প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এই বিষয়ে বলেছেন যে, কাঠামোগত সংস্কার এবং সরকারের বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম একটিমাত্র বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার হলো এমন একটি বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। বাজেট ও সরকারের বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপে এই রূপকল্প প্রতিফলিত হয়েছে।’
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত ‘লেবার মার্কেট টাইটনেস অ্যান্ড অ্যাগ্রিগেট শকস: এভিডেন্স ফ্রম বাংলাদেশ’স লার্জেস্ট অনলাইন জব পোর্টাল’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন।
বিআইডিএসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ও জেনারেল ইকোনমিকস ডিভিশনের অধ্যাপক ড. অতনু রাব্বানী।
প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেন, সরকারের সব উন্নয়ন কর্মসূচি নির্বাচনী ইশতেহার এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন ও সংস্কার কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে যে, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই আগামী ১৭ আগস্ট-এ কৌশলপত্র প্রকাশ করতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, চলমান ও নতুন প্রকল্পগুলো যাতে নির্বাচনী ইশতেহার ও আসন্ন কৌশলপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেই লক্ষ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অতীতে প্রকল্পগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে সরকারের অর্থের অপচয় হয়েছে উল্লেখ করে সাকি বলেন, সরকার এখন বিচ্ছিন্ন প্রকল্পভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে কর্মসূচিভিত্তিক (প্রোগ্রামভিত্তিক) পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যাতে পরস্পর-সম্পর্কিত প্রকল্পগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, ‘সঞ্চালন লাইন, বিতরণ ব্যবস্থা কিংবা দক্ষ জনবল ছাড়া শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কোনো অর্থ নেই।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি সরকারের প্রধান উদ্যোগ হচ্ছে কাঠামোগত অদক্ষতা দূর করা।
তিনি জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অভিন্ন ও বিশেষায়িত রেট শিডিউল প্রণয়নে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকল্পের ব্যয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থা অনুমোদিত ব্যয়সীমার সঙ্গে প্রকল্প ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করবে এবং সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।
প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেন, সরকার একটি সমন্বিত ও একক জাতীয় ডেটা সিস্টেম গড়ে তুলতে বেশ কয়েকটি ডিজিটাল উদ্যোগকে একত্রিত করছে।
তিনি বলেন, জরিপ নির্ভর কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হলো- একটি সমন্বিত ও স্বয়ংক্রিয় তথ্য ব্যবস্থা তৈরি করা এবং অধিকাংশ সরকারি তথ্য গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজলভ্য করা, যাতে বাস্তবভিত্তিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নীতি নির্ধারণ করা যায়।’
সরকারি পরিসংখ্যানের নির্ভুলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেন, সরকার কোনোভাবেই সরকারি তথ্য-উপাত্ত বিকৃত করতে চায় না।
তিনি জানান, ‘এই সরকারের নীতি কৃত্রিম কোনো বাস্তবতা তৈরি করা নয়। আমরা বাস্তবে কোথায় দাঁড়িয়ে আছি তা জানতে চাই, যাতে আমরা অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে পারি এবং প্রয়োজনে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে পারি।’
বিনিয়োগের অগ্রাধিকার খাত সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), ইলেকট্রনিক্স, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার।
তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে জ্বালানি সংকট নিরসন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
বেসরকারি খাতের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
আর্থিক খাতে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, সম্ভাবনাময় শিল্পকে সহায়তা, মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেছেন, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে এবং অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক অনুমোদন ব্যবস্থা ও সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসন খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। একই সাথে ধাপে ধাপে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে কেউ বাদ না পড়ে এবং অনিয়মের সুযোগ কমে।
সাকি বলেন, সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাস্তবায়ন। এ লক্ষ্যে আগামী ১৭ আগস্টের আগেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বাস্তব সময়ে পর্যবেক্ষণের জন্য ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু করা হতে পারে।
গবেষকদের কাছ থেকে আরও বেশি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিআইডিএস তার গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে তথ্যভিত্তিক নীতি নির্ধারণ এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন