বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:২০ পি.এম
কক্ষে রক্তে ভেসে যাওয়া ৪৫ বছরের এক ব্যক্তির মরদেহের উপস্থিতি সকলকে হতবাক করে দিয়েছে। তার পাশে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পড়ে থাকা আছে তার আট বছরের শিশু পুত্র। আর ঠিক একই কক্ষে, খাটে শুয়ে, নির্ভাবনায় মোবাইলের পর্দায় স্ক্রল করে যাচ্ছেন এক নারী! ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কর্ণাটকের ধারওয়াদ শহরের একটি আবাসন ভবনে।
নিহত ওই ব্যক্তির নাম ড. কিরণ হোনান্নাভার। পেশায় তিনিও একজন চিকিৎসক, বিশেষ করে অ্যানেসথেটিস্ট (অচেতনবিদ)। এই কক্ষে মোবাইলে মগ্ন থাকা নারী ড. প্রিয়ঙ্কা ওরফে প্রিয়া, যিনি পেশায় আবারও একজন চিকিৎসক। পারিবারিক কলহের কারণে ড. কিরণকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করে পুলিশ তার স্ত্রী ড. প্রিয়ঙ্কাকে হেফাজতে নিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা হিন্দুস্তান টাইমস এবং ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারওয়াদের কর্ণাটক ইউনিভার্সিটি রোডের ‘রাঙ্কা স্টেলো’ অ্যাপার্টমেন্টের ষষ্ঠ তলায় বাস করতেন ড. কিরণ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুরা কিরণের ফোনে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করেন, তখন প্রিয়ঙ্কা ফোন ধরছিলেন এবং একেকবার একেকরকম তথ্য প্রদান করছিলেন। কখনও বলছিলেন কিরণ বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কখনও বলছিলেন তিনি ডিউটিতে বাইরে গেছেন।
পরদিন বুধবার সন্ধ্যার দিকে, পরিজনরা কোনো উপায় বের করতে না পেয়ে সরাসরি তাদের ফ্ল্যাটে হাজির হয়ে পড়েন। দরজার তালা খুলে ভেতরে ঢুকতেই তারা অসাধারণ আতঙ্কিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। স্বজনরা দেখতে পান, ড. কিরণ গলার দিকে মারাত্মক খতের চিহ্ন নিয়ে তোশকের ওপর রক্তের সাগরে পড়ে আছেন। পাশেই গুরুতর আহত শিশুটি পড়ে রয়েছে এবং প্রিয়ঙ্কা নির্বিকারভাবে খাটে শুয়ে মোবাইল ফোন ঘাঁটছেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হুবলির ধারওয়াদ পুলিশের একটি দল পৌঁছায়। পুলিশ কমিশনার এন শশিকুমার নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুপুত্রটির দিকে লক্ষ্য করেন, রক্তে ভেজাল শিশুটির তখনও হালকা পালস (স্পন্দন) রয়েছে। প্রথম উদ্ধারকারীরা বিষয়টি বুঝতে না পারলেও, পুলিশ কমিশনার দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে এবং পুলিশের ধারণা, শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশ কমিশনার এন শশিকুমার জানান, ঘটনাটি বাইরে থেকে আসা কাউকে ঘটায়নি। ঘটনার সময় ফ্ল্যাটের ভেতরে কেবল স্বামী, স্ত্রী ও তাদের সন্তানই ছিলেন। বহিরাগত প্রবেশের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
কমিশনার বলেছেন, ‘ঠিক কী কারণে এবং কখন এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, সেটি বের করার জন্য বিস্তারিত তদন্ত চলছে। নিহত ব্যক্তির স্ত্রীর বক্তব্য অসংলগ্ন। তিনি কি চরম মানসিক ধাক্কায় রয়েছেন নাকি অন্য কোনো কারণে এমন করছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ড. প্রিয়ঙ্কা কাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কী বলেছেন–সেসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
এই ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে। চিকিৎসকের নিথর দেহ আর সন্তানের রক্তাক্ত অবস্থার মধ্যে, একজন মা এবং স্ত্রী কীভাবে নির্বিকার থাকতে পারেন, তা ভেবে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তদন্তকারীরাও।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে রাতের অন্ধকারে একটি কবরস্থান থেকে ৯ মৃত ব্যক্তির কঙ্কাল চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এটি ঘটেছে বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার সূত্রাপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর টেকি বাড়ি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে, যেখানে চাঞ্চল্যকর এই চুরির ঘটনা ঘটে।
সকাল বেলার ঘটনার জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, কবরস্থানটিতে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ও আগাছা জমে ছিল। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ওই আগাছা পরিষ্কার করতে গিয়ে তারা কয়েকটি কবর খোঁড়া অবস্থায় দেখে। পরে কবরের ওপরের মাটি সরিয়ে দেখেন, ভেতরে কোনো কঙ্কাল বা লাশ নেই।
এ বিষয়ে মুহূর্তে এলাকায় তথ্য প্রচারিত হয়ে গেলে মৃতদের স্বজনরা সেখানে আসতে শুরু করেন এবং ভিড় করতে থাকেন। এ সময় এলাকাবাসী কবরস্থানে কিছু জামাকাপড় ও কবর খোঁড়ার সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখেছেন। তারা জানান, ওই কবরস্থানের ৯টি কবরে কঙ্কাল নেই। তবে সকালে খোঁড়া কবরগুলো মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলেন কবরস্থানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কঙ্কাল চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী তুরাগের একটি বস্তিতে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা যেখানে মায়ের কোল থেকে শিশু সন্তানকে ছিনিয়ে এনে সাত মাস বয়সী রাফা মনিকে আছাড় মেরে প্রাণ হারিয়েছে তার বাবা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিশু রাফার বাবা, রিকশাচালক কবির হোসেনকে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় তুরাগ কামারপাড়া ফুলবাড়িয়া বস্তিতে কবির ও লিমা দম্পতির মধ্যে পারিবারিক কলহের কারণে প্রবল ঝগড়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।
ঝগড়ার একপর্যায়ে কবির প্রযুক্তি ও উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে নিজের একমাত্র সন্তান রাফা মনিকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে আছাড় মেরে ফেলে। গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকালে শিশুটির মৃত্যু ঘটে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনাকে ভণ্ডুল করতে ইসরাইলের পক্ষ থেকে অর্থায়ন করা একটি প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) মার্কিন ক্রীড়া ভাষ্যকার, কৌতুক অভিনেতা, অভিনেতা এবং সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক জো রোগানের জনপ্রিয় দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স পডকাস্টে ভ্যান্স বলেন, ‘আপনারা একটি অত্যন্ত গোপনীয় এবং বিপুল অর্থায়নে পরিচালিত প্রচারণা দেখতে পাচ্ছেন, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে আলোচনা এবং সম্ভাব্য চুক্তিকে নস্যাৎ করা।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘একদল মানুষ, যারা আক্ষরিক অর্থেই ট্রাম্পের সাবেক এক প্রচারকর্মীর মাধ্যমে অর্থ পাচ্ছেন। ওই ব্যক্তি নিজেও ইসরাইলি সরকারের নির্দিষ্ট কিছু মহলের কাছ থেকে অর্থ পেয়েছিলেন। আর সেই লোকেরাই আমাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করছে।’
টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক প্রচার ব্যবস্থাপক ব্র্যাড পারস্কেল এমন একটি প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণার নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা ইসরাইল সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। ওই প্রচারণার লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন (মাগা)’ সমর্থকদের মধ্যে ইসরাইলপন্থি অবস্থান জোরদার করা।
ভ্যান্সের ভাষ্য, ‘আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, কারণ আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্ধারিত আলোচনার লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। এটি ছিল আলোচনাকে ব্যাহত করার জন্য অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও বিপুল অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রচারণা।’
গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রকাশিত টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্র্যাড পারস্কেলের প্রতিষ্ঠান ক্লক টাওয়ার এক্স গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ইসরাইলের পক্ষে একটি প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণা পরিচালনা করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট (ফারা)–সংক্রান্ত নথির ভিত্তিতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রচারণাটির আনুষ্ঠানিক উদ্দেশ্য ছিল অনলাইনে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলা করা। তবে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার ভাষ্য, প্রকৃত লক্ষ্য ছিল তরুণ রক্ষণশীল মার্কিনিদের মধ্যে ইসরাইলবিরোধী মনোভাব তৈরি হওয়া ঠেকানো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে ইরান যুদ্ধ অবসানে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) সমালোচনা করে একযোগে প্রকাশিত একাধিক পোস্ট ট্রাম্প প্রশাসনের নজরে আসে। টাইমের দাবি, এগুলো ওই প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণার অংশ হতে পারে।
তবে ব্র্যাড পারস্কেল স্বীকার করেন যে, তরুণ মার্কিনিদের ইসরাইলবিরোধী অবস্থান থেকে বিরত রাখাই ছিল প্রচারণার উদ্দেশ্য। ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান-সংক্রান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এর লক্ষ্য ছিল না বলেও জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও বিশেষ করে ইসরাইলকে সমর্থন দেওয়ার প্রশ্নে মার্কিন রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। ভ্যান্সের এ বিস্ফোরক মন্তব্য এই বিভাজনকে আরও উস্কে দিয়েছে। ভ্যান্সের এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইতে কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া রুহুল আমিন আকন (২৯) চরমোনাই ইউপির ইছাগুড়া গ্রামের বাসিন্দা জামাল আকনের ছেলে।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল-মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, গত ১০ জুলাই আনুমানিক ১২/১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে তিনজন মিলে গণধর্ষণ করেছে। এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে কিশোরীর মা থানায় এসে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। বুধবার রাতে মামলার এজাহারনামীয় তিন নম্বর আসামি রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরী তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
মামলায় বাদী অভিযোগ করেছেন, গত ১০ জুলাই সন্ধ্যায় প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া কিশোরীকে মুখ চেপে ধরে ও চাকু দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রতিবেশী ইলিয়াসের ঘরে দোতলায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে ইলিয়াস, সাইদ ও রুহুল আমিন ভোর ৫টা পর্যন্ত কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় কিশোরীর কানে থাকা দুল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে ভোর রাতে কিশোরীকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ির পাশে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে সুস্থ করে মামলা দায়ের করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ