ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চিলিতে ভয়াবহ বন্যা, রাস্তায় ভেসে গেল গাড়ি


চিলিতে ভয়াবহ বন্যা, রাস্তায় ভেসে গেল গাড়ি

চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো এবং এর আশপাশের অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। কাদামাটির ঢলে রাস্তায় গাড়ি ভেসে গেছে এবং ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। বহু বাসিন্দা প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এই ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত রাজধানীর পূর্বাঞ্চলীয় উপশহর লাস কন্দেসে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সান্তিয়াগোর বিভিন্ন সড়ক ভারী বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে যায়। কিছু সড়ক পানির স্রোতে পরিণত হয়ে যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি সেবায় নিয়োজিত সরকারি সংস্থাগুলোকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

লাস কন্দেসের মেয়র কাতালিনা সান মার্টিন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওই এলাকায় ১৪ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অক্টোবরে সাধারণত যত বৃষ্টি হয়, এবার তার প্রায় নয় গুণ বৃষ্টি হয়েছে। ফলে পুরো এলাকা পানিতে সয়লাব হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

মাপোচো নদীর পানি উপচে পড়ায় সান্তিয়াগোর বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিলির দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা ভূমিধসের আশঙ্কায় আরও ১০টি জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। পাশাপাশি শুক্রবার (১০ অক্টোবর) স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সপ্তাহের শুরুতে হওয়া বৃষ্টিতে মধ্য চিলির কয়েক ডজন বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সান্তিয়াগোর প্রায় ১২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। তবে শুক্রবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে হাড় ভেঙে যাওয়া এক বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। দমকলকর্মীরা এক হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করেছেন অথবা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন।

এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত প্রভাব এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যেতে পারে। দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকালে সাধারণত বৃষ্টিপাত বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জানিয়েছে, চলতি বছরের এল নিনো ডিসেম্বর মাসে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাতে পারে। ১৯৫০ সালের পর এটি সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ , এপি, সিএনএন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবরুদ্ধ দিল্লি, বন্ধ মেট্রোরেল ও ইন্টারনেট সেবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


অবরুদ্ধ দিল্লি, বন্ধ মেট্রোরেল ও ইন্টারনেট সেবা

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কায় কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। মেট্রোর একাধিক স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের জন্য দিল্লি পুলিশ অনুমতি দেয়নি। বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এছাড়া, শনিবার সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল এমন ২৫০টির বেশি ট্রেন এবং স্থানীয় ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে জনপথ-কর্তব্য পথ মোড়ের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, নানা বিধিনিষেধ সত্ত্বেও স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকেরা জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাবেন।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, "বিক্ষোভের কারণে জনদুর্ভোগের আশঙ্কা দেখিয়ে একদিকে জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, অন্যদিকে মেট্রো ও রেল চলাচল বন্ধ এবং সড়ক অবরুদ্ধ করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে কি না," সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

দিল্লি পুলিশের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক এড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের নয়াদিল্লি জেলায় প্রবেশ ঠেকাতে হবে এবং নিষিদ্ধ এলাকা থেকে দ্রুত সরিয়ে দিতে হবে।

পুলিশের হিসাবে, জন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় এবং দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরসহ প্রায় দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটি এলাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। জন্তর মন্তরে প্রবেশের সড়কগুলোতে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। ব্যারিকেডের শেষের কয়েকটি স্তর ঝালাই করে জোড়া লাগানো হয়েছে, যাতে সেগুলো ভেঙে পার হওয়া কঠিন হয়।

সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে রেকর্ড করা ঘোষণা প্রচার করা হচ্ছে। এতে বিক্ষোভের অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে লোকজনকে জমায়েত, স্লোগান, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বিক্ষোভ ঠেকাতে কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ এবং আবাসিক কল্যাণ সমিতিগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে আসা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে পুলিশ।

নয়াদিল্লি এবং মধ্য দিল্লির বিভিন্ন লজ ও হোটেলেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অতিথিদের বিক্ষোভে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করতে হোটেল ব্যবস্থাপকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাসা ভাড়া দেওয়া ব্যক্তি এবং সম্পত্তির মালিকদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তিদের কাছে সম্পত্তি ভাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভে পুলিশের অসদাচরণ এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় এবার প্রতিটি ঘটনা নথিবদ্ধ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাসের শুরুর দিকে হওয়া বিক্ষোভের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের কথিত অসদাচরণের দৃশ্য দেখা যায়। এক নারী বিক্ষোভকারীকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও বডি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ এবং পুলিশের প্রতিক্রিয়া ধারণ করতে শত শত আলোকচিত্রী এবং ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের আশা, এসব ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ঘটনার ধারাবাহিকতা যাচাই, বিভ্রান্তিকর দাবি মোকাবিলা এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তদন্তে সহায়তা পাওয়া যাবে।

এদিকে দিল্লি পুলিশ একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে। এতে পুলিশ সদস্যদের মানবিক দিক তুলে ধরে সব পক্ষকে সংযম এবং সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, "ইউনিফর্ম পরার কারণে একজন মানুষের মানবিকতা হারিয়ে যায় না, বাড়িতে তার জন্যও অপেক্ষা করেন পরিবারের সদস্যরা।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রত্ব নেই তবুও বহিষ্কার, এটা হাস্যকর সুপারিশ: রাবি শিবির সভাপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


ছাত্রত্ব নেই তবুও বহিষ্কার, এটা হাস্যকর সুপারিশ: রাবি শিবির সভাপতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনকে ‘প্রহসন ও নাটক মঞ্চায়ন’ বলে অভিহিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল।

তিনি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

মুজাহিদ ফয়সাল উল্লেখ করেন, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রত্ব নেই, তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, "এটা হাস্যকর প্রতিবেদন। প্রশাসন একটি প্রহসন ও নাটক মঞ্চায়ন করেছে।"

তিনি আরও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে হামলার সময় কক্ষ ভাঙচুর ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। সাংবাদিক নেতাদের এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবির যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি।

মুজাহিদ ফয়সাল জানান, সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের ফোন ভাঙচুর করা হয়েছে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, "আমরা সাংবাদিকদের দাবির সঙ্গে একমত। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। যাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিল এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।"

তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে শিবির সভাপতি বলেন, "আমরা দেখলাম, তিনজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে, তিনজনকে অধিকতর তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং তিনজনকে সতর্কবার্তা দিয়ে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, প্রত্যেকেই এখানে ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত।"

সভাপতি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যেসব পদধারী নেতা তাদের অনুসারীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আসার ঘটনায় যাদের ভূমিকা ছিল, তাদের তদন্তের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পরিকল্পনাকারী ও মূল হোতাদের আড়াল করা হয়েছে। তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের নির্বাচিত জিএস আরিফুল ইসলামের সাময়িক বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, "আরিফের সমালোচনার ভাষাকে আমরা ইসলামী ছাত্রশিবির হিসেবে সমর্থন করি না। তবে সমালোচনার জন্য কাউকে হামলার হুমকি দেওয়া বা তার ওপর হামলা চালানোর সংস্কৃতি আমরা ফিরে আসতে দিতে চাই না।"

তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রীকে সমালোচনা করলেই ছাত্রদল পেটোয়া বাহিনী হিসেবে কাউকে মারার হুমকি দেবে বা হামলা করবে—এমন সংস্কৃতি কাম্য নয়।" তার ভাষ্য, এ ধরনের রাজনৈতিক আচরণ তারেক রহমানকে ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার নতুন এজেন্ডার অংশ।

মুজাহিদ ফয়সাল তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে বলেন, "তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীর বিষয়টি যথাযথভাবে উঠে আসেনি; বরং ভুক্তভোগীকেই আরও ভুক্তভোগী করা হয়েছে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে যে দাবিগুলো জানানো হয়েছিল, সেগুলোরও প্রতিফলন ঘটেনি। তাই আমরা এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছি।"

তিনি আরও বলেন, "যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রত্বই নেই, তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এর চেয়ে হাস্যকর ব্যাপার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে আর হয়েছে কি না, আমার জানা নেই।"

শিগগিরই কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে জানিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী প্যানেল থেকে নির্বাচিত হল সংসদ ও কেন্দ্রীয় সংসদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। এ বিষয়ে দায়িত্বশীল পর্যায়ে আলোচনা চলছে। অল্প সময়ের মধ্যে তাদের অবস্থান ও কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

এর আগে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদলের তিনজন নেতা-কর্মী ও হল সংসদের জিএসের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তাদের মধ্যে শাখা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহসভাপতি আহসান হাবিব ও বহিষ্কৃত কর্মী বিশাল চক্রবর্তীর ছাত্রত্ব নেই।

উল্লেখ্য, গত রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধানক্ষেতেই তাজমিনকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন সুমন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


ধানক্ষেতেই তাজমিনকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন সুমন

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৩) কে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন সিএনজিচালক সুমন। পুলিশ জানায়, ধানক্ষেতে নিয়ে যাওয়ার পর ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক হয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান এ বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। তাজমিনের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করেও ঘটনার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির আলামত পাওয়া গেছে। পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, সুমন একাই তাজমিনকে ধানক্ষেতে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন। হত্যার কারণও অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি জানান।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) গভীর রাতে বাস থেকে নেমে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে কিশোরীকে একা পেয়ে সুমন শহরের দিকে না গিয়ে উল্টো পথে অটোরিকশা চালাতে থাকেন। বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া হয়ে তিনি লালমাই উপজেলার জগতপুরের একটি ধানক্ষেতের দিকে যান।

বিষয়টি বুঝতে পেরে চলন্ত অটোরিকশা থেকেই রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে লাইভ লোকেশন ও বার্তা পাঠিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানায় তাজমিন। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় তার বাবা বার্তাটি দেখতে পাননি। পরে জগতপুরের ধানক্ষেতে পৌঁছালে আত্মরক্ষার জন্য পালানোর চেষ্টা করে তাজমিন। এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তির পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে অটোরিকশাটিও পড়ে ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে তার পরিচয় শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তে সুমনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে উপস্থিত হয়নি। তার বাবা আব্দুল আলিম একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। পরিবার নিয়ে তারা কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামে।

এর আগে গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে বুধবার রাতে বাসায় ফেরার পথে সিএনজিচালকের অটোরিকশায় ওঠার পর এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হয় সে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এফবিআইয়ে পশু নির্যাতন, দেহব্যবসা ও চুরির অভিযোগে চাকরির সুযোগ, তদন্তের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


এফবিআইয়ে পশু নির্যাতন, দেহব্যবসা ও চুরির অভিযোগে চাকরির সুযোগ, তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ে নিয়োগের শর্ত শিথিল করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি উঠেছে। পশুর সঙ্গে যৌনাচার, দেহব্যবসা এবং নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চুরির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট শর্তে চাকরির জন্য বিবেচনা করার কারণে এ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য শুক্রবার দেশটির বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ নজরদারি সংস্থার কাছে আবেদন করেছেন সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ডিক ডারবিন।

বিচার বিভাগের মহাপরিদর্শক ডন বেরথিউমকে লেখা চিঠিতে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ডারবিন উল্লেখ করেন, এফবিআইয়ের নিয়োগের শর্ত শিথিল করার সিদ্ধান্ত সংস্থাটির কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং এর সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গত আগস্টে সিবিএস নিউজ প্রথম জানায়, এফবিআই চলতি বছরের জুনে নীরবে নিয়োগের শর্ত পরিবর্তন করেছে। পূর্বে পশুর সঙ্গে যৌনাচার, দেহব্যবসা কিংবা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সংস্থাটিতে চাকরির জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা হতো।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সের আগে পশুর সঙ্গে যৌনাচার, পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা কিংবা পশুকে পিষে ফেলার মতো যৌন বিকৃত আচরণে জড়িত ব্যক্তিদেরও চাকরির জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে।

দেহব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, কোনো আবেদনকারী যদি তিনবার বা তার বেশি যৌনকর্মী নিয়োগ না করে থাকে এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনা ১০ বছরের বেশি আগে ঘটে থাকে, তাহলে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে না।

এছাড়া, যদি কোনো আবেদনকারী নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চুরি করে থাকে, তবে সেই ঘটনা তিন বছরের বেশি আগে ঘটলে তাকে চাকরির জন্য বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

গত মাসে এক ব্যতিক্রমী শুনানিতে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল নতুন নিয়োগনীতি নিয়ে আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়েন। নীতির পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে যাদের পশুর সঙ্গে যৌনাচারে বাধ্য করা হয়েছিল, তারা যেন এফবিআইয়ে চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর জন কেনেডির সঙ্গে প্যাটেলের কথোপকথন পরে বিভিন্ন কৌতুক অনুষ্ঠানে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্যাটেল বলেছিলেন, আগের নিয়মে পশুর সঙ্গে যৌনাচারের ঘটনায় উভয় পক্ষের অংশগ্রহণকারীকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা হতো।

জবাবে কেনেডি প্রশ্ন করেন, ‘উভয় পক্ষ বলতে কাদের বোঝাচ্ছেন? পশুর সঙ্গে যৌনাচার?’

পরে তিনি ব্যঙ্গ করে আরও প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে কি পশুটিকেও অযোগ্য ঘোষণা করেছিলেন?’

এফবিআইয়ের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞ আইন বিশেষজ্ঞরা এর আগে নতুন নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের মতে, নিয়োগের শর্তে এমন পরিবর্তন সংস্থাটির নতুন দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

তাদের মধ্যে কয়েকজন আরও বলেন, নীতির পরিবর্তনের পক্ষে এফবিআইয়ের যুক্তি স্পষ্ট নয়। তাদের মতে, আবেদনকারীরা মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষার আগে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার মতো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জানাতে পারেন, যা পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

ডারবিন তার চিঠিতে বলেন, এফবিআই পরিচালক প্যাটেলের বক্তব্য নীতিগত পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে যথেষ্ট স্পষ্ট ধারণা দেয়নি।

তিনি আরও বলেন, স্পষ্ট কোনো যুক্তি ছাড়াই এত বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাই নতুন নীতি তৈরির প্রক্রিয়া এবং তা কার্যকর করার পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখার জন্য তিনি বিচার বিভাগের মহাপরিদর্শকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%