০২:২১ পি.এম
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার দাবি নিয়ে অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক ও পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাকে এই ঘোষণা দিতে হয়েছে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলার পর।
গত ২৮ জুন রাজধানী দিল্লিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানিয়ে সোনম ওয়াংচুক অনশনে যোগ দেন। তার অনশন এ পর্যন্ত চলে আসছে এবং তিনি শুধু পানি ও লবণ গ্রহণ করছেন। দীর্ঘকাল ধরে অনশনে থাকার কারণে তার ওজন ৯ কেজিরও বেশি কমে গেছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পুলিশ ১৮ জুলাই তাকে জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির উদ্দেশ্যে সোমবার (২০ জুলাই) আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের সংঘর্ষ ঘটেছে। এই ঘটনার ফলে বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলেও জানা গেছে। ঘটনাটির পর রাজধানীর নতুন দিল্লি, মধ্য, উত্তর, দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম, দক্ষিণ-পূর্বসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
পুলিশি হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোনম ওয়াংচুক জানান, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী তরুণদের প্রতি যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, সেটা দেখে তিনি অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, আন্দোলনের নেতাদের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ না দিলে, অথবা সংসদ সদস্যরা হাসপাতালে এসে তাদের সঙ্গে কথা না বললে তিনি অনশন ভঙ্গ করবেন না।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে আন্দোলনকারী তরুণদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি এবং সরকার ও পুলিশকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করার আহ্বান জানান।
পরে সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী একটি ভিডিওবার্তায় নিশ্চিত করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বার্তাটি সোনম ওয়াংচুকেরই।
অন্যদিকে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক অভিজিৎ দিপক অভিযোগ করেছেন, সংসদমুখী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের ওপর দিল্লি পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। তার মতে, লাঠিচার্জের ফলে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীসহ অনেকেই আহত হয়ে পড়েছেন। এক তরুণী গলায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এটি মনে রাখতে হবে যে, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নফাঁসের ঘটনার জবাবদিহি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে চলমান এই আন্দোলন ভারতের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সরকারবিরোধী গণআন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন