ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সাগরে ফুঁসছে ‘মুরাসু’: নামের অর্থ কী, কোথায় আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি?


সাগরে ফুঁসছে ‘মুরাসু’: নামের অর্থ কী, কোথায় আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি?

বঙ্গোপসাগর থেকে আবারও একটি ঘূর্ণিঝড়ের আগমন ঘটছে। এই ঘূর্ণিঝড় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ রোববার (১ নভেম্বর) ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়েছে। এটি সাগরে ফুঁসছে এবং উপকূলে আছড়ে পড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

‘মুরাসু’ শব্দের অর্থ কী?

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’র প্রভাব কাটতে না কাটতেই ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে আরেকটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব অন্ধ্রের উপকূলে আঘাত হেনেছিল। এবার আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। ‘মুরাসু’ শব্দটির অর্থ সম্পর্কে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।

আরও পড়ুন: আবহাওয়া অধিদপ্তর: সারা দেশে প্রধানত শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি একটি তামিল শব্দ, যার অর্থ হলো ড্রাম বা রণঢাক জাতীয় বাদ্যযন্ত্র। এই বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে দুর্যোগ বা অন্য কিছু ঘোষণা করার জন্য সবাইকে সচেতন করা হয়। অনেক সময় এটিকে যুদ্ধের বাদ্য হিসেবেও গণ্য করা হয়। সঙ্গম সাহিত্য ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মুরাসু মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে।

এর মধ্যে একটি হলো বীরা মুরাসু, যা যুদ্ধের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত রণদামামা বা সামরিক ড্রাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয়টি হলো ত্যাগা মুরাসু, যা উপহার দেয়ার বা দরিদ্র মানুষের জন্য খাদ্য ও সামগ্রী বিতরণের আহ্বানে ব্যবহৃত হয়। তৃতীয়টি, ন্যায় মুরাসু, যা বিচারকার্য পরিচালনা এবং জনগণের অভিযোগ শোনার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র নামকরণ ভারত কর্তৃক করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টির বিষয়ে যা জানা যাচ্ছে

আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আসছে, সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর সংকেত জারি

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) তাদের সর্বশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, ১ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার সময় ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণ-পশ্চিম এবং সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থান করছিল। আইএমডি জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ২ নভেম্বর সকালের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে আরও তীব্র হয়ে একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এরপর এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২ নভেম্বর রাত এবং ৩ নভেম্বর ভোরের মধ্যে নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী স্থানে একটি তীব্র ঘূর্ণিঝড় হিসেবে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ঝড়ের গতিবেগ উপকূলের দিকে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হবে। পরবর্তীতে দমকা হাওয়ার বেগ ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে। ঝড় মোকাবিলার জন্য ওড়িশায় প্রস্তুতি চলছে। সেখানে এনডিআরএফসহ বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশও এই ঝড় মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২ নভেম্বর থেকে ওড়িশায় বৃষ্টি শুরু হবে এবং ৩ ও ৪ নভেম্বর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

আরও পড়ুন: রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত, দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিকেএমইএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৫ পি.এম


নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিকেএমইএ

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে, যা পোশাক শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এক বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারখানার কার্যক্রম সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, পোশাক শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা যে চাপের মধ্যে রয়েছেন, তা বিকেএমইএ উপলব্ধি করছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক মন্দা, জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয়ের ক্রমাগত বৃদ্ধি এবং কারখানাগুলোতে রপ্তানি আদেশের হ্রাসের চ্যালেঞ্জগুলোও বাস্তব।

বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, শ্রমিকদের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করা এবং কারখানার কার্যক্রম সচল রাখা- এই দুটি বিষয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, নতুন মজুরি বোর্ডে সরকার, মালিক এবং শ্রমিক- এই তিন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। পারস্পরিক আলোচনা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা সম্ভব বলে বিকেএমইএ বিশ্বাস করে।

তিনি বলেন, এমন একটি মজুরি কাঠামো প্রয়োজন, যা শ্রমিকদের জীবনমান সুরক্ষিত করবে এবং শিল্পের সক্ষমতাও বজায় রাখবে।

বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শ্রমিক ও শিল্প পরস্পরের পরিপূরক। উভয় পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষিত হলে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। তাই সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও টেকসই সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা উচিত।

বিকেএমইএর বার্তায় বলা হয়েছে, ‘শ্রমিক বাঁচলেই শিল্প বাঁচবে, শিল্প বাঁচলেই শ্রমিক বাঁচবে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নীলফামারীতে বিএনপির প্রয়াত নেতা-কর্মীদের স্মরণে সভা ও দোয়া মাহফিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৫ পি.এম


নীলফামারীতে বিএনপির প্রয়াত নেতা-কর্মীদের স্মরণে সভা ও দোয়া মাহফিল

নীলফামারী, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : জেলায় বিএনপির এবং এর অঙ্গসংগঠনের প্রয়াত নেতা-কর্মীদের স্মরণে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে বিএনপির প্রয়াত নেতা-কর্মীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোওয়া মাহফিলও আয়োজন করা হয়।

সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। বক্তৃতা প্রদান করেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জহুরুল আলম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মোস্তফা হক প্রধান বাচ্চু, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রাহেদুল ইসলাম দোলন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. মোক্তার হোসেন, মো. আনিছুর রহমান কোকো, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. লুৎফুল আলম চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মোর্শেদ আযম এবং সদস্য সচিব মো. শিহাবুজ্জামান চৌধুরী শিহাব প্রমুখ।

বক্তারা সদ্য প্রয়াত জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এস কে মালেকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রয়াত নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক অবদান এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে তাদের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তারা বলেন, "দলের দুঃসময়ে এসব নেতা-কর্মীর ত্যাগ ও অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।"

তাদের আদর্শ ও অবদান আগামী দিনের নেতা-কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। সভায় বিএনপির পাশাপাশি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবাকে হারানোর শোক নিয়েই এইচএসসি পরীক্ষায় লিজার জিপিএ ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ এম


বাবাকে হারানোর শোক নিয়েই এইচএসসি পরীক্ষায় লিজার জিপিএ ৫

যে বাবার হাত ধরে জীবনযাত্রার শুরু, যে ব্যক্তি সন্তানের ভালো ফলের জন্য অপেক্ষা করতেন অত্যন্ত অধীর আগ্রহে, সেই বাবাই আজ নেই। এইচএসসি পরীক্ষার মাত্র কয়েক দিন আগে বাবাকে হারিয়েছেন লিজা আক্তার। শোকের ভারে চারপাশ থমকে গিয়েছিল, স্বপ্ন ও প্রস্তুতি এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। তবুও বাবার স্বপ্নকে হৃদয়ে ধারণ করে, চোখের জল মুছে পরীক্ষার হলে বসেছিলেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে লিজা পেয়েছেন জিপিএ ৫। জীবনের এই আনন্দময় দিনে প্রিয় মানুষটিকে পাশে না পাওয়ার বেদনা তার সমস্ত আনন্দকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।

লিজা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া এলাকার ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। বাবার মৃত্যুর শোক সামলে তার এমন সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

লিজার বাড়ি আখাউড়া পৌর এলাকার মসজিদপাড়া এলাকায়। তার বাবা মৃত রেজাউল ইসলাম (ছায়েদ) এবং মা রোজিনা আক্তার গৃহিণী। লিজা দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়। এর আগে এসএসসি পরীক্ষাতেও সে জিপিএ ৫ পেয়েছিল। পড়াশোনায় শুরু থেকেই মেধাবী লিজার সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা ও যত্ন ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।

কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষার কয়েক দিন আগে বাবার মৃত্যুতে তার পরিচিত জীবন হঠাৎ করে বদলে যায়। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে লিজা। বই খুললেই বাবার কথা মনে পড়ত। পড়াশোনায় মন বসাতে পারছিল না। এমন পরিস্থিতিতে স্বজনদের সাহস ও পরামর্শে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে। বাবার স্বপ্ন পূরণের তাগিদে নিজেকে সামলে নেয়। বুকের ভেতর জমে থাকা শোক নিয়েই একে একে পরীক্ষাগুলো শেষ করে।

ফল প্রকাশের পর জিপিএ ৫ পাওয়ার খবর শুনে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী আনন্দিত হয়েছেন। তবে এই আনন্দের সঙ্গে মিশে আছে এক গভীর অপূর্ণতা। লিজার বিশ্বাস, বাবা বেঁচে থাকলে তার এই ফলাফলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। হয়তো সবার আগে মেয়েকে বুকে টেনে নিতেন। অথচ আজ সেই মানুষটিই নেই।

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে লিজা বলেন, ‘বাবা সব সময় চাইতেন আমার ফল ভালো হোক। পরীক্ষার আগে বাবাকে হারানো ছিল জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। বাবার স্বপ্ন পূরণের কথা ভেবেই নিজেকে সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। বাবার মৃত্যুর পর কোনো কিছুই ভালো লাগত না। বারবার বাবার মুখ মনে পড়ত, পড়াশোনায় মন বসত না। বাবা বেঁচে থাকলে আমার এই ফল দেখে অনেক খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চাই।’

আখাউড়া নাছরীন নবী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক খোরশেদ আলম জানান, আখাউড়া ক্যামব্রিয়ান কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পুরো আখাউড়া উপজেলায় একমাত্র জিপিএ ৫ পেয়েছে আমাদের শিক্ষার্থী লিজা। পরীক্ষা শুরুর অল্প কিছুদিন আগে তার বাবা মারা যান। তারপরও সে ভেঙে পড়েনি। সে তার বিশেষত্ব ধরে রেখেছে। সে এখন ঢাকায় রেটিনাতে কোচিং করছে। সেখানে তার মন টিকতে চায় না। সময়ের অসময়ে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করে। তাকে মোটিভেট করার চেষ্টা করা হয়।

ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রাজ্জাক হাজারী বলেন, ‘লিজা শুরু থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তার ভালো ফলের ব্যাপারে শিক্ষকদের প্রত্যাশা ছিল। তবে পরীক্ষার কিছুদিন আগে বাবার মৃত্যুতে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এসময় কলেজের শিক্ষকরা তাকে সাহস জুগিয়েছেন এবং সার্বিক সহযোগিতা করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাবাকে হারানোর মতো বড় শোক সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৫ অর্জন করা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তার এ সাফল্যে কলেজের সবাই আনন্দিত। আশা করি, ভবিষ্যতেও সে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে।’

লিজার হাতে আজ জিপিএ ৫-এর সাফল্য রয়েছে, সামনে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু এই অর্জনের গল্পে যে মানুষটির সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল, তিনি নেই। তাই ফলাফলের আনন্দের মাঝেও লিজার কাছে সবচেয়ে বড় হয়ে আছে বাবার শূন্যতা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেন্টমার্টিনে কোটি টাকায় প্রতিষ্ঠিত হলো ‘বেওয়ারিশ কুকুর আশ্রম’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ এম


সেন্টমার্টিনে কোটি টাকায় প্রতিষ্ঠিত হলো ‘বেওয়ারিশ কুকুর আশ্রম’

প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা চার হাজারের বেশি। খাবারের অভাব, রোগব্যাধি এবং চিকিৎসার অভাবে এসব কুকুরের দুর্ভোগ ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, দ্বীপের কুকুরগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা এবং পরিচর্যার উদ্দেশ্যে কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের প্রথম স্থায়ী কুকুর আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নির্মিত এই আশ্রয়কেন্দ্রে অসুস্থ কুকুরের চিকিৎসার পাশাপাশি বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রমও চলছে। এই উদ্যোগে সহায়তা করছেন জার্মানি ও পেরুর দুই তরুণী।

জার্মানি থেকে মানবিকতার টানে সেন্টমার্টিনে এসেছেন জলপিয়া। তার সঙ্গে আছেন পেরুর জেসিকা মারিয়া। তারা আশ্রয়কেন্দ্রে অসুস্থ ও বিপন্ন কুকুরগুলোর খাবার, চিকিৎসা এবং পরিচর্যায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের লক্ষ্য, কেবল অসুস্থ কুকুরের চিকিৎসা নয়, বরং দ্বীপে কুকুরের অনিয়ন্ত্রিত বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রাণীগুলোর জন্য তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা চার হাজারের বেশি। কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক কুকুরের জন্য পর্যাপ্ত খাবার এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। এর ফলে অনেক কুকুর অপুষ্টি এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসার অভাবে কিছু কুকুর প্রাণও হারাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সীমিত সামর্থ্যের কারণে এত বিপুলসংখ্যক প্রাণীর দায়িত্ব নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্রটিতে কুকুরের খাবার ও চিকিৎসার পাশাপাশি বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে বন্ধ্যাকরণ করা গেলে কুকুরের অনিয়ন্ত্রিত বংশবৃদ্ধি কমবে। এতে ভবিষ্যতে খাবার ও চিকিৎসার সংকট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

পেরুর জেসিকা মারিয়া বলেন, "একটি স্ত্রী কুকুর বছরে একাধিকবার বাচ্চা জন্ম দিতে পারে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে কুকুরের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। এ কারণে বন্ধ্যাকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আরও বলেন, "অনেক কুকুরের শরীরে টিউমার ও চর্মরোগ দেখা যাচ্ছে। এসব রোগের কারণে প্রাণীগুলো প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছে। তাদের দুর্ভোগ কমাতে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।"

জার্মানির জলপিয়া জানান, রাস্তা থেকে অসুস্থ কুকুর উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। সেখানে তাদের সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চলছে। কিছু কুকুরের বন্ধ্যাকরণও করা হচ্ছে, যাতে ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসে। তার মতে, কুকুরের সংখ্যা কমলে তাদের খাবার, চিকিৎসা এবং অন্যান্য দুর্ভোগও কমানো সম্ভব হবে।

জলপিয়া আরও বলেন, "আগে দ্বীপে কুকুরের সংখ্যা আরও বেশি ছিল বলে আমি শুনেছি। এত বেশি কুকুরের কারণে তাদের নানা ধরনের কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। এখন ধাপে ধাপে বন্ধ্যাকরণ ও চিকিৎসার মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতির চেষ্টা চলছে। তবে অসুস্থ কুকুরের সংখ্যা দেখে আমার খারাপ লাগে। একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলেও একেকটি কুকুরকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।"

আশ্রয়কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কিশোর কুমার দাশ। তিনি বলেন, "সেন্ট মার্টিনে এসে কুকুরগুলোর অবহেলিত অবস্থা এবং কয়েকটি কুকুরকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা আমাকে ব্যথিত করে। তখনই দ্বীপের কুকুরগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয় তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি।"

কিশোর কুমার দাশ বলেন, "কুকুরদের নিয়ে অনেকেই কথা বলেন, কেউ কেউ এ বিষয়কে কেন্দ্র করে ব্যবসাও করেন। কিন্তু প্রাণীগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ খুব বেশি দেখা যায় না। শুধুমাত্র সাময়িক খাবার বা চিকিৎসা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। কুকুরগুলোর জন্য স্থায়ী ও মানবিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।"

তিনি আরও বলেন, "দ্বীপের প্রকৃতি, মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। কুকুরগুলোর নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে তাদের দুর্ভোগ কমাতে কাজ করতে চাই।"

আশ্রয়কেন্দ্রটিতে রয়েছে ২০টি শেল্টার। প্রতিটি শেল্টারে ১২টি করে কুকুর রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব কুকুরের চিকিৎসা এবং সার্বিক পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন দুই চিকিৎসক।

উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, আশ্রয়কেন্দ্রটির মাধ্যমে সেন্ট মার্টিনের বেওয়ারিশ কুকুরগুলোর দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি পরিকল্পিত চিকিৎসা এবং বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষ ও প্রাণীর সহাবস্থানের একটি মানবিক দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%