সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২৫ পি.এম
ঢাকাই শোবিজের পরিচিত মুখ, গায়ক ও অভিনেতা মুকুল জামিল আর নেই। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে আকস্মিকভাবে তার মৃত্যু ঘটে। তার মৃত্যুতে সহকর্মী এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মুকুল জামিলের মৃত্যুর খবর জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছে নাটকের অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সম্মানিত সদস্য মুকুল জামিলের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত এবং তার বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।
শোবিজের আরও অনেক শিল্পী ও কলাকুশলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন তার মৃত্যুতে। গায়ক ও সুরকার মোহাম্মদ মিলন এক আবেগঘন পোস্টে মুকুল জামিলকে স্মরণ করে জানান, তার এভাবে হঠাৎ চলে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তিনি উল্লেখ করেন, দেখা হলেই মুকুল তাকে বুকে জড়িয়ে ধরতেন এবং স্নেহের সঙ্গে কপালে চুমু দিতেন।
মোহাম্মদ মিলন আরও জানান, যদিও মুকুল জামিল মূলত একজন সংগীতশিল্পী, তবে তার ‘সেলফি’ গানে প্রথমবার মজার ছলে তাকে মডেল হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। এরপর মিলনের আরও বেশ কয়েকটি গানে অভিনয় করেছেন মুকুল।
শৈশব থেকেই রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল মুকুল জামিলের। তার বোনের হাত ধরেই সংগীতজগতে প্রবেশ করেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৩০টিরও বেশি মিক্সড অ্যালবামে কাজ করার পাশাপাশি প্রকাশ করেছেন সলো অ্যালবাম ‘আমি তো এমনই’।
সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন মুকুল। তিনি বিভিন্ন মিউজিক ভিডিওর পাশাপাশি নাটক ও সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
একটি সমিতি ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে একটি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে। ডেভেলপমেন্ট ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, এই বিনিয়োগের বিপরীতে তিনি সমিতিকে তার লভ্যাংশের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ লাভ দেবেন। অর্থাৎ, ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ প্রদান করা হবে। এই নির্দিষ্ট অঙ্কের লাভ গ্রহণ করা কি সুদ হিসেবে গণ্য হবে?
ঢাকার পল্লবীর জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগের মুফতি মুহাম্মাদ আশরাফুল আলমের মতে, সমিতি ৩ লাখ টাকা একটি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে এবং কোম্পানিও এতে তার নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এর মানে হলো, উভয় পক্ষের মূলধন একই ব্যবসায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এই কারণে এটি মূলত শিরকাত বা অংশীদারিত্বের ব্যবসা হিসেবে গণ্য হবে।
এ ধরনের অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে প্রকল্প থেকে যে প্রকৃত লাভ হবে, তা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত অনুপাতে অংশীদারদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে। তবে, ৩ লাখ টাকার বিপরীতে পূর্বনির্ধারিত ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ নিশ্চিত করা জায়েজ হবে না। কারণ, শিরকাতের ক্ষেত্রে লাভ নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক হিসেবে নয়, বরং প্রকৃত লাভের একটি অংশ বা শতাংশ হিসেবে নির্ধারণ করতে হয়।
ব্যবসায় লোকসান হলে কী হবে?
এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, শিরকাতের ক্ষেত্রে যদি ব্যবসায় প্রকৃত লোকসান ঘটে, তাহলে প্রত্যেক অংশীদারকে তার মূলধনের অনুপাত অনুযায়ী সেই লোকসান বহন করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো প্রকল্পে মোট মূলধন ১০ লাখ টাকা হয় এবং সমিতির বিনিয়োগ ৩ লাখ টাকা হয়, তাহলে সমিতির অংশ হবে ৩০ শতাংশ। এই অবস্থায় প্রকৃত ব্যবসায়িক লোকসানের ৩০ শতাংশ সমিতিকে এবং ৭০ শতাংশ কোম্পানিকে বহন করতে হবে।
এ কারণে এমন শর্ত আরোপ করা যাবে না যে, সমিতি লাভ পাবে, কিন্তু ব্যবসায় লোকসান হলে তার মূলধনে কোনো ক্ষতি হবে না।
তিনি আরও জানান, যদি প্রকল্পে অংশীদার হিসেবে নিজস্ব মূলধন বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে সেটি শিরকাত হিসেবে গণ্য হবে। এই ক্ষেত্রে প্রকৃত লাভের নির্ধারিত শতাংশ বণ্টন করা জায়েজ এবং এতে সুদ হবে না। তবে, ৩ লাখ টাকার বিপরীতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা নিশ্চিত লাভ দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হলে তা বৈধ শিরকাত হিসেবে গণ্য হবে না। এইভাবে মূলধনের ওপর নির্ধারিত অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে। একইভাবে, ব্যবসায় লোকসান হলে তা মূলধনের অনুপাত অনুযায়ী উভয় পক্ষকে বহন করতে হবে।
من المستندات الشرعية
** «بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع» (৭/৫১৪):
«(ومنها) : أن يكون الربح معلوم القدر، فإن كان مجهولا تفسد الشركة؛ لأن الربح هو المعقود عليه، وجهالته توجب فساد العقد كما في البيع والإجارة.
** مجلة الأحكام العدلية» (ص২৫৪):
«الْمَادَّةُ (1329) شَرِكَةُ الْعَقْدِ عِبَارَةٌ عَنْ عَقْدِ شَرِكَةٍ بَيْنَ اثْنَيْنِ أَوْ أَكْثَرَ عَلَى كَوْنِ رَأْسِ الْمَالِ وَالرِّبْحِ مُشْتَرَكًا بَيْنَهُمْ.»
** «مجلة الأحكام العدلية» (ص২৫৬):
«الْمَادَّةُ (১৩৩৬) يُشْتَرَطُ بَيَانُ الْوَجْهِ الَّذِي سَيُقْسَمُ فِيهِ الرِّبْحُ بَيْنَ الشُّرَكَاءِ ، وَإِذَا بَقِيَ مُبْهَمًا وَمَجْهُولًا تَكُونُ الشَّرِكَةُ فَاسِدَةً.
الْمَادَّةُ (১৩৩৭) يُشْتَرَطُ أَنْ تَكُونَ حِصَّةُ الرِّبْحِ الَّذِي بَيْنَ الشُّرَكَاءِ جُزْءًا شَائِعًا كَالنِّصْفِ وَالثُّلُثِ وَالرُّبْعِ فَإِذَا اُتُّفِقَ عَلَى أَنْ يَكُونَ لِأَحَدِ الشُّرَكَاءِ كَذَا دِرْهَمًا مَقْطُوعًا مِنْ الرِّبْحِ تَكُونُ الشَّرِكَةُ بَاطِلَةً.
** «الهداية في شرح بداية المبتدي» (৩/১১):
«قال: "ولا تجوز الشركة إذا شرط لأحدهما دراهم مسماة من الربح" لأنه شرط يوجب انقطاع الشركة فعساه لا يخرج إلا قدر المسمى لأحدهما، ونظيره في المزارعة.
** «حاشية ابن عابدين = رد المحتار» (৪/ ৩০৫):
«(وشرطها) أي شركة العقد (كون المعقود عليه قابلا للوكالة) فلا تصح في مباح كاحتطاب (وعدم ما يقطعها كشرط دراهم مسماة من الربح لأحدهما) لأنه قد لا يربح غير المسمى
والله اعلم بالصواب
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। চলতি বছরে সিলেট বিভাগের হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বর্তমানে ১৬৪ জনে পৌঁছেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে দুজনের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ, একজন সুনামগঞ্জের এবং একজনের বাড়ি হবিগঞ্জে অবস্থিত। তাদের মধ্যে তিনজন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা সবাই অপুষ্টিসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ১৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের ক্ষেত্রে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ১৫৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৪৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৯৫ জন।
তবে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে কারও শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের মৃত্যুতে এক মাস ধরে চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য অবস্থায় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়নি। প্যানেল চেয়ারম্যান গঠন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় পরিষদে আসা সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল হান্নান চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত। তার পক্ষে বিএনপির সদস্যরা অন্যান্য ইউপি সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এর ফলে, কেউ প্যানেল চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য রাজি হচ্ছে না। রাজনৈতিক চাপের কারণে সবাই এখন বিএনপিপন্থি ইউপি সদস্যকে সমর্থন দিয়েছেন। তবুও প্যানেল চেয়ারম্যান গঠন না হওয়ায় ইউনিয়নবাসী সমস্যায় পড়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকার কারণে ইউনিয়নবাসী পরিষদে এসে বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনও আটকে রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন গত ১৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। এক মাস অতিবাহিত হলেও প্রশাসক নিয়োগ হয়নি। নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান পদ শূন্য হলে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের বিধান রয়েছে। তবে সাবেক তিনজন প্যানেল চেয়ারম্যানের কেউই দায়িত্ব নিতে রাজি হচ্ছেন না। সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যানরা হলেন শফিকুল ইসলাম শিপন খলিফা, সালাহ উদ্দিন ও হাসিনা আক্তার। শিপন খলিফা চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সালাহ উদ্দিন ও হাসিনা আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক চাপের কারণে তারা প্যানেলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম, সালাহ উদ্দিন ও হাসিনা আক্তার কেউই কোনো অভিযোগ করেননি। প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়ে অনীহা ও রাজনৈতিক চাপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করেননি।
ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান বলেন, "আমি প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আশরাফুল বারীসহ একটি বৈঠকে অন্যান্য ইউপি সদস্যরা আমাকে সমর্থন জানিয়েছেন। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাকে দায়িত্ব দেবেন।" তিনি আরও বলেন, "অন্য সদস্যরা আওয়ামী সমর্থিত ও ফ্যাসিস্টের দোসর। তাদের আর সুযোগ দেওয়া যাবে না।"
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আশরাফুল বারী বলেন, "একটি বৈঠকে হান্নানকে অন্যরা সমর্থন দিয়েছেন বলে শুনেছি। তবে এটি সম্পূর্ণ তাদের বিষয়।"
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা জানান, "প্রশাসক নিয়োগ ও প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন জেলা প্রশাসক দেবেন। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করছি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মন্তব্য করেছেন যে, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের সরকারের বিষয়ে তারা এখনো স্পষ্টভাবে পলিসি প্রকাশ করেনি। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলায় ৪ দিনের সফরের শেষ দিনে ঢাকায় ফেরার পথে ভোলা সার্কিট হাউসে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কিছু রিজার্ভেশন বিদ্যমান, বিশেষ করে পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি এবং সেখানে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন, কিন্তু ভারতও যে সুসম্পর্ক চায়, তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। আমাদের সম্পর্ক সৎ প্রতিবেশীসুলভ সমমর্যাদার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।
তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছেন। স্পিকার বলেন, গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের ফলে দেশের প্রতিটি বিভাগে এবং স্তরে অবনতি ঘটেছে, হত্যা, গুম, খুন, মানিলন্ডারিং অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে, যা দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উন্নয়ন করতে অনেক সময় লাগবে এবং সাত মাস এ জন্য খুবই অল্প সময়।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমার মনে হয় সংস্কার পর্ব ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।" প্রধানত আইনকানুনে অনেক সংস্কার আনতে হবে এবং সেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে কিছুটা অসুবিধা দেখা দিচ্ছে, কারণ রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে এখনো একমত হতে পারেনি।
স্পিকার বলেন, "সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল যদি একটি সমঝোতায় আসে, তাহলে বিগত ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসন ও বঞ্চনা থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সংসদের আগামী অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সরকার এবং বিরোধী দল একমত হলে আইনে যে সংস্কার প্রয়োজন তা আনতে পারলে জনগণ গত ১৬ বছরের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাবে।
বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি স্থিতিশীল পরিবেশের প্রয়োজন। বিরোধী দলকেও ধৈর্য ধরতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যদি সুন্দর বোঝাপড়া থাকে, তাহলে দেশ উন্নয়নের পথে এগোতে পারবে।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ