ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশ বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী


বাংলাদেশ বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য সরকার বিকল্প এবং বহুমুখী জ্বালানি উৎস খুঁজছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে, যা আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং নিয়ে ছিল, তিনি এ তথ্য জানান।

শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, একটি নির্দিষ্ট উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার ফলে যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকটের সময় অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এই কারণে জ্বালানি খাতে বহুমুখীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

তিনি জানান, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি উৎস নিয়ে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এলএনজির নতুন উৎস এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভবনকে শতভাগ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। ধাপে ধাপে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও স্থাপনায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ খাতে চীন ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে একাধিক উৎস নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে সরকার।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমাতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ ব্যবস্থার আদলে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং ডিজিটাল সেবার পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তিনি উল্লেখ করেন, সরকার বাংলাদেশকে শুধুমাত্র বন্যা, অবৈধ অভিবাসন বা বিভিন্ন সংকটের দেশ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায় না। বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে চায়।

আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার পর এই অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষা বিশ্বদরবারে তুলে ধরার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, এবারের অধিবেশনে উন্নয়নের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি প্রতিরোধ, পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়। তবে সরকার বিভিন্ন খাতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে এবং বাংলাদেশকে একটি আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায়।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খার্গ দ্বীপের নিকটে ইরানি ট্যাঙ্কারে হামলা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৪ পি.এম


খার্গ দ্বীপের নিকটে ইরানি ট্যাঙ্কারে হামলা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের নিকটবর্তী একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এই হামলার সংবাদ প্রকাশিত হয়।

ইরানের স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ক (এসএনএন) জানায়, হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া জাহাজটি একটি ছোট তেলবাহী জাহাজ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, জাহাজটিতে চারটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলার পর জাহাজের নাবিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

এর আগে, ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি খার্গ দ্বীপের আশপাশে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর জানিয়েছিল। তবে প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর সামনে আসে।

খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানি ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ ঐতিহাসিকভাবে এই দ্বীপের টার্মিনালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। তাই দ্বীপটির আশপাশে সামরিক কার্যক্রম ইরানের তেল রপ্তানি ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে খার্গ দ্বীপ নিয়ে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। গত ৩১ আগস্ট তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন যে, দ্বীপটি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তবে তখন যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের পক্ষ থেকে এই দাবির পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

শনিবারের ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার পরিস্থিতি, জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক দফায় রূপান্তর হবে, দাবি ৬ দফা না মানলে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ পি.এম


এক দফায় রূপান্তর হবে, দাবি ৬ দফা না মানলে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, "আল্লাহর ওপর ভরসা করে, জমিনে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এই ৬ দফা দাবির জন্য বাংলার প্রতিটি আনাচে-কানাচে ১১ দলীয় ঐক্যের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি নতুন সংগ্রাম শুরু হয়েছে।" তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, "আমরা আপনাদের বলব, দাবিগুলো মেনে নেন। যদি দাবি না মানেন, এই ছয়দফা এক দফাতে রূপান্তর হবে, সেটি হলো সরকারের পদত্যাগ।"

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত ছয়দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চের কুমিল্লার পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, "অনেকে ওদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, আমরা এত টাকার তেল খরচ করে কেন লংমার্চে যাচ্ছি। আমরা আজকে বলব সরকারের গদি নড়ে গেছে। সরকার কি তেল পাচ্ছে? আপনারা সবাই মাঠে থাকবেন। শহীদ ওসমান হাদি ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে।"

তিনি বলেন, "এই বৃহত্তর কুমিল্লার মানুষ আল্লাহর ওপর ভরসা করে। জীবনে কখনও মাথানত করে না। কখনও চাঁদাবাজদের কাছে মাথা নত করবে না।"

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বিরোধীদলীয় উপনেতা, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে আরাকান আর্মি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে আরাকান আর্মি

রোহিঙ্গা সংকটের নবম বছরে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অধিকাংশ এলাকায় আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য নতুন ও বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ সরকার রাখাইনে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির মধ্যে কার্যকর সংলাপের ওপর গুরুত্ব দিলেও, নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি।

২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে দেড় মিলিয়নের বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার পরিচয় যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির তথ্যমতে, বাংলাদেশের দেওয়া তালিকা থেকে কয়েক লাখ ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা হয়েছে এবং এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার ব্যক্তিকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব নয়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, প্রত্যাবাসনের সবচেয়ে বড় সংকট এখন রাখাইনের বাস্তব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাতের কারণে রাজ্যটির বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে রোহিঙ্গাদের নিজ গ্রাম ও বসতভিটায় ফেরানোর জন্য শুধু মিয়ানমার সরকারের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয়; মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী পক্ষগুলোর অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। চলতি বছরের জুনে জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং সামগ্রিক সংকট সমাধান অনেকাংশে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির মধ্যে কার্যকর সংলাপ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার।

এদিকে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক মানবাধিকার মূল্যায়নেও রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পাশাপাশি আরাকান আর্মির বিরুদ্ধেও রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, নির্যাতন, জোরপূর্বক শ্রম, আটক এবং বাস্তুচ্যুতির অভিযোগ উঠে এসেছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ভূমি দখল এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ এলাকায় ফিরে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রধান শর্ত হচ্ছে—নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার, চলাচলের স্বাধীনতা, জীবিকা এবং নিজস্ব বসতভিটায় ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা। কিন্তু রাখাইনে এখনো এসব শর্ত পূরণ হয়নি। বিশেষ করে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারাও ফিরে যেতে আস্থা পাচ্ছেন না।

গত আগস্টে রোহিঙ্গা সংকটের নবম বর্ষপূর্তিতে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানান। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রাখাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। অতীতে একাধিকবার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় কোনো রোহিঙ্গাই স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে রাজি হয়নি।

কক্সবাজারের সীমান্ত পরিস্থিতিও আরাকান আর্মির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টি স্পষ্ট করছে। গত কয়েক মাসে মিয়ানমার জলসীমায় আটক বাংলাদেশি জেলে ও রোহিঙ্গাদের আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ফেরত আনতে হয়েছে বিজিবিকে। সর্বশেষ আগস্টে ২৪ জন জেলেকে আরাকান আর্মির কাছ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত আরাকান আর্মি শত শত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাকে আটক করেছে, যাদের একটি অংশ পরে ফেরত এসেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, রাখাইনের বর্তমান বাস্তবতায় আরাকান আর্মিকে উপেক্ষা করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন। কারণ প্রত্যাবাসনের পর রোহিঙ্গাদের যে এলাকায় বসবাস করতে হবে, তার বড় অংশের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বাস্তবতা বর্তমানে সংঘাত ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সঙ্গে জড়িত।

তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ বা সংলাপের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে কোনো পক্ষ না নিয়ে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা।

জাতিসংঘও বলছে, মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার মধ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে প্রত্যাবাসন হতে হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে।

এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার ৪ আসনের এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হলেও এই চাপ আর বহন করা আমাদের জন্য সম্ভব নয়। তাদের কারণে আমরা সামাজিকভাবে পরিবেশ, আইন শৃঙ্খলাসহ নানা ধরণের চাপে আছি। দ্রুত প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান। রাখাইনে পরিবেশ সৃষ্টির জন্য তিনি সরকারের প্রচেষ্টার সাথে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আরো সক্রিয় হওয়ার কথা তুলে ধরেন।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ খুলতে হলে শুধু মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা যথেষ্ট হবে না। রাখাইনের প্রকৃত নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বাস্তবতা, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও অধিকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর চাপ—সবকিছুর সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন। অন্যথায় প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশের ওপর চলমান রোহিঙ্গা সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে.

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজপথে সংসদ যখন সন্তোষজনকভাবে কার্যকর, তখন লংমার্চ গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


রাজপথে সংসদ যখন সন্তোষজনকভাবে কার্যকর, তখন লংমার্চ গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী

জাতীয় সংসদ যখন সন্তোষজনকভাবে কার্যকর অবস্থায় রয়েছে, তখন আন্দোলনের নামে রাজপথে লংমার্চের মতো কর্মসূচি সাধারণ মানুষের গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘সংসদীয় রাজনীতিতে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সংসদের বিতর্ককে দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে।’

শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

'বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনা: সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকটি 'সিটিজেন ফোরাম বাংলাদেশ' এবং 'বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস' (বিসিএআই) যৌথভাবে আয়োজন করে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডক্টর মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে ডাক্তার সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্তর সঞ্চালনায় এ আলোচনা সভায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীসহ বিশিষ্ট রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রকে গতিশীল ও অর্থবহ রাখতে সরকারি দলকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা বিরোধী দলের দায়িত্ব। তবে সংসদীয় বিতর্ককে অহেতুক ও দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে দেশের সচেতন মহলকে সজাগ থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো কতটা বুঝে এসব করছে তা জানি না, তবে এই ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি নানান অপশক্তি ওঁৎ পেতে বসে থাকে।’

সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত দুই দশকের ফ্যাসিবাদের চর্চা, ভঙ্গুর সমাজ ব্যবস্থা এবং দেউলিয়া অর্থনীতির চরম অচল অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তুলে সরকার নতুন একটি সঠিক গতিমুখ নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে। সংকট এতই গভীর ছিল যে, রাতারাতি জাদুকরী কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়; তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি সুনিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট নীতি নির্ধারণী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দীর্ঘমেয়াদি আমদানিনির্ভর ও ভুল নীতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মতো অপরিহার্য খাতে দেশকে আজ হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতদিন ক্ষমতায় থেকেও প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া কেবল দুর্নীতিই ছিল না, এটি ছিল জাতির সঙ্গে এক দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণা। বর্তমান সরকার কেবল সংকটের কথা বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে না, বরং প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে বিকল্প উৎস সন্ধান এবং নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন।

তিনি আরও বলেন, সুশাসন ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফেরাতে চীন ও ভারতের পাশাপাশি পণ্য আমদানির নতুন উৎস তৈরি, আমদানি ব্যয় হ্রাস এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে সরকার বিশেষ জোর দিয়েছে।

সংসদে গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবলমাত্র সরকারি দলকে ফাঁদে ফেলার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংসদীয় রাজনীতি ধরে রাখা যায় না। কেবল কৃত্রিম ও ভাষাভাষা সমালোচনা না করে যেকোনো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ নিয়ে আসলে তা দেশ পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

গোলটেবিল বৈঠকের এই নাগরিক উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এই ধরনের গঠনমূলক আলোচনা ও গবেষণা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জবাবদিহিতার চর্চাকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করতে সহায়ক হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%