইলেকট্রিক মেশিন দিয়ে নিয়মিত জঙ্গল পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করা উচিত।"
তিনি আরও যোগ করেন, "যেহেতু আমাদের হলটি অনেক পুরোনো, সে ক্ষেত্রে হলের অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই খারাপ। এ বিবেচনায় আমাদের দাবি ছিল স্নেকনেট লাগানো। এই তিনটি দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মানববন্ধন থেকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ঘেরাও করেছি।"
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, "যে হল প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের এসব সমস্যাকে ইগনোর করেন, সেই প্রভোস্টকে বলতে চাই, শিক্ষার্থীরা সাপে কাটার ভয় নিয়ে হলে অবস্থান করতে পারেন, আর আপনি কেন সেই সাপের ভয় পাওয়া শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে পারেন না?"
তিনি আরও বলেন, "এর আগেও মশারির ওপর এই বিষধর কালাচ সাপ পাওয়া গেছে। এখন সাপ ঢুকে শিক্ষার্থীদের কামড়াচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বারবার বলার পরও হল প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।"
এর আগে আজ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শামসুজ্জোহা হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুরনবী ইসলামের পায়ে কালাচ সাপ কামড় দেয়। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরবর্তীতে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা তাকে আইসিইউতে পাঠান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের ভিত্তিতে বৈষম্য বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে।
এ মানববন্ধন রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে জকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ মানববন্ধনে বলেন, "৫ আগস্টের পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। সরকার বৈষম্য বন্ধ করে জনবান্ধবভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা না করলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আবারও আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।"
পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, "বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাকরিপ্রার্থীরা ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানির অভিযোগ করছেন। রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের কারণে কোনো প্রার্থী যেন চাকরিতে বৈষম্যের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।"
আরিফ আরও বলেন, "আপনারা যদি নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত না নেন, তাহলে ক্যাম্পাসগুলো থেকে যেভাবে হাসিনাবিরোধী আন্দোলন হয়েছিল, আপনাদের বিরুদ্ধেও সেরকম আন্দোলন তৈরি হতে পারে।"
জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম বলেন, "শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। সঠিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে গেলে শিক্ষার্থীরা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।"
তিনি আরও বলেন, "মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।"
উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের কারণে চাকরিপ্রার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতি এবং সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত এই তিন সূচকে বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্টস) উদ্বৃত্ত প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে বেড়েছে প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৬৬১ কোটি ডলার। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩৯ কোটি ডলার।
চলতি অর্থবছরের শুরুতেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। পাশাপাশি আগস্ট মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার। গত বছরের একই মাসে এ আয় ছিল ২৪২ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। জুলাই মাসের ২৮৬ কোটি ডলারের তুলনায় আগস্টে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
এতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৫৮৩ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।
এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়। ওই অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, "প্রবাসী আয়ের অব্যাহত প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের জন্য ইতিবাচক। আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আস্থা বাড়ারও প্রতিফলন এটি।"
তিনি বলেন, "প্রবাসী আয় পাঠানোর আনুষ্ঠানিক মাধ্যমকে আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে। একই সঙ্গে অবৈধ হুন্ডি লেনদেন নিরুৎসাহিত করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট এই ছয় মাসেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি ডলার, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলারের তুলনায় ১৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও বৈদেশিক খাতের সামগ্রিক অবস্থার উন্নতির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টের শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৫ কোটি ডলার। জুলাইয়ের শেষে এ রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। আর ২০২৫ সালের আগস্টের শেষে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১১৭ কোটি ডলার।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ আগস্টের শেষে ছিল ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ডলার। জুলাইয়ের শেষে তা ছিল ৩ হাজার ১৫৮ কোটি ডলার। এক বছর আগে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার।
সে হিসাবে এক বছরে মোট রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৬১৯ কোটি ডলার বা প্রায় ২০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ রিজার্ভ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এদিকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লেনদেনভিত্তিক রেফারেন্স রেট অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ টাকা ১৭ পয়সা। আগস্টের শেষে এ হার ছিল প্রায় ১২৩ টাকা ২১ পয়সা।
বিনিময় হারের এ স্থিতিশীলতা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বাজারে ডলারের বিনিময় হারের ব্যবধান কম থাকলে প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে বেশি উৎসাহিত হন।
বৈদেশিক খাতের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো সার্বিক লেনদেন ভারসাম্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ৬৬১ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৩৩৯ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ও চলতি হিসাবের কিছু ঘাটতি বাড়লেও সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উন্নতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের আর্থিক হিসাবে প্রায় ৭৯০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত ছিল, যা সার্বিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহের কারণে বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।
বৈদেশিক খাতের এ উন্নতির পাশাপাশি আমদানি কার্যক্রমেও গতি ফিরেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
বিশেষ করে মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এসব পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি আগামী মাসগুলোতে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। তবে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে সামান্য।
এ বিষয়ে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, "আমদানি বৃদ্ধির ধরন দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে এর প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনশীল অন্যান্য উপকরণ আমদানি করার কারণে এ প্রবৃদ্ধি হলে তা অর্থনীতির জন্য সহায়ক হবে।"
তিনি বলেন, "বৈদেশিক খাতের শক্তিশালী অবস্থান আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক দায় মেটানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বাড়তি সক্ষমতা দিচ্ছে।"
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত, মুদ্রানীতির বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে।
বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গত আগস্টে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ ও আন্তব্যাংক লেনদেন পরিচালনার জন্য ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট (এফএক্সএম) মডিউলের সরাসরি কার্যক্রম চালু করা হয়।
এরপর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট ও বিশেষায়িত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুবিধাসহ আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, "প্রবাসী আয় ও রিজার্ভের উন্নতি বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়াতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয়ের জন্য ব্যাংকগুলোর ডলার সংগ্রহের চাপও কমছে।"
তিনি বলেন, "এ প্রবণতা ধরে রাখতে প্রতিযোগিতামূলক ও তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিময় হার বজায় রাখা, আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে প্রবাসী আয় পাঠানোর সেবা উন্নত করা এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ