প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটো) বাতিল হওয়ার ঘটনায় সরকার কর্মীদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়াও ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বিদেশে যাওয়া রোধে ২০১৩ সালের অভিবাসন আইন সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রবাসীদের সহায়তায় বিশেষ হটলাইন চালুর ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক জরুরি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
বুধবার সংবাদমাধ্যমে কয়েক হাজার ভিসা বাতিলের খবর এলেও প্রকৃত সংখ্যাটি ভিন্ন উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ইউএই দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৬২৬ জন বাংলাদেশির ভিসা অটো-ক্যানসেল হয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের একক সমস্যা নয়–পাকিস্তান, মিশর, ফিলিপাইন ও নেপালের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি ভিসা বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘যেসব দেশে বাংলাদেশিরা কাজ করছেন, সেখানকার আইন মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। প্রবাসীরা যখন ইউএই-তে কোনো আইন ভঙ্গ করেন–ফেসবুকে লেখালিখি করে হোক বা অন্য কোনোভাবে–তখন স্থানীয় আইন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়। পরবর্তীতে সেটি সংশোধন করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সবার প্রতি বার্তা, দয়া করে আপনারা আইনবহির্ভূত কোনো কাজ থেকে বিরত থাকবেন।’
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ভিসা ক্যানসেল হওয়া ৬২৬ জনের মধ্যে এরইমধ্যে ৪১৭ জনের তালিকা ভিসা রিনিউয়ালের জন্য পাঠানো হয়েছে। বাকিদের তথ্য পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে কর্মীরা যেসব কোম্পানিতে কাজ করতেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে আবুধাবি ও দুবাইয়ের বাংলাদেশ দূতাবাস। কোম্পানির কারণে কোনো কর্মী চাকরিচ্যুত হয়ে থাকলে এবং তার ফলে ভিসা বাতিল হলে, সে ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার দায়দায়িত্ব নির্ধারণে দূতাবাস কাজ করছে। আগামী সপ্তাহে ইউএই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা রয়েছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক ফলাফলের আশা করা হচ্ছে।
ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে ফেক ডকুমেন্ট নিয়ে বিদেশে যান। এতে তারা নিজেরাও বিপদে পড়েন, আবার যারা বৈধভাবে যেতে চান তারাও সমস্যায় পড়েন। ফলে দুই ভাবেই শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি বন্ধে আমরা পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় নিবিড়ভাবে কাজ করছি। প্রয়োজনে ২০১৩ সালের অভিবাসন আইন সংশোধনে আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে এগোব। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সচেষ্ট আছেন, তিনি ইউএইতে নিযুক্ত আমাদের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত চিত্র জেনেছেন এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অবৈধ অভিবাসন রোধে সরকার প্রথমবারের মতো একটি ‘অভিবাসন উইং’ খুলেছে এবং জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসন ব্যয় কমানো ও দালাল চক্র রোধে কাজ চলছে। ইউএই-তে আটকে পড়া এবং দেশে ফিরে ভিসা জটিলতায় পড়া প্রবাসীদের সহায়তার জন্য শিগগিরই হটলাইন চালু করবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এছাড়া মিয়ানমারে আটক ২৭ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, পুরো বিষয়টি সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন