০৫:৫০ পি.এম
চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসলামাবাদ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাকিস্তান ইতোমধ্যে ইরানকে জানিয়ে দিয়েছে, সৌদি আরবে হুতিদের হামলাকে পাকিস্তানের উপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ‘আমাদের শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক নেতারা সর্বোচ্চ পর্যায়ে ইরানকে জানিয়ে দিয়েছেন, সৌদি আরবের ওপর হামলা মানেই পাকিস্তানের ওপর হামলা। এটাই আমাদের রেড লাইন।’
পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান, যারা গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে মধ্যস্থতা করতে সাহায্য করেছিল, তারা গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনকে নিজেদের ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করবে।
সোমবার, হুতিরা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি বিমানবন্দরে বোমা হামলার অভিযোগ এনে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে হুতিরা দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলি চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে, তবে এখন পর্যন্ত তা একটিমাত্র ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এই প্রতিবেদনের জন্য সাক্ষাৎকার দেয়া সূত্র ও অন্যান্য পাকিস্তানি কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, কারণ তাদের প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি ছিল না।
‘পাকিস্তান আশা করেনি যে উত্তেজনা এত আকস্মিকভাবে বেড়ে যাবে,’ একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
দুইজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের ইয়েমেন সীমান্তের কাছে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যা তাদের সরাসরি ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
ইসলামাবাদে এই উদ্বেগও রয়েছে যে, হুতিদের নেতৃত্বে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে লোহিত সাগরে নৌচলাচল ব্যাহত হতে পারে, যা পাকিস্তান ও অন্যান্য অনেক দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ।
আরেকজন বিশ্লেষক বলেছেন, আপাতত পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা সকল পক্ষকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি হুতিরা সৌদি আরবে তাদের আক্রমণের সীমা বাড়ায় তবে এই পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে।
গত সেপ্টেম্বরে যখন সৌদি আরবের সাথে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘোষণা করা হয়, তখন এটিকে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চয়তাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সন্দেহ প্রকাশের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল এবং পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের দিকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে দেখার অনুমান করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্লেষক ও কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার উদ্দেশ্য কূটনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং সরবরাহ পথগুলো পুনরায় চালু করা।
‘যুদ্ধ শেষ হওয়া সকলের জন্য মঙ্গলজনক, কিন্তু সৌদি যদি আমাদের ডাকে, আমরা তাদের পাশেই থাকব এবং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’ মধ্যস্থতা সম্পর্কে অবগত পাকিস্তানের একটি সূত্র এমনটাই জানিয়েছে।
সূত্র: জিও নিউজ
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন