বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৩০ পি.এম
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনাকে ভণ্ডুল করতে ইসরাইলের পক্ষ থেকে অর্থায়ন করা একটি প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) মার্কিন ক্রীড়া ভাষ্যকার, কৌতুক অভিনেতা, অভিনেতা এবং সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক জো রোগানের জনপ্রিয় দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স পডকাস্টে ভ্যান্স বলেন, ‘আপনারা একটি অত্যন্ত গোপনীয় এবং বিপুল অর্থায়নে পরিচালিত প্রচারণা দেখতে পাচ্ছেন, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে আলোচনা এবং সম্ভাব্য চুক্তিকে নস্যাৎ করা।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘একদল মানুষ, যারা আক্ষরিক অর্থেই ট্রাম্পের সাবেক এক প্রচারকর্মীর মাধ্যমে অর্থ পাচ্ছেন। ওই ব্যক্তি নিজেও ইসরাইলি সরকারের নির্দিষ্ট কিছু মহলের কাছ থেকে অর্থ পেয়েছিলেন। আর সেই লোকেরাই আমাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করছে।’
টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক প্রচার ব্যবস্থাপক ব্র্যাড পারস্কেল এমন একটি প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণার নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা ইসরাইল সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। ওই প্রচারণার লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন (মাগা)’ সমর্থকদের মধ্যে ইসরাইলপন্থি অবস্থান জোরদার করা।
ভ্যান্সের ভাষ্য, ‘আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, কারণ আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্ধারিত আলোচনার লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। এটি ছিল আলোচনাকে ব্যাহত করার জন্য অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও বিপুল অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রচারণা।’
গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রকাশিত টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্র্যাড পারস্কেলের প্রতিষ্ঠান ক্লক টাওয়ার এক্স গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ইসরাইলের পক্ষে একটি প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণা পরিচালনা করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট (ফারা)–সংক্রান্ত নথির ভিত্তিতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রচারণাটির আনুষ্ঠানিক উদ্দেশ্য ছিল অনলাইনে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলা করা। তবে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার ভাষ্য, প্রকৃত লক্ষ্য ছিল তরুণ রক্ষণশীল মার্কিনিদের মধ্যে ইসরাইলবিরোধী মনোভাব তৈরি হওয়া ঠেকানো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে ইরান যুদ্ধ অবসানে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) সমালোচনা করে একযোগে প্রকাশিত একাধিক পোস্ট ট্রাম্প প্রশাসনের নজরে আসে। টাইমের দাবি, এগুলো ওই প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণার অংশ হতে পারে।
তবে ব্র্যাড পারস্কেল স্বীকার করেন যে, তরুণ মার্কিনিদের ইসরাইলবিরোধী অবস্থান থেকে বিরত রাখাই ছিল প্রচারণার উদ্দেশ্য। ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান-সংক্রান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এর লক্ষ্য ছিল না বলেও জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও বিশেষ করে ইসরাইলকে সমর্থন দেওয়ার প্রশ্নে মার্কিন রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। ভ্যান্সের এ বিস্ফোরক মন্তব্য এই বিভাজনকে আরও উস্কে দিয়েছে। ভ্যান্সের এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইতে কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া রুহুল আমিন আকন (২৯) চরমোনাই ইউপির ইছাগুড়া গ্রামের বাসিন্দা জামাল আকনের ছেলে।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল-মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, গত ১০ জুলাই আনুমানিক ১২/১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে তিনজন মিলে গণধর্ষণ করেছে। এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে কিশোরীর মা থানায় এসে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। বুধবার রাতে মামলার এজাহারনামীয় তিন নম্বর আসামি রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরী তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
মামলায় বাদী অভিযোগ করেছেন, গত ১০ জুলাই সন্ধ্যায় প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া কিশোরীকে মুখ চেপে ধরে ও চাকু দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রতিবেশী ইলিয়াসের ঘরে দোতলায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে ইলিয়াস, সাইদ ও রুহুল আমিন ভোর ৫টা পর্যন্ত কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় কিশোরীর কানে থাকা দুল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে ভোর রাতে কিশোরীকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ির পাশে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে সুস্থ করে মামলা দায়ের করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চেক ডিজঅনার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান-এর জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। ১১২ কোটি টাকার মামলার জন্য ১ হাজার টাকার মুচলেকায় তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে। ১৬ জুলাই, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম তারিখে , বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম-এর আদালত এই জামিন মঞ্জুর করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাদ্দেসুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং বলেছেন, মামলা দায়েরের পর গত ৭ মে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। অন্যান্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন। মামলায় গত ৯ জানুয়ারি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশের পক্ষে উজ্জ্বল মন্ডল বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন আহমেদ সইয়ন, ফজলুর রহমান, মাহফুজুর রহমান, ইমরান মন্ডল, মো. লুৎফর রহমান, মাশকুরা খানাম, মো. সাইফুর রহমান, অবু নাঈম মোহাম্মদ সেলেহীন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর এবং এ এস এফ রহমান। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাংকের বারবার তাগিদ দেওয়ার পর বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেডের পক্ষে এই ১১২ কোটি টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর চেকটি এক্সিম ব্যাংকের হেড অফিস করপোরেট শাখায় জমা দিলে, ব্যাংক একই দিন সেটি "ওহংঁভভরপরবহঃ ঋঁহফ" (অপর্যাপ্ত তহবিল) উল্লেখ করে ফেরত দেয়। পরবর্তী সময়ে ২৬ নভেম্বর নিবন্ধিত ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে চেকের অর্থ পরিশোধ করার কথা বলা হলেও আসামিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করেননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সুখী-সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে অর্থপাচার না হলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যেত। তিনি আরো বলেন, 'বিএনপি সরকারকে এখন "ভয়াবহ" পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে।'
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভা কক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এমন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দ্যোলা (সুজন মাহমুদ)।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধিরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেন। বেশ অধীর আগ্রহে তিনি তাঁদের বক্তব্য শুনেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ অংশ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেছেন, তিনি এবং তার সরকার এমন একটা দেশ গড়ে তুলতে কাজ করছেন যেখানে কোনো জাতি-গোষ্ঠীর বৈষম্য থাকবে না। সবার জন্য প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি।
বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সমতলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমির মালিকানা সমস্যা সমাধানে ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসী অনগ্রসর জনগণদের জন্য জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শব্দের পরিবর্তে গোত্র ভিত্তিক পরিচয় প্রদান; সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার স্থাপন, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে রিজার্ভ বনাঞ্চল থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসতি উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ঋণ সুবিধা প্রদানের দাবি উপস্থাপন করা হয়।
তিনি বলেন, 'আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান, দেশের অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো। এভাবে যদি অর্থপাচার না হতো তাহলে আপনাদের (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যেত। আমাদের সরকার পর্যায়ক্রমে যেগুলো সমাধানযোগ্য সেগুলো আগে সমাধান করার চেষ্টা করছে।'
সরকারপ্রধান বলেন, 'এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আপনাদের দেখতে হবে আমরা বেটার কোথায় থাকব।'
দেশের বিরাজমান সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'দেশে এত এত সমস্যা এখনো বিরাজমান দেখে এখনও বিস্মিত হই। কেননা ১৭ বছর তো এগুলো অ্যাড্রেস হওয়ার কথা ছিল। সে সময় এগুলো যদি অ্যাড্রেস করা হতো, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।'
'আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম সেগুলো আসলে কোথায়? এখন সব চাপটা এসেছে আমাদের সরকারের ওপরে। এই সরকারের ওপরে জনগনের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চেষ্টা করছি সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।'
তিনি জানান, দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে 'ফ্যাসিস্ট সরকার' ধ্বংস করে দিয়েছে এবং এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেছেন।
তারেক রহমান বলেছেন, 'ওরা একটি জেনারেশকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু করেছিলেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার সময়ে ৩১ বেডের হাসপাতাল স্থাপিত হয়েছে।'
'তারপর আমাদের সরকার যখন ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই সেটার উন্নয়ন হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেটা ৫০ বেডে উন্নীত করা হয়েছে। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১০১ বেডে উন্নীত করার।'
তিনি বলেন, 'আগের সরকার ইউনিয়ন ভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিল, কিন্তু সেগুলোর কোনো কার্যক্রম নেই।'
২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ কিডনি ডায়োলাইসিস ও হার্টের রিং প্রভৃতি জরুরি মেডিকেল যন্ত্রাংশের ওপরে আরোপিত কর হ্রাস করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রং। সেখানে ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে প্রতারণা চালানোর পাশাপাশি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী পরিচয়ে মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চাকরিচ্যুত চেইনম্যান মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ সকল ঘটনায় করা ১১টি মামলায় আদালত ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক তদন্তে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার সত্যতা পেয়েছে। তবে এতো বড় অপরাধের পরও রহস্যজনক কারণে তাকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আরও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েও মুজিবুর রহমান এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অভিযোগ আছে, তিনি এখনও মানুষকে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করে তিনি এভাবে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মুজিবুর পূর্বাচলে জায়গা বিক্রির কথা বলে মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর সেই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে স্ট্যাম্প ও সই জালিয়াতি করে উল্টো ৬ কোটি টাকার 'মিথ্যা' মামলা ঠুকে দেয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের পিবিআইয়ের তদন্তে ইতিমধ্যেই তার মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা করেছেন, সেটিও মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমানের অভিযোগ, ‘পূর্বাচলে একটি প্লটের জন্য তিন কোটি ৭ লাখ টাকা দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না হওয়ায় এবং বারবার সময় টানায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর আগে এক সকালে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পিবিআই এর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মুজিবুর একজন অনেক বড় মাপের প্রতারক। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, মুজিবুর যেসব তথ্য দিয়ে মামলা করেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সে অনেক মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে।’ ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘‘মজিবুর শুধু সাধারণ মানুষের সঙ্গেই প্রতারণা করেনি। সে পুলিশের অনেক সদস্যের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। এমনকি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। এমনকি পুলিশ সদর দপ্তরে সে ‘মিথ্যা তথ্য’ দিয়ে চিঠি লিখেছে। তদন্তে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এর আগে একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছে। তবে ‘জামিন’ নিয়ে ফের সে কারাগার থেকে বের হয়ে একই কাজ করে যাচ্ছে।’ কারা সূত্র জানায়, এর আগে সে কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। তার প্রতারণার শিকার হয়ে একজন শিক্ষক এখন পথের ফকির। এক মুরব্বির কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ওই মুরব্বি দাবি করেন, টাকা চাওয়ায় তাকে মিথ্যা কথা বলে চাঁদপুর থেকে ঢাকায় ডেকে এনে একটি নির্জন কক্ষে আটকিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করে। এরপর অস্ত্রের মুখে হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে জোর পূর্ব স্টাম্পে সই করিয়ে নেয়। ওই ভুক্তভোগী এখন মামলা করে তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া বিপুল অর্থ ফেরত চান। এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রতারণার মাস্টারমাইন্ড মুজিবুর এখনো বহাল তবিয়তে আছে। যদিও মুজিবুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ফ্ল্যাট ও গাড়ি থাকার বিষয় স্বীকার করি, তবে তার জন্য ব্যাংক লোন রয়েছে।’ তবে পুলিশের তদন্তে তার ব্যাংক লোনের পাশাপাশি বিপুল অর্থের মালিক হওয়ার বিষয়ে দেওয়া তথ্য মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। মুজিবুর রহমান বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করেছেন। কখনও রাজউকের কর্মকর্তা হিসেবে, আবার কখনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পার্সোনাল অফিসার হিসেবে নিজেকে পরিচিত করেছেন। পূর্বে তিনি আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য ছিলেন বলে দাবি করেন, বর্তমানে তিনি বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কথা প্রচার করেন। তবে তার এসব তথ্যের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তার তথ্যে কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি কখনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, কখনও রাজউকের অথরাইজড অফিসার আবার কখনও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী- নিজেকে এভাবে উপস্থাপন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অথচ খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চাকরিচ্যুত এই চেইনম্যান মুজিবুর রহমান একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন। প্রতারণার এই মাস্টারমাইন্ড এখন বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক। চেইনম্যান মুজিবুর রহমান ঘুষ, দুর্নীতি এবং নানা অনিয়মের কারণে ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে বরখাস্ত হন। এরপর শুরু হয় তার বহুমুখী পরিচয়ের বিভিন্ন প্রতারণা। রাজউকের প্লট দেওয়ার নামে একাধিক মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি পিবিআই তদন্তে তার জালিয়াতির অনেক ভয়াবহ অভিযোগ ওঠে। সে একজন ভুক্তভোগীকে সব টাকা পরিশোধে কয়েকটি চেক প্রদান করেছিল। কিন্তু চেকগুলো ব্যাংকে ডিজঅনার হয়েছে। এমনই চিত্র দেখা গেছে, তার প্রতারণার শিকার ব্যক্তির সাথেও। মুজিবুরের সঙ্গে ফ্ল্যাট ওনার অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ রয়েছে, সে অনেকের সঙ্গেই এই রকম প্রতারণা করেছে। তার প্রতারণার শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিটিভির সাবেক পরিচালক শেখ আব্দুল সালেক বলেন, ‘প্রতারক মজিবুর বহু সহজ সরল মানুষকে তার প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছেন। তার বিরুদ্ধে আদালতের এতগুলো ওয়ারেন্ট থাকার পরও তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এত কিছুর পরও নতুন করে তার প্রতারণার বিভিন্ন প্রকল্প আমরা জানতে পারছি।’ ধানমন্ডি কনকর্ড নুসরাত অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, ‘মজিবুর তাদের ভবনের একটি ফ্ল্যাটের মালিক, আমার ধারণা, সে প্রতারণার টাকায় এই ফ্ল্যাট কিনেছে। আমরা তার গ্রেপ্তার ও শাস্তি চাই।’ একের পর এক প্রতারণা করার পরও কেন আইনের আওতায় আসছে না মুজিবুর, সেটাই প্রশ্ন। বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল সালেক বলেন, "এক হলো প্রশাসন চোখ বুঝে থাকা, অপরাধগুলো দেখে আমি দেখলাম না। এর চেয়ে বড় অন্যায়, সব জেনেশুনে তারা অ্যাকশনে না যাওয়া।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ