০৯:০২ পি.এম
নামাজের সময় হলে মসজিদের মিনার থেকে আজানের ধ্বনি শোনা যায়। তখন এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মসজিদের দিকে রওনা দেন। মসজিদের পাশে অবস্থান করছে একটি মন্দির। পূজার সময় সেখানে ঢাকের বাদ্য বাজানো হয়; উলুধ্বনি তোলা হয়। ভক্তরা পূজা-অর্চনায় মগ্ন হয়ে যান।
১৪৩ বছর ধরে এভাবেই নামাজ ও পূজা-অর্চনা পাশাপাশি চলছে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এই সহাবস্থান মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ইউসুফগঞ্জ এলাকায় দুই ধর্মীয় সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণভাবে coexist করছে।
আরো পড়ুন
আরও পড়ুন: সিলেটে প্রেমের টানে চীনা নাগরিকের বিয়ে, ধর্মান্তরিত হয়ে মুক্তি
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে জনতার কাতারে নেমে এলেন প্রধানমন্ত্রী।
একই প্রাঙ্গণে মুসলমানদের ইউসুফগঞ্জ জামে মসজিদ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্রী শ্রী সাধুবাবা সম্ভুনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম পাশাপাশি অবস্থান করছে।
স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮৮৩ সালে একই আঙিনায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দুটির যাত্রা শুরু হয়। এ পর্যন্ত কোনো বিরোধ, তিক্ততা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি। স্থানীয়রা তাদের ঐতিহ্যকে জীবনের অংশ হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে ধারণ করে আসছেন।
আরো পড়ুন
আরও পড়ুন: ডাকতে গিয়ে যাত্রী দেখেন মিঠাপুকুরে অটোরিকশাচালক মারা গেছেন
পূজার ছুটিতে ফাঁকা সড়ক
স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন মোল্লা জানান, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে ইউসুফগঞ্জ জামে মসজিদে নামাজ পড়ি। পূজা ও নামাজ নিয়ে কখনও কোনো বিরোধ সৃষ্টি হতে দেখিনি। দুই উপাসনালয়েই কমিটি রয়েছে। কমিটি যার যার উপাসনার সময় সমন্বয় করে থাকে। আমাদের মধ্যে এক গভীর সম্প্রীতির বন্ধন রয়েছে।’
ইউসুফগঞ্জ জামে মসজিদের ইমাম সাঈদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে একই প্রাঙ্গণে মসজিদ ও মন্দির। বহু বছর ধরে এখানে নামাজ ও পূজা-অর্চনা পাশাপাশি হয়ে আসছে। কখনও কোনো বিভেদ সৃষ্টি হয়নি। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আমাদের নামাজের সময় সহায়তা করেন, আমরাও তাদের পূজার সময় সহায়তা করি। এর মধ্য দিয়ে এখানে গভীর ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয়েছে।’
আরো পড়ুন
আরও পড়ুন: দৌলতপুরে মসজিদের মাইকে ডেকে ১২ দোকান ও গোডাউন ভাঙচুরের অভিযোগ
মণ্ডপের প্রতিমায় থিম ‘অভয়া’, দেয়ালে প্রতিবাদের ভাষা।
শ্রী শ্রী সাধুবাবা সম্ভুনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজয় দাশ হরি বলেন, ‘আজান ও নামাজের সময় শ্রদ্ধাপূর্বক নীরবতা পালন এবং ধর্মীয় উৎসবে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতিই আমাদের ঐক্যের মূল ভিত্তি। আমরা নামাজের সময় পূজা ও বাদ্য বাজানো বন্ধ রাখি। তারা (মুসল্লিরা) আমাদের পূজায় সহায়তা করেন।’
শ্রী শ্রী সাধুবাবা সম্ভুনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ দত্ত বলেন, ‘আমরা সবাই যার যার ধর্ম পালন করি। আমাদের মাঝে কোনো ভেদাভেদ নেই। আমরা পূজার সময় অনুষ্ঠান করি; তাদের ইবাদতের সময় আমরা সব কিছু বন্ধ রাখি।’
আরো পড়ুন
আরও পড়ুন: ঢাকায় তিন দিনের সফরে এলেন চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং
মণ্ডপের দেয়ালে শিল্পকর্মে বাবার আত্মত্যাগের গল্প।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত জানান, দীর্ঘদিন ধরে এখানে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মসজিদ ও মন্দিরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। তবুও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সোনারগাঁয়ের সব পূজামণ্ডপে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন