বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:৫৭ পি.এম
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে স্পিডবোট থেকে পড়ে সাদিক (২৬) নামে ফায়ার সার্ভিসের এক ডুবুরি নিখোঁজ হয়েছেন। সাদিক নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের একজন রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত সদস্য।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টায় শহরের নিতাইগঞ্জ ফায়ার ঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নিখোঁজ ডুবুরিকে উদ্ধার করতে নদীতে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করছে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ড।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ সাদিকের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার কুমড়াকান্দি গ্রামে। কর্মক্ষেত্রে সাহসিকতার জন্য গত বছর সেরা ডুবুরি হিসেবে তিনি ফায়ার সার্ভিসের রাষ্ট্রীয় পদক পেয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, নদী ফায়ার স্টেশনের জেটির আশপাশে প্রচুর পরিমাণে কচুরিপানা জমে থাকায় নৌযান চলাচলে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। সকালে স্পিডবোট নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন সাদিক। একপর্যায়ে তিনি স্পিডবোট থেকে পানিতে পড়ে নদীতে তলিয়ে যান। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
উপ-সহকারী পরিচালক আরও জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নিখোঁজ সহকর্মীকে খুঁজতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ডের সদস্যরাও শীতলক্ষ্যা নদীতে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সাদিকের কোনো খোঁজ মেলেনি।
এদিকে, সাদিকের নিখোঁজের খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা শীতলক্ষ্যা নদীর ডালপট্টি ফায়ার ঘাটে ছুটে আসেন। বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিখোঁজ সাদিকের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহিদ কামাল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টালিউড ইন্ডাস্ট্রির প্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক ভারতের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। কিছু মাস ধরে তার পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছিল নানা গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তিনি নিজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে এই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এর আগে, তৃণমূলের মনোনয়নে রাজ্যসভায় যাওয়া সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক পদত্যাগ করেছিলেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন এই টালি অভিনেত্রী।
গত জুনে কোয়েল মল্লিক যখন প্রথমবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি ই-মেইলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু উপরাষ্ট্রপতি ভবন থেকে জানানো হয়েছিল, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি নিজে হাজির হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। সেই সময় অভিনেত্রী দেশের বাইরে থাকায় তার এই পদত্যাগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা বিলম্ব হয়। অবশেষে আজ দিল্লিতে গিয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি সেই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেন।
কোয়েল মল্লিকের এই পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সংখ্যা এখন ৯-এ দাঁড়াল। দলটির একের পর এক সংসদ সদস্যের এভাবে পদত্যাগ করার কারণে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
দিল্লির রাজনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, পদত্যাগের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপরই ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎ করেছেন কোয়েল মল্লিক। এই সাক্ষাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—তৃণমূলের চারজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগের পর কোয়েল মল্লিক কি তবে এবার বিজেপিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন?
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল কংগ্রেস যখন রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে, তখন সেখানে রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয় ও মেনকা গুরুস্বামীর পাশাপাশি বড় চমক হিসেবে ছিল কোয়েল মল্লিকের নাম। এরপর গত এপ্রিলে দিল্লিতে রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি।
শপথগ্রহণের পর এই টালি তারকা সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এমন নয়। তবে এটি অনেক বড় একটি মহৎ দায়িত্ব। দেশ ও মানুষের সেবা করার চেয়ে বড় কোনো মহৎ কাজ আর হতে পারে না।’ তবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় কোন পরিস্থিতিতে তিনি ইস্তফা দিলেন, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে দুইজনের। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০৬ জন ডেঙ্গুরোগী।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২ জন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার নাগরিক।
এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩২ জন মারা গেছেন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ৬৭৬ জন।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৯১২ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা করেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হবে। এই প্রক্রিয়া ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপ নির্ধারণ করবে মন্ত্রিসভা। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যেভাবেই হোক, তা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভায় এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নতুন পে স্কেলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সচিব কমিটি দু' থেকে তিন দিন সময় নিবে কারিগরি কিছু দিক বিশ্লেষণ করার জন্য। এরপর সচিব কমিটির সুপারিশ চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপিত হবে। মন্ত্রিসভায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এটি আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ভেটিং) জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। তারপরে প্রধানমন্ত্রী সারসংক্ষেপ অনুমোদন করলে গেজেট প্রকাশ হবে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে বাস্তবায়ন কমিটি তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার সুপারিশ করেছিল। তবে পরে এই suporish পরিবর্তন করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের দিকে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গতকালের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। কারণ, বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে অন্তত এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সেই অনুযায়ী সরকার এই অর্থ কিভাবে জোগান দেবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
বৈঠক শেষে কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ করার শর্তে জানান, সরকারি চাকরিজীবীদের প্রায় ১১ বছর ধরে বেতন বাড়েনি। ফলে নতুন পে স্কেলে যেন কারও বঞ্চনা বা ক্ষোভ না থাকে, সেই জন্য ভালোভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এজন্য আরও দু' থেকে তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগস্টের শুরুতে গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে। তিনি বলেন, বাড়তি বেতন-ভাতা দেওয়ার সঙ্গে অনেক অর্থের সংশ্লেষ রয়েছে এবং সরকারের সক্ষমতার বিষয়ও জড়িত। তাই নতুন পে স্কেল কয় ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়ে সচিব কমিটি কোনো মতামত দেবে না। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
জানা যায়, নতুন বেতন কাঠামোয় কেবল মূল বেতনই নয়; বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব সুবিধার জন্য একাধিক এসআরও (বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ) জারি করা প্রয়োজন। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার কমিটির বৈঠক শেষে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এসআরও এবং বিধিবিধানের খসড়া তৈরি করতে বলা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিগত পে স্কেলের চিত্র তুলে ধরার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কমিটির নির্দেশনার আলোকে কাজ করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর সেক্রেটারি জেনারেল এবং সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে指出 করেছেন যে, গণভোটে পাওয়া জনরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার ভুল পথে হাঁটছে। সরকার জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করার পরিবর্তে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা থেকে সরে এসেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে ১১ দলীয় ঐক্য খুলনার উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা : সাম্প্রতিক বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, গণভোটের পর জুলাই সনদে স্বাক্ষর, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিএনপি শুরু থেকেই একমত ছিল। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর দলটি রাষ্ট্রপতির আদেশ, গণভোট ও জুলাই সনদের বাধ্যবাধকতা অস্বীকার করছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তার দাবি, জাতীয় সংসদে জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে বিষয়টি জনগণের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, সরকার যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি প্রকৃত সংস্কার নয়। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তিনি জানান, ১১ দলীয় ঐক্য জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক, মানববন্ধন ও বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমরান হুসাইন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, জুলাই আন্দোলনের শহীদ সাকিব রায়হানের বাবা-মাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ