মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:১২ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন ৬৫০ জন, যাদের মধ্যে সাবেক বিচারপতি, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, কওমি আলেম এবং বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দাওয়াতি সমাবেশের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। জামায়াতের মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নতুন সদস্যদের ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে বরণ করে নেন প্রধান অতিথি বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।
জামায়াতে যোগদানকারীদের মধ্যে সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. এএসএম খালেকুজ্জামান, সাবেক সেনাকর্মকর্তা কর্নেল ফারুক হোসাইন, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক এসপি ওবায়দুল হক এবং জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ অন্তর্ভুক্ত আছেন।
এছাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান, মো. ফিরোজ আলম খান, সিনহা এ খালিদ, হাজী শাহ আলম, আবদুর রাজ্জাক সোহাগ ও ডা. হুমায়ন কবিরও জামায়াতে যোগদান করেন।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বংশাল থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার, ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান বাবু, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাজী আলতাব হোসেন, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জাবেদ ওমর এবং ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক মোছলেহ উদ্দিন আহমেদ রয়েছেন।
গেন্ডারিয়া লাল খাঁ সিটি মসজিদের সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহ কোল্লল এবং বাংলাদেশ নূরানী শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিনও জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।
কওমি আলেমদের মধ্যে মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানী, মাওলানা এনামুল হক আজাদী, মাওলানা আব্দুর রহমান আল হাবিবী, মাওলানা মো. জসিম উদ্দিন (রসুলপুরী) ও মাওলানা হাসান জামিল উল্লেখযোগ্য।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট ড. এএসএম খালেকুজ্জামান, সাবেক বিচারপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিদুর রহমান, মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান এবং বংশাল থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির এবং অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপিসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক মুহা. মহিউদ্দিন খান মন্তব্য করেছেন, ‘যে জাতি তার বীরদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে জানে না, সেই জাতিতে আর কখনো কোনো বীর সন্তান জন্ম নেয় না। শহীদ ওসমান হাদি ছিলেন আমাদের তেমনি এক হার না-মানা বীর, যিনি জুলাইয়ের পূর্ববর্তী সময় থেকে পরবর্তী সময় পর্যন্ত এই দেশের পুনর্গঠনের জন্য মৃত্যু অবধি প্রাণপণ লড়াই করে গেছেন।’
তিনি শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির বক্তব্য সংকলন ‘বারুদমাখা কথামালা’ বইয়ের বাণীতে এই কথা বলেন। উল্লেখ্য, ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এই সংকলনটি সম্পাদনা করেছেন।
মহিউদ্দিন খান আরও বলেন, ‘বিরোধী মত, রাজনৈতিক দল কিংবা ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ—বিএনপি, জামায়াত কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল; হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিস্টান কিংবা ডান-বাম—সবার মত ও অবস্থানকে তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে যৌক্তিকভাবে পর্যালোচনা করেছেন। কিন্তু তার সেই পর্যালোচনায় কখনো হিংসাত্মকতা বা আক্রমণাত্মক মনোভাব ছিল না। তিনি যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং তার বক্তব্যকে যুক্তির মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন।’
‘তার প্রতিটি কথায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে দেশ গঠন এবং আমরা জাতি কীভাবে আবার শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারি, সেই চিন্তা। তার প্রতিটি কথামালার মধ্যে এমন শিক্ষা রয়েছে, যা ধারণ করতে পারলে প্রত্যেক মানুষ নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারে।’
ডাকসুর এজিএস বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির কথামালার চর্চা অত্যন্ত জরুরি। তার চিন্তা ও বক্তব্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। খুনিরা শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে, কিন্তু তার লেখা, তার চিন্তা ও তার আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। আমরা যদি সেগুলোর চর্চা অব্যাহত রাখতে পারি, তাহলে তিনি শতবর্ষ পরেও, শতাব্দীর পর শতাব্দী আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আট বছর পর সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে ওমানের সালামএয়ারের মাস্কাট-সিলেট ফ্লাইটের অবতরণের মাধ্যমে এই ফ্লাইটগুলো আবার শুরু হয়।
সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে ১৩৩ জন যাত্রী নিয়ে সালামএয়ারের উড়োজাহাজটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। যাত্রীদের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে ২২৪ জন যাত্রী নিয়ে একই উড়োজাহাজটি মাস্কাটের উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করে।
এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে সালামএয়ার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ওমানের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর ফাতেহা আহমেদ আল বালুশী, সালামএয়ারের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার স্টিভেন এলেন, বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ লতিফ শাহরিয়ার জাহিদী এবং বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সালামএয়ারের সিলেট এরিয়া ম্যানেজার সেলিম আল রাজী।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর ইতিহাস দীর্ঘ। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল প্রথম বিদেশি এয়ারলাইন্স হিসেবে দুবাইভিত্তিক ফ্লাইদুবাই সিলেট থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। তবে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সিলেট রুটে তাদের ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর দীর্ঘ সময় ধরে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্স নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করেনি। ফলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিতি থাকলেও বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছিল।
সালামএয়ারের ফ্লাইট চালুর ফলে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। মাস্কাটের সঙ্গে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ায় সিলেটের যাত্রীদের জন্য ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সালামএয়ারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে মাস্কাট-সিলেট রুটে সপ্তাহে তিনটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। আগামী মাস থেকে এ সংখ্যা বাড়িয়ে সপ্তাহে পাঁচটি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এয়ারলাইনটি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে সপ্তাহের প্রতিদিনই এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সালামএয়ারের পর চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এয়ার আরাবিয়া, ফ্লাইদুবাইসহ আরও কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন্স সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে পারে।
বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় সিলেটের প্রবাসী যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার পর, আফগানিস্তানের নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর লাশ ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থান থেকে ১৪০ দিন পর উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশটি উত্তোলন করা হয়। এটি আফগানিস্তান থেকে আসা তার ছোট ভাই ইমাল মোহাম্মদীর কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে, যাতে তিনি স্বদেশে গিয়ে ভাইয়ের লাশ দাফন করতে পারেন।
লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান, মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা তাসনিম, ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহেশপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) টিপু সুলতান, নিহতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম, নিহত হাসমত মোহাম্মদীর ভাই ইমাল মোহাম্মদী, ঝিনাইদহ আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের দুলাল হোসেন এবং সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা।
নিহত হাসমত মোহাম্মদীর ভাই ইমাল মোহাম্মদী লাশ হাতে পাওয়ার পর আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বাংলাদেশ সরকার, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "অসুস্থ মায়ের কাকুতি মিনতির কারণে আমার ভাইয়ের নিথর লাশটি অন্তত নিজের দেশের মাটিতে নিয়ে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করতে নিয়ে যাচ্ছি, এটাই আমাদের জন্য পরম সান্ত্বনা।" তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘ প্রতীক্ষায় বাংলাদেশ সরকার ও ঝিনাইদহের স্থানীয় প্রশাসন আমাদের যে আন্তরিক সহযোগিতা করেছে, তার জন্য আমরা চিরকৃতজ্ঞ।"
নিহতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম জানান, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং আইনি সকল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আজ লাশ উত্তোলন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, "সাংবাদিকদের জোরালো সংবাদ প্রকাশ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে পুরো বিষয়টি দ্রুত দাপ্তরিক গুরুত্ব পেয়েছে।"
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান জানান, আইনগত সকল নিয়ম-কানুন মেনে এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিশ্চিত করে আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে হাসমত মোহাম্মদীর ভাসমান অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। পিবিআই জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজে কোনো মিল না পাওয়ায় ১৪ এপ্রিল অঞ্জনমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ হিসেবে ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে পরিবার তাকে শনাক্ত করে।
লাশ স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে তার ভাই ইমাল মোহাম্মদী প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ দীর্ঘ ৫৮ দিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। অবশেষে মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র প্রাপ্তির পর মঙ্গলবার দাফনের ১৪০ দিন পর লাশটি তুলে স্বদেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন স্বজনেরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিতে আসা কওমি মাদরাসার আলেমদের উদ্দেশ্যে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আপনি কওমিতেই থাকবেন এবং জামায়াতে ইসলামীতেও থাকবেন।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জামায়াত কওমি অঙ্গনকে আলাদা করে দেখে না এবং তাদের দ্বীনি খেদমতকে কখনো ছোট মনে করে না।’
মঙ্গলবার রাজধানী কাকরাইলে আইডিইবি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক দাওয়াতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি আসার পর দুই ভাইয়ের কাছ থেকে কিছু অনুযোগ-আক্ষেপ শুনলাম। একজন ভাই বলেছেন, তিনি কওমি থেকে জামায়াতে ইসলামীতে এসেছেন। আমি বলব, আপনি কওমিতে থাকবেন এবং জামায়াতে ইসলামীতেও থাকবেন ইনশাল্লাহ। কারণ, আমরা কওমিকে আলাদা করে দেখি না। আমরা তাদের দ্বীনি খেদমতকে ছোট মনে করি না। তাদের জন্য অন্তর থেকে দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের খেদমতে আরো বেশি বারাকাহ দান করেন।’
জামায়াত আমির সংসদে কওমি আলেমদের অধিকারের পক্ষে কথা বলাকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এটা ব্যক্তিবিশেষ বা সমাজের একটি অংশকে খুশি করার জন্য আমরা এই কথাগুলো বলি না। এই কথাগুলো আমাদের বিবেকের দায়বোধের জায়গা থেকে বলি। এবং আগামীতেও বলে যাব ইনশাআল্লাহ।’
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আল্লাহ সত্যিকারের বুঝ তাদেরকে দান করুন। আমি এ সমাজের মানুষের কোনো অকল্যাণ চিন্তা করি না। সবসময় চেষ্টা করি, মানুষের ক্ষতি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার। অন্ততপক্ষে কিছুটা হলেও মানুষের উপকার করতে পারি কিনা সেই চেষ্টাটা করি।’
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দৃঢ় বার্তা দেন, ‘কোনো বাতিলের সঙ্গে আপস করবেন না, কারও কাছে মাথানত করবেন না। চলার পথে বাধা আসবে, জীবন দেওয়ার সময় আসবে। ইনশাআল্লাহ, এ দেশে কোরআনের আইন কায়েম হবে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে যেমন এক ছাদের নিচে আছি, পরকালে আল্লাহ যেন আমাদের গুনাহ মাফ করে এক ছাদের নিচে রাখেন।’
দাওয়াতি এই সমাবেশে কওমি মাদরাসার শিক্ষক, আইনজীবীসহ নানা পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নতুন যোগদানকারী নেতাকর্মীদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জামায়াতের নেতারা। পরে যোগদানকারী কয়েকজন নেতাকর্মী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ