ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বান্দরবানের ৫ শতাধিক পরিবার সুপেয় পানির আওতায়


বান্দরবানের ৫ শতাধিক পরিবার সুপেয় পানির আওতায়

বান্দরবান সদর উপজেলার ডলুপাড়া ও রাজবিলা ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনের জন্য নেওয়া হয়েছে একটি নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন পৃথক দুটি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

এদিকে, দুর্গম পাহাড়ি জনপদে পরিবেশিত যেখানে প্রতিদিনই মানুষকে নিরাপদ পানির জন্য দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয়। পাহাড়ের ঢালে বসতি, এক পাশে খাড়া পাহাড় এবং অন্য পাশে ঝিরি-ছড়া, এ ধরনের ভৌগোলিক বাস্তবতায় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা বরাবরই চ্যালেঞ্জের। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে যখন ঝিরি-ছড়ার পানি কমে যায়, তখন অনেক পরিবারকে দূরবর্তী উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হন নারী ও শিশুরা। এসব এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সুপেয় পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এলাকাবাসীদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের ডুলুপাড়া ও রাজবিলা ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কাছাকাছি প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের অন্তত ১০ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে এসব এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট বিদ্যমান ছিল। ঝিরির শুকিয়ে যাওয়া উত্তরাধিকার হিসেবে দুর্গম পথ হেঁটে পানি সংগ্রহ করা প্রতিদিনের অত্যাচার হয়ে উঠেছিল। পানি সংকট প্রতিরোধের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অর্থায়নে সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ডলুপাড়া ও রাজবিলার ইসলামপুর এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

এছাড়া, নলকূপ থেকে উত্তোলন করা পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির হাউস। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব পানির হাউস থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এলাকার বাসিন্দাদের কাছে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হবে। এতে দীর্ঘকাল ধরে পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় সুপেয় পানির জন্য ভোগান্তিতে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে, বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা বাদশা মিয়া জানান, ইসলামপুর এলাকায় পাঁচটি গ্রাম রয়েছে। গ্রীষ্মকাল এলেই পানি সংগ্রহের জন্য অনেক দূরে যেতে হত। কষ্ট হতো, একইসাথে পানির জন্য প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হতো। এখন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল হাউজ তৈরি করে দিচ্ছে। কাজটি শেষ হওয়া পর্যন্ত পানি সংগ্রহের জন্য আর সমস্যা হবে না।

চেমী ডুলু পাড়ার বাসিন্দা উচপ্রু মারমা জানান, এখানে প্রায় ৩০০টি পরিবার বাস করে। শুষ্ক মৌসুমে পানির জন্য কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করতে হতো। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পানি লাইনে দাঁড়িয়ে পানি পেতাম। এখন সরকার থেকে পানির হাউজ করে দিচ্ছে, কাজটি শেষ হলে আশা করি এলাকাবাসীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ডলুপাড়া ও রাজবিলার ইসলামপুর এলাকায় স্থাপন করা হবে ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির হাউস ও দুটি ডিপ টিউবওয়েল। এ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজিত অর্থের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫ লাখ টাকা। ইতোমধ্যেই ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে এবং হাউস নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এসব পানির হাউস থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এলাকার বাসিন্দাদের কাছে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা হবে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাজ ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। দুই গ্রামে দুটি ডিপটিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ে কাজটি শেষ হতে পারলে এলাকাবাসীর সুপেয় পানির সমস্যা লাঘব হবে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে জানান, দুই গ্রামে প্রায় দশ হাজার মানুষের বসবাস। যেখানে শুষ্ক মৌসুমে পানির জন্য হাহাকার থাকে। সেসব এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি গ্রামে ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির হাউস স্থাপন করা হবে। কাজটি সম্পন্ন হলে এলাকাবাসীদের পানি দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে, এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনে চাকরির জন্য যেসব সুবিধা প্রাপ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১১ পি.এম


আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনে চাকরির জন্য যেসব সুবিধা প্রাপ্য

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন দাঈ পদে নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রার্থীকে অবশ্যই স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে তাকমিল, কামিল বা ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। যে প্রার্থীরা নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন, তাদের জন্য b৮ থেকে ২৫ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া, চাকরির সঙ্গে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, বছরে দুটি ঈদ বোনাস, এবং বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধির সুযোগও থাকবে। আগ্রহী প্রার্থী অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

পদের নাম ও বিবরণ হল:

প্রতিষ্ঠানের নাম: আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন

পদের নাম: দাঈ

পদসংখ্যা: ৭

চাকরির ধরন: বেসরকারি, প্রকল্পভিত্তিক

শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে তাকমিল, কামিল বা ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রয়োজন।

অন্যান্য যোগ্যতা:

- ইসলামি জ্ঞান ও দাওয়াহ সম্পর্কে সুদৃঢ় ধারণা রাখতে হবে।

- এমএস অফিস, গুগল ওয়ার্কস্পেস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

- যোগাযোগ দক্ষতায় পারদর্শী হতে হবে।

- মাঠপর্যায়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করার মানসিকতা ও শারীরিক সক্ষমতা থাকতে হবে।

দায়িত্বসমূহ:

- আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের অধীনে দেশব্যাপী দাওয়াহভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা।

- মানবসেবা বিভাগের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প পরিচালনা।

- মাঠপর্যায়ে উপকারভোগীদের দ্বীনি ও নৈতিক তদারকি করা।

- আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের নীতি ও আদর্শ মেনে চলা।

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন।

বেতন: ১৮,০০০-২৫,০০০ টাকা।

অন্যান্য সুবিধা: থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, বছরে দুটি ঈদ বোনাস এবং বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধির সুযোগ।

কর্মস্থল: দেশের যেকোনো স্থান।

আবেদন যেভাবে: অনলাইনের মাধ্যমে।

আবেদনের সময়সীমা: ২৩ আগস্ট।

নির্দেশনা:

প্রাথমিক সাক্ষাৎকার এবং প্রযুক্তিগত ও ইলমী যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হবে।

সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের ৩ দিনের আবাসিক ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করতে হবে।

ক্যাম্পের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৭ জনকে ১ বছরের প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে।

সন্তোষজনক কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে ১ বছর পর চাকরি স্থায়ী হতে পারে।

আবেদন করার জন্য এবং বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেখ হাসিনা ভারত কি প্রক্রিয়ায় আছেন, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বাংলাদেশে নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১২ পি.এম


শেখ হাসিনা ভারত কি প্রক্রিয়ায় আছেন, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বাংলাদেশে নেই

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক কী প্রক্রিয়ায় অথবা কোন স্ট্যাটাসে সেখানে আছেন সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বাংলাদেশের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেছেন, শেখ হাসিনা বিচার প্রক্রিয়ায় দণ্ডপ্রাপ্ত। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে তাকে দেশে ফিরানোর জন্য ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে নিয়ে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে- এমন খবর প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, সংবাদমাধ্যমটি সঠিকভাবে উল্লেখ করেনি, শেখ হাসিনা কি রাজনৈতিক আশ্রয়ে ভারতে আছেন বা ঠিক কী স্ট্যাটাসে সেখানে অবস্থান করছেন। এ জন্য ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মন্তব্য করা সঠিক হবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত জানে না শেখ হাসিনা ভারতে কি স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন। এর ফলে ভারতীয় আদালতের অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করা হবে, সেটিও পরিষ্কার নয়।

এই সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, ভারতের মেঘালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থান ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিষয়টির কোনো সম্পর্ক আছে কি না। এর জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, দুই বিষয়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি জানান, সালাহউদ্দিন আহমেদকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে ভারতের শিলংয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তিনি খালাস পান। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

এছাড়াও তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে ভূমিকার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে তাদের ভূমিকার কারণে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এসব অপরাধের দায় আসামিদের নিতে হবে এবং ট্রাইব্যুনাল তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন, এ ব্যাপারে তারা প্রত্যাশা করছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত থেকে ইরান সংক্রান্ত গুজব ছড়ানো হয়েছে, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রে সৃষ্টি হয়েছে হুলস্থুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


ভারত থেকে ইরান সংক্রান্ত গুজব ছড়ানো হয়েছে, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রে সৃষ্টি হয়েছে হুলস্থুল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মধ্যে উত্থিত উত্তেজনার মাঝখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি ভুয়া তথ্য আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। একটি অজ্ঞাত এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ভারতের মাধ্যমে ছড়ানো ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কিত একটি ভিত্তিহীন বক্তব্য, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি গণমাধ্যম, শীর্ষ রাজনীতিবিদ, এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

ভুয়া ওই তথ্যের ফাঁদে পড়ে যান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও। এক বক্তৃতায় তিনি এই ভিত্তিহীন দাবিকে ইরানের পারমাণবিক বোমার তৈরির প্রথম প্রকাশ্য প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু পরবর্তীকালে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হলে আন্তর্জাতিক সমাজে তীব্র হাস্যরস এবং আলোচনা শুরু হয়।

এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৫ আগস্ট। ভারতের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে দাবি করা হয়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ভাহিদি জানিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইরানও তার নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। পোস্টটির সঙ্গে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি পারমাণবিক বিস্ফোরণের একটি ছবি যুক্ত করা ছিল। তবে তদন্তের মাধ্যমে জানা যায়, ওই কর্মকর্তার দ্বারা এমন কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি।

ভারতের অ্যাকাউন্ট থেকে এই তথ্য ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই ইসরায়েলি এবং মার্কিন গণমাধ্যম ও রাজনীতিবিদরা কোনও যাচাই ছাড়াই এই খবরকে বিশ্বাস করেছিলেন। 'মোসাদ কমেন্টারি' নামক একটি এক্স অ্যাকাউন্ট এবং ইসরায়েলের 'চ্যানেল ১৪' এর মাধ্যমে খবরটি প্রচার হওয়ার পর নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু তা শেয়ার করেন। তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার সরকারি বক্তৃতায় সেই ভুয়া দাবির উল্লেখ করেন।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির মধ্যে সেই গুজবের হাওয়া মাধ্যমেও প্রবাহিত হয়। ট্রাম্প প্রশাসনে সাবেক জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এবং রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট ভুয়া পোস্টটি শেয়ার করে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজও বিষয়টি সম্প্রচার করে। কিন্তু সত্যতা উদঘাটিত হলে মাইক ওয়াল্টজ তার পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং ফক্স নিউজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে যে খবরটি 'ভুল ও যাচাইহীন' ছিল।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ঘটনা সম্পর্কে বলেছেন যে এটি 'ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যার বন্যা' এবং তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি বিশ্বরাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের 'ন্যারেটিভ লন্ডারিং'-এর একটি বড় উদাহরণ, যেখানে একটি ভুয়া তথ্য একের পর এক অসাধু চক্র এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হাত ঘুরে বিশ্বমঞ্চে একটি সাময়িক সত্য হওয়ার চেষ্টা করেছিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোবাইল ফোন নাপাক পানিতে পড়লে পবিত্র করবেন যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


মোবাইল ফোন নাপাক পানিতে পড়লে পবিত্র করবেন যেভাবে

দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য মোবাইল ফোন একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। তবে দুর্ঘটনাবশত যদি মোবাইল নাপাক পানিতে পড়ে যায়, তবে তা পবিত্র করতে এবং নামাজে এই মোবাইল ব্যবহার করা যাবে কি না, এ নিয়ে অনেকের মনেই দ্বিধা দেখা দেয়।

সম্ভবত মোবাইল একটি সংবেদনশীল ও মূল্যবান ইলেকট্রনিক যন্ত্র হওয়ার কারণে, এটি সাধারণ কাপড়ের মতো পানিতে ভিজিয়ে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। ইসলামী আইনশাস্ত্র বা ফিকহের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, মোবাইল হলো একটি 'সাকিল' বা মসৃণ ও অছিদ্রযুক্ত বস্তু। যদি আয়না, কাচ, মসৃণ ধাতু বা প্লাস্টিকের মতো বস্তুর বাহ্যিক আবরণে নাপাকি লাগে তবে তা ভালোভাবে দূর করার মাধ্যমে সেই বস্তু পবিত্র হয়ে যাবে।

ফিকহি বিধানের আলোকে মোবাইল ফোন পবিত্র করার জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট নিয়ম নিচে আলোচনা করা হচ্ছে:

পানি দিয়ে ধোয়ার ক্ষেত্রে:

মোবাইলের যে অংশ পানি দ্বারা নষ্ট হয় না (যেমন ওয়াটারপ্রুফ কভার বা ব্যাককেসিং), সেটি যদি পানি দিয়ে তিনবার ধোয়া হয়, তবে সেটি পবিত্র হয়ে যাবে।

পানি ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে:

মোবাইলের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ যদি পানির সংস্পর্শে আসে, তবে সেগুলি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সে ক্ষেত্রে সরাসরি পানি ব্যবহার না করে অন্য উপায় অবলম্বন করাই শ্রেয়।

ভেজা কাপড়ের ব্যবহার: পরিষ্কার পানির হালকা আর্দ্রতাযুক্ত কাপড় বা টিস্যু পেপার দিয়ে নাপাক স্থানটি ভালোভাবে তিনবার মুছে নিলে সেই বস্তু পবিত্র হবে।

অন্যান্য তরলের ব্যবহার: হ্যান্ড স্যানিটাইজার, থিনার বা পেট্রলের মতো পবিত্র তরল দ্রাবক ব্যবহার করে নাপাক অংশটি তিনবার পরিষ্কার করা যেতে পারে।

তবে কাপড় বা তরল দিয়ে মোছার সময় একটি শর্ত রয়েছে, সেটি হলো, প্রতিবার মোছার পর স্থানটি শুকাতে সময় দেওয়া উচিত। অর্থাৎ, একবার মুছে শুকানোর পর দ্বিতীয়বার এবং শুকানোর পর তৃতীয়বার মুছে পবিত্র করতে হবে।

অভ্যন্তরীণ সকেটে নাপাকি প্রবেশালে:

যদি নাপাক পানি মোবাইলের ভেতরের ক্ষুদ্র ছিদ্র বা সকেটে (যেমন চার্জিং পোর্ট, স্পিকার কিংবা হেডফোন জ্যাক) ঢুকে যায়, তবে সেখানে শুধুমাত্র ওপরের অংশ মোছা যথেষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে ভেতরে জমা নাপাকিও অবশ্যই দূর করতে হবে।

এসব নিয়ম অনুসারে মোবাইল ফোনকে পুরোপুরি নাপাকিমুক্ত করার পরে তা সাথে নিয়ে নামাজ আদায় করা যাবে। তবে, নাপাকি দূর না করে সেই মোবাইল পকেটে রাখা বা সঙ্গে নিয়ে নামাজ আদায় করা হলে নামাজ শুদ্ধ হবে না। (সূত্র: ফতোয়া-ই-শামি: ১/২৮২, ফতোয়া-ই-হিন্দিয়া: ১/৩৯)

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%