০৯:০৫ পি.এম
‘মরুভূমির জাহাজ’ খ্যাত উট এখন তীব্র তাপমাত্রার কাছে হার মানছে। উত্তর আফ্রিকা ও হর্ন অব আফ্রিকায় চরম তাপপ্রবাহের কারণে উটের মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে। যদিও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উটগুলি অনায়াসে সহ্য করতে পারে, বর্তমানে সাহারার অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার ফলে এই প্রাণীগুলি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে।
ইথিওপিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আফার অঞ্চলে বিশ্বের অন্যতম উষ্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। এখানকার সেমেরা অঞ্চলের উট পালনকারী আলী উমর (৪০) বিবিসিকে জানিয়েছেন, তিনি তাঁর উটগুলোকে চরম যন্ত্রণায় ভুগতে দেখতে পাচ্ছেন। প্রায় ৫০০ উটের মালিক উমর বলেন, তীব্র গরমে উটগুলোর পায়ে ফোসকা পড়ছে, এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। বালির প্রচণ্ড উত্তাপে বসার সময় তাদের চামড়া পুড়ে যাচ্ছে এবং লোম ঝরে যাচ্ছে। গত এক মাসের মধ্যে গরমের কারণে তাঁর আটটি উটের বাছুরের মৃত্যু হয়েছে।
শুধু ইথিওপিয়ায় নয়, অন্যান্য দেশ যেমন সোমালিয়া ও কেনিয়াতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। কেনিয়ার মারসাবিট কাউন্টির পশুচিকিৎসক হাসান নুয়া গুইয়ো জানিয়েছেন, গত দুই বছরে ওই অঞ্চলে গরমের কারণে উটের মৃত্যু ১৫ শতাংশ বেড়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে উটগুলো হাইপারথার্মিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ বেঙ্গুমি জানান, সাহারার অনেক স্থানে বর্তমানে তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রার এই বেড়ে যাওয়ার ফলে উটের শারীরিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আলজেরিয়ার ঘারদাইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদেলমাজিদ চেহমা বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে ৪১ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা তাদের কোষগুলোকে সরাসরি আক্রমণ করে। এই চাপের ফলে উটের শ্বেত রক্তকণিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কোষগুলো নিজেকে মেরামত করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যায়। এর ফলে বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং অবসাদ ভর করে।
তীব্র দাবদাহের কারণে ইথিওপিয়ার খামারিরা বাধ্য হয়ে দক্ষিণের দিকে সরে যাচ্ছেন। উট পালনকারী আলী উমর এখন বড় উটগুলোকেও হারানোর আতঙ্কে আছেন। অধ্যাপক চেহমা বলেছেন, উট মরুভূমির মানুষের টিকে থাকার শেষ অবলম্বন। কিন্তু বর্তমান তীব্র তাপপ্রবাহ তাদের শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, ফলে এই প্রাণীটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ শিকার হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন