বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৫০ পি.এম
ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এই বিষয়ে বলেছেন যে, কাঠামোগত সংস্কার এবং সরকারের বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম একটিমাত্র বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার হলো এমন একটি বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। বাজেট ও সরকারের বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপে এই রূপকল্প প্রতিফলিত হয়েছে।’
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত ‘লেবার মার্কেট টাইটনেস অ্যান্ড অ্যাগ্রিগেট শকস: এভিডেন্স ফ্রম বাংলাদেশ’স লার্জেস্ট অনলাইন জব পোর্টাল’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন।
বিআইডিএসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ও জেনারেল ইকোনমিকস ডিভিশনের অধ্যাপক ড. অতনু রাব্বানী।
প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেন, সরকারের সব উন্নয়ন কর্মসূচি নির্বাচনী ইশতেহার এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন ও সংস্কার কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে যে, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই আগামী ১৭ আগস্ট-এ কৌশলপত্র প্রকাশ করতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, চলমান ও নতুন প্রকল্পগুলো যাতে নির্বাচনী ইশতেহার ও আসন্ন কৌশলপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেই লক্ষ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অতীতে প্রকল্পগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে সরকারের অর্থের অপচয় হয়েছে উল্লেখ করে সাকি বলেন, সরকার এখন বিচ্ছিন্ন প্রকল্পভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে কর্মসূচিভিত্তিক (প্রোগ্রামভিত্তিক) পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যাতে পরস্পর-সম্পর্কিত প্রকল্পগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, ‘সঞ্চালন লাইন, বিতরণ ব্যবস্থা কিংবা দক্ষ জনবল ছাড়া শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কোনো অর্থ নেই।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি সরকারের প্রধান উদ্যোগ হচ্ছে কাঠামোগত অদক্ষতা দূর করা।
তিনি জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অভিন্ন ও বিশেষায়িত রেট শিডিউল প্রণয়নে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকল্পের ব্যয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থা অনুমোদিত ব্যয়সীমার সঙ্গে প্রকল্প ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করবে এবং সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।
প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেন, সরকার একটি সমন্বিত ও একক জাতীয় ডেটা সিস্টেম গড়ে তুলতে বেশ কয়েকটি ডিজিটাল উদ্যোগকে একত্রিত করছে।
তিনি বলেন, জরিপ নির্ভর কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হলো- একটি সমন্বিত ও স্বয়ংক্রিয় তথ্য ব্যবস্থা তৈরি করা এবং অধিকাংশ সরকারি তথ্য গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজলভ্য করা, যাতে বাস্তবভিত্তিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নীতি নির্ধারণ করা যায়।’
সরকারি পরিসংখ্যানের নির্ভুলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেন, সরকার কোনোভাবেই সরকারি তথ্য-উপাত্ত বিকৃত করতে চায় না।
তিনি জানান, ‘এই সরকারের নীতি কৃত্রিম কোনো বাস্তবতা তৈরি করা নয়। আমরা বাস্তবে কোথায় দাঁড়িয়ে আছি তা জানতে চাই, যাতে আমরা অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে পারি এবং প্রয়োজনে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে পারি।’
বিনিয়োগের অগ্রাধিকার খাত সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), ইলেকট্রনিক্স, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার।
তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে জ্বালানি সংকট নিরসন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
বেসরকারি খাতের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
আর্থিক খাতে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, সম্ভাবনাময় শিল্পকে সহায়তা, মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেছেন, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে এবং অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক অনুমোদন ব্যবস্থা ও সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসন খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। একই সাথে ধাপে ধাপে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে কেউ বাদ না পড়ে এবং অনিয়মের সুযোগ কমে।
সাকি বলেন, সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাস্তবায়ন। এ লক্ষ্যে আগামী ১৭ আগস্টের আগেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বাস্তব সময়ে পর্যবেক্ষণের জন্য ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু করা হতে পারে।
গবেষকদের কাছ থেকে আরও বেশি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিআইডিএস তার গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে তথ্যভিত্তিক নীতি নির্ধারণ এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাইযোদ্ধারা ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, সিস্টেমের পরিবর্তন চেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনাই ছিল রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্যহীন, ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ। এই চেতনায় জামায়াতে ইসলামী পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে জুলাইয়ের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আপসহীন ভূমিকা রেখে আসছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের কাউন্সিল হলরুমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই চেতনা থেকে সরে আসতে আপসের যত প্রস্তাব এসেছে, জামায়াতে ইসলামী তা ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা বলেছি, আমরা গণভোটের পক্ষের কথা আজও স্বীকার করছি, আগামীতেও করবো। আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি থেকে একচুলও পিছিয়ে যাবো না।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শহীদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। যে দেশে জালিম শাসক, ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে শিশুরা পর্যন্ত জীবন উৎসর্গ করে দেয়, সেই দেশে শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না। শহীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী আপসহীন ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি বলেন, আমি যখন শহীদ পরিবারের পক্ষে সংসদে গণহত্যার বিচারের দাবি তুলেছি এবং ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে স্মারকলিপি দিয়েছি, তখন তারা আমার বক্তব্য শুনেছেন এবং এক বছরের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি ট্রাইব্যুনালে লোকবল এবং বেঞ্চের অভাবে বিচার ধীরগতিতে চলছে উল্লেখ করে বলেন, গণহত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ট্রাইব্যুনালে বেঞ্চ ও জনবল বৃদ্ধি করতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন এবং মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের যৌথ পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রচিন্তক মিসেস দিলারা চৌধুরী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, সাবেক সচিব মাহবুবুল হক, সাবেক রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, বাংলাদেশ জুলাইযোদ্ধা সংসদের সভাপতি আহত জুলাইযোদ্ধা নেছার উদ্দিন নাঈম, দুই চোখ হারানো জুলাইযোদ্ধা মো. রাকিব, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের নানা সাইদুর রহমান খান, শহীদ পারভেজ মিয়ার মা কানিজ ফাতেমা, শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম, শহীদ সৈয়দ মুনতাসির রহমান আলিফের বাবা সৈয়দ গাজী উর রহমান, শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান, শহীদ মেহেরুন্নেসার বাবা মো. মোশাররফ হোসেন, শহীদ আব্দুল হান্নানের ছেলে ডা. সাইফ আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ড. ফয়জুল হক, জুলাইযোদ্ধা আল নুর মোহাম্মদ আয়াশ ও মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটো) বাতিল হওয়ার ঘটনায় সরকার কর্মীদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়াও ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বিদেশে যাওয়া রোধে ২০১৩ সালের অভিবাসন আইন সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রবাসীদের সহায়তায় বিশেষ হটলাইন চালুর ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক জরুরি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
বুধবার সংবাদমাধ্যমে কয়েক হাজার ভিসা বাতিলের খবর এলেও প্রকৃত সংখ্যাটি ভিন্ন উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ইউএই দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৬২৬ জন বাংলাদেশির ভিসা অটো-ক্যানসেল হয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের একক সমস্যা নয়–পাকিস্তান, মিশর, ফিলিপাইন ও নেপালের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি ভিসা বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘যেসব দেশে বাংলাদেশিরা কাজ করছেন, সেখানকার আইন মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। প্রবাসীরা যখন ইউএই-তে কোনো আইন ভঙ্গ করেন–ফেসবুকে লেখালিখি করে হোক বা অন্য কোনোভাবে–তখন স্থানীয় আইন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়। পরবর্তীতে সেটি সংশোধন করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সবার প্রতি বার্তা, দয়া করে আপনারা আইনবহির্ভূত কোনো কাজ থেকে বিরত থাকবেন।’
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ভিসা ক্যানসেল হওয়া ৬২৬ জনের মধ্যে এরইমধ্যে ৪১৭ জনের তালিকা ভিসা রিনিউয়ালের জন্য পাঠানো হয়েছে। বাকিদের তথ্য পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে কর্মীরা যেসব কোম্পানিতে কাজ করতেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে আবুধাবি ও দুবাইয়ের বাংলাদেশ দূতাবাস। কোম্পানির কারণে কোনো কর্মী চাকরিচ্যুত হয়ে থাকলে এবং তার ফলে ভিসা বাতিল হলে, সে ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার দায়দায়িত্ব নির্ধারণে দূতাবাস কাজ করছে। আগামী সপ্তাহে ইউএই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা রয়েছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক ফলাফলের আশা করা হচ্ছে।
ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে ফেক ডকুমেন্ট নিয়ে বিদেশে যান। এতে তারা নিজেরাও বিপদে পড়েন, আবার যারা বৈধভাবে যেতে চান তারাও সমস্যায় পড়েন। ফলে দুই ভাবেই শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি বন্ধে আমরা পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় নিবিড়ভাবে কাজ করছি। প্রয়োজনে ২০১৩ সালের অভিবাসন আইন সংশোধনে আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে এগোব। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সচেষ্ট আছেন, তিনি ইউএইতে নিযুক্ত আমাদের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত চিত্র জেনেছেন এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অবৈধ অভিবাসন রোধে সরকার প্রথমবারের মতো একটি ‘অভিবাসন উইং’ খুলেছে এবং জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসন ব্যয় কমানো ও দালাল চক্র রোধে কাজ চলছে। ইউএই-তে আটকে পড়া এবং দেশে ফিরে ভিসা জটিলতায় পড়া প্রবাসীদের সহায়তার জন্য শিগগিরই হটলাইন চালু করবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এছাড়া মিয়ানমারে আটক ২৭ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, পুরো বিষয়টি সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রপ্তানি বৃদ্ধি, পরিবেশগত মানদণ্ড প্রতিপালন জোরদার করা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ২ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন স্কিম চালু করেছে। এই স্কিমের মাধ্যমে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে গঠিত এই স্কিমের আওতায় চামড়া শিল্পকে টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে পরিণত করতে সহায়তা দেওয়া হবে।
এই স্কিমের মাধ্যমে কারখানা নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো যেমন- ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি), স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি), ডাম্পিং ইয়ার্ড এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা স্থাপনে অর্থায়ন করা হবে।
এছাড়া, লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জনের ব্যয়, বিদ্যমান ট্যানারি আধুনিকীকরণ এবং চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক, আনুষঙ্গিক উপকরণ ও অন্যান্য সহায়ক পণ্যের দেশীয় উৎপাদনে সহায়তা দেওয়া হবে।
স্কিমের আওতায় ঋণগ্রহীতারা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন (রিফাইন্যান্স) সুবিধা প্রদান করবে।
রিভলভিং ভিত্তিতে তিন বছর মেয়াদে এই তহবিল পরিচালিত হবে। নতুন কারখানা নির্মাণে সর্বোচ্চ সাত বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে, যার মধ্যে দুই বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। বিদ্যমান কারখানা আধুনিকীকরণের জন্য সর্বোচ্চ চার বছর মেয়াদে ঋণ থাকবে, যার মধ্যে ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। কার্যকর মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর, যা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত নবায়ন করা যাবে।
বাংলাদেশের সব তফসিলি ব্যাংক চুক্তি সাপেক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের সঙ্গে এই স্কিমে অংশ নিতে পারবে।
স্কিমের আওতায় নতুন চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা, নতুন চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন অবকাঠামোর জন্য ২০ কোটি টাকা, বর্তমান স্থাপনা আধুনিকীকরণের জন্য ১০ কোটি টাকা এবং সহায়ক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যকর মূলধনের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে।
টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে স্কিমের আওতায় বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন পাওয়ার দুই বছরের মধ্যে এলডব্লিউজির সনদ অর্জন করতে হবে। একই সময়ের মধ্যে উপকারভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে নিশ্চিত করতে হবে।
শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি দূরীকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত ঋণগ্রহীতারা এই স্কিমের আওতায় অর্থায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
এছাড়া, একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) এবং গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) থেকে ইতোমধ্যে সহায়তা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও এই স্কিমের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আজ ৩০/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখে নরসিংদী জেলার সি অ্যান্ড বি মোড় সংলগ্ন যমুনা প্রাইভেট হাসপাতাল-এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালটিতে বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অনিয়ম ও অসংগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল —
মেডিকেল অফিসারদের কোনো ডিউটি রোস্টার পাওয়া যায়নি। পরিদর্শনের সময় সেখানে কোনও ল্যাব টেকনোলজিস্ট উপস্থিত ছিলেন না। তাদের ছুটির কোনো বৈধ কাগজপত্র বা পেশাগত সনদপত্র প্রদর্শন করা হয়নি, অথচ এ সময়েও ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান ছিল।
আল্ট্রাসাউন্ড কক্ষের সামনে গর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশ নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিজ্ঞ হাইকোর্টের নির্দেশনা প্রদর্শিত ছিল না। অপারেশন থিয়েটারে অটোক্লাভ করা অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়।
এক্স-রে কক্ষে প্রয়োজনীয় বিকিরণ প্রতিরোধী লিড সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না এবং বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই এক্স-রে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
এনভিডি কক্ষের আকার অত্যন্ত ছোট এবং রোগীসেবার জন্য অনুপযুক্ত, ল্যাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। ল্যাবের রেফ্রিজারেটরে রি-এজেন্টের সঙ্গে অন্যান্য ওষুধ সংরক্ষণ করা হচ্ছিল, যা বিধিবহির্ভূত ছিল।
ল্যাবের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে লবণ, হলুদ, মরিচের গুঁড়া, তেলের কৌটাসহ গৃহস্থালি সামগ্রী পাওয়া যায়, যা স্বাস্থ্যবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
উপরোক্ত অনিয়মসমূহের প্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও আদায় করা হয়। একই সঙ্গে অনুমোদনবিহীন এক্স-রে কক্ষটি সিলগালা করে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।
এছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সতর্ক করা হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন সিভিল সার্জনের কার্যালয়, নরসিংদী-এর প্রতিনিধি ডা. মুন্নী সাহা।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনায়: সাদিয়া চৌধুরী, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নরসিংদী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ