০৮:২৩ পি.এম
বঙ্গোপসাগর থেকে আবারও একটি ঘূর্ণিঝড়ের আগমন ঘটছে। এই ঘূর্ণিঝড় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ রোববার (১ নভেম্বর) ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়েছে। এটি সাগরে ফুঁসছে এবং উপকূলে আছড়ে পড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
‘মুরাসু’ শব্দের অর্থ কী?
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’র প্রভাব কাটতে না কাটতেই ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে আরেকটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব অন্ধ্রের উপকূলে আঘাত হেনেছিল। এবার আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। ‘মুরাসু’ শব্দটির অর্থ সম্পর্কে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
আরও পড়ুন: আবহাওয়া অধিদপ্তর: সারা দেশে প্রধানত শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি একটি তামিল শব্দ, যার অর্থ হলো ড্রাম বা রণঢাক জাতীয় বাদ্যযন্ত্র। এই বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে দুর্যোগ বা অন্য কিছু ঘোষণা করার জন্য সবাইকে সচেতন করা হয়। অনেক সময় এটিকে যুদ্ধের বাদ্য হিসেবেও গণ্য করা হয়। সঙ্গম সাহিত্য ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মুরাসু মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে।
এর মধ্যে একটি হলো বীরা মুরাসু, যা যুদ্ধের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত রণদামামা বা সামরিক ড্রাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয়টি হলো ত্যাগা মুরাসু, যা উপহার দেয়ার বা দরিদ্র মানুষের জন্য খাদ্য ও সামগ্রী বিতরণের আহ্বানে ব্যবহৃত হয়। তৃতীয়টি, ন্যায় মুরাসু, যা বিচারকার্য পরিচালনা এবং জনগণের অভিযোগ শোনার জন্য ব্যবহৃত হয়।
ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র নামকরণ ভারত কর্তৃক করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টির বিষয়ে যা জানা যাচ্ছে
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আসছে, সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর সংকেত জারি
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) তাদের সর্বশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, ১ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার সময় ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণ-পশ্চিম এবং সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থান করছিল। আইএমডি জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ২ নভেম্বর সকালের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে আরও তীব্র হয়ে একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এরপর এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২ নভেম্বর রাত এবং ৩ নভেম্বর ভোরের মধ্যে নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী স্থানে একটি তীব্র ঘূর্ণিঝড় হিসেবে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ঝড়ের গতিবেগ উপকূলের দিকে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হবে। পরবর্তীতে দমকা হাওয়ার বেগ ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে। ঝড় মোকাবিলার জন্য ওড়িশায় প্রস্তুতি চলছে। সেখানে এনডিআরএফসহ বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশও এই ঝড় মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২ নভেম্বর থেকে ওড়িশায় বৃষ্টি শুরু হবে এবং ৩ ও ৪ নভেম্বর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
আরও পড়ুন: রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত, দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন