ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভাঙারি কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করা বৃদ্ধের ব্যাংকে ৭৭ লাখ টাকা


ভাঙারি কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করা বৃদ্ধের ব্যাংকে ৭৭ লাখ টাকা

চীনের ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ ২১ বছর ধরে ভাঙারি কুড়িয়ে জীবন কাটাচ্ছেন। অর্থনৈতিক সংকট, ঋণের বোঝা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দূরত্বের কারণে তিনি একসময় নিজের শহর ত্যাগ করে অন্য শহরে চলে যান। সেখানে একটি পরিত্যক্ত ভবনে দিন কাটাতে থাকেন, কিন্তু শেষ বয়সে এসে জানতে পারেন, তার ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

বৃদ্ধটির নাম রু। তিনি চীনের হুনান প্রদেশের জুঝো শহরের বাসিন্দা। কারিগরি স্কুল থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দোকানে চাকরি শুরু করেন। সেখানে প্রায় ৩০ বছর কাজ করার পর ২০০০-এর দশকের শুরুতে ছাঁটাই হন। সেই সময় তিনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে কিছু অর্থ পেয়েছিলেন।

কিন্তু রু সেই অর্থ বেশিদিন ধরে রাখতে পারেননি। কিছু ব্যক্তিগত অভ্যাসের কারণে দ্রুতই ক্ষতিপূরণের টাকা খরচ হয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

জীবিকার তাগিদে রু ভাঙারি কুড়ানো শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের শহর ছেড়ে হুনান প্রদেশের সাংদে শহরে চলে যান। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারি সংগ্রহ করেই জীবন কাটান।

২০২৪ সালে সাংদে শহরের একটি সামাজিক সহায়তা কেন্দ্রের কর্মকর্তা একটি পরিত্যক্ত ভবনে রুর সন্ধান পান। পরে তাকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে আত্মসম্মানবোধের কারণে শুরুতে রু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। পরে তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে রাজি হন এবং সেখানে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য জানান।

সম্প্রতি রুর জীবনে আসে অবিশ্বাস্য এক খবর। সাংদে ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসের শেষ দিকে তিনি তার পেনশন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যাংক কার্ড পান। ওই হিসাবে জমা রয়েছে ৪ লাখ ২৪ হাজার ২০৪ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকার বেশি।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রায় এক দশক ধরে রু এই পেনশন পেয়ে আসছিলেন কিন্তু এ বিষয়ে তার কোনো ধারণাই ছিল না।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

ছাঁটাই হওয়ার পর রু পেনশন বিমার কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি। ফলে তিনি ধারণা করেছিলেন যে, আর কোনো পেনশন পাওয়ার সুযোগ নেই। এ ছাড়া তার কোনো মোবাইল ফোনও ছিল না। তাই পেনশন-সংক্রান্ত নতুন নিয়ম বা নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা জমার বিষয়েও কোনো তথ্য পাননি তিনি।

দীর্ঘদিন ভাঙারি কুড়িয়ে জীবন কাটানো রুর জন্য ব্যাংক হিসাবে ৭৭ লাখের বেশি টাকা পাওয়ার খবরটি তাই অনেকটা ভাগ্যের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতোই।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালালে ৩ যাত্রীর ব্যাগ থেকে ৬৩১ কার্টন সিগারেট আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


শাহজালালে ৩ যাত্রীর ব্যাগ থেকে ৬৩১ কার্টন সিগারেট আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইটের তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ৬৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট, মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপসহ ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের পণ্য আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শারজাহ থেকে ঢাকায় আসা জি৯-৫৭১ ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজে অভিযান পরিচালনা করে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। এনবিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেল, এয়ারপোর্টের ‘সি’ শিফটের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। পরে জি৯-৫৭১ ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের ব্যাগেজ স্ক্যান ও তল্লাশি করা হয়। এ সময় তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্য উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে যাত্রী মোহাম্মদ শাহীনের ব্যাগেজ থেকে ৩২০ কার্টন সিগারেট, একটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ আটক করা হয়।

কে এম ফজল হকের ব্যাগেজ থেকে ১২৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ এবং যাত্রী বেলায়েত ভূঁইয়া হোসাইনের ব্যাগেজ থেকে ১৮৬ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

তিন যাত্রীর কাছ থেকে মোট ৬৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট, একটি মোবাইল ফোন এবং তিনটি ল্যাপটপ আটক করা হয়েছে। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রোপা আমনের আবাদ, কৃষকের মুখে হাসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রোপা আমনের আবাদ, কৃষকের মুখে হাসি

অনুকূল আবহাওয়া এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচির ফলস্বরূপ খুলনা অঞ্চলের চারটি জেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, নিচু এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হওয়া এবং সুষম বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকরা এবার বেশি পরিমাণে রোপা আমনের চাষ করেছেন।

খুলনা অঞ্চলের চার জেলা—খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল—এ ধান ও চালের উৎপাদন আশাতীত হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মুখে এখন আনন্দের হাসি দেখা যাচ্ছে। কৃষকরা আশা করছেন, স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ (৪০ কেজি) মোটা আমন ধান ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১৪শ’ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে পারে।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র জানাচ্ছে, চলতি মৌসুমে খুলনা অঞ্চলের চার জেলায় মোট ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫৯ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার ১০ হেক্টর, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫১ হেক্টর বেশি এবং শতকরা হিসাবে ১০০.১ শতাংশ। এ বছর এ অঞ্চল থেকে ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭৪ মেট্রিক টন চাল (১২ লাখ ৮৫ হাজার ৪৬১ মেট্রিক টন ধান) উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময় আমন উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে খুলনা অঞ্চলের ৭৫ হাজার ৪শ’ জন কৃষককে ৬ কোটি টাকারও বেশি প্রণোদনা দিয়েছে।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্র অনুযায়ী, খুলনা জেলায় ৮৮ হাজার ৩৫১ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮৭ হাজার ৪৬৯ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এ জেলায় ৪ লাখ ৮ হাজার ৩০৮ মেট্রিক টন ধান ও ২ লাখ ৭২ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

বাগেরহাট জেলায় ৬৮ হাজার ৮৯৩ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৬৮ হাজার ৭০৬ হেক্টরে আবাদ হয়েছে। এ জেলায় ২ লাখ ৭১ হাজার ৬৮৮ মেট্রিক টন ধান ও ১ লাখ ৮১ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলায় ৮৯ হাজার ১৫০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৯০ হাজার ১৬০ হেক্টরে। এখান থেকে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮০ মেট্রিক টন ধান ও ২ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫৩ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নড়াইল জেলায় ৪৩ হাজার ৪৬৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৪৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টরে। এ জেলায় ২ লাখ ৬ হাজার ৬৮৬ মেট্রিক টন ধান ও ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯১ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ ও সোনালি আমন ক্ষেতের পরিচর্যায় স্থানীয় কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির ফলে নিচু এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হওয়া এবং বৃষ্টিপাতের কারণে খুলনা বিভাগে আমনের অধিক ফলন হয়েছে।

এছাড়া, অনুকূল আবহাওয়া এবং সরকারি সহায়তার কারণে এ মৌসুমে বাজারে ধানের ভালো দাম পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হঠাৎ নায়িকার গালে হাত, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


হঠাৎ নায়িকার গালে হাত, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক শুরু

কন্নড় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রচিতা রামের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভক্তদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় এক ব্যক্তি হঠাৎ করে অভিনেত্রীর গালে হাত দিয়ে টেনে ধরেন। ঘটনার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে ওই ব্যক্তির আচরণের সমালোচনায় নেটিজেনরা সরব হয়েছেন।

৩ অক্টোবর, ৩৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বেঙ্গালুরুর নিজ বাসভবনের বাইরে ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন রচিতা রাম। এ সময় হাসিমুখে অনুরাগীদের সঙ্গে ছবি তুলছিলেন তিনি।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি রচিতা রামের সঙ্গে সেলফি তোলেন। ছবি তোলার পর চলে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে অভিনেত্রীর গালে হাত দিয়ে টেনে ধরেন তিনি। আকস্মিক ঘটনার কারণে কিছুটা হতবাক হলেও দ্রুত নিজেকে সামলে নেন রচিতা। এরপর তিনি অন্য ভক্তদের সঙ্গে ছবি তোলার কার্যক্রম চালিয়ে যান।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন, তারকা হলেও একজন নারীর ব্যক্তিগত পরিসর ও সম্মানের বিষয়টি সবারই সম্মান করা উচিত। পূর্বানুমতি ছাড়া এভাবে কাউকে স্পর্শ করা অনুচিত বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে পেশাদারিত্ব বজায় রাখায় রচিতার প্রশংসাও করেছেন তার ভক্তরা।

এদিকে, পেশাগত জীবনেও ব্যস্ত সময় পার করছেন রচিতা রাম। কন্নড় চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজের পাশাপাশি তামিল ইন্ডাস্ট্রিতেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর হাতে রয়েছে ‘ক্রিমিনাল’, ‘দালি’ ও ‘শাবরি সার্চিং ফর রাবণ’-এর মতো বেশ কয়েকটি প্রতীক্ষিত সিনেমা।

জন্মদিনে নতুন একটি নারীপ্রধান সিনেমায় অভিনয়ের ইঙ্গিতও দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শিগগিরই আসতে পারে বলে জানা গেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুদের বিকাশে সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ পি.এম


শিশুদের বিকাশে সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং নিজস্ব প্রতিভা বিকাশের সুযোগ প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, "শিশুরা সুন্দরভাবে বেড়ে উঠলে দেশের ভিত্তি আরও মজবুত হবে।"

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, "আজকের অনুষ্ঠানটি মূলত শিশুদের নিয়ে। তাই বড়দের বক্তব্যের চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই হওয়া উচিত এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।" নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর সময় তিনি নিজেও শিশু হিসেবে সেখানে এসেছিলেন।

তিনি বলেন, "আজকে তোমরা শিশু হিসেবে যেমন এখানে উপস্থিত হয়েছো, একদিন আমিও এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম। শিশু হিসেবেই এসেছিলাম। একজন শিশু অতিথি হিসেবে আমি এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম।" প্রধানমন্ত্রী জানান, শিশু একাডেমির ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে তার এবং তার ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত বোর্ডে নিজের একটি গল্প ও ছোট ভাইয়ের লেখা দেখতে পেয়ে পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসার কথাও উল্লেখ করেন।

শিশুদের শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি এবং সংগীতচর্চার সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "আমি তোমাদের কাছে পড়ালেখার কথা বলব না। তোমাদের আজকে আমি বলব, তোমাদের খেলাধুলা করতে হবে।"

শিশুদের বিভিন্ন প্রতিভার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "কেউ ভালো ছবি আঁকতে পারে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করতে পারে, কেউ গান, নাচ কিংবা কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে। প্রত্যেক শিশুর ভেতরে কোনো না কোনো গুণ রয়েছে এবং সেই গুণ বিকাশের জন্য প্রয়োজন যথাযথ সুযোগ।"

নিজের গিটার ও কিবোর্ড শেখার আগ্রহের কথা উল্লেখ করে তিনি শিশুদের উদ্দেশে বলেন, "যারা গিটার, হারমোনিয়াম, বাঁশি কিংবা অন্য কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে, তারা যেন তা ভালোভাবে শেখে এবং সম্পূর্ণ করে।" যারা গান বা নাচ পছন্দ করে, তাদেরও সেই প্রতিভা বিকাশে মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইভাবে যারা কেরাত ও কোরআন তেলাওয়াত পছন্দ করে, তাদের তা সুন্দরভাবে রপ্ত করার পরামর্শ দেন।

শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, "প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।" তিনি জানান, "প্রথমবারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে সারাদেশে ২২ লাখ শিশু- ১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।" এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখা গেলে এখান থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিশুদের প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রমও নতুন করে চালু করার কথা জানান তিনি। সিলেট থেকে শুরু করে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে ক্রীড়া আয়োজন সম্পন্ন করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, "শিশুদের শুধু সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চায় নয়, খেলাধুলাতেও পারদর্শী করে তুলতে হবে।" একটি শিশুর শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে অন্তত কোনো একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সবার জন্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, "দেশের অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে সন্তানদের এসব সুযোগ করে দেয়া সম্ভব নয়।" তাই শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও যেন শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার সুযোগ পায়, সে জন্য স্কুল পর্যায় থেকে এসব সুবিধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, "প্রত্যেকটি বাচ্চার মধ্যে কোনো না কোনো কিছু একটা কোয়ালিটি আছে। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটা করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারবে।"

সরকারপ্রধান আরও বলেন, "এ-সংক্রান্ত কাজগুলো মোটামুটিভাবে গুছিয়ে আনা হয়েছে এবং ২০২৭ অথবা ২০২৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।" প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী গান, বাদ্যযন্ত্র ও খেলাধুলার বিভিন্ন ক্ষেত্র বেছে নেয়ার সুযোগ পাবে বলেও জানান তিনি।

ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের প্রস্তুত করতে স্কুল পর্যায় থেকে অতিরিক্ত বিদেশি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, "বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান, জাপানিজসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে শিশুরা নিজেদের পছন্দের একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।"

তার মতে, "একটি তৃতীয় ভাষায় দক্ষতা ভবিষ্যতে বিদেশে পড়াশোনা কিংবা কর্মক্ষেত্রে অন্য দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে শিশুদের সহায়তা করবে।"

শিশুদের শুধু পড়াশোনা, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি কিংবা ভাষাজ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; তাদের মানবিক মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, "তোমাদেরকে কিন্তু মানবিক হতে হবে। তোমাদেরকে এই দেশের প্রকৃতি, এই দেশের পশুপাখির প্রতিও কিন্তু তোমাদেরকে মানবিক হতে হবে।"

শিশুদের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "বাড়ি, স্কুল কিংবা আশপাশের এলাকায় থাকা গাছের যত্ন নিতে হবে।" পশুপাখির প্রতিও সদয় হতে হবে। প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%