০৯:০৯ পি.এম
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী কর্তৃক চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তিনি একই সাথে সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসলামাবাদের অবিচল সমর্থন ও সংহতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (যা আগে টুইটার ছিল) শাহবাজ শরিফ বলেন, সৌদি আরবের ওপর করা এই ন্যক্কারজনক হামলা দেশটির সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘন। তিনি যোগ করেন, এ ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে আরও বিপন্ন করে তুলতে পারে। সংকটকালীন মুহূর্তে ভ্রাতৃপ্রতিম সৌদি আরবের পাশে পাকিস্তান সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে এবং ইসলামাবাদ অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বজায় রাখতে কল্পনাপ্রসূত যেকোনো আন্তরিক প্রচেষ্টাকে সব সময় সমর্থন দিয়ে যাবে।
দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে, যা ইসলামাবাদের আঞ্চলিক কূটনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রিয়াদে দুই দেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওই চুক্তির মূল শর্ত ছিল—যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা উভয়ের ওপর আগ্রাসন হিসেবে গণ্য হবে। এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় গত সোমবার ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে সৌদির পাশে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা রক্ষা, ইয়েমেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ওই ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত উসমান জাদুন সৌদিতে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করে রিয়াদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটির সংঘাত শুরু হয়, যার ফলে পরবর্তী বছর ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সেখানে হস্তক্ষেপ করে। ২০২২ সাল থেকে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চললেও সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এবারের উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে যখন সোমবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দেশটির সরকারি বাহিনী হামলা চালায়। সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের দাবি অনুযায়ী, তারা সানা বিমানবন্দরে একটি ইরানি বিমান অবতরণ ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেয়। সম্প্রতি প্রয়াত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে যাওয়া হুথি প্রতিনিধিদের ফিরতে বিমানটি পাঠানো হয়েছিল। বিমানবন্দর হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সৌদির দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে হুথিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সৌদি বাহিনী তা প্রতিহত করে। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে হুথি ও ইয়েমেন সরকারের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সংঘাতের রূপে দেখা দিয়েছে, যার ফলে ২০২২ সাল থেকে চলা শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন