বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৩৯ পি.এম
১৭ বছর বয়সী কিশোরী নিঝুম খাতুন ১৮ মাস আগে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা মহেশপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
জিডির পর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল তদন্তে নামে। তদন্তের ফলে কিশোরী নিঝুম হত্যার ভয়াবহ ঘটনা প্রকাশ পায়।
পুলিশের দাবি, প্রেমের সম্পর্কের কারণে ঝিনাইদহ থেকে পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় নিঝুমকে নিয়ে যান তার প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিম (২৩)। সেখানে বিয়ের বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে নিঝুমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন প্রেমিক জিম।
পরে অজ্ঞাত মরদেহ হিসেবে উদ্ধার হওয়া কিশোরীর মরদেহ পাবনায় দাফন করা হয়।
পুলিশ জানায়, মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের নিঝুম খাতুন গত বছরের ১৩ মার্চ নিখোঁজ হন।
সেদিনই ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে কথিত প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিম কিশোরী নিঝুমকে পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর পাকশী রেলস্টেশনে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে বিয়ের বিষয়ে তর্কের এক পর্যায়ে জিম নিঝুমকে থাপ্পড় মারেন।
এ সময় নিঝুম খাতুন অচেতন হয়ে পড়লে তাকে রেললাইনের পাশে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
গত বছরের ১৭ মার্চ ঈশ্বরদী থানা পুলিশ পাকশী রেলস্টেশন এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে অজ্ঞাত কিশোরীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে পাবনা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় মরদেহটি দাফন করা হয়। ওই ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহের একটি আদালতে কথিত প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিম আদালতে নিঝুম হত্যার বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার আশিস বিন হাসান বলেন, পুলিশ ও সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেলের সমন্বয়ে রহস্য উদঘাটন করে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ইতোমধ্যে ফল প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
তিনি উল্লেখ করেন, নভেম্বরের ৭ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে ফল প্রস্তুতির কাজ চলমান রয়েছে।
অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা কিছুটা দেরিতে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ফল প্রস্তুতির কাজে অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের আশা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই এবং শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কিছু লিখিত পরীক্ষা স্থগিত হয়। পরে এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়।
চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দ্রুত ফল প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদের জন্য সারাদেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্র ছিল।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে অংশগ্রহণ করেছেন—৩ লাখ ৩৯৩ জন। এছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন এবং কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মিশরের ঐতিহ্যবাহী আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক সম্প্রীতির আবহে। বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজন এক বৈচিত্র্যময় আন্তর্জাতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) গৌতম কুমার দে, যিনি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা প্রদান করেন। তার উপস্থিতি বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সঞ্চার করেছে।
নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুজাতিক ও বৈচিত্র্যময় ক্যাম্পাস সংস্কৃতিকে উদযাপন করতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্টগণ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরাও এতে অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী। এতে বাংলাদেশ, ভারত, সৌদি আরব, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, দক্ষিণ সুদান ও সুদানসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা নিজেদের দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনধারা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় দেশের লাল-সবুজের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য বিশেষভাবে উপস্থাপিত হয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজ দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ও ছাত্রসংগঠন বছরজুড়ে তাদের উদ্ভাবন, গবেষণা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সাফল্যের চিত্র প্রদর্শন করে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও বহুমাত্রিক প্রতিভার প্রকাশ ঘটে।
আয়োজনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজ দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের ধারাবাহিক সহযোগিতা ও উৎসাহ তাদের শিক্ষাজীবনে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নবীন বরণ অনুষ্ঠান নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, সাংস্কৃতিক বিনিময়, সম্প্রীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের রূপনগর এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এক কিশোরীকে ব্যবহার করে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক ধর্ষণচেষ্টা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভুক্তভোগী পরিবারটিকে তাদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্যও অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গুলশাখালী ইউনিয়নের রূপনগর এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় অনেক বাসিন্দাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শাহ আলমের মা আনোয়ারা বেগম ও বাবা আব্দুল হাই লিখিত বক্তব্যে জানান, একই এলাকার জিনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এই বিরোধের প্রেক্ষিতে জিনোয়ারা বেগম তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে ব্যবহার করে শাহ আলমের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। তাদের দাবি, এই বানোয়াট মামলার উদ্দেশ্য হলো শাহ আলমকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হেয় করা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা।
সংবাদ সম্মেলনে একই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সংরক্ষিত ইউপি সদস্য হাজেরা বেগমও উপস্থিত হয়ে একই ধরনের হয়রানির অভিযোগ করেন। তিনি জানান, জিনোয়ারা বেগম পূর্বে তার বিরুদ্ধে প্রায় ২০টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এসব মামলার কারণে তার ৬০ লাখ টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি সহায়-সম্বল হারিয়ে টিকে থাকতে না পেরে নিজের জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তারা এই জঘন্য হয়রানি বন্ধে এবং জমি বিরোধের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান। একই সঙ্গে, মিথ্যার ভিত্তিতে দায়ের করা মামলাটি সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণকালে ১০ হাজার ৮৩২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৫৪২ জনকে শুধুমাত্র জীবনবৃত্তান্তের ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়, কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই। নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশের বাড়ি চট্টগ্রামে, যেখানে পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা ৫ হাজার ১৪৮ জন রয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকটির নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং ৫ আগস্টের পর ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় নিয়ম মেনে চলা হয়েছে কিনা, তা যাচাইয়ের জন্য চলতি বছরের এপ্রিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। নির্বাহী পরিচালক আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি সম্প্রতি প্রতিবেদনটি গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের কাছে জমা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে কোনো সুপারিশ করা হয়নি, বরং নিয়োগ ও পরবর্তী ছাঁটাইয়ের ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের মোট কর্মী সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৫৫১ জন। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১০ হাজার ৮৩২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৮ হাজার ৫৪২ জনের নিয়োগে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা হয়নি।
চট্টগ্রামের বাসিন্দা ৮ হাজার ৯৯ জন, কক্সবাজারের ৩৯৮, কুমিল্লার ১১৪, ময়মনসিংহের ৯৯, বগুড়ার ৯৭ এবং ঢাকার ৯৬ জন রয়েছেন। রাজশাহী থেকে ৮৩, যশোর থেকে ৭৮, গাইবান্ধা থেকে ৭৫ এবং রংপুর থেকে ৬৬ জন নিয়োগ পেয়েছেন।
জীবনবৃত্তান্ত জমার বাক্স
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের পটিয়ার বাড়ি এবং চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ কার্যালয়ে জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার জন্য বাক্স রাখা হতো। এসব বাক্সে পদের পাশাপাশি এলাকা ও নারী-পুরুষের আলাদা পরিচিতিও উল্লেখ থাকত।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শক দল দৈবচয়নের ভিত্তিতে ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া ঢাকায় কর্মরত ১০ কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্য নেয়। তারা জানিয়েছেন, জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার পর সেখানেই তাদের মৌখিক পরীক্ষা ও নিয়োগ দেওয়া হয়। এমনকি ১০ জনের মধ্যে দুজনের কোনো মৌখিক পরীক্ষাই হয়নি।
২৭ পদে নিয়োগ
পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই মোট ২৭টি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) পদে দুই হাজার ৭৮৯ জন এবং ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার পদে দুই হাজার ১৬০ জন নিয়োগ পান। মেসেঞ্জার কাম গার্ড এক হাজার ৫৪৪ জন, আরডিএস প্রকল্পে ৯১৫ জন এবং ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার পদে ৫০১ জন নিয়োগ দেওয়া হয়।
উচ্চপর্যায়ের পদেও একই ধরনের অনিয়মের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক পেয়েছে। বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই দুজন এমডি, আটজন ডিএমডি, দুজন এসইভিপি এবং একজন ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল নিয়োগ দেওয়া হয়। পাঁচ ইভিপির মধ্যে চারজনকেও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী, ডিএমডি হতে অন্তত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ শর্ত পূরণ না করেই এস আলমের পিএস আকিজ উদ্দিনকে আট বছরের এবং মিফতাহ উদ্দীনকে ১৭ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতায় ডিএমডি করা হয়।
প্রবেশনারি অফিসার নিয়োগেও প্রশ্ন
এস আলমের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসারের চারটি ব্যাচ নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ২৪তম ব্যাচে ১৯০ জনকে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে ১২ জন কোনো লিখিত পরীক্ষাতেই অংশ নেননি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮৪০ জনের জীবনবৃত্তান্ত প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৬৩ জন। এর মধ্যে মাত্র ৩৬ জন ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর পান। পরে নম্বরের শর্ত শিথিল করে ২০ শতাংশ নম্বর পাওয়া প্রার্থীদেরও মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯০ জনকে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের সবাই চট্টগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
এই ব্যাচের ১৮৪ জন যোগদান করেন। বর্তমানে চাকরিতে আছেন মাত্র ৩১ জন। ২১ জন পদত্যাগ করেছেন, ১৩১ জন চাকরি হারিয়েছেন এবং একজন মারা গেছেন।
তবে ২০১৭ সালের ১৪৪ জন এবং ২০২৪ সালের ২০০ প্রবেশনারি অফিসারের নিয়োগ যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২০০ জনের মধ্যে চট্টগ্রামের ছিলেন মাত্র ৩৬ জন।
মূল্যায়ন পরীক্ষায় ৪৬৮৫ জন ছাঁটাই
২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগে অনিয়মের তথ্য পাওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ এসব কর্মীর যোগ্যতা যাচাইয়ে মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে পাঁচ হাজার ৩৭৩ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ৪০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন এবং সবাই চাকরিতে বহাল আছেন। অন্যদিকে চার হাজার ৯৭১ জন পরীক্ষায় অংশ নেননি। পরে আরও ২৮৭ জনকে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়।
পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ চার হাজার ৬৮৫ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের মধ্যে চার হাজার ৪৪০ জন চট্টগ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া কক্সবাজারের ১৫৫, ঢাকার ১০ এবং অন্যান্য জেলার ৮০ জন রয়েছেন।
এর বাইরে বিভিন্ন অভিযোগে ১২১ জন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নবায়ন না করে এক হাজার ১৯০ জন এবং অন্যান্য কারণে ১৩৬ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় পাঁচ কর্মকর্তাকে।
বছরে সর্বোচ্চ নিয়োগ ২০১৯ সালে
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকে ৩৬৭ জন নিয়োগ পান। ২০১৮ সালে এক হাজার ১১৮, ২০১৯ সালে দুই হাজার ৪৬৭, ২০২০ সালে দুই হাজার ১১০, ২০২১ সালে ৮৬৫ এবং ২০২২ সালে দুই হাজার ১১৯ জন নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে ৩৯৭ এবং ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত এক হাজার ৩৯২ জন নিয়োগ পান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের নিজস্ব মানবসম্পদ নীতিমালার আওতায় নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়ার শর্তও রয়েছে। তবে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগের বড় একটি অংশে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ