প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মন্তব্য করেছেন যে, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের সরকারের বিষয়ে তারা এখনো স্পষ্টভাবে পলিসি প্রকাশ করেনি। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলায় ৪ দিনের সফরের শেষ দিনে ঢাকায় ফেরার পথে ভোলা সার্কিট হাউসে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কিছু রিজার্ভেশন বিদ্যমান, বিশেষ করে পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি এবং সেখানে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন, কিন্তু ভারতও যে সুসম্পর্ক চায়, তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। আমাদের সম্পর্ক সৎ প্রতিবেশীসুলভ সমমর্যাদার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।
তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছেন। স্পিকার বলেন, গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের ফলে দেশের প্রতিটি বিভাগে এবং স্তরে অবনতি ঘটেছে, হত্যা, গুম, খুন, মানিলন্ডারিং অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে, যা দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উন্নয়ন করতে অনেক সময় লাগবে এবং সাত মাস এ জন্য খুবই অল্প সময়।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমার মনে হয় সংস্কার পর্ব ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।" প্রধানত আইনকানুনে অনেক সংস্কার আনতে হবে এবং সেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে কিছুটা অসুবিধা দেখা দিচ্ছে, কারণ রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে এখনো একমত হতে পারেনি।
স্পিকার বলেন, "সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল যদি একটি সমঝোতায় আসে, তাহলে বিগত ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসন ও বঞ্চনা থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সংসদের আগামী অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সরকার এবং বিরোধী দল একমত হলে আইনে যে সংস্কার প্রয়োজন তা আনতে পারলে জনগণ গত ১৬ বছরের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাবে।
বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি স্থিতিশীল পরিবেশের প্রয়োজন। বিরোধী দলকেও ধৈর্য ধরতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যদি সুন্দর বোঝাপড়া থাকে, তাহলে দেশ উন্নয়নের পথে এগোতে পারবে।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন