বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১০ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসিকে একটি ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করে এর সকল সদস্যকে পদত্যাগ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় এই আহ্বান জানান।
ট্রাম্প উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক বাহিনী বা অন্য কাউকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের দ্বারা তদন্ত বা বিচারের সম্মুখীন হতে দেবে না, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এখতিয়ার নেই।
এই কারণেই তিনি আইসিসির সব সদস্য রাষ্ট্রকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার জন্য আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, তারা বিশ্বের প্রকৃত নৃশংসতার দিকে মনোযোগ না দিয়ে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি এবং অভিবাসন প্রয়োগ সংক্রান্ত মার্কিন নীতির সমালোচনা করছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, বিশ্বজুড়ে ‘খ্রিস্টানদের ওপর নিপীড়ন’ চললেও এই বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ নীরব রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
"এক বাড়িতে বিএনপি করলে সবার বিএনপি হতে হবে।" এই মন্তব্যটি করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। তিনি উল্লেখ করেন, "এক ভাই বিএনপি করবেন, এক ভাই ফ্যাসিস্টের দল করবেন, আরেক ভাই গুপ্তের দল করবেন— তা চলবে না। আমার বার্তা স্পষ্ট। আপনারা কিন্তু পার পাবেন না।"
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "যারা ফ্যাসিস্ট বা রাজাকার ছিল, তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তাদের সঙ্গে কোনো আত্মীয়তা থাকলে, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করতে হবে।"
তিনি বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, "ফ্যাসিস্টদের কারণে আমাদের নেত্রী, আমাদের অভিভাবক, আমাদের দেশের মা বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। সেই ফ্যাসিস্টদের আপনারা প্রশ্রয় দেবেন, তাদের সঙ্গে আত্মীয়তা করবেন— সেই দিন শেষ। একদম শেষ।"
সভায় কাউখালী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছেন ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে। একই সঙ্গে, তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে সরকারের চলমান উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাংককে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের দিন, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গারের সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিটের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের বিদ্যমান সম্পর্ক ও অংশীদারিত্ব এবং দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিশ্বব্যাংকের কাঠামোর মধ্যে থেকে কীভাবে আরও সহযোগিতা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা আরও বিস্তৃত করার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে এসেছে।
বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসব কর্মসূচিতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে।
তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। বিশ্বব্যাংককে সঙ্গে নিয়ে এসব কার্যক্রম কীভাবে আরও বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।
এছাড়া, বৈশ্বিক ও বহিরাগত বিভিন্ন ধাক্কার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া চাপ এবং তেল-গ্যাসের সরবরাহব্যবস্থায় সৃষ্ট সমস্যার বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে। এসব সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।
বহিরাগত এসব সংকটের কারণে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে ‘ক্রিটিক্যাল সাপোর্ট’ চাওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বিষয়টি দেখবে বলে আশ্বস্ত করেছে।
বৈঠকে উপস্থিত অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আলোচনার মধ্যে বেশ কিছু বিষয় উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ইত্যাদিসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি নিয়েছেন— এগুলো বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। এগুলোতে বিশ্বব্যাংকের সমর্থন থাকবে। বিশেষ করে ইয়াং এন্টারপ্রেনারশিপের যেসব প্রোগ্রাম আছে, সেখানে আমরা বেশ কিছু প্রোগ্রাম রোলআউট করেছি। ৫০ শতাংশ গ্র্যান্ট ও ৫০ শতাংশ কনসেশনাল লোনে আগামী দিনে এই প্রোগ্রাম কীভাবে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে মিলে বড় আকারে করতে পারি তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইয়াং এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট ও তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।
এর আগে, মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য আয়োজিত স্বাগত নাশতায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কেও অংশ নেন।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের বিভিন্ন রুটে সরকার গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা শুরু হয়ে গেছে। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে এই নৈরাজ্য শুরু হয়েছে এবং এখনও অব্যাহত রয়েছে। এ সময় ঢাকার বিভিন্ন বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ২০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসে ৫০ থেকে ১০০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটেও ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ের কারণে কোথাও কোথাও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
গত রোববার রাতে সরকার ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এর ফলে পরদিন সোমবার সকাল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার বাস, মিনিবাস ও লেগুনায় বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু হয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালেও রাজধানীর রায়সাহেব বাজার, গুলিস্তান, পল্টন ও শাহবাগ এলাকার বিভিন্ন বাসে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। মঙ্গলবার বিকালে কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায় সরকার।
মঙ্গলবার দুপুরে সায়েন্সল্যাব থেকে সাভার পরিবহণের একটি বাসে রায়সাহেব বাজারে পৌঁছান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তিনি জানান, আগে ২০ টাকা ভাড়া দিলেও মঙ্গলবার ২৫ টাকা চাওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বাসের স্টাফদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা-কাটাকাটিও হয়।
তিনি আরও বলেন, ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তার আগেই বাড়তি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীদের ওপরই এর চাপ পড়ছে। নতুনবাজার থেকে ভিক্টর পরিবহণের একটি বাসে গুলিস্তানে আসেন আফতাব আহমেদ। তার কাছ থেকে ৩০ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা নেওয়া হয়। তিনি মনে করেন, ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলে নিয়ম মেনে বাড়ানো উচিত। কিন্তু সিদ্ধান্তের আগেই বেশি টাকা নেওয়া ঠিক নয়।
এ দিন মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশন থেকে ৮ নম্বর বাসে ওঠেন বেসরকারি চাকরিজীবী মহিউদ্দিন। তিনি দৈনিক বাংলা মোড়ে নামেন। এই পথে এতদিন ১০ টাকা ভাড়া দিতেন। কিন্তু ২০ টাকার নোট দেওয়ার পর কন্ডাক্টর তাকে ফেরত দেন ৫ টাকা। কন্ডাক্টর দাবি করেন, সর্বনিম্ন ভাড়া ১৫ টাকা করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, সরকার বাসভাড়া বাড়িয়েছে কিনা। এক কিলোমিটারের কম পথের জন্য কেন ৫ টাকা বেশি নেওয়া হবে? এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
সাইনবোর্ড থেকে নতুনবাজারগামী ইকবাল পরিবহণের এসি বাসে ১০০ টাকার পরিবর্তে ১২০ টাকা নেওয়া হয়। ওই বাসের যাত্রী ইব্রাহিম খলিল জানান, তিনি প্রতিদিন ১০০ টাকা দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু এবার তার কাছ থেকে ১২০ টাকা রাখা হয়েছে। মহাখালী থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত বৈশাখী ও ভূঁইয়া পরিবহণে ১০ টাকার পরিবর্তে ১৫ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুলিস্তান থেকে বিমানবন্দরগামী পরিবহণেও ১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।
চিটাগাং রোড থেকে গুলিস্তানগামী বাসে ৫ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ ও সাইনবোর্ড থেকে চলাচলকারী মৌমিতা, ঠিকানা, অনাবিল ও লাভলী পরিবহণেও গন্তব্য অনুযায়ী ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। চিটাগাং রোড থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত লেগুনায় ২০ টাকার ভাড়া ২৫ টাকা এবং ২৫ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা করা হচ্ছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের বন্ধন ও উৎসব পরিবহণেও ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। এই রুটে ৫৫ টাকার পরিবর্তে যাত্রীদের কাছ থেকে ৬০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সোমবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, চকবাজার, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস, টেম্পো ও হিউম্যান হলারে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে যাত্রী ও পরিবহণকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। কাজীর দেউড়ি থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত এক কিলোমিটার পথে মিনিবাসের ভাড়া ছিল ৭ টাকা। সেখানে ১৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে। কোতোয়ালি মোড় থেকে জামালখান পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ টাকার ভাড়া বাড়িয়ে ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বহদ্দারহাট থেকে নতুন সেতু পর্যন্ত বাসের ভাড়া ছিল ১০ থেকে ১২ টাকা। সেখানে ১২ থেকে ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। একই পথে মাহিন্দ্রার ১৪ টাকার ভাড়া বাড়িয়ে ১৫ থেকে ২০ টাকা করা হচ্ছে।
কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ৩৫ টাকার ভাড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বহদ্দারহাট থেকে শিকলবাহা ক্রসিং পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত ভাড়া ২২ টাকা হলেও আদায় করা হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। পটিয়া রুটে ৫৯ টাকার ভাড়া ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং কেরানীহাট পর্যন্ত ১১২ টাকার ভাড়া ১৫০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাসযাত্রী নাসির উদ্দিন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম কমলে গণপরিবহণের ভাড়া কমানো হয় না। কিন্তু দাম বাড়লে রাতারাতি ভাড়া বেড়ে যায়। গ্যাসচালিত গাড়িতেও ডিজেলচালিত বাসের মতো বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহনকারী লঞ্চ মালিকদের সংগঠন। সংগঠনটি প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৫০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি করেছে।
১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে ২ টাকা ৫২ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ৪ টাকা ২ পয়সা করার দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নৌপরিবহন, রেলপথ ও সেতু বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে একটি চিঠির মাধ্যমে এই দাবি জানানো হয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থার পক্ষ থেকে। চিঠিতে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট গোলাম নবী আলমগীর স্বাক্ষর করেছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২১ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর ফলে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত লঞ্চগুলো সম্পূর্ণরূপে ডিজেল ও মবিলচালিত হওয়ায় পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
লঞ্চ মালিকরা জানান, বিআইডব্লিউটিএ ইতোমধ্যে বিভিন্ন ফি ও চার্জ বৃদ্ধি করেছে। এর মধ্যে কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ এবং বার্দিং চার্জ ১১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নৌযানের রুট পারমিটের আবেদন ফরমের ফিও ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি নৌযানের বিশেষ অনুমতি ফি, স্থগিত রুট পারমিট পুনর্বহাল চার্জ এবং মালিকানা, নাম বা রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তনের জন্য নতুনভাবে বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে যে, শ্রমিকদের মজুরি, ডিজি শিপিংয়ের সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশন ফি, নাম পরিবর্তন ফি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর ও ভ্যাটও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া লঞ্চ নির্মাণ ও পরিচালনায় ব্যবহৃত প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাস, রং ও স্পেয়ার পার্টসের দাম এবং ডকিংসহ বিভিন্ন খরচ ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে দাবি করেছেন লঞ্চ মালিকরা।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সারাদেশে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে যাত্রীরা এখন সড়কপথে বেশি যাতায়াত করছেন। এর ফলে লঞ্চের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। এতে লঞ্চ মালিকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
লঞ্চ মালিকরা জানান, ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা, ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে ৪ টাকা ২ পয়সা এবং যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় বর্ধিত ডিজেলের দাম বাতিল করার দাবি জানানো হয়েছে।
সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। নতুন দামে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির ফলে ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ