০৩:৫৫ পি.এম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় ফেরদৌস স্টীল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজের কারণে ৯ শ্রমিক নিহতের ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। এদিকে, সংগঠনটি দাবি জানিয়েছে যে ইয়ার্ডটির সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে, ছাড়পত্র-অনুমতিপত্র এবং লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বানও জানিয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ফেরদৌস স্টীল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের মালিক এবং শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ পাঠিয়েছে।
নোটিশের মধ্যে উল্লেখ করা হয়, ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টীল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে ‘আরএএসআই’ নামের একটি জাহাজ (আইএমও নং. ৯১৭৬০০৮) কাটার জন্য আনা হয় এবং এই প্রক্রিয়ার সময় গ্যাস লিকেজে অন্তত ৯ শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, শ্রমিকরা অত্যন্ত বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বেলা দাবি করেছে, এই ইয়ার্ডে এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অন্তত পাঁচবার একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রশিক্ষণহীন ও অদক্ষ শ্রমিকরা নিহত ও আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নতুন এবং নিরাপত্তা সামগ্রী ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিলেন না।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
নোটিশে আরো বলা হয়েছে যে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায় এবং আদেশে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো যে জাহাজভাঙা কার্যক্রমে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, জাহাজ আমদানি করতে হলে নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে এবং কালো অথবা ছাই তালিকাভুক্ত দেশ থেকে জাহাজ আমদানি নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। কিন্তু এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় একই ইয়ার্ডে বারবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গ্যাস-ফ্রি সার্টিফিকেশন নিশ্চিত না করেই জাহাজটি ভাঙার জন্য অনুমতি দেওয়াকে আদালতের আদেশের চরম লঙ্ঘন এবং আদালত অবমাননার শামিল বলে উল্লেখ করেছে বেলা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মনিরা পারভীন বলেন, ফেরদৌস শিপইয়ার্ড মৃত্যুর ঘটনায় বেলার পক্ষ থেকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আমরা ফেরদৌস স্টীল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ, ইয়ার্ডটির জন্য দেওয়া ছাড়পত্র, অনুমতিপত্র এবং লাইসেন্স বাতিল, এছাড়া আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যভাবে আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছি। এসব বিষয়ে পদক্ষেপ আগামী ১৯ আগস্ট (বুধবার) সকাল ১০টার মধ্যে বেলাকে জানাতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন