০৯:১৩ পি.এম
ভারতের পাহাড়ি ঢলের কারণে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর ফলে ডুবে গেছে চরের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বুড়িচং ও আদর্শ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সবুজ স্বপ্নও। এই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে লাউ, চিচিঙ্গা, মুলা, ডাঁটা শাক, মিষ্টি কুমড়া, চালকুমড়া, করলা, ধুন্দুল, পুঁইশাকসহ নানা ধরনের মৌসুমি সবজি।
কৃষি অফিসের তথ্যমতে, গোমতীর চরের সবজির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। মোট ৫১২ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে বুড়িচং উপজেলার। এরপর রয়েছে আদর্শ সদর উপজেলা।
পানির কারণে ২০২১ হেক্টর জমির রোপা আমন আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া, রোপা আমনের বীজতলা ৭০ হেক্টর ও ৬ হেক্টর জমির মরিচও ডুবে গেছে। তবে বলা হচ্ছে যে, যদি এখন আর ভারী বৃষ্টি না হয়, ক্ষতির পরিমাণ ৫শতাংশের বেশি হবে না।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
সরেজমিনে গোমতী নদীর বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া, কুমিল্লা সদর উপজেলার কাচিয়াতলী ও আমতলী এলাকার চরাঞ্চল ঘুরলে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগেও কৃষকের খেতগুলোতে ছিল সবুজ সবজির হাসি, কিন্তু বর্তমানে সেখানের বাতাসে ভাসছে কৃষকের আর্তনাদ।
কাচিয়াতলী চরের কৃষক আব্দুল খালেক জানান, তিনি এক শত জমিতে করলা, চিচিঙ্গা, দুন্দুল ও মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছেন, কিন্তু গত তিন দিন ধরে বন্যার পানির নিচে সব ফসল রয়েছে। এখন পানি নামতে শুরু করেছে, কিন্তু লাভ নেই, ক্ষতি যা হবার তা হয়ে গেছে। তিনি বলেন, 'পরিপক্ক হলে অন্তত ৬ লাখের বেশি টাকা বিক্রি করতে পারতাম। এই জমিতে সার ও বীজসহ আমার খরচ হয়েছে আড়াই লাখ টাকা।'
বালিখাড়া এলাকার কৃষক আবদুল হক জানান, তিনি প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে আগাম জাতের মূলা ও লাউ চাষ করেছেন। কিন্তু গোমতীর পানিতে পুরো জমি তলিয়ে গেছে, যার কারণে চারাগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান উল্লেখ করেছেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের অনেক কৃষকের ফসল তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন