শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৬ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার বার্নসভিলে তিন বছর বয়সী ছেলে আদনান আবদুল্লাহির মৃত্যুর ঘটনায় তার মা সায়নাব আবদুল্লাহি দাহিরের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার ম্যান স্লটার, চারটি শিশু নির্যাতন বা বিপন্ন করার অভিযোগ এবং হয়রানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে তার মা পার্কের একটি সৈকত এলাকায় নিয়ে যান, যেখানে রোদে থাকার মাধ্যমে শিশুটি অসুস্থতা ‘ঘামিয়ে বের করে’ দিতে পারবে বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তীতে শিশুটির মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার পর জরুরি সেবাকর্মীরা শিশুটিকে গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগতে দেখতে পান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার বয়সের তুলনায় মারাত্মক কম ওজন এবং গুরুতর অপুষ্টি শনাক্ত করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি আর জ্ঞান ফিরে পায়নি এবং ১৩ জুলাই ২০২৩ সালে তার মৃত্যু ঘটে।
ময়নাতদন্তে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত আঘাতকে মৃত্যুর তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপুষ্টি ও মূত্রনালির সংক্রমণকে সহায়ক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তের সময় দাহিরের অন্য চার সন্তানের অবস্থাও সামনে আসে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তারাও গুরুতরভাবে কম ওজনের ছিল। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিশুদের বাবার কাছে যাওয়ার পর তাদের ওজন বাড়তে শুরু করে। সন্তানদের নিয়মিত চিকিৎসা না করানোর অভিযোগও রয়েছে।
দাহিরকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত। মামলাটি মিনেসোটার ডাকোটা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের মনে আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে নায়ক সালমান শাহ। বিশেষ করে যখন ক্যালেন্ডারের পাতায় ১৯ সেপ্টেম্বর আসে, তখন বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকরা এক তরুণ নায়কের মুখ মনে করেন। অল্প সময়ের উপস্থিতিতে যিনি ঢালিউডের ইতিহাসে নিজের জন্য একটি আলাদা অধ্যায় তৈরি করেছিলেন, তিনি হলেন সালমান শাহ। আজ তার জন্মদিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া স্বপ্নের এই নায়ক ১৯৯৩ সালে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, তিন দশক পরেও তা ম্লান হয়নি।
সালমান শাহর জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে শাবনূর তার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
পোস্টে সালমান শাহকে স্মরণ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন, প্রিয় সালমান শাহ!’ নব্বইয়ের দশকের দিনগুলোর কথা মনে করে তিনি জানান, সময় অনেক পেরিয়ে গেলেও শুটিংয়ের স্মৃতিগুলো এখনও তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। শাবনূরের কাছে সালমান শুধুমাত্র একজন জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন অসাধারণ হৃদয়ের একজন ব্যক্তি।
শুটিং সেটে সালমানের আচরণ কেমন ছিল, সেই স্মৃতিও তুলে ধরেছেন শাবনূর। তার ভাষ্য, ইউনিটের কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ অভিনয়শিল্পী—কাউকেই ছোট করে দেখতেন না সালমান। বরং সবার খোঁজখবর নেওয়া, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো এবং আপন করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই তিনি নিজের আলাদা মানবিক পরিচয় তৈরি করেছিলেন।
শাবনূর লিখেছেন, ‘শুটিং ইউনিটের কর্মী হোক কিংবা সাধারণ অভিনয়শিল্পী কাউকেই কখনো ছোট করে দেখতে না। সবার খোঁজ নিতে, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে এবং আপন করে যত্ন নিতে।’
সালমানের সেই মানবিকতাকেই তার দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হিসেবে শাবনূর স্মরণ করেছেন। তার মতে, সুন্দর মনের এই মানুষটির কারণেই এত বছর পরও মানুষের হৃদয়ে একইভাবে জায়গা করে আছেন তিনি।
সময়ের দূরত্ব পেরিয়ে সালমান কীভাবে এখনো তার স্মৃতিতে ফিরে আসেন, সেটিও জানিয়েছেন শাবনূর। পুরনো কোনো গান কিংবা সালমান অভিনীত সিনেমার দৃশ্য চোখে পড়লেই নব্বইয়ের দশকের সেই দিনগুলো যেন আবার ফিরে আসে বলে জানান তিনি। শাবনূরের কথায়, ‘পুরনো কোনো গান শুনলে কিংবা তোমার কোনো সিনেমার দৃশ্য চোখে পড়লে মনে হয়, তুমি যেন আবার ফিরে এসেছ সেই সোনালী দিনগুলোতে।’
প্রিয় সহকর্মীর আত্মার শান্তি কামনা করে সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা ও জান্নাত প্রার্থনা করেছেন শাবনূর। একই সঙ্গে সালমান শাহকে নিয়ে কোনো ধরনের মিথ্যা অপবাদ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কিংবা অসম্মানজনক মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শাবনূর বলেন, ‘প্রিয় সালমান শাহকে নিয়ে আমরা কেউ যেন কোনো ধরনের মিথ্যা অপবাদ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা অসম্মানজনক মন্তব্য না করি। একজন প্রয়াত মহান শিল্পীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান সব সময় অটুট থাকুক। তার অমর স্মৃতিকে ভালোবাসা ও মর্যাদার সঙ্গেই হৃদয়ে ধরে রাখি।’
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে মৌসুমীর বিপরীতে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে সালমান শাহর। পর্দায় তার স্মার্ট উপস্থিতি, অভিনয়শৈলী ও আলাদা ব্যক্তিত্ব খুব দ্রুতই দর্শকের নজর কাড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক হয়ে ওঠেন।
মাত্র সাড়ে তিন বছরের চলচ্চিত্রজীবনে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন সালমান শাহ। এর বেশির ভাগ সিনেমাই দর্শকপ্রিয়তা ও ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করে। তবে তার নায়িকাদের মধ্যে শাবনূরের সঙ্গে জুটিই ছিল সবচেয়ে বেশি। তাদের পর্দার রসায়ন নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সালমান-শাবনূর জুটি পরিণত হয়েছিল ঢালিউডের অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় জুটিতে। সালমান শাহ বহু বছর আগে চলে গেছেন। কিন্তু তার সিনেমা, গান, অভিনয় ও ব্যক্তিত্বের স্মৃতি এখনো দর্শকের কাছে জীবন্ত।
তাহলে জন্মদিন এলেই নতুন করে উচ্চারিত হয় সেই নাম—সালমান শাহ। সহকর্মীদের স্মৃতিচারণা এবং ভক্তদের ভালোবাসায় আজও তিনি ফিরে আসেন বাংলা চলচ্চিত্রের সেই সোনালি সময়ের প্রতিনিধি হয়ে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর অংশে সড়কের উপর গাছ ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করে দুই দফায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টা ও ভোর ৫টার সময় উপজেলার হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার বিপরীত পাশে পশ্চিম পাশের সার্ভিস লেনে এই ঘটনা সংঘটিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে একটি সংঘবদ্ধ দল সড়কের পাশ থেকে গাছ কেটে সার্ভিস লেনে ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করে। এ সময় একটি পিকআপ ভ্যান এবং দুটি সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে চালক, সহকারী ও যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। খবর পেয়ে হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
এরপর ভোর ৫টার দিকে একই স্থানে একই কায়দায় একটি সিএনজি অটোরিকশা ও একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের দাবি, গত এক বছরে ওই এলাকায় অন্তত ১০ থেকে ১২ বার একই ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে রাতের বেলায় এক্সপ্রেসওয়ের ওই অংশ দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টা হয়েছিল। হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ায় ডাকাতরা ডাকাতি করতে পারেনি।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় উবার চালক গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর হাইওয়েতে প্রাণ হারানো ২৩ বছর বয়সী এমিলি। আদালত এমিলির বাবা-মাকে ৪ কোটি ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এই ঘটনার মামলায়।
২০২৩ সালের ওই মৃত্যুর ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারক রিচার্ড এ স্টোনের নেতৃত্বে সালিশি প্রক্রিয়ায় উবার ও চালক ভু ট্রানকে যৌথভাবে দায়ী করা হয়। এমিলির বাবা কেন পার্কার ও মা ক্যারল নরম্যান্ডিনকে ২ কোটি ডলার করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই ঘটনায় এমিলির বন্ধু লুনা মুরকে আলাদাভাবে ৩ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আবারও রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী নিরাপত্তা এবং চালকের আচরণের জন্য কোম্পানির দায় কতটা, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট রাতে অরেঞ্জ কাউন্টির স্টেট রুট ৭৩ হাইওয়েতে। এমিলি ও তার বন্ধু লুনা রাতে বাইরে সময় কাটানোর পর উবারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে লুনা গাড়ির ভেতর অসুস্থ হয়ে বমি করলে চালক ভু ট্রান গাড়ি থামানোর সিদ্ধান্ত নেন। সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্রান হাইওয়ের একটি গোর পয়েন্টে গাড়ি থামান। গোর পয়েন্ট হলো হাইওয়ে ও এক্সিট র্যাম্পের মাঝের ত্রিভুজাকৃতির অংশ। সালিশকারী রিচার্ড স্টোন ওই জায়গাটিকে অনিরাপদ ও বেআইনি স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সালিশি নথিতে বলা হয়েছে, গাড়ি পরিষ্কার করার খরচ নিয়ে ট্রানের সঙ্গে লুনার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই নারীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর এমিলি হাইওয়ের দিকে চলে যান এবং চলন্ত একটি গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয়। সালিশি প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এমিলি ও তার বন্ধু দুজনই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং ট্রান তাদের এই অবস্থার কথা জানতেন। স্টোনের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ট্রান চাইলে কাছের ম্যাকআর্থার বুলেভার্ড এক্সিট দিয়ে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামাতে পারতেন।
ঘটনার পর এমিলির বাবা-মা ও লুনা উবার এবং ট্রানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পক্ষগুলো আদালতের পরিবর্তে সালিশি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়। পাঁচ দিন ধরে চলা সেই সালিশিতে উবারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, তারা মূলত যাত্রী ও স্বাধীনভাবে কাজ করা চালকদের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া একটি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত বিচারক স্টোন সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তার সিদ্ধান্তে উবারকে চালকের অবহেলার জন্য ভিকারিয়াসলি দায়ী করা হয়। তিনি আরও বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রপোজিশন ২২ উবারকে এই দায় থেকে সুরক্ষা দেয় না।
সালিশি নথিতে ট্রানের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করা হয়েছে। পাশাপাশি জিপিএস তথ্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এমিলি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর ট্রানের গাড়ি তার কাছাকাছি এলাকা দিয়ে যায় এবং পরে চালক পরবর্তী এক্সিট ব্যবহার করেন। এরপর তিনি উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাড়ি পরিষ্কারের ফি নিয়ে কথা বলেন। পরিবারের আইনজীবীদের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রানের গাড়ি চালানো নিয়ে এর আগেও উবারের কাছে কয়েকটি অভিযোগ এসেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত সালিশি প্রক্রিয়ায় প্রমাণ হিসেবে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তা সিদ্ধান্তের পৃথক অংশে বিবেচনা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর উবার জানিয়েছে, তারা সালিশকারীর সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। কোম্পানির বক্তব্য, তারা সালিশি প্রক্রিয়াকে সম্মান করলেও ওই রাতের ঘটনার জন্য উবারকে আইনগতভাবে দায়ী করার সিদ্ধান্তকে তারা ভুল মনে করে। অন্যদিকে এমিলির বাবা-মা বলেছেন, তারা এই অর্থকে শুধু ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এনে রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগে অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। বিষয়টি আদালতের রায় নয়, বরং একটি বেসরকারি সালিশি সিদ্ধান্ত হওয়ায় এটি উবারের চালকদের দায়বদ্ধতা নিয়ে চলমান আইনি বিতর্কে সরাসরি কোনো নতুন নজির তৈরি করবে কি না, সেটিও আলাদা প্রশ্ন হিসেবে থাকছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের ছেলে অপ্রতীম হত্যার ক্লু শনাক্ত করার পাশাপাশি প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত এ ঘটনার তদন্তে ননস্টপ কাজ করে যাবেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, কিছু তথ্যপ্রযুক্তিগত বিষয়সহ তদন্তের জন্য প্রয়োজন কিছুটা সময়। তিনি বলেন, "ঘটনাটি সবাইকে কাঁদিয়েছে। ছোট্ট নিষ্পাপ একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, ঘটনার মোটিভসহ সবকিছু খুব শিগগিরই তদন্ত করে জানানো হবে।"
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আটক একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তির মোবাইল, প্রযুক্তিগত তথ্য, লোকেশন এবং অপ্রতীমের অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যাকে আটক করা হয়েছে, তিনি নির্দোষও হতে পারেন, আবার জড়িতও হতে পারেন। তাই তদন্তের এ পর্যায়ে মূল হত্যাকারীরা যেন কোনো তথ্য পেয়ে আত্মগোপনে যেতে না পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে।
এর আগে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এদিন বিকেল ৩টার দিকে তদন্তের স্বার্থে তুহিন নামের এক সন্দেহভাজন কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ