শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২৬ পি.এম
রোহিঙ্গা সংকটের নবম বছরে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অধিকাংশ এলাকায় আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য নতুন ও বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ সরকার রাখাইনে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির মধ্যে কার্যকর সংলাপের ওপর গুরুত্ব দিলেও, নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি।
২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে দেড় মিলিয়নের বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার পরিচয় যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির তথ্যমতে, বাংলাদেশের দেওয়া তালিকা থেকে কয়েক লাখ ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা হয়েছে এবং এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার ব্যক্তিকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব নয়।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, প্রত্যাবাসনের সবচেয়ে বড় সংকট এখন রাখাইনের বাস্তব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাতের কারণে রাজ্যটির বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে রোহিঙ্গাদের নিজ গ্রাম ও বসতভিটায় ফেরানোর জন্য শুধু মিয়ানমার সরকারের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয়; মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী পক্ষগুলোর অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। চলতি বছরের জুনে জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং সামগ্রিক সংকট সমাধান অনেকাংশে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির মধ্যে কার্যকর সংলাপ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার।
এদিকে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক মানবাধিকার মূল্যায়নেও রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পাশাপাশি আরাকান আর্মির বিরুদ্ধেও রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, নির্যাতন, জোরপূর্বক শ্রম, আটক এবং বাস্তুচ্যুতির অভিযোগ উঠে এসেছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ভূমি দখল এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ এলাকায় ফিরে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রধান শর্ত হচ্ছে—নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার, চলাচলের স্বাধীনতা, জীবিকা এবং নিজস্ব বসতভিটায় ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা। কিন্তু রাখাইনে এখনো এসব শর্ত পূরণ হয়নি। বিশেষ করে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারাও ফিরে যেতে আস্থা পাচ্ছেন না।
গত আগস্টে রোহিঙ্গা সংকটের নবম বর্ষপূর্তিতে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানান। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রাখাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। অতীতে একাধিকবার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় কোনো রোহিঙ্গাই স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে রাজি হয়নি।
কক্সবাজারের সীমান্ত পরিস্থিতিও আরাকান আর্মির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টি স্পষ্ট করছে। গত কয়েক মাসে মিয়ানমার জলসীমায় আটক বাংলাদেশি জেলে ও রোহিঙ্গাদের আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ফেরত আনতে হয়েছে বিজিবিকে। সর্বশেষ আগস্টে ২৪ জন জেলেকে আরাকান আর্মির কাছ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত আরাকান আর্মি শত শত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাকে আটক করেছে, যাদের একটি অংশ পরে ফেরত এসেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, রাখাইনের বর্তমান বাস্তবতায় আরাকান আর্মিকে উপেক্ষা করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন। কারণ প্রত্যাবাসনের পর রোহিঙ্গাদের যে এলাকায় বসবাস করতে হবে, তার বড় অংশের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বাস্তবতা বর্তমানে সংঘাত ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সঙ্গে জড়িত।
তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ বা সংলাপের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে কোনো পক্ষ না নিয়ে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা।
জাতিসংঘও বলছে, মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার মধ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে প্রত্যাবাসন হতে হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে।
এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার ৪ আসনের এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হলেও এই চাপ আর বহন করা আমাদের জন্য সম্ভব নয়। তাদের কারণে আমরা সামাজিকভাবে পরিবেশ, আইন শৃঙ্খলাসহ নানা ধরণের চাপে আছি। দ্রুত প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান। রাখাইনে পরিবেশ সৃষ্টির জন্য তিনি সরকারের প্রচেষ্টার সাথে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আরো সক্রিয় হওয়ার কথা তুলে ধরেন।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ খুলতে হলে শুধু মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা যথেষ্ট হবে না। রাখাইনের প্রকৃত নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বাস্তবতা, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও অধিকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর চাপ—সবকিছুর সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন। অন্যথায় প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশের ওপর চলমান রোহিঙ্গা সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে.
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদ যখন সন্তোষজনকভাবে কার্যকর অবস্থায় রয়েছে, তখন আন্দোলনের নামে রাজপথে লংমার্চের মতো কর্মসূচি সাধারণ মানুষের গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘সংসদীয় রাজনীতিতে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সংসদের বিতর্ককে দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে।’
শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
'বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনা: সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকটি 'সিটিজেন ফোরাম বাংলাদেশ' এবং 'বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস' (বিসিএআই) যৌথভাবে আয়োজন করে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডক্টর মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে ডাক্তার সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্তর সঞ্চালনায় এ আলোচনা সভায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীসহ বিশিষ্ট রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রকে গতিশীল ও অর্থবহ রাখতে সরকারি দলকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা বিরোধী দলের দায়িত্ব। তবে সংসদীয় বিতর্ককে অহেতুক ও দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে দেশের সচেতন মহলকে সজাগ থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো কতটা বুঝে এসব করছে তা জানি না, তবে এই ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি নানান অপশক্তি ওঁৎ পেতে বসে থাকে।’
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত দুই দশকের ফ্যাসিবাদের চর্চা, ভঙ্গুর সমাজ ব্যবস্থা এবং দেউলিয়া অর্থনীতির চরম অচল অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তুলে সরকার নতুন একটি সঠিক গতিমুখ নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে। সংকট এতই গভীর ছিল যে, রাতারাতি জাদুকরী কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়; তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি সুনিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট নীতি নির্ধারণী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দীর্ঘমেয়াদি আমদানিনির্ভর ও ভুল নীতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মতো অপরিহার্য খাতে দেশকে আজ হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতদিন ক্ষমতায় থেকেও প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া কেবল দুর্নীতিই ছিল না, এটি ছিল জাতির সঙ্গে এক দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণা। বর্তমান সরকার কেবল সংকটের কথা বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে না, বরং প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে বিকল্প উৎস সন্ধান এবং নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন।
তিনি আরও বলেন, সুশাসন ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফেরাতে চীন ও ভারতের পাশাপাশি পণ্য আমদানির নতুন উৎস তৈরি, আমদানি ব্যয় হ্রাস এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে সরকার বিশেষ জোর দিয়েছে।
সংসদে গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবলমাত্র সরকারি দলকে ফাঁদে ফেলার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংসদীয় রাজনীতি ধরে রাখা যায় না। কেবল কৃত্রিম ও ভাষাভাষা সমালোচনা না করে যেকোনো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ নিয়ে আসলে তা দেশ পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
গোলটেবিল বৈঠকের এই নাগরিক উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এই ধরনের গঠনমূলক আলোচনা ও গবেষণা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জবাবদিহিতার চর্চাকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করতে সহায়ক হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও, রাশিয়া এবং চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে চলেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান উন্নতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, মস্কো এবং বেইজিংয়ের মধ্যে সর্বাত্মক কৌশলগত সহযোগিতা দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
৮ম রাশিয়া-চীন জ্বালানি ব্যবসা ফোরামের (Russia-China Energy Business Forum) অংশগ্রহণকারী ও অতিথিদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় পুতিন এ মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে, ক্রেমলিনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও এই বার্তাটি প্রকাশিত হয়।
প্রেসিডেন্ট পুতিন উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি খাত বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং গতিশীল ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চীনা বাজার এবং ভোক্তাদের কাছে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে রাশিয়া বর্তমানে প্রথম স্থানে রয়েছে। এছাড়াও, কয়লা এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিতেও রাশিয়া শীর্ষে থাকা দেশগুলোর মধ্যে একটি।
জ্বালানি খাতের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে পুতিন আরও জানান, চীনে রাশিয়ান নকশায় নির্মাণাধীন কয়েকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্লকের কাজ এখন শেষের দিকে। শুধুমাত্র জ্বালানি সরবরাহ নয়, হাইড্রোকার্বন উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় দেশ যৌথভাবে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে কাজ করছে।
পুতিন আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ ধরনের ফোরামের মাধ্যমে দুই দেশের সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী এবং বিশেষজ্ঞদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ জ্বালানি খাতের চলমান চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে একদিনে ৪০ জন নারী, শিশু এবং বৃদ্ধ সহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
শনিবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে ৪০ জন আক্রান্ত ব্যক্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আসেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ মোঃ কামরুজ্জামান কামাল জানান, শনিবারের ঘটনাটি ছাড়াও গত আগস্ট মাসে ৪০৫ জন এবং গত তিন মাসে মোট ৭৬৯ জন কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাজারে রাবিশ নামক ভ্যাকসিনের প্রতি ডোজের মূল্য ৪৫০ টাকা।
বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, "নিজে সচেতন হন, অন্য কাউকে সচেতন হতে উৎসাহিত করুন।" তিনি আরও জানান, গত তিন মাসে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত ৭৬৯ জন হাসপাতালে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। সবারই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন শীত মৌসুমের আগেই রাশিয়ার ভূগর্ভস্থ গ্যাস মজুদাগারগুলোর ৯০ শতাংশ পূর্ণ হয়ে গেছে, এমন তথ্য জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘গ্যাজপ্রম’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলেক্সি মিলার।
গ্যাজপ্রম প্রধান এই তথ্যটি রাশিয়ার 'তেল ও গ্যাস শিল্প শ্রমিক দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় নিশ্চিত করেন।
আলেক্সি মিলার মন্তব্য করেন, "রাশিয়ার ভূগর্ভস্থ মজুদাগারগুলোতে ইতোমধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যের ৯০ শতাংশ গ্যাস জমা করা হয়েছে। হিটিং সিজন বা বাসা-বাড়িতে তাপ উৎপাদনের প্রথামাফিক সময় শুরু হওয়ার আগেই এই আধারগুলো সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ হয়ে যাবে। ফলে আমাদের দেশীয় ভোক্তা এবং মিত্রদেশ বেলারুশের নাগরিকরা আসন্ন শীত নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।"
তিনি আরও জানান, গ্যাজপ্রম তাদের ভূগর্ভস্থ আধারগুলোতে কার্যক্ষম গ্যাসের রিজার্ভ এ বছর ৭৩.২৯৬ বিলিয়ন ঘনমিটারে উন্নীত করবে, যা রাশিয়ার গ্যাস শিল্পের ইতিহাসে একটি নতুন সর্বকালের রেকর্ড।
গ্যাজপ্রম সিইও জোর দিয়ে বলেন, "রাশিয়া ও বেলারুশের সাধারণ মানুষকে আসন্ন শীতের তীব্রতা বা কনকনে ঠান্ডা নিয়ে উদ্বেগে পড়ার কোনো কারণ নেই।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ