ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আরব আমিরাতে প্রবাসীদের ভিসা বাতিল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যা বললেন


আরব আমিরাতে প্রবাসীদের ভিসা বাতিল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যা বললেন

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটো) বাতিল হওয়ার ঘটনায় সরকার কর্মীদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়াও ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বিদেশে যাওয়া রোধে ২০১৩ সালের অভিবাসন আইন সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রবাসীদের সহায়তায় বিশেষ হটলাইন চালুর ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক জরুরি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

বুধবার সংবাদমাধ্যমে কয়েক হাজার ভিসা বাতিলের খবর এলেও প্রকৃত সংখ্যাটি ভিন্ন উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ইউএই দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৬২৬ জন বাংলাদেশির ভিসা অটো-ক্যানসেল হয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের একক সমস্যা নয়–পাকিস্তান, মিশর, ফিলিপাইন ও নেপালের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।’

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

তিনি ভিসা বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘যেসব দেশে বাংলাদেশিরা কাজ করছেন, সেখানকার আইন মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। প্রবাসীরা যখন ইউএই-তে কোনো আইন ভঙ্গ করেন–ফেসবুকে লেখালিখি করে হোক বা অন্য কোনোভাবে–তখন স্থানীয় আইন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়। পরবর্তীতে সেটি সংশোধন করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সবার প্রতি বার্তা, দয়া করে আপনারা আইনবহির্ভূত কোনো কাজ থেকে বিরত থাকবেন।’

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ভিসা ক্যানসেল হওয়া ৬২৬ জনের মধ্যে এরইমধ্যে ৪১৭ জনের তালিকা ভিসা রিনিউয়ালের জন্য পাঠানো হয়েছে। বাকিদের তথ্য পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে কর্মীরা যেসব কোম্পানিতে কাজ করতেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে আবুধাবি ও দুবাইয়ের বাংলাদেশ দূতাবাস। কোম্পানির কারণে কোনো কর্মী চাকরিচ্যুত হয়ে থাকলে এবং তার ফলে ভিসা বাতিল হলে, সে ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার দায়দায়িত্ব নির্ধারণে দূতাবাস কাজ করছে। আগামী সপ্তাহে ইউএই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা রয়েছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক ফলাফলের আশা করা হচ্ছে।

ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে ফেক ডকুমেন্ট নিয়ে বিদেশে যান। এতে তারা নিজেরাও বিপদে পড়েন, আবার যারা বৈধভাবে যেতে চান তারাও সমস্যায় পড়েন। ফলে দুই ভাবেই শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি বন্ধে আমরা পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় নিবিড়ভাবে কাজ করছি। প্রয়োজনে ২০১৩ সালের অভিবাসন আইন সংশোধনে আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে এগোব। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সচেষ্ট আছেন, তিনি ইউএইতে নিযুক্ত আমাদের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত চিত্র জেনেছেন এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অবৈধ অভিবাসন রোধে সরকার প্রথমবারের মতো একটি ‘অভিবাসন উইং’ খুলেছে এবং জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসন ব্যয় কমানো ও দালাল চক্র রোধে কাজ চলছে। ইউএই-তে আটকে পড়া এবং দেশে ফিরে ভিসা জটিলতায় পড়া প্রবাসীদের সহায়তার জন্য শিগগিরই হটলাইন চালু করবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এছাড়া মিয়ানমারে আটক ২৭ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, পুরো বিষয়টি সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চামড়া শিল্পে ২ হাজার কোটি টাকার একটি স্কিম চালু, ঋণ পাবেন যারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ পি.এম


চামড়া শিল্পে ২ হাজার কোটি টাকার একটি স্কিম চালু, ঋণ পাবেন যারা

রপ্তানি বৃদ্ধি, পরিবেশগত মানদণ্ড প্রতিপালন জোরদার করা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ২ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন স্কিম চালু করেছে। এই স্কিমের মাধ্যমে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে গঠিত এই স্কিমের আওতায় চামড়া শিল্পকে টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে পরিণত করতে সহায়তা দেওয়া হবে।

এই স্কিমের মাধ্যমে কারখানা নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো যেমন- ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি), স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি), ডাম্পিং ইয়ার্ড এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা স্থাপনে অর্থায়ন করা হবে।

এছাড়া, লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জনের ব্যয়, বিদ্যমান ট্যানারি আধুনিকীকরণ এবং চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক, আনুষঙ্গিক উপকরণ ও অন্যান্য সহায়ক পণ্যের দেশীয় উৎপাদনে সহায়তা দেওয়া হবে।

স্কিমের আওতায় ঋণগ্রহীতারা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন (রিফাইন্যান্স) সুবিধা প্রদান করবে।

রিভলভিং ভিত্তিতে তিন বছর মেয়াদে এই তহবিল পরিচালিত হবে। নতুন কারখানা নির্মাণে সর্বোচ্চ সাত বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে, যার মধ্যে দুই বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। বিদ্যমান কারখানা আধুনিকীকরণের জন্য সর্বোচ্চ চার বছর মেয়াদে ঋণ থাকবে, যার মধ্যে ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। কার্যকর মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর, যা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত নবায়ন করা যাবে।

বাংলাদেশের সব তফসিলি ব্যাংক চুক্তি সাপেক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের সঙ্গে এই স্কিমে অংশ নিতে পারবে।

স্কিমের আওতায় নতুন চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা, নতুন চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন অবকাঠামোর জন্য ২০ কোটি টাকা, বর্তমান স্থাপনা আধুনিকীকরণের জন্য ১০ কোটি টাকা এবং সহায়ক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যকর মূলধনের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে।

টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে স্কিমের আওতায় বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন পাওয়ার দুই বছরের মধ্যে এলডব্লিউজির সনদ অর্জন করতে হবে। একই সময়ের মধ্যে উপকারভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে নিশ্চিত করতে হবে।

শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি দূরীকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত ঋণগ্রহীতারা এই স্কিমের আওতায় অর্থায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

এছাড়া, একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) এবং গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) থেকে ইতোমধ্যে সহায়তা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও এই স্কিমের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নরসিংদীতে যমুনা হাসপাতালের গুরুতর অনিয়মে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ জাহিদ মিয়া নরসিংদী প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৫ পি.এম


নরসিংদীতে যমুনা হাসপাতালের গুরুতর অনিয়মে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা

আজ ৩০/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখে নরসিংদী জেলার সি অ্যান্ড বি মোড় সংলগ্ন যমুনা প্রাইভেট হাসপাতাল-এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে হাসপাতালটিতে বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অনিয়ম ও অসংগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল —

মেডিকেল অফিসারদের কোনো ডিউটি রোস্টার পাওয়া যায়নি। পরিদর্শনের সময় সেখানে কোনও ল্যাব টেকনোলজিস্ট উপস্থিত ছিলেন না। তাদের ছুটির কোনো বৈধ কাগজপত্র বা পেশাগত সনদপত্র প্রদর্শন করা হয়নি, অথচ এ সময়েও ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান ছিল।

আল্ট্রাসাউন্ড কক্ষের সামনে গর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশ নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিজ্ঞ হাইকোর্টের নির্দেশনা প্রদর্শিত ছিল না। অপারেশন থিয়েটারে অটোক্লাভ করা অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়।

এক্স-রে কক্ষে প্রয়োজনীয় বিকিরণ প্রতিরোধী লিড সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না এবং বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই এক্স-রে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।

এনভিডি কক্ষের আকার অত্যন্ত ছোট এবং রোগীসেবার জন্য অনুপযুক্ত, ল্যাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। ল্যাবের রেফ্রিজারেটরে রি-এজেন্টের সঙ্গে অন্যান্য ওষুধ সংরক্ষণ করা হচ্ছিল, যা বিধিবহির্ভূত ছিল।

ল্যাবের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে লবণ, হলুদ, মরিচের গুঁড়া, তেলের কৌটাসহ গৃহস্থালি সামগ্রী পাওয়া যায়, যা স্বাস্থ্যবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

উপরোক্ত অনিয়মসমূহের প্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও আদায় করা হয়। একই সঙ্গে অনুমোদনবিহীন এক্স-রে কক্ষটি সিলগালা করে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।

এছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সতর্ক করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন সিভিল সার্জনের কার্যালয়, নরসিংদী-এর প্রতিনিধি ডা. মুন্নী সাহা।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনায়: সাদিয়া চৌধুরী, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নরসিংদী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যনগরে তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে বার্ষিক উপজেলা জোর অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ আব্দুল মোছাব্বির মধ্যনগর সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৭ পি.এম


মধ্যনগরে তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে বার্ষিক উপজেলা জোর অনুষ্ঠিত

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে বার্ষিক একদিনের জোর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই জোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী পালিত হয়েছে, যেখানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেছিলেন। জোরের সময়ে দ্বীনের দাওয়াত, নামাজের গুরুত্ব, আমল-আখলাকের উন্নয়ন এবং ইসলামী জীবনব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য দ্বীনি জীবন গঠন, উত্তম চরিত্র, ইবাদতের প্রতি যত্ন এবং মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ সম্পর্কে নসিহত দেওয়া হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের সঙ্গে দ্বীনি কথাবার্তা ও ইসলামের মৌলিক শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মধ্যনগর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে একটি জামাত ৪০ দিনের (চিল্লা) দাওয়াতি সফরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। একই সঙ্গে, কয়েকটি ৩ দিনের জামাতও উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে বের হয়। এসব জামাত এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত, নামাজের গুরুত্ব এবং ইসলামের মৌলিক শিক্ষা প্রচারে কাজ করবেন।

আয়োজকরা জানান, তাবলিগ জামাতের এ দাওয়াতি কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের মাঝে দ্বীনি চেতনা জাগ্রত করা, নামাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা এবং ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও আদর্শ প্রচার করা। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাকসু জিএস আম্মারসহ ৯ জনকে আসামি করে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৮ পি.এম


রাকসু জিএস আম্মারসহ ৯ জনকে আসামি করে মামলা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত ২৭ জুলাই সংঘটিত সহিংসতায় মারধরের শিকার হওয়া শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানের বাবা রাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বিরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজশাহীর একটি আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

দায়ের করা মামলায় সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ১৭-১৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

অন্য আসামিরা হলেন— রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব, রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজিব, সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা, আরিফুর ইসলাম, আহসান উল্লাহ ফাইহান, সিফাত এবং সালেহ ও নুরুল ইসলাম শহীদ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে অভিযুক্তরা ছুরি, লোহার রড, বেল্ট এবং বাঁশের লাঠি নিয়ে মাহমুদুলকে ধাওয়া করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভেতরে ও বাইরে ঘিরে ফেলে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহমুদুলের মাথা ও কপালে আঘাত করেন। সালমান সাব্বিরও তার মাথায় আঘাত করেন, যার ফলে মাহমুদুলের বাম চোখে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া অন্য আসামিরাও তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অতঃপর অভিযোগ করা হয়, চারজন আসামি মাহমুদুলকে মাটিতে ফেলে বুক ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন।

মামলায় বলা হয়েছে, পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যরা মাহমুদুলকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা उसे জোরপূর্বক অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে আবারও মারধর করে। পরবর্তীতে মাহমুদুলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মাহমুদুলের বাবা জানান, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে ঘটনার খবর জানতে পারেন। পরে হাসপাতালে গিয়েও তিনি ছেলেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ২৮ জুলাই মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার চাইতে পরামর্শ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হযরত আলী বলেন, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ দেননি। বরং তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে পাঠিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, মাহমুদুলের বাবা আবেগপ্রবণ হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী তার নিজ বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় হুমকির অভিযোগ আনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীসহ কয়েকজনের সঙ্গে ওইদিন রাতে একটি সভায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের আনাস, একই বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিব, সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন সেখানে যান। পরে তারা অভিযোগটি অস্বীকার করে প্রক্টরের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন।

এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে একটি সভা ডাকেন প্রক্টর। সভায় রাকসু নেতারা আনাসের মোবাইল ফোন চেক করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিবসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আনাসের ছবি খুঁজে পান। এরপর তাকে প্রক্টর দপ্তরে আম্মার এবং সালমান সাব্বির মারধর করেন। পরে দুপুরেই প্রক্টর বিষয়টির সাময়িক সমাধান করে দেন এবং আনাসসহ বাকিরা প্রক্টর দপ্তর থেকে চলে আসেন।

এ ঘটনার জেরে বিকাল ৩টার দিকে আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে ঢুকে আম্মারসহ কয়েক জনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে রাকসুর তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক নাজমুস সাকিব আহত হন।

হামলা চালানোর পর আনাসসহ সঙ্গীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে আশ্রয় নেন। পরে শিবির ও রাকসু নেতারা পাঠকক্ষের ফটক থেকে প্রক্টরকে ধাক্কা দিয়ে পাঠকক্ষে প্রবেশ করেন। ভেতরে ঢুকেই তারা ওই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%